Know info before watch, but no Spoiler

Showing posts with label Hollywood. Show all posts
Showing posts with label Hollywood. Show all posts

হ্যারি পটার এর জাদুর স্কুল সমুহের বর্ননা



আমরা একসময় জানতাম হগওয়ার্টস নামক ম্যাজিক স্কুলের কথা...
পার্ট ফোর থেকে আরো 2 টা ম্যাজিক স্কুলের নাম
জানা যায় যেগুলা ইউরোপের মধ্যে আছে।
কিন্তু জে. কে. রাওলিং শুধু ইউরোপ নয়, পৃথিবী জুড়ে
১১ টি প্রধান ম্যাজিক স্কুলের অবস্থানের কথা বলেছেন
এবং তার সাথে ছোট বড় আরো অনেক স্কুল আছে।

হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি স্কুলের কথাই আজ বলব।


১) BEAUXBATONS : ১২৯০ সালে এই স্কুল ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকতর ফ্রান্সের ছেলে মেয়েরা পড়লেও বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের
শিক্ষার্থীরা আসে৷ এদের পোশাক নীল সিল্কের কাপড়ে
তৈরী। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি হগওয়ার্টস কেও হার
মানায়। চারিদিক পাহাড় ও বাগানে ঘেড়া এই স্কুল।
এর ঝড়নার পানি মানুষের রোগমুক্তি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হ্যারি পটার পার্ট ৪ এই স্কুল ট্রাই উইজার্ড কম্পটিশনে আসে।  এরা যানবাহনের জন্য উড়ন্ত ঘোড়া
ব্যাবহার করে।

যেকোনো প্রতিযোগিতায় এরা ৬২ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে যেখানে হগওয়ার্টস ৬৩ বার।

"নিকোলাস ফ্লামেল" যিনি ফিলোসফার স্টোনের আবিষ্কারক।  তিনি এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

২) DURMSTRANG INSTITUTE : ইউরোপের আর একটি স্কুল। যেখানে অধিকতর বুলগেরিয়ান স্টুডেন্ট
পড়ে। ১২৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। ডার্ক আর্ট ম্যাজিক এর জন্য বিখ্যাত এই স্কুল।

মাগলবর্ন এই স্কুলে পড়তে পারত না শুরুর দিকে কিন্তু
পরবর্তীতে মাগলরা সেই সুযোগ পায়।
ভিক্টর ক্রাম ( পার্ট ৪ দেখানো হয়েছে) এই স্কুলের ছাত্র।

বরফে আচ্ছাদিত থাকে এই স্কুল তাই সেখানকার পোশাক
খুব মোটা হয়।

ডার্ক ম্যাজিককে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া স্কুল এটি।
যেখান থেকে " গ্রিন্ডেলওয়াল্ড " পড়াশোনা করেছে।
এবং ১৮৯০ সালের দিক ভয়ানক ডার্ক ম্যাজিক করার
কারণে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

৩) ILVERMORNY : "ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস" মুভিতে এই স্কুলের নাম শোনা যায়। যেখান থেকে "কুইনি ও টিনা গোল্ডস্টেইন "পাশ করা শিক্ষার্থী ছিল।
এটি আমেরিকায় অবস্থিত। হগওয়ার্টস এর মত এদের
৪ টি হাউজ আছে। " Thunderbird, Wampus, PukwudG, Horned Sarpent."

স্কুলের স্টুডেন্টদের হাউজ সিলেকশন "গর্ডিয়ান নট"
নামক যায়গায় হয় যেটা এনট্রানস হলের সামনেই
অবস্থিত।  হাউজের প্রতীক তাদের স্টুডেন্ট চুজ করে
নেয়। ১৮০০ শতাব্দীতে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়
এবং ১৯০০ শতাব্দীতে এটিকে হগওয়ার্টসের সমান
জনপ্রিয় মানা হয়।

ইলভারমরনি বাহির থেকে সাধারণ মানুষের চোখে
মেঘের মত মনে হয়।
হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি ম্যাজিক স্কুলের বর্ণনার
২য় পার্ট এটি। প্রথম টির লিংক পোস্টের শেষে দেয়া।

৪) CASTELOBRUXO : এটি ব্রাজিলের আমাজন রেইন ফরেস্টে অবস্থিত। লাতিন আমেরিকার স্টুডেন্ট
এখানে পড়তে আসে। এটি দেখতে পুরোনো মন্দিরের মত।
"ক্যাসেলোব্রোসো" হগওয়ার্টসের মতই পুরোনো স্কুল।
"কাইপোরা" নামক ছোটো জীব এটার দেখাশোনা করে।
রনের বড়ভাই বিল উইজলির পেনফ্রেন্ড এই স্কুলে পড়ত। আর্থিক অভাব থাকায় "বিল উইজলি" ব্রাজিলে
গিয়ে সেখানে পড়তে পারে নি।

এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়
এবং এরা "হার্বালোজি ও ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচার সাবজেক্ট " এ অনেক পারদর্শী হয়।
ক্যাসেলোব্রোসো একটি পর্তুগিজ শব্দ। যার অর্থ হলো
"জাদুর মহল।"

৫) MAHUTOKORO : এটির অবস্থান জাপানে।
"মাহুতোকরো" একটি জাপানিজ শব্দ যার অর্থ হলো
"জাদুর স্থান।"
এটিই হচ্ছে সবচেয়ে পুরোনো জাদুর স্কুল এবং মজার
তথ্য হলো " কিডিচ" খেলার উৎপত্তি এখানেই।
সবচেয়ে কম স্টুডেন্ট নিয়ে গড়া এই স্কুল জাপানের
আগ্নেয়গিরি পাহাড়ের উপর অবস্থিত যা সাধারন চোখে
জাপানের মন্দিরের মত লাগে।
৭ বছর বয়সেই এদের স্টুডেন্ট সিলেকশন হয়ে যায়।
যদিও বা ১১ বছর বয়স থেকে ক্লাস শুরু করে তারা।

এদের পোশাক প্রথম অবস্থায় গোলাপি কালার এবং
অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সোনালিতে পরিনত হয়।
কোনো স্টুডেন্ট রুল ব্রেক করলে তার কাপড় সাথে
সাথে সাদা কালার ধারণ করে এবং তাকে বের করে দেয়া হয়।
নিয়ম কানুন প্রয়োগের জন্য এরা সবখানেই সমাদৃত।

৬) UGADOU : পশ্চিম উগান্ডার "মাউন্টেন অব দ্যা মুন"
এর উপর অবস্থিত। বলতে গেলে সবচেয়ে বড় এবং
বেশি স্টুডেন্ট নিয়ে গঠিত এই স্কুল যা হগওয়ার্টস থেকে
বেশি পুরোনো। এতটাই উপরে অবস্থিত য দেখলে মনে
হয় মেঘে ভাসমান অবস্থায় আছে।
এরা ট্রান্সফিগারেশন, এলকেমি, এস্ট্রোনমি তে পারদর্শী।

স্টুডেন্ট বাছাই প্রক্রিয়া এখানে "ড্রিম মেসেনজার"
মাধ্যমে ঘটে। অর্থাৎ স্বপ্নে বার্তা আসে এবং স্টুডেন্টদের
হাতে একটা পাথর দেয়া হয়। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে
পারে যে তাদের স্কুলে পড়ার যোগ্যতা আছে।

এরা নিজের হাত বা আংগুল দিয়ে জাদু করে।

৭) KOLDOVSTORETZ : এর অবস্থান রাশিয়ায়।
এই স্কুল সম্পর্কে রাইটার এখনো কিছু তথ্য প্রকাশ করেনি।

হগওয়ার্টস সহ এই ছিল ৮ টি স্কুল যার তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ডফেমাস ১১ টি স্কুল এর মধ্যে এখনো ৩ টি স্কুল কোথায় আছে বা কেমন রাইটার
প্রকাশ করে নি।

নেক্সট "হোগওয়ার্টস" স্কুলের উৎপত্তি আর যেই ৪ জন
তৈরী করেছেন তাদের নিয়ে আলোচনা করব।

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা চেম্বার অফ সিক্রেটস রিভিউ


প্রথম একটি রোমাঞ্চকর বছরের শেষে ডার্সলি ফ্যামিলিতে ছুটি কাটানো হ্যারি তার বাবা মায়ের ছবি দেখছে, এই দৃশ্যের মাধ্যমে ছবি শুরু হয়।  নিচতলায় ডার্সলি পরিবারে উৎসব উৎসব আমেজ। হ্যারিকে বলা হয়েছে উপরে যেন চুপ করে বসে থাকে কোন প্রকার শব্দ না হয়, ভার্ণনের ক্লাইন্ট ও তার স্ত্রী এসব পছন্দ করেন না, হ্যারির ও এসব ঘাটানোর ইচ্ছে নেই, কিন্তু ঝামেলা তার পিছু ছাড়বার নয়, হ্যারির রুমে এসে হাজির হয় হাউজ এলফ ডবি,  হ্যারিকে হাতে পায়ে ধরে সাবধান করে এই বছর হগওয়ার্টসে ফিরে না যেতে, কারন এই বছর ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটবে হগওয়ার্টসে, যার প্লট সাজানো হয়ে গেছে, হ্যারি কোন ভাবেই ডবির কথা কানে তুলেনা, তাই ডবি হ্যারিকে আটকানোর জন্য আংকেল ভার্ণনের গেস্টের মাথায় আস্ত কেক ফেলে দেয় আর উধাও হয়ে যায় নাম পরে হ্যারির, আর হ্যারি গৃহবন্দী হয়।
ছুটি শেষ হয়ে আসছে, হ্যারির কোন খবর না পেয়ে তার বন্ধু রন উড়ন্ত গাড়ী নিয়ে আসে রেসকিউ মিশনে, ভার্ণনের বাড়ির জানালা ভেঙে উদ্ধার করে হ্যারিকে প্রথমবারের মতো নিয়ে যায় উইজলি ফ্যামিলির বাড়ি "দ্যা ব্যারো" তে। হ্যারি প্রথমবারের মতো কোন জাদুকরী বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো চমকিত হয়,ঘরের সব কাজ জাদুর মাধ্যমে নিজে নিজে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে পুলকিত ভাবটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনা হ্যারি, মলি এসে তার ছেলেদের বকাঝকা শুরু করে গাড়ী চুরি করার জন্য, উপর থেকে জিনি উইজলি এসে হ্যারিকে দেখে লজ্জা পেয়ে আবার দৌড়ে পালায়। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে আর্থার উইজলির, রনের, জর্জ,ফ্রেড,জিনি উইজিলির বাবা তারা সকলে মিলে বই কেনার জন্য ফ্লু পাউডার দিয়ে ডায়গন আ্যলিতে যায়। কিন্তু হ্যারি আগে ফ্লু পাউডার ব্যাবহার না করায় ভুল করে নকটার্ন আ্যলির একটি দোকানে চলে যায়, সেখানে দেখতে পায় লুসিয়াস ম্যালফয় আর তার ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় কিছু বিক্র‍য় করতে এসেছে।হ্যারি সেখান থেকে এসে রন আর হারময়নির দেখা পায়, তারা সকলে মিলে বিখ্যাত লেখক গিল্ডরয় লকহার্টের দোকানে যায়। হ্যারিকে গিল্ডরয় লকহার্ট চিনতে পারে আর একসেট বই উপহার দেয়। এটা দেখে ম্যালফয় ফ্যামিলির সাথে হ্যারি আর উইজলি ফ্যামিলর দ্বন্দ্ব বাঁধে।
ঝামেলা যেন হ্যারির পিছু ছাড়েইনা, হ্যারি আর রন হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস মিস করে বসে, তারা তাদের উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে রওনা হয় হগওয়ার্টসের দিকে। গাড়ি তাদের হগওয়ার্টসে পৌছে দেয় ঠিকি কিন্তু তাদের নামিয়ে নিয়ে নিজে নিজে  ডার্ক ফরেস্টের দিকে চলে যায়। যার বদৌলতে রন তার মায়ের থেকে হাউলার পায়।
প্রফেসর কুইরেল মারা যাবার পর ডার্ক আর্টস ক্লাসের টিচার হয় গিল্ডরয় লকহার্ট! যে কিনা নিজের সুনাম করতেই ব্যাস্ত। অন্য দিকে হ্যারি দেয়ালের ভেতর থেকে কোন অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় যা শুধু একটাই কথা বলে "Kill"
হ্যারি দৌড়ে করিডোরে যায় সেখানে দেখে ফিলচের বেড়াল পোট্রিফাইড হয়ে পরে আছে, আর পাশে লিখা "চেম্বার অফ সিক্রেট খুলে গেছে শত্রুদের উত্তরসূরিরা ভয় পাও"।  পাশ দিয়ে দেখা যায় কিছু মাকড়শা ভবন থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
চেম্বার অফ সিক্রেটস আসলে কি তা প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর কাছে জানতে চায় হ্যারি, উনি উত্তর দেয় হগওয়ার্টসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সালাজার স্লিদারিন এই ক্যাসেলে একটি গোপন চেম্বার নির্মান করে যান। যা একমাত্র তার আসল উত্তরসূরি ই খুলতে পারবেন। আর সেই গোপন চেম্বারের ভেতর রয়েছে মনস্টারের বসবাস। অন্য দিকে হগওয়ার্টসের গোস্ট নিয়ারিলি হেডলেস নিক, কলিন ক্রিভি পেট্রিফাইড হয় রহস্যজনক ভাবে। হ্যারি রন হারমোয়নি ধারনা করে এসব কিছুর পেছনে ড্র‍্যাকোর হাত থাকতে পারে, তাই তারা পোলিজুস পোশন ব্যাবহার করে ক্রাব আর গোয়াল এর রূপ ধরে ড্রাকোর কাছে যায় কথা বের করতে।
এদিকে হ্যারি মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে এসে একটি অদ্ভুত ডায়েরি পায়, যেটায় কিছু লিখলেই গায়েব হয়ে যায়। হ্যারি জানতে পারে ডায়েরীর মালিকের নাম টম রিডল। সে হগওয়ার্টসের একজন প্রাক্তন ছাত্র, হ্যারি ডায়রীর কাছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের ব্যাপারে জানতে চায়, ডায়রী হ্যারিকে দেখায় অনেক বছর আগে হ্যাগ্রিড চেম্বারটি খুলেছিল, যা টম রিডল ধরে ফেলে। আর সে চেম্বারের মন্সটার আসলে একটি মাকড়শা যার নাম এরাগগ।
হ্যারি রন হারমোয়নি হ্যাগ্রিডের কাছে জানতে চায়, হ্যাগ্রিড বলে সে চেম্বার ওপেন করেনি, আর এরাগগ কাউকে হত্যাও করেনি, এই সময় জাদুমন্ত্রী কর্নেলিয়াস ফাজ সাথে লুসিয়াস ম্যালফয় এসে হ্যাগ্রিডকে ধরে আজকাবানে নিয়ে যায় পুনরায় চেম্বার খোলার অপরাধে। যাওয়ার সময় হ্যাগ্রিড বলে মাকড়শা দের অনুসরণ করো, সব উত্তর পাবা। অন্য দিকে হারমোয়নিও অজানা কারনে পেট্রিফাইড হয়ে যায়। রন আর হ্যারি মাকড়শা কে ফলো করতে করতে ডার্ক ফরেস্টের ভেতর চলে যায়, সেখানে দেখা হয় এরাগগ এর সাথে, এরাগগ জানায় চেম্বারে এমন এক মন্সটার আছে যে কিনা শুধু মাকড়শাকেই ভয় পায়। এই কথা বলে এরাগগ হ্যারি আর রন কে খেয়ে ফেলার অনুমতি দেয় তার বাচ্চাদের। সেখান থেকের রনের উড়ন্ত গাড়ি তাদের রক্ষা করে।
কিন্তু তারা কোন ভাবেই বের করতে পারছিলোনা চেম্বারের ভেতর কি রয়েছে কিভাবে এতো ছাত্রছাত্রী পেট্রিফাইড হচ্ছে। এদিকে জিনিয়াস হারমোয়নিও নেই, তারা হারমোয়নির কাছে গিয়ে তার হাতে একটি কাগজ পায়, যেখানে লিখা চেম্বারের ভেতর রয়েছে বাসিলিস্ক। যার চোখে চোখ পরলেই মৃত্যু অবধারিত,  আর বাসিলিস্ক যেহেতু একটা সাপ তাই হ্যারি তার চলাফেরা শব্দ সব টের পায়। কিন্তু কারো চোখ ই সরাসরি বাসিলিস্কের চোখে পরেনি তাই কেউই মারা যায়নি সবাই পেট্রিফাইড হয়েছে।
এসব জানতে পারার পরপর ই রনের ছোটবোন জিনিকে চেম্বারের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে বাঁচাতে গিল্ডরয় লকহার্টের উপর দায়িত্ব পরে। কিন্তু সে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে ফেলে রন আর হ্যারি, তাকে ধরে নিয়ে যায় মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে যেখানে রয়েছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের দরজা। হ্যারি পার্সেলটাং ব্যাবহার করে দরজা খুলে ফেলে আর ভেতরে যায় তিনজন, সেখানে লকহার্ট পালাতে হ্যারি আর রনের উপর স্পেল ছুড়ে মারে কিন্তু স্পেল ব্যাকফায়ার করে নিজের ই মেমরী চলে যায়। অন্য দিকে হ্যারি চেম্বারের ভেতর ঢুকে দেখে জিনি মেঝেতে পরে আছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছে ডায়েরীতে থাকা টম রিডল। টম রিডল বলে আমার নাম ই লর্ড ভল্ডমোর্ট। আজ জিনি মারা যাবে আর আমি বেঁচে উঠবো, চেম্বার আসলে জিনিকে দিয়ে আমি ই খুলিয়েছি।এবং অনেক বছর আগে আমি ই চেম্বার খুলেছিলাম। আমি ই সালাজার স্লিদারিনের আসল উত্তরসূরী। অপর দিকে কৌশলে হ্যারির জাদুদণ্ড ও নিয়ে নেয় টম রিডল, কিন্তু হ্যারিকে সাহায্যের জন্য ডাম্বেরলডোর তার ফিনিক্স পাখি আর হ্যাট পাঠায়, যার ভেতর থাকে গড্রিচ গ্রিফিন্ডোরের তলোয়ার,  ফিনিক্স বাসিলিস্কের চোখ অন্ধ করে দেয় আর হ্যারি সেই তলোয়ার দিয়ে বাসিলিস্ক কে হত্যা করে।আর বাসিলিস্কের দাঁত দিয়ে টম রিডলের ডায়েরী ধ্বংস করে ফেলে। সাথে সাথে জিনির জ্ঞান ফিরে আসে। বাসিলিস্কের একটি দাঁত হ্যারির হাতে ঢুকে যায়, কিন্তু ফিনিক্স পাখির চোখের পানির কল্যানে হ্যারি সে যাত্রায় রক্ষা পায়। যারা পেট্রিফাইড হয়েছিল তারাও ম্যাডাম পামফ্রের সেবায় সেড়ে উঠে।
পরবর্তীতে জানা যায় লুসিয়াস ম্যালফয় উইজলি ফ্যামিলের সাথে ঝামেলার সময় কৌশলে জিনির ব্যাগে টম রিডলের ডায়েরী রেখে দেয়, সেখান থেকেই জিনিকে সম্মোহিত করে এসব কাজ ঘটায় টম রিডলের স্মৃতি। আর এসব জানতে পেরে ম্যালফয় ফ্যামিলের হাউজ এলফ ডবি হ্যারিকে সাবধান করতে আসে। হ্যারি কৌশলে ম্যালফয়ে কাছ থেকে ডবিকে মুক্ত করে দেয় আর হ্যারিও তাকে মুক্ত ঘোষণা করে। যার ফলে ডবি একজন ফ্রি এলফ হয়ে যায়। আর আসল কালপ্রিট ধরা পরায় হ্যাগ্রিড ও আজকাবান মুক্তি পায়।
এভাবেই হ্যারি পটারের আরো একটি রোমাঞ্চকর বছরের সমাপ্তি হয়। রন হারমোয়নি হ্যারি যার যার বাড়িতে ফিরে যায় নতুন বছর শুরুর অপেক্ষায়।

মুভিতে অনেক প্লটহোল,প্লটজাম্প আছে! যা
অন্য মুভিতে গিয়ে ক্লিয়ার হয়, তাই প্রথম দেখায় মুগ্ধ না হলেও সব গুলো দেখার পর বুঝা যাবে হ্যারি পটার সিরিজের অন্যতম ইম্পরট্যান্ট মুভি এটা।
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৭.৪
রোটেন টমাটোঃ ৮৩%

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা ফিলোসফার্স স্টোন রিভিউ


রিভিউ লিখা শুরু করার আগে জানা উচিৎ  হ্যারি পটার আসলে কে, হ্যারি পটার হলো অনাথ একটি ছেলে যে তার বাবা মাকে একটি কার এক্সিডেন্টে হারায় তারপর থেকেই সে  ডার্সলি ফ্যামিলিতে বড় হতে থাকে তার খালার তত্ত্বাবধায়নে। যেখানে সে বরাবর ই অবহেলিত নির্যাতিত,  সিড়িঘরের ছোট্ট কামড়ায় তার বসবাস, ঘরের ছোটখাটো কাজ করা, খালাতো ভাইয়ের অত্যাচার সহ্য করে আর খালাতো ভাইয়ের পুরনো হয়ে যাওয়া জামাকাপড় পরেই আস্তে আস্তে আমাদের হ্যারি পটার বড় হতে থাকে।

হ্যারি পটারের ভেতরে যে কিছু অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তা প্রথম বোঝা যায় একবার চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে, একটি সাপের সাথে সে পার্সেলটাং ভাষায় কথা বলে নিজের অজান্তেই। তার মনের চাওয়াতে সাপের খাচার কাঁচটি উধাও হয়ে যায় সাপটি মুক্তি পায়। কিন্তু এর রহস্য কি?  কেন ছেলেটি সকলের থেকে আলাদা?  তার সকল উত্তর মেলে ছেলেটির এগারোতম জন্মদিনের রাতে।
হগওয়ার্টস নামক কোন স্কুল থেকে হ্যারিপটারের নামে নিয়মিত চিঠি আসতে থাকে পেচা মারফত, প্রথমে কিছু কিছু চিঠি ছিড়ে ফেলা হয়, কিছু লুকনো হয় কিছু পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও আংকেল ভার্নন আর আন্ট পেটুনিয়া এই অদ্ভুত চিঠি আসা কোন ভাবেই বন্ধ করতে না পেরে পালিয়ে যায় নির্জন একটি দ্বীপে, সব কিছু ছেড়ে,
সেখানেই আমাদের হ্যারি প্রতিবারের মতো একা একা জন্মদিন বানানোর প্রস্তুতি নেয় মেঝেতে শুয়ে। কিন্তু বিধিবাম,  এই নির্জন দ্বীপে ঝড়ের রাতে ঠিক বারোটায় উপস্থিত হয় দৈত্যাকার আকারের রুবিয়াস হ্যাগ্রিড। যে কিনা হগওয়ার্টস স্কুলের গেটকিপার, সে এসেই হ্যারি পটারকে খোঁজা শুরু করে এবং তাকে প্রথমবারের মতো বার্থডে উইশ করে।
সেদিন হ্যারি পটার জানতে পারে, তার সাথে ঘটা সকল অদ্ভুত  ঘটনার উত্তর। হ্যারি পটার সেদিন জানতে পারে সে কোন সাধারণ ছেলে নয়, সে একজন জাদুকর,  শুধু জাদুকর ই নয়,  জাদু দুনিয়ায় সে রীতিমতো বিখ্যাত একজন ছেলে, যেখানে বিখ্যাত সকল বইয়ে তার নাম রয়েছে।  সে এটাও জানতে পারে তার বাবা মা কার ক্রাশে মারা যায়নি! ঐতিহাসিক কোন কারনে মারা গিয়েছে সাহসী জেমস আর লিলি পটার। হ্যাগ্রিড তাকে এসেছে জাদুবিদ্যা শেখার স্কুল "হগওয়ার্টস স্কুল অফ উইচক্রাফট এন্ড উইজার্ডি" তে নিয়ে যেতে, যেখানের বর্তমান হেডমাস্টার স্মরণকালের সেরা হেডমাস্টার যার নাম "এলবাস ডাম্বেলডোর"  এবং তার নির্দেশেই হ্যারি  এতো বছর তার খালাদের পরিবারে ছিলো। কোন এক বিশেষ কারনে।
এগারো বছরের অবহেলিত ছেলে হ্যারি পটার এতো কিছু শুনে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনা। সে ধরেই নেয় সে স্বপ্ন দেখছে বা সে আসলে আসল হ্যারি পটার নয়, কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। কিন্তু হ্যাগ্রিডের সাথে "ডায়গন আ্যলিতে" যাদুসামগ্রী কিনতে যওয়ার সময় টের পায় তার সে আসলেই বিখ্যাত একজন ছেলে, যাকে একবার দেখতে পেয়ে সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। সকলে তাকে দেখা মাত্রই চিনে যায়। হ্যারি হ্যাগ্রিডের সাথে তার প্রথম যাদুদণ্ড কিনে, আর প্রথমবর্ষের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে। তারপর কিংক্রস স্টেশনে হাজির হয় হওগওয়ার্টসের উদ্দেশ্যে এক রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য। সেখানে ট্রেনে তার পরিচয় হয় রন উইজলি আর হারমোয়নি গ্রেঞ্জারের সাথে।যারা হ্যারির কপালে থাকা সেই বিখ্যাত স্কার দেখে অবাক হয়ে যায়, এবং তারা তিনজনেই সর্টিং হ্যাটের মাধ্যমে গ্রিফিন্ডর হাউজ পায়।  অন্যদিকে হ্যারি পটারের সাথে বন্ধুত্ব করতে আসা অন্য রয়েল ফ্যামিলির ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় পায় স্লিদারিন হাউজ! হগওয়ার্টস স্কুলে আরো দুটি হাউজ রয়েছে যথাক্রমে রেভেনক্ল আর হাফলপাফ।প্রতিটি হাউজের নামকরণ হয়েছে হগওয়ার্টসের চার প্রতিষ্ঠাকারীর নামে। প্রতিটা হাউজের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে।
স্কুলে এসে বিভিন্ন স্যারদের সাথে পরিচয় হয় হ্যারির,  পোশন শিক্ষার স্যার সেভেরাস স্নেইপের সাথে পরিচয় হয় যে কিনা সব সময় ডার্ক আর্টসের টিচার হতে চায়, ডার্ক আর্টস টিচার কুইরেলের সাথে পরিচয় হয়, গ্রিফিন্ডর হাউজের প্রধান প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর সাথে পরিচয় হয় যিনি হ্যারিকে পরবর্তীতে কুইডিচ খেলার সর্বকনিষ্ঠ সীকার হিসেবে নিযুক্ত করেন, 
হ্যারি দেখা পায় হগওয়ার্টস স্কুলের সর্বশ্রেষ্ঠ হেডমাস্টার প্রফেসর ডাম্বেলডোরের। এতো সবের মাঝে তার দিনগুলো স্বপ্নের মতো কাটতে থাকে। কিন্তু বিখ্যাত ছেলেটির বিপদ যেন কাটেইনা,  সিড়ির নিজস্ব নড়াচড়ার কারনে হ্যারি,রন, হারময়নি এক্সিডেন্টলি হগওয়ার্টসের নিষিদ্ধ এরিয়াতে চলে যায়, সেখানে গিয়ে ধরা খায় হগওয়ার্টের কেয়ারটেকার ফিলচের বিড়াল মিসেস নরিসের হাতে,তার থেকে বাঁচতে তিনজন একটি রুমের দরজার আড়ালে লুকায়, সেখানে গিয়ে তিন মাথাওয়ালা বিশাল কুকুর ফ্লাফির সামনে গিয়ে পরে তারা, কোনরকমে সেখান থেকে জীবন নিয়ে পালায় , তখন তাদের মাথায় খটকা লাগে এতো ভয়ংকর একটা প্রাণী এই ভবনের ভেতর কি করছে! তারা সে ব্যাপারে জানতে হ্যাগ্রিডের কাছে গিয়ে, জানতে পারে ব্যাপারটি খুবই গোপনীয়, তবে হ্যাগ্রিড ভুল করে নিকোলাস ফ্লামেলের নাম বলে ফেলে, এবং তারা বুঝতে পারে কুকুরটি আসলে ফিলোসোফার্স স্টোন প্রটেক্ট করছে যা কিনা যে কোন মেটাল কে স্বর্ণতে পরিণত  করে, আর অমৃত সুধা প্রোডিউস করে।  হ্যারি ধারনা করে প্রফেসর স্নেইপ সেই পাথরটি চুরি করতে চাচ্ছে, যার করনে সে কুইডিচ ম্যাচে হ্যারিকে মারতে চায় আর হ্যালোয়িনের দিন একটি আস্ত ট্রল কে ভবনের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়।
হ্যারি,রন,হারময়নি তিনজন মিলে সেই কুকুরকে পার করে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় আর সেখানে গিয়ে দেখতে পায় চেজবোর্ড, সেই চেজবোর্ডে দাবা না খেলে পার হওয়ার কোন উপায় নেই, রন সেই ভয়ংকর খেলায় লীড দেয় আর জিতে যায়, হ্যারি ভেতরে গিয়ে সেখানে স্নেইপের বদলে দেখতে পায় প্রফেসর কুইরেল কে,  আর জানতে পারে স্নেইপ তাকে মারতে নয় বাঁচাতে চেয়েছে, স্নেপের কারনেই হ্যারিকে কুইরেল মারতে পারেনি।কুইরেলের পাগড়ি খোলার পর হ্যারি দেখতে পায় তার পেছনে আরেকটি মাথা, যে কিনা ইউ নো হু বা লর্ড ভল্ডোমর্ট নামে পরিচিত। তাকে ক্ষমতায় আনতেই কুইরেল ফিলোসফার্স স্টোনটি খুঁজছে,  কিন্তু হ্যারি "মিরর অফ এরিসেড" এ দেখতে পায় হ্যারির পকেটে রয়েছে সে স্টোনটি। কুইরেল সেটি হ্যারির কাছে চাইলে হ্যারি দিতে রাজী হয়না, তখন ভল্ডোমর্ট হ্যারিকে মেরে ফেলতে বলে, কিন্তু হ্যারিকে স্পর্শ করা মাত্রই কুইরেলের হাত পুড়ে যায় কোন এক অজানা কারনে। হ্যারি তার হাত লাগিয়ে কুইরেল কে ধ্বংস করে এবং আরেকবার হ্যারির কাছে পরাস্ত হয় লর্ড ভল্ডমোর্ট। বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগে বলে যায় আমি আবার ফিরে আসবো।

এভাবেই হ্যারিপটার মুভির প্রথম ছবিটি শেষ হয়। এই ছবিতে তিন বাচ্চার বন্ধুত্ব সাহসিকতা অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে, যাদের সাহসিকতার উপর ভর করে গ্রিফিন্ডর হাউজ বাৎসরিক হাউজ কাপ জিতে, আর একটি বছরের সমাপ্তি হয়। সকলে যার যার বাড়িতে যায় ছুটি কাটাতে। হ্যারিও ফিরে যায় ডার্সলি পরিবারে অসংখ্য সুখ স্মৃতি নিয়ে।
হ্যারি পটারের প্রথম ছবি বা স্টার্টিং হিসেবে মুভিটি অসাধারণ।  মন কাড়ার মতো বলা চলে। ধাপে ধাপে একটি অনাথ ছেলের বিখ্যাত জাদুকর হয়ে উঠা খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে।

ছবিটি পার্সোনাল রেটিং-৯.৮
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৫
রোটেন টমাটো- ৮১%

Inception (2010) মুভি রিভিউ

এই ছবির মূলভিত্তি হল স্বপ্ন শেয়ারিং এবং স্বপ্ন তৈরি করা। অর্থাৎ অন্যের অবচেতন মনে ঢুকে স্বপ্ন অবজার্ভেশন করা এবং নিজেদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করা। এই কাজে তারা উপস্থিতবুদ্ধি সম্পূর্ণ একজন অর্কিটেকের সহয়তা নেয়। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে তারা একই সাথে তিন চার জন একই স্বপ্নে প্রবেশ করে? মূলত এই স্বপ্নে প্রবেশে তারা ছোট একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যেটা হল পুরা সাইন্সফিকশন অর্থাৎ এটার বাস্তব কোন লজিক নেই। বাস্তবধর্মী মেডিটেশন কিংবা হিপনোটাইজ প্রক্রিয়ায় যেভাবে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানে সেইরূপ কোন সাইট্রিফিক কোন মেথড ব্যবহার করা হয় না বরং একটা ছোট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটি করা হয়। তাই মুভির আসল সাধ অনুভব করতে হলে আপনাকে এটা মেনে নিতে হবে অতিরিক্ত বাস্তববাদী হলে মুভি না দেখাই ভালো। আর ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া না দেখাই ভালো ।
মুভিটা শুরু হয় সমুদ্র সৈকতে অচেতন অবস্থায়একজনকে(কোব=ডিক্যাপিও)পাওয়ার মাধ্যমে। কোবকে নেয়া হয় মিঃসাইতো এর সামনে। এরপর শুরু হয় কোব ও সাইতোর মুখোমুখি হবার পূর্ববতী ঘটনা।

কোব মুলত একজন এক্সট্রাক্টর। এক্সট্রাকর হল সেই যে অন্যের স্বপ্নে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে সাথে সাথে সে স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। প্রয়োজনে সে অন্যের হাত থেকে স্বপ্নর মাধ্যমে যাতে কেউ তার আইডিয়াকে চুরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করতে পারে। অপরদিকে মিঃসাইতো একজন ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী। কোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামক এক কোম্পানি কোব ও তার সহযোগীদের কে ভাড়া করে স্বপ্নের মাধ্যমে মিঃসাইতোর এক গোপন নথির তথ্য উদ্ধার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়।মিঃসাইতোর নিকট স্বপ্নের মাধ্যমে অন্যের গোপন নথি সম্পর্কে জানার এই প্রক্রিয়া মৌলিক আইডিয়া এবং বেশ কার্যকরী মনে হয় ফলে সে কোব ও তার সহযোগী মিঃঅার্থার( জোসেফ) কে তার হয়ে একটি কাজ করার অনুরোধ করে তবে সেটা তথ্য জানা নয় বরং তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীর মনে এমন এক ধারনা ঢুকিয়ে দেয়া যাতে সে নিজ থেকেই নিজের ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অাইডিয়া ঢুকিয়ে দেয়াকেই inception বলে। মজার বিষয় হচ্ছে কোব ও অার্থার আগে কখন এমন কাজ করে নি। এবং তারা জানে এই কাজটি করতে হলে স্বপ্নের তৃতীয় লেয়ারে যেতে হয় যেটা শুধু কষ্টসাধ্য নহে বরং জীবনের জন্যও হুমকি। সেইজন্য তারা প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু যখন মিঃসাইতো কাজটির বিনিময়ে কোবকে তার সন্তানদের কাছে অর্থাৎ বাড়িতে ফিরতে সাহায্য করবে বলে তখন কোব রাজি হয়। কারণ কোব তার স্ত্রী ম্যালের হত্যা মামলার আসামী। সেইকারনে সে অনেকবছর ধরে দেশে ফিরতে পারছে না।এইটুকুই কাহিনী। এখন ডিক্যাপিও (কোব) কি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা না আদো সম্ভব না? সে কি তার বাচ্ছাদের কাছে যেতে পারছে এটা জানতে হলে আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে। এই ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলে এখানে আমরা সচারচর স্বপ্নের মধ্যে যে দৃশ্য গুলো দেখি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান চেষ্টা করছে ঠিক সেইরূপ দৃশ্য তুলে ধরতে। এখানেই পরিচালক অনেকাংশ সার্থক।

কিন্তু জটলাগে স্বপ্নের লেভেলগুলো বুজতে।
১ম লেভেল হচ্ছে সচারচর ঘুমালে যে স্বপ্ন দেখি। ২য় লেভেল হল আপনি যদি স্বপ্নের ভেতর আবার স্বপ্ন দেখেন। ৩য় লেভেল হল ২য় স্বপ্নের ভেতর যদি আবার স্বপ্ন দেখেন। । এখন আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া মানে এই না আপনি বাস্তবে ফিরে আসলেন বরং আপনি স্বপ্নের ২য় লেভেলে আছেন। আবার স্বপ্ন ভাঙ্গলে আপনি আসবেন ১মলেভেলে। এরপর যদি স্বপ্ন ভাগে তবেই আপনি বাস্তবে ফিরে আসবেন। এই সিকুয়েন্স মেনটেইন করেই মুভির কার্যক্রম চলে। আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে এই সিকুয়েন্স টা ধরা। তাহলেই মুভির কাহিণী বুঝা সহজ হবে।
আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে সেটা হল "সময়"। স্বপ্নে সময়ের গতি বাস্তব জগতের চেয়ে বেশি। ফলে বাস্তব জগতের ৫ মিনিট স্বপ্নে সেটা মনে হবে ১ঘন্টার মতো। শুধু তাই নয় স্বপ্নের লেভেল যত বাড়বে এই গতি তত বৃদ্ধি পাবে। তাই ছবি দেখার মুহুর্তে এই সময়ের গতি বেগের দিকেও ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। এই গতিবেগের মূল রহস্য হল, আমাদের অবচেতন মনের চেতন মনের চেয়ে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা।                                 আরেকটা বিষয় ছবিটাতে ব্যবহার করা হয় সেটা হল টোটেম। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে সে কি স্বপ্নে নাকি বাস্তবে আছে। যেমন ডিক্যাপিওর টোটেম হল "লাটিম"। লাটিম ঘুরতেই থাকলে স্বপ্নে আর লাটিম ঘুরতে ঘুরতে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝবে বাস্তবে আছে সে।

মুভিটির মাধ্যমে ক্রিস্টোফার সাহেব মুলত আমাদের চিন্তার ও গবেষণার জন্য নতুন একটি ক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। কোনভাবে যদি সত্যি সত্যি স্বপ্ন শেয়ারিং ও স্বপ্ন তৈরি ব্যপারটা নিয়ন্ত্রন করা যায়। অর্থাৎ অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সত্যিই একটা শিল্প বিপ্লবের মতো একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। ব্যপারটা বুঝার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে অবচেতন মন কি? এবং অবচেতন মনের ক্ষমতা?
ধরুন আপনার সামনে একপ্লেট সুস্বাদু খাবার রাখা আছে। কিংবা আপনি টয়লেট বসে হাগু করছেন? কখনও কি এমন হয়েছে, আপনি মনের ভূলে বামহাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে কিংবা ডানহাত দিয়ে হাগু পরিষ্কার করছেন? আপনার এই দীর্ঘ জীবনে এমনটা কখনও হয়নি এবং কাজগুলোও আপনি চিন্তা ভাবনা করেও করেননি বরং আপনার চেতন মনের অলক্ষ্যেই হয়ে গেছে বা হচ্ছে ।আপনি ভালো করে খেয়াল দেখবেন হঠাৎ করে উড়ে আসা কোন ঢিল প্রতিরোধে আপনার শরীর অটোমেটিক সঠিকভাবে মুভ করছে আপনার বিনা ইন্সট্রাকশনে। এই কর্মকান্ড আপনার চেতন মনের নিয়ন্ত্রনে নহে। এইগুলো ঘটে অবচেতন মনে। শুধু তাই নহে এইকাজগুলো অবচেতন মনের গভীরের এমনভাবে প্রথিত আছে যা আপনার পক্ষে কখনও তা থেকে সরে আসা সম্ভব না।
আর আমরা জানি স্বপ্নে আমাদের অবচেতন মন উম্মুক্ত হয় আর চেতন মন অনেকটা বন্ধ থাকে। তাই পরিচালক ক্রিস্টোফার চেষ্টা করেছে স্বপ্নের মাধ্যমে অবচেতন মনের কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রন করার। এবং তার মাধ্যমে অবচেতন মনের গভীরে কিছু অাইডিয়া প্রথিত করা যাতে সেটা বাস্তব জীবনেও ঢিল প্রতিরোধের মতো কোন কাজে লাগে।
কি ভাবছেন? অন্যের মাথায় এইভাবে আইডিয়া ঢুকানো কি আদো সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। এই যে আমি যেভাবে আপনাদের চেতন মনে অাইডিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছি এই বলে যে এই ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখবেন না। আপনার চেতন মন অলরেডি ঠিক করেই নিয়েছে যে, inception ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখা যাবে না? ঠিক একই ভাবে অবচেতন মনেও অাইডিয়া প্রথিত করা যাবে।
ডিক্যাপিও, ট্রম হার্ডি, ক্যান, আর্কিটেক চরিত্রে ইলেন পেইজ, জোসেফ গর্ডন সবাই ভালো অভিনয় করে। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় অভিনেতা হল পরিচালকর ও লেখক ক্রিস্টোফার নোয়ান। এমন একটা থিম নিয়ে ছবি করার ভাবনা এবং সেটা সার্থক ভাবে উপস্থাপন করা চাট্টিখানি কথা না।
আমার রেটিংঃ৮/১০

Avengers: End Game ফ্যান থিওরি


মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ২২ তম মুভিটি রিলিজ পেতে আর মাত্র ৩৮ দিন বাকি। এর মধ্যে আমরা দুটি ট্রেলার একটি টিভি স্পট পেয়েছি, যা থেকে অল্প একটু ধারণা করা যায় কী হবে মুভিটিতে। কারণ কেভিন ফাইগি সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন প্রমোশনাল যা কিছুই রিলিজ দেয়া হবে, সেগুলোতে  কেবল মুভির প্রথম ১৫-২০ মিনিটের সিন ব্যবহার করা হবে। আর মার্ভেলের ট্রেলারে ফেক সিন তো থাকবেই। তাই নিশ্চিত ভাবে কিছুই ধারণা করা যায় না।


যা বোঝা যাচ্ছে।

১. টনি স্টার্ক তো অবশ্যই ফিরে আসবে। সম্ভবত ট্রেলারের শেষে নতুন যে স্যুটগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো সে বানিয়েছে। তাকে কে উদ্ধার করবে সেটার লিস্ট আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে৷ গতমাসেই সম্ভবত অডি গাড়ির বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় রকেট উদ্ধার করবে টনি স্টার্ককে। টনির সাথে সাথে প্রথমবারের মত পৃথিবীতে আসে নেবুলা। মূলত কমিকে নেবুলা থ্যানসের কাছ থেকে গন্টলেট নিয়ে স্ন্যাপ রিভার্স করে। তবে মুভিতে এটা হবে না তা নিশ্চিত। তবে সে বর্তমানে সবচাইতে বেশি জানে থ্যানস সম্পর্কে। তাই সে মুভিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাই প্লে করবে।

২. হক আই যেকারণে মুভিতে রোনিন হবে তা মূলত এই ট্রেলারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেল। স্ন্যাপে পরিবার হারানোর পর সে হক-আই ছেড়ে এই রোনিন ম্যান্টল নিবে।

ট্রেলারে হক-আইকে দেখানো হয় একটি মেয়ের সাথে। মেয়েটি সম্ভবত কেট বিশপ বা হক-আইয়ের মেয়ে। তবে যেই হোক, সম্ভবত এই চরিত্রে অভিনয় করবে ক্যাথেরিন ল্যাংফোর্ড।

৩. হাল্ক বেচারাকে একবারও দেখানি। যদিও অনেকের ধারণা প্রফেসর হাল্ক থাকবে মুভিতে। মার্ভেল আমাদের শেষ মূহুর্তেই চমক দিবে হয়তো।

৪. ক্যাপ্টেন মার্ভেল যোগ দিলো এভেঞ্জারসদের সাথে। হ্যাঁ, নিক ফিউরির ম্যাসেজ ফিরিয়ে এনেছে তাকে আবার পৃথিবীতে৷ ক্যাপ্টেন মার্ভেল মুভিতে দেখেছি সে কতটা পাওয়ার ফুল। তাই এবার থ্যানসের খবর আছে।


এবার জানাই একটা ফ্যান থিওরি। এভেঞ্জারস মুভিটা তিন ঘন্টা কাছাকাছি হবে। এবং ধারণা করা হচ্ছে এভেঞ্জারসরা দুই থেকে তিনবার থ্যানসের সাথে ফাইট করবে। অর্থাৎ একবারেই গিয়ে থ্যানসকে হারিয়ে জিতে ফিরে আসবে না। মুভিতে অনেক কাহিনী আছে যা এই কয়েক মিনিটের ট্রেলার দেখে ধারণা করা যায়না। সুতরাং সম্ভবত প্রথমে সবাই একসাথে থ্যানসের প্ল্যানেটে গিয়ে ওকে আক্রমণ করবে।অর্থাৎ টাইটান টু, যেটায় থ্যানস চাষাবাদ শুরু করেছিল। কিন্তু ছয়টি স্টোন থাকায় আবার হেরে যাবে এভেঞ্জারস রা। সেখানে থেকে ফিরে আসবে। তারপর নতুনভাবে পরিকল্পনা করবে। এর মাঝে কেটে যাবে পাঁচ থেকে ছয় বছর। সুতরাং আমরা ধারণা করতে পারি এরমাঝেই নতুন কিছু ইয়াং সুপারহিরো দেখব। যেমন হক-আইয়ের মেয়ে, এন্টম্যানের মেয়ে এরাও মেবি সুপারহিরো হবে। প্লাস আয়রন ম্যান মুভির সেই পিচ্চি ছেলেটাকেও নাকি দেখা যাবে মুভিতে।

মুভিতে কোয়ান্টান রেলমের অনেক ভুমিকা থাকবে। তবে সেটা দিয়ে কি টাইম ট্রাভেল করবে নাকি অন্য কোন রিয়েলিটিতে যাবে সেটা মুভি দেখার পরেই বুঝতে পারব।

আরো ৩৮ দিন ।

Boss Baby মুভি রিভিউ


সাড়ে ৭ বছরের বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান টিম। সে কল্পনা করতে ভালবাসে। কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে ফেলে নিজেকে সবসময় আর কল্পনার রাজ্যে তার সঙ্গী হয় তার মা-বাবা। টিমের আদর যত্নের প্রতি কোনো কমতি রাখেন না তার মা বাবা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও টিমের মা-বাবা তাকে অনেক সময় দেন। খুব ভালই কাটছিল টিমের শৈশব। রাতে ঘুমানোর সময় ৩ টা গল্প, ৫ টা চুমু আর স্পেশাল গান তার চাই। একদিন টিমের বাবা-মা তাঁর (টিম) কাছে জানতে চায়, তাঁর একটা ছোট ভাই হলে কেমন হয়? টিম সোজাসুজি না বলে দেয়, এই ভেবে যে, তাঁর ছোট ভাই হলে তার আদর-ভালবাসা কমে যাবে।

কিন্তু একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টিম দেখতে পায়, একটা টেক্সি থেকে স্যূট,বুট, টাই, ঘড়ি পরা একটা বাচ্চা তাদের বাসায় আসছে । তার মা-বাবা তাকে টিমের ছোটভাই বলে পরিচয় দেয়।এই স্যূট-বুট,টাই, ঘড়ি পরা ছোট বাচ্চাটিই হল "বস বেবি"।  এই বাচ্চা বাড়ির সবাইকে মাতিয়ে রাখে। কিছুদিন পর টিম লক্ষ্য করল, টিমের প্রতি তার মা-বাবার ভালবাসা, মনোযোগ আর আগের মত নেই। সব এই বস বেবি কেড়ে নিয়েছে।

আবার, টিম বুঝতে পারে এই বাচ্চা সাধারণ কেউ নয়, কেননা, এই বস বেবি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মত আচরণ করছে। একদিন দেখতে পায়, সে স্পষ্ট করে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে। ব্যাপারটা টিম তার বাবা-মাকে বুঝাতে চাইলেও, পারে না। উল্টো নিজে বিপদে পরে, তার মা-বাবার কাছ থেকে শাস্তি পায়।

একদিন বস বেবি নিজেই টিমকে তাঁর  পরিচয় জানায়, তার পৃথিবীতে আসার   পেছনে যে মিশন রয়েছে, সেটাও বলে ফেলে। মিশনের পর কি করবে সেটাও বলে ফেলে টিমকে। এই মিশনের কথা শুনে বস বেবিকে টিম সাহায্য করতে শুরু করে। হয়ে যায়, তারা একে অপরের পার্টনার।

কি মিশন নিয়ে পৃথিবীতে আসে এই বস বেবি? সেই মিশনে কি সফল হয় সে? টিম কি তার মা-বাবার ভালবাসা আবার আগের মত পায়? বস বেবিকে কিভাবে মিশনে সাহায্য করে টিম?  এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে,  আজই দেখে ফেলুন অ্যানিমেটেড মুভি "The Boss Baby "

রিভিউ :

এই মুভিতে পরিচালক খুব সুন্দর করে দুই ভাইয়ের শৈশবকালকে এডভেঞ্চারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। সেই সাথে দুই ভাইয়ের শত্রু থেকে বন্ধু হওয়ার মাধ্যমে যে গভীর সম্পর্ক হয়, তাও বুঝিয়েছেন। প্রথমদিকে গল্প সাদামাটা মনে হলেও, বস বেবি "টিম" এর পরিবারে আসার পর থেকে গল্পটা অসাধারণ।

এছাড়াও মুভির VFX, এডিটিং, ভয়েস সবকিছুই ভাল লেগেছে আমার।

( আপনি যদি এখনো মুভিটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভাল লাগা দিকটি Ignore করেন। নয়তো, স্পয়লার পেয়ে যেতে পারেন।)

ভাল লাগা দিক :

১.মুভিতে টিমের জন্য যে স্পেশাল গানটা আছে, সেটা আমাকে খুব ভাল লেগেছে।

২. বস বেবি যখন সত্যিকারের বেবি হয়ে গেলে, যে কাজগুলো করে। সাথে কিন্তু ঐ সময় তার মুখটা দেখার মত হয়।

৩. মুভির মাধ্যমে পরিচালক যে মেসেজ দিয়েছেন, তা হৃদয়স্পর্শী।

Favourite  Quoted :

1. The path to success is not a straight line, Templeton! But rather a wild ride, like a ship at sea. And you're a sea captain... taming a turbulent ocean!

2. Whether you think you can, or you think you can't, you're right!

3. Survival of the fittest. It's the law of the jungle. There's always someone trying to take what's yours.

4. You can't be fired from your own family. Can you?

5.  I may look like a baby, but I was born all grown up.

6.  I can't even imagine not being a kid. You missed out on your whole childhood? You never had someone to love you?

7. You can’t miss what you never had.