Know info before watch, but no Spoiler

Showing posts with label review. Show all posts
Showing posts with label review. Show all posts

SARKAR MOVIE REVIEW 2018


এই ছবিটা মূলত লেখা হয়েছে দেশের নির্বাচনকে ঘিরে৷ মানুষের ভোট প্রদানের ক্ষমতা নিয়ে৷ তাদের বাক স্বাধীনতা নিয়ে৷ তাদের শোষন এর থেকে কিভাবে বের হতে হবে তা নিয়ে৷

আমরা গল্পে দেখতে পাবো একজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানকে৷ যাকে বলা হয় "মনস্টার" ব্যবসায় ক্ষেত্রে যার অনেক নামডাক আছে৷ তিনি তার নিজস্ব বিমানে করে দেশে এসেছেন শুধুমাত্র মাত্র ভোট দেবেন বলে৷ এরপর আবার চলে যাবেন অ্যামেরিকা৷ কিন্তু তিনি ভোট কেন্দ্রে ঢুকে দেখেন তার ভোট আগেই হয়ে গেছে৷ অন্য কেউ তার ভোট দিয়ে দিছেন৷ আমি আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে যেমন মন খারাপ হবে৷ উনারও তাই হয়েছে৷ এতো কষ্ট করে দেশে আসলো ভোট দিতে আর হলো উল্টাপাল্টা৷ কিন্তু তিনি তো ছেড়ে যাবার পাত্র নন৷ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার অধিকার আছে যেমন ভোট দেবার৷ তেমনই ভোট না দিতে পারার কারণে তার অধিকার আছে এটার বিরুদ্ধে মামলা করার৷ তিনি অবশেষে ডিসিশন নিয়েই নেন মামলা করবেন৷ তাকে অনেকে মানা করেছে ঝামেলাতে না জড়াতে কিন্তু সে তার ডিসিশনে অনড়৷ এদিকে আগামীকাল ভোটের রেজাল্ট৷ সাবেক ক্ষমতায় থাকা মন্ত্রী মিনিস্টাররা আগেই তো সবার ভোট দিয়ে দিছেন৷ মামলাতে জিতে গেলে পুনরায় ভোট হবে৷ কিন্তু ফের ভোট হলে, এরা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না৷ তাছাড়া তাদের এতো কোটি টাকা সব জলে যাবে৷ তাই তারা ডিসিশন নেয় দেশে একটা চোরা হামলা করবে৷ নায়ককে মেরে ফেলবে৷ এতোকিছুর পরেও কি ভদ্রলোক তার ভোট দেবার ক্ষমতা পাবেন? নাকি সমাজের নির্মম রাজনীতির কাছে প্রাণ দিতে হবে তাকে৷ হাতে সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন মুভিটি৷ এই মুভিটি আমাদের দেশের নির্বাচন এবং রাজনীতির জন্যে বড় একটা লেসন৷

মুভিতে পছন্দে কিছু ডায়লগঃ

মন্ত্রীর ডান হাত যাকে সহজ বাংলায় বলে চামচা তিনি ভদ্র লোকটাকে বলেন৷ ভাই মাত্র একটা ভোটই তো৷ এটার জন্যে এতো হাউকাউ করার কি আছে? ভদ্রলোক বললেন "এই একটা মাত্র ভোটের জন্যেই কত কত নির্বাচনের প্লট পাল্টে গেছে জানেন আপনি? একটা ভোটও কতটা গুরত্বপূর্ণ? অ্যামেরিকা আর জার্মানে ভাষা নিয়ে ভোট হয়৷ সেখানে এক ভোটে ইংলিশ ভাষা এগিয়ে যায়৷ হিটলার নাজি পার্টিতে মাত্র একটা ভোটের কারণে এগিয়ে যায়৷ এমনকি অনেকে মাত্র এক ভোটের কারণে হেরে গেছে৷

এই মুভিতে আরেকটা ডায়লগ ছিলো, বিরোধী দলকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবেন সেটা কিন্তু কাম্য নয়৷ বিরোধী দল না থাকলে দেশে কোনো গনতন্ত্র থাকতে পারে না৷

আপনারা তো নির্বাচনে কতশত ইশতেহার দেন, তাহলে মানুষ না খেয়ে মরে কেন? সুদ দিতে না পেরে সুইসাইড করে কেন?

মুভি - সরকার
দেশ - দক্ষিণ ইন্ডিয়া
পরিচালক - মরুগাদোস
সাল - ২০১৮
অভিনয়ে - বিজয়, কৃর্তি সুরেস
ধন্যবাদ

Darty Picture Movie Review || মুভি রিভিউ



দ্য ডার্টি পিকচার!
বায়োগ্রাফিকাল মিউজিকাল ড্রামা মুভি।
এক সময়কার দক্ষিণা নায়িকা সিল্ক স্মিথের জীবনে ঘটে যাওয়া উত্থান-পতন নিয়ে তৈরি, যে ছিল তার ইরোটিক রোলের জন্য বিখ্যাত, পরিচিত ও আলোচিত-সমালোচিত।

সেই ২০১১ সালে মুভিটি রিলিজের পর, দেখেছি বেশ ক'বার কিন্তু তখন তো আর এত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতাম না, বুঝতামনা, মন ছিল আবেগী!
বার্তা নিরিক্ষার ক্ষমতা ছিলনা!
এডাল্ট মুভি হলেই লুকোচুরি করে দেখাটাই ছিল একটা নেশার মতো, এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, বয়স ভেদে প্রায় সবারই এমন হয়।

যাকগে থাক সেসব, বিদ্যা বালানের একটু গুণগান না গাইলে কী হয়?

বিদ্যা বালান ন্যাশনাল এওয়ার্ড ও বেশকিছু এওয়ার্ড পেয়েছিল তখন এ ফিল্মের জন্যেই।
কারণ এরকম সাহসী অভিনয়, ও দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া আজকালকার অনেকেরই মধ্যেউ নেই এক্সেপ্ট কঙ্গনা।

সংক্ষেপ রিভিউঃ একদা বিয়ের রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রেশমা (বিদ্যা) চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ধারণ করে।
বহুদিন অপেক্ষা করেও অডিশনের লাইনে দাঁড়িয়েও হতাশ হয়ে ফেরে, শুধু হতাশাই না রীতিমতো অপমান করে পাঁচ রুপিয়া দেয়।


দোকানি কে খাবারের অর্ডার করে, সিনেমা হলে তার প্রিয় চরিত্র সুরিয়াকান্ত (নাসিরুদ্দিন শাহ) এর সিনেমার পোস্টার দেখতে পেয়ে না খেয়েই হলে চলে যায় সিনেমা হলে।

হঠাৎ এক লোক তার পা ধরে মালিশ করে প্রস্তাব দেয় দশ রুপিয়া দেওয়ার শর্ত তো থাকছেই.......
দৌড়ে বাহিরে গিয়ে ভাবে, আমার মাঝে এমন তো কিছু আছে যেজন্য লোক টাকা দিতে চায়!

উৎসাহ অনুপ্রেরণা পায় নিজের ভিতর, শ্যুটিং স্পটে যায়। গানের শ্যুটিং চলছে, কিন্তু মডেল নেই!
তখনি রেশমা বলে উঠে "কুচবি কারনে কে লিয়ে তৈয়ার সে"।
আবেদনময়ী হয়ে চাবুকের আঘাতে নিজেকে মেলে ধরে ক্যামেরায়!

শ্যুট হয়।
প্রিমিয়ারে যাওয়ার আগেই ডিরেক্টর আব্রাহাম (ইমরান হাশমি) তা কেটে দেয়, এবং বকাঝকা শুরু করে।

মা-মেয়ে (পালিত- মা) হলে যায় অনেক আশা নিয়ে, অপমানিত হয়ে ফিরে, আবারো হতাশা!
ছবিটিও ফ্লপ হয়, তখনি ক্যামেরাম্যান প্রডিউসার কে বলে স্যার একটা গানের দৃশ্য আব্রাহাম স্যার কেটে দিয়েছে, সায়েদ ঐ গান থাকলে ব্লকবাস্টার হতে পারত!

তখনি প্রডিউসার গানটি দেখে, পুনরায় গানটি সহ রিলিজ দেয় এবং ওকে খুঁজতে বলে এজন্য যে সে মিডিয়ায় আঁগ লাগাবে!

অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে পায়, নাম দেয় রেশমা হতে সিল্ক। এবং সরাসরি গানের শ্যুটিং এ সেই স্বপ্নের নায়ক সুরিয়াকান্তের সাথে।
কিন্তু সে পারছেনা, বারবার কাট হচ্ছে, মেজাজ বিগড়ে যায় তার, ফ্যাকাপ বলে রুমে যায়।
পেছনেই সিল্ক তাকে সিডিউস করে এবং লংটাইম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ রাখার শর্তে এগেইন শটে নিয়ে আসে।
শুরু হয় সেই উলা-লা, উলা-লা গানটি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না সিল্ক কে.......

আমি শুধু উত্থানের আলোচনা করলাম, পতন বাঁকি, ট্রাজেডি, হতাশা, বিমর্ষ রূপ সবকিছু ছবিতেই পাবেন।

রিলিজের সালে ছবিটি আঠারো প্লাস বলা যায়, কিন্তু আজকালকার মুভি অনুসারে কিছুই না।
তারপরও নিজ দায়িত্বে দেখাই শ্রেয়।

পরিচালনা মিলান লুথ্রিয়া।
উলা-লা, উলা-লা গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পি লাহিড়ী ও শ্রেয়া ঘোষাল।


আমার কাছে, ইশ্ক সুফিয়ানা গানটি খুব ভাল্লাগে, এখনো শুনি সবসময়।

ধন্যবাদ।

Sacred Games Season 01 Review || রিভিউ


Sacred অর্থ পবিত্র, পূন্য, পূত, ধার্মিক, ধর্ম সম্পর্কীয়।
তবে আমরা কী বলতে পারি 'পবিত্র গেমস'?
না আক্ষরিক অর্থে বলা যায়না, সম্ভবত ভাবানুবাদে বুঝিয়েছি 'ধর্ম নিয়ে খেলা' জাতিয় কিছু অথবা ধর্ম সম্বন্ধিত কিছু হবে।

কারণ পুরো সিরিজে গডফাদার গাইতোণ্ডে ওরফে গণেশ নিজেকে ভগবান বলেছিল বারবার এছাড়াও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার কীভাবে দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টি করে মানুষ নিজস্ব ফায়দা লুটে সেসবও দেখানো হয়েছে।

যদি আক্ষরিক অর্থে পবিত্র গেমস ভাবি তবে সবচে বড় ভুল হবে, এটিই আমার ধারণা!

দুনিয়ার ভয়ংকর গালাগালি, এবং ন্যুড দৃশ্যে ভরা পুরো পর্বগুলোতে।
সিরিজ দেখে যেকেউ অশ্লীলতায় আর গালিবাজে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী কে (গাইতোণ্ডে) নোবেল দিতে একপায়ে খাড়া হয়ে আবদার রাখবে যদিনা গালাগালির উপর কোনো পিএইচডি ডিগ্রি পায় তবে সত্যিই সে দাবিদার।

সাইফ আলি খান এত ভালো অভিনেতা, নবাব পৌতদির খান বংশের পোলা, অথচ তার মুখেও বেশ কবার আনসেন্সরড গালি শুনেছি।
রাধিকা অপ্তে তো এমনিতেই নারীবাদী টাইপের তার মুখে আগেও শুনেছি, সে সাহসী দৃশ্যে এক্সপার্ট তাই সেসব বড় করে দেখছিনা। যদিও এ সিরিজে রয় এজেন্টের সিনিয়র অফিসার তিনি তাই ভালোই অভিনয় করেছে।

সিজন একের সবগুলো পর্ব মিলে ৬ ঘন্টা ৩১ মি. ইনক্লুডিং এড। আমার একদিন ডিউটি এবসেন্ট দিতে হয়েছিল দেখতে দেখতে, আমি পুরাই আশ্চর্য হয়েছি প্রথমবার দেখতে বসে কারণ ভারতীয় প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি, এবং এর আগে কোনো ছবিতেও এত গালাগালি আর এরকম ন্যুড দৃশ্য খুব কমই দেখেছি অন্তত, বলিউডের।
যদিও চরিত্র মেলাতে অথবা নেটফ্লিক্সের (গ্লোবাল ফ্লার্টফরম)সিরিজ হওয়ায় সেন্সর ছাড়পত্র সহজেই পেয়েছে।


মদ্যপান, ধূমপান করার সময় কোনোপ্রকার এওয়ারনেস সাইন দেয়নি, শুনেছি এজন্য নাকি মামলা খেয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ও রাজীব গান্ধী কে (২ বার) কটাক্ষপাত করা হয়েছে এ নিয়েও বেশ সমালচোনায় পড়েছে সিরিজটা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ সাইফ আলি খান (সারতাজ সিং) একজন সৎ ও আদর্শ পুলিশ অফিসার, যে তার সিনিয়র অফিসারদের উপর নারাজ, আবার করারও কিছু নেই সাধারণ পোস্টে থাকার জন্যে।

একদিন মিশনে তার বস ইনকাউন্টার করে এক নিষ্পাপ মুসলিম ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে।
এতে সে হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ তাকে বলতে বলা হয় সেলফ ডিপেন্ড করতে গিয়ে গুলি করেছে!
সে ভাবে সত্য ঘটনা বলে দিবে কিন্তু বসের উপর তো আর পারা যায়না, এজন্য দুর্দশাগ্রস্ত হয়।

হঠাৎ তার কাছে ফোন আসে গণেশ গাইতোণ্ডের (মুম্বাইয়ের ১৫ বছরের পলাতক ডন) এবং সে তাকে আল্টিমেটাম দেয় ২৫ দিনের মাঝে এ শহর শেষ করে দিবে। যেহেতু সে সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ তাই শহরকে বাঁচাতে বলে তাকে, যদি সে পারে! (ক্ষমতা থাকলে রুখতে)

দুজনের কল ট্র‍্যাপ করে শুনে ফেলে রয় এজেন্ট এ কর্মরত অফিসার অঞ্জলি মাথুর (রাধিকা অপ্তে)

প্রথম দিকে সারতাজ সিং গাইতোণ্ডে কে অবিশ্বাস করলেও তারপর যখন পুরনো ফাইল ঘেটে দেখতে পায় তার নামের 'মামলা' তখনি বিশ্বাস করে তার কথা, এবং চিন্তিত হয়ে সিনসিয়ার হয়ে উঠে।

এবং পঁচিশ দিনে কী হবে, কীভাবে কি হয়েছে পুরো সিরিজ সে কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায়।

কীভাবে একজন সাধারণ ব্রাহ্মনের ছেলে হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের শীর্ষ  সন্ত্রাসীদের ডন (গাইতোণ্ডে) পরিণত হয়েছে সে চিত্রায়ন দেখাতে থাকে, পঁচিশ দিনে ঘটা সম্পূর্ণ কাহিনীতে।

যদিও এ সিজনে ৮ পর্বে এমন ভাবে দ্য এন্ড টেনেছে যা দর্শক কে অতৃপ্ত রেখেছে অনুরাগ ক্যাশপ (পরিচালক) দ্বিতীয় সিরিজ দেখা ছাড়া কিছুই বুঝা যাবেনা, আত্মতৃপ্তিও পাওয়া যাবেনা!

পুরো সিরিজ বিক্রম চন্দ্র নামের একজন লেখকের  "sacred games" উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

মূলত ধর্ম নিয়ে খেলা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মকে প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক দিয়ে কীভাবে মানুষ নিজস্ব সর্বার্থসিদ্ধি উদ্ধার করছে পৃথিবীজুড়ে সেসবের আলোচনায় বেশি, বাস্তবতার মিশেল।

নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী একমাত্র অভিনেতা যার মুখেই গালিগুলোও হাস্যরসাত্মক মনে হয়েছে এবং চিত্রনাট্য ও তার চরিত্র পারফেক্ট কম্বিনেশন আমার ধারণা অন্যকোন নায়কের আদৌ সম্ভবপর হত না এ চরিত্র।

A Quiet Place (2018) মুভি রিভিউ


সিনেমার প্রথম ৪০ মিনিটে কোনো সংলাপ নেই !

সিনেমার শুরুটা হয় নি:শব্দে । এক স্টোরে দেখা যায়,  এক ফ্যামিলি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিচ্ছে । তবে খুবই সাবধানে ! বিন্দুমাত্র শব্দ যেনো না'হয় সেভাবে ! তাদের ছেলে এক খেলনা ব্যাটারি দিয়ে চালাতে চাইলে , চালাতে দেওয়া হয় না ! আওয়াজ হবে বলে !

সকল কিছু নেওয়া শেষ হলে তারা তাদের বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় । এদিকে সেই বাচ্চা ছেলেটি খেলনাটি চালু করে হঠাৎ করেই ! তাঁর বাবা দ্রুত তাকে রক্ষা করতে যাবার আগেই এক অদ্ভুতুড়ে প্রাণী এসে তাকে নিয়ে চলে যায় !

আর যাই হোক, কোনোপ্রকার শব্দ তৈরি করা যাবে নাহ ! শব্দ শুনলেই চলে আসবে সেই প্রাণী ! মেরে ফেলবে শব্দের  সৃষ্টিকারীকে !
অর্থাৎ, শব্দ হলেই মৃত্যু !
কিভাবে সেই ফ্যামিলির মেম্বাররা বেঁচে থাকে কোনোপ্রকার শব্দ না করেই ?!

দুর্দান্ত হরর থ্রিলার ! কনসেপ্ট তো খুবই চমৎকার ! এবছরের অন্যতম সেরা সিনেমা, নিঃসন্দেহে !

Forgotten 2018 মুভি রিভিউ



"টুইস্ট" শব্দটাকে আপনি কিভাবে সঙগায়িত করবেন? একটু ভাবতে হবে তাই তো? কথা দিলাম এই মুভি দেখা শেষে নিজেই এই শব্দটার সঙগা, ব্যাখ্যা, যা খুশি দিতে পারবেন তাও আবার দ্বিতীয়বার না ভেবেই। ঠিক শেষ মুহূর্তেও টুইস্ট আছে এমন এক মুভি এটা, তো এই মুভি খাবেন কিনা তা আপনার ব্যাপার ভাই আমি আমার অপিনিয়নটাই শেয়ার করলাম মাত্র।

কোরিয়ান মুভি মানেই যেখানে মাস্টারপিসের গুদাম সেখানে এই মুভি আপনাকে বোঝাবে মাস্টারপিস আসলে জিনিষটা কি? খায় না গায়ে দেয় ? মুভি দেখার শেষে নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করবেন, আপনি কি সেই মানুষ যাকে আপনার স্মৃতি চেনে, নাকি আপনি আয়নার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অপার্থিব অজানা ব্যাক্তি। 🤐

কাহিনী (স্পয়লারহীন) ➡️
এক বৃষ্টির রাতে জিনসোকা দেখে একদল লোক তার বড় ভাই ভাই ইউসোকাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। সে গাড়ির নাম্বার প্লেট মুখস্থ রাখলেও পুলিশ জানায় ওই প্লেটের কোনো গাড়িই নাকি নাই। ঠিক ১৯ দিন পর ইয়োসোকা বাড়ি ফেরে। কিন্তু কিডন্যাপড হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই তার মনে নেই । জিনসোকা তার ভাইয়ের নানা ব্যাপার লক্ষ্য করার মাধ্যমে খেয়াল করে যে, এতদিন যেই ভাইকে সে চিনে আসছে সে এই ব্যাক্তি নয়। হয়ত এই লোক তার ভাইই নয়। সে তার লক্ষ্য করা ব্যাপারগুলো তার মাকে জানায়। কিন্তু সেইদিন রাতে মোবাইলে তার মাকে আশ্চর্যজনক কথাবার্তা বলতে শুনে সে বুঝতে পারে যে, তার মা এইসব আগে থেকেই জানতেন এবং সেই ব্যাক্তি আসলে কে তাও জানেন। তারমানে কি এই মহিলা তার মা নন ? সে কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারে না। তাই বাড়ি থেকে পালাতে যায় এবং রাস্তায় তার বাবার সাথে দেখা হয়। তার বাবার ব্যাবহার এবং মায়ের সাথে একাত্মতা দেখে এইটা বুঝতে আর বাকি থাকে না যে এই ব্যাক্তি তার বাবাই না।
তারমানে কি, এতদিন ধরে যাদের নিজের ফ্যামিলি ভেবে এসেছে তারা তার ফ্যামিলিই না!!! এটা কি করে সম্ভব? আর এই লোকজন যদি তার ফ্যামিলি না হয় তাহলে কি তারা এতদিন অভিনয় করে আসল? কেনই বা করবে? কিই বা চায় তারা তার কাছে?

কি ভাবছেন সব টুইস্ট দিয়ে দিলাম? আরেহ দাঁড়ান ভাই এই মুভির টুইস্টগুলা গুনতে গেলে আপনার আঙ্গুল ব্যথা হয়ে যাবে । টুইস্টের উপর টুইস্ট খেতে খেতে যখন ভাববেন খেলা তাহলে শেষ, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই মনে হবে আরেহ খেলা তো শুরু হইসে মাত্র (🤘)। কি সেই খেলা আর কোথায় তার শেষ সেটা জানতে দেখে ফেলুন মুভিটি। আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য না থাকায় পরিবার সমেত রোজার সময়েই দেখতে পারবেন মুভিটি। 

Ohm Santhi Osana (2014) মুভি রিভিউ


একটা সিম্পল কাহিনীকে এত্তো কিউট এবং মনোমুগ্ধকর করে উপস্থাপণ করা যায় সেটা এই মুভিটা না দেখলে জানতামই না, সহজ একটা কাহিনীকে এতোটা আকর্ষনীয় করে তুলেছে বলার বাইরে, ম্যাকিং স্টাইল, অভিনয় চমৎকার করে তুলে ধরেছে। নায়িকা নাজরিয়া নাজীম কিউটের ডিব্বা যেনো, স্কুল গার্লের যে এক্টিংটা করেছে, একদম মানিয়ে নিয়েছে নিজেকে।
পুরো মুভিতে ওর উপস্থিতি ছিলো চমৎকার, ভালোলাগতে বাধ্য...
একেক জনরার মুভি দেখার সময়ে আমাদের একেকটা অনুভূতি আসে, এ্যাকশন দেখলে চাপা একটা উত্তেজনা কাজ করে, হররর দেখলে ভীতি কাজ করে, কমেডি দেখলে ভিতরটা নরমাল হয়ে হাসি বেরিয়ে আসে, আর সাইন্স ফিকশনে মস্তিষ্কে একটা উৎসুকভাব কাজ করে, আর Triangle / inception  এর মতো মুভিগুলা নার্ভে প্রচুর চাপ ফেলে, মস্তিষ্ক অনেকটা নিয়ন্ত্রনে নিয়ে যায় মুভিটা।
আর কিছু মুভি দেখলে মজা লাগে, ভিতরটায় আলাদা একটা হিম শীতল ভালোলাগা কাজ করে, অট্টহাসি নয় মুচকি হাসতে মনে চায়, খুবই খুবই ভালোলাগে।
তেমনই একটা মুভি Ohm Santhi Osana* মুভিটা। অনেকদিন কাজ করবে ভালোলাগাটা।
বোরিং লাগার কোনো প্রশ্নই আসেনা দারুন উপভোগ্য।
যেই দেখবে তার প্রিয় মুভির লিস্টে এটা অটোমেটিক এড হয়ে যাবে। প্রেমে ফেলে দিবে মুভিটার।

বর্তমান ইন্ডিয়ায় একমাত্র মালায়ালাম ইন্ডাস্ট্রীতেই মৌলিকতা দেখতে পাই, সবচেয়ে এগিয়ে তারা।
সে ইন্ডাস্ট্রীরই একটা সফল এবং সবার প্রিয় একটা মুভি। রোম্যান্টিক ঘরনার এই মুভিটি আসলেই অনেক মুগ্ধ করেছিলো।
অনেকদিন আগেই দেখেছিলাম, আজ দু'কলম লিখলাম।
যারা দেখেননি আপনারাও দেখতে পারেন।

Happy Watching

MAD MAX Fury Road (2015) মুভি রিভিউ


                                     


যে ছবিটি নিয়ে আজ বলবো তা অবশ্য ২০১৫ তে রিলিজ হয়েছে।তখন ই একবার দেখেছি।কিন্তু কয়দিন হলো আবারো মনে হচ্ছিল সিন গুলির কথা।চট করে ডাউনলোড করে দেখতে বসলাম।এর আগে সাউন্ড বক্স ইউজ করিনি কিন্তু এবার সাউন্ড বক্স লাগিয়ে ছবিটা দেখছিলাম!
কারণ মুভির সাউন্ডটা অসাধারণ।

মুভিটা অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন তারা যারা অল্পতেই দিশেহারা হয়ে যান, আর এসির বাতাস খেয়ে মনে করেন আহ কত কষ্ট করলাম জীবনে।
মুভিটিতে অসাধারণ দৃশ্যগুলি এত সুন্দর করে পরিচালক ধারণ করেছেন শক্ত একটা স্ক্রিপ্ট দিয়ে তা বলার বাকি রাখেনা।


শুরু হয় একজন পুরুষের মাধ্যমে যে হলো হিরো মুভির, সে প্রায় সময় ই তার মৃত মেয়েকে সহ আরো কিছু মুখ দেখতে পায়।
সে এমন ও সময় দেখে যে সময় প্রতিপক্ষ তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়।
যাইহোক পাশাপাশি মুভিতে দেখতে পাবেন একজন শক্তিশালী নারী, যে অসাধারণভাবে মুভিতে নিজের অভিনয়কে বিকশিত করেছেন।
অবাককর বিষয় এই যে তার বাম হাতের অর্ধেক ই কাটা।কিন্তু তবুও সে ই একমাত্র নারী যে পুরো মুভিতে হিরো এর চেয়েও শক্ত অভিনয় দেখিয়েছে।

মজার বিষয় এখানে হিরো বা হিরোইন ২জনের মাঝে  কোন সম্পর্ক ই হয়নি।
তবুও তারা হিরো, হিরোইন এখানে।

আর ভিলেইন এর কথা যদি বলি তবে আসলে মুভির গল্প বলা হয়ে যাবে।
শুধু এইটুক বলি যে ভিলেইন হইলো একজন স্বৈর শাসক যে নিজে সহ পারিবারিক ভাবে বিলাসী থেকে নিজ প্রজাদের অভুক্ত রাখে।


তবে এখানে সবচাইতে মজার বিষয় হলো শুরু হয় যুদ্ধটা, নিজেদের জান বাচানো নিয়ে।
কিন্তু শেষটা হয় রিভোল্যুশন  চিন্তা দিয়ে মানে পুরো রাজ্যকেই দখলের ভাবনা দিয়ে।
কেমন হতে পারে সেই সাহসিকতা?
পারবে একজন মেয়ে আধা হাত দিয়ে রাজ্যকে দখল করতে?

Btw খুব মজার একটা সিন আছে যদি আপনি গিটারিস্ট ও ড্রামার  হন খুব অবাক হবেন এখানে গিটারিস্ট ও ড্রামারদের কে যুদ্ধ এর মাঝে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়।

Judwwa 2 (2017) মুভি রিভিউ



বলিউডে ইয়াংস্টারদের ভিতরে হাতেগোনা যে কয়জনকে লম্বারেসের ঘোড়া ধরা হয় তার মধ্যে নিসন্দেহে বরুন অন্যতম। তার সাথে যারা ইন্ডাস্ট্রিতে আসছে তাদের অনেকেই লাগাতার ফ্লপ দিয়ে ফুরিয়ে যাওয়ার পথে কিন্তু এই ছেলেটা একের পর এক বক্স অফিস হিট দিয়ে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।  স্টুডেন্ট অফ দ্যা ইয়ার এ তার সাথে ডেবুট হইছিলো "সিদ্ধার্থ মালোহত্রার" বাট তার ক্যারিয়ারে এরপরে "এক ভিলেন" আর "কাপুর এন্ড সন'স" বাদে বলার মত ঊল্লেখযোগ্য কিছু নাই বাট বরুনের হিট গুলা দেখেন বাদলাপুর,মে তেরা হিরো,হামটি শার্মাদুলহানিয়া,দিলওয়ালে,ডিসুম,বাদ্রিনাথ কি দুলহানিয়া এখন পর্যন্ত বাকিদের চেয়ে অনেক এগিয়ে এখন পর্যন্ত।

যাইহোক,নতুন মুক্তি পাওয়া "জুড়ওয়া ২" প্রথম দিনেই ১৬ কোটি বিজনেস করে ফেলেছে বক্স অফিসে। এইটা সালমান খানের জুড়ওয়ার অনেকখানি রিমেক বলা যায় কারণ সেই ছবিটার ১২-১৩ টা সিন এইখানেও ইউজ করা হইছে।  ছবিতে বরুন ধাওয়ান এর কমিক টাইমিং পারফেক্ট ছিলো। শাহরুখ খানের ডায়লগ নকলের সীনটাও ভালো লাগবে সবাইর।  কিন্তু তাপসী পান্নু এই টাইপ ছবির সাথে যায়না আসলে ওর জায়গায় ইলিয়ানা/ক্রিতি শ্যাননকে নিলে আরো ভালো হইত। জ্যাকলিন বরাবরের মত গ্ল্যামার এ ভরপুর ছিলো। এইবারও সে প্রমাণ করেছে কিসিং সিনে জ্যাকলিন অদ্বিতীয়।বাকিদের কাজও ভালো ছিলো।মিউজিক ভাল্লাগছে। গানগুলার রিক্রিয়েট ভালো হইছে।আগের গুলার চেয়ে এবারের গুলা ভালো লাগছে বেশী।

বিদ্যা বালান বলেছিলো ফ্লিম খালি তিনটা জিনিসের উপরে চলে এন্টারটেইনমেন্ট,এন্টারটেইনমেন্ট আর এন্টারটেইনমেন্ট আর "জুড়ওয়া ২" এন্টারটেইনমেন্ট এ ভরপুর।

কিন্তু জাস্ট বিনোদনের জন্য দেখবেন লজিক খুজতে গেলে ছবির মজা নস্ট হবে। তাই হাতে ফ্রি টাইম থাকলে নিসন্দেহে দেখে নিন আপনার টাইমটা ভালো কাটবে গ্যারান্টি।

হ্যাপি ওয়াচিং।

SPYDER (2017) মুভি রিভিউ


'
প্রথম কথা হচ্ছে বিশেষ করে থ্রিলার মুভিগুলোর ক্ষেত্রে ভাষা যদি না বুঝা যায় তাহলে সিনেমা টাতে কি ঘটছে তা বুঝা মারাত্বকভাবে অসম্ভব । এদিকে এ আর মুরুগদসের অধিকাংশ মুভিই ভাষা না বুঝার কারনে পুরোপুরি ইনজয় করাও মারাত্বকভাবে অসম্ভব । তবে তার ছবিগুলো যে একেক টা মাস্টারপিস তা বলার অপেক্ষা রাখে না !
'
এ আর মুরুগদসের এ বছরের অন্যতম বড় ধামাকা স্পাইডার । ছবিটি দেখার পর  সত্যি বলতে মূল গল্পটা মোটামুটি মাথায় ঢুকছে আর কি ! তাছাড়া গোটা মুভিটার কিচ্ছু বুঝি নাই !! তবে সম্পুর্ন মুভিটা দেখার পর এটাই বলব যে এই মুভির হিন্দী ডাবড অথবা বাংলা সাব এর জন্য আমি চরমভাবে অপেক্ষায় ।
'
এই মুভিটা নিয়ে বলতে গেলে প্রথমেই আমি বলব এই মুভির অ্যাকশন সিকোয়েন্স । মুভিতে কিন্তু কোন আট দশটা তেলেগু ছবির মত কোপা শামসু টাইপের অ্যাকশন দৃশ্য নাই । তবে এই মুভিতে যে ধরনের অ্যাকশন দৃশ্য দেখানো হয়েছে তা আমার মতে ইন্ডিয়ান সিনেমার অন্যতম সেরা অ্যাকশন দৃশ্য । পুরাই রক্ত ঠান্ডা করে দেওয়ার মত সিকোয়েন্স ।
'
অভিনয়শিল্পীদের পারফরমেন্স বলতে গেলে দুইজনের নামই বলতে হবে কারন এই দুইজনকে নিয়েই পুরো সিনেমাটা । একদিকে সুপারস্টার মাহেশ বাবু তার অন্যান্য ছবিগুলোতে যেভাবে হাজির হয় এই ছবিতেও সেভাবেই তাকে পাওয়া গেছে । আর এ ধরনের চরিত্রে মাহেশ বাবুর চাইতে বেটার না খোজাই ভাল । অন্যদিকে ছবির ভিলেন এস জে সুরিয়ার পারফরমেন্স খুবি প্রশংসনীয় এবং খুব ইনজয়বল ।
'
স্পাইডারের মিউজিক পরিচালনায় ছিলেন হারিস জয়রাজ এবং এ ছবিতে তার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরাই বাও রে বাও !! এক কথায় ছবির বিজিএম সুপার্ব !!
'
এ ছবির দুর্দান্ত ক্লাইম্যাক্স ছবিটাকে অন্য এক লেভেলে নিয়ে গেছে । ক্লাইম্যাক্স সম্পর্কে শুধু একটাই কথা বলব আর তা হচ্ছে পুরাই বেস্ট ! ও আরেকটা কথা ছবির ক্লাইম্যাক্সে মাহেশ বাবু ভিলেন সুরিয়াকে একটা পাঞ্চ মারে সেই দৃশ্যটা রোমান রেইন্সের সুপারম্যান পাঞ্চের চাইতেও মর্মান্তিক ।
'
অবশেষে আবারো বলছি স্পাইডারের হিন্দী ডাবড অথবা বাংলা সাব এর জন্য চরমভাবে অপেক্ষায় আমি ।
'

Once Upon a Time Mumbai (2010) রিভিউ


অজয়, ইমারান হাসমী, কঙ্গনা রানৌত, প্রাচী দেশাই ও রান্দীপ হুডা অভিনীত 28 কোটি বাজেটের এই মুভিটির ততকালীন বক্স অফিস কালেকশন ছিলো ৯৪ কোটি বা তার বেশী।
মুম্বাই আর সুলতান মির্জা। মুম্বাইর সাথে ছোট বেলা থেকেই শুরু সুলতান মির্জার সখ্যতা।
মুম্বাই তার ভালোবাসা, প্রেমীকা। যতো গায়ের কানুনী ধান্ধাই করুক না কেনো কখনো ভালোবাসার শহরকে গান্ধা হতে দেয় নি সুলতান।মুম্বাইর অলি গলি কে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব ছিলো তার।
 প্রশাসনিক বিরোধী কাজ- কর্ম করলেও সমাজ বিরোধী কাজ করতো না কখনো, তাই তো ধীরে ধীরে  মুম্বাইর অসহায়  মানুষগুলোয়  দেবতায়  পরিণীত হয় সুলতান।
মুম্বাই ছাড়াও সুলতানের আরেকটি দুর্বলতা ছিলো। তা হলো ফিল্ম স্টার রেহানা।
অতঃপর এক  দিন  একে অপরের সাথে শুটিং স্পটে দেখা ও ভালোবাসার সম্পর্ক তৈরী হওয়া।
মুম্বাই এর আরেক লাগামহীন  চতুর বালক শোয়েব।
বাবা পুলিশ হলেও ছেলে ছোট বেলা থেকে এক দুর্দর্শ চোর। শোয়েবের সপ্ন মুম্বাই শহর একদিন তার হাতের মুঠে করে নেয়া, চাই তা মুম্বাইকে  সহিংস  বা মানুষের লাশ বিছিয়ে হোক না কেনো, অরাজকতার রাজ প্রতিস্থাপনই তার মূল উদ্দেশ্য। এই সপ্ন নিয়ে একদিন শোয়েবের দেখা  সুলতানের সাথে। অতঃপর একে অপরের আস্থা অর্জন ও বন্ধুত্ব। শোয়েব চোর হলেও মুমতাজকে ভালোবাসে মনে প্রাণে।মুমতাজও ভালোবাসে সব কিছু দিয়ে।
 এই মুভিতে বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করে রান্দীপ হুডা।
রান্দীপ হুডার অভিনয়  আমার কাছে সবসময় স্পেশাল, এখানেও আমার জন্য তেমনটাই ছিলো।
প্রাচী দেশাই এর অভিনয়ও আপনার ভালো লাগতে পারে।
সবচেয়ে সুন্দর ছিলো মুভির প্রত্যেকটা কথাই যেন একেকটা ডাইলগ।
আপমনি আমার মতো রাহাত ফাতেহ  আলী খানের গান পছন্দ করে থাকলে আপনার জন্য আছে মুভিতে একটি বেশ সুন্দর গান।
চাইলে আপনিও দেখতে পারেন।

October Sky (1999) মুভি রিভিউ



ধরুন আপনার জন্ম এমন এক জায়গায় যেখানকার মানুষের প্রধান পেশা হচ্ছে কয়লা খনিতে কয়লা খনন করা এবং আপনার বাবাও কয়লা খনিতে কাজ করা একজন শ্রমিক । এর বাইরে কোন কিছু করা এখানে অসম্ভব বলে ধরা হয়। কিন্তু আপনি সবার থেকে আলাদা চিন্তা করেন। আপনি জীবনে বড় কিছু হতে চান!  দুনিয়াতে নিজের সাফল্যের পদচিহ্ন আঁকতে চান সব বাধা আর উপহাস অতিক্রম করে। এমনই এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে বানানো হয়েছে "October Sky" সিনেমাটি।

১৯৫৭ সালের অক্টোবার মাসে পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ "স্পুটনিক" লঞ্চ হওয়ার পর তা আকাশে বিচরণ করতে দেখে "কোলউড" গ্রামের "হোমার হিকাম" নামে এক স্বপ্নবিলাসী কিশোরের ইচ্ছা জাগে রকেট বানানো শেখার।  যেন একদিন সেও এমন একটা কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করতে পারে। সে তার স্বপ্নপূরণে কাজ শুরু করে তার বন্ধুবান্ধব এবং স্কুলের এক ম্যাডামের সহায়তায়। কিন্তু পদে পদে হিকাম তার গ্রামবাসী এবং তার পরিবারের ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হয়। তার স্বপ্নপূরণের পথে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার বাবা। কেননা তার বাবার ধারণা এইসব ছেলেমানুষি। তার  ইচ্ছা তার ছেলেও তার মত কয়লা খনিতে কাজ করুক বড় হয়ে। কিন্তু হিকামের ছিল অন্য ইচ্ছা। সে তার বন্ধুদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে তার স্বপ্নপূরণে। চালিয়ে যেতে
থাকে তার রকেট বিষয়ক বিদ্যা।

হিকাম কি শেষমেশ পেরেছিল তার স্বপ্ন পূরণ করতে? জানতে হলে দেখতে হবে এই মুভিটি।
অসম্ভব ইন্সপায়ারিং আর শিক্ষণীয় একটা মুভি এটা। সব বাধা বিপত্তি আর উপহাসের তোয়াক্কা না করে জীবনে এগিয়ে চলে সাফল্য অর্জনের শিক্ষা দেয় এই মুভি।

হোমার হিকাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাক গিল্লেনহ্যাল। হিকামের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস কুপার। এছাড়া  হিকামের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ে করেছেন ক্রিস ওয়েন,  লি স্কট, উইলিয়াম লিন্ডবার্গ। হিকামের ম্যাডামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লওরা ডার্ন।

Movie Name: October Sky(1999)
Genre: Biography,Drama,Family
Rotten Tomatoes: 90%
IMDb Rating: 7.8/10 (69k votes)
My Rating: 8.6/10 

IT (2017) মুভি রিভিউ


প্রবাবলি খুব অল্প মুভির মধ্যে 'IT' একটা মুভি যেটাতে এক্সপেক্টেশন হাই থাকার পরেও প্রচুর ভাল্লাগসে!

Hands down the best Stephen King  Live action যেকোনো কিছু.

আজকেই রিলিজ হলো সিনেপ্লেক্স এ।

ফার্স্ট অফ অল সবার ই এই মুভিটা দেখতে যাওয়া উচিত একটা আসল হরর মুভি চিন্তা করে।

 একটা ভয়ংকর ক্লাউন আর কিছু বাচ্চা কাচ্চা নিয়া দেখে বাসার পিচ্চিদের নিয়া দেখা যায় এরকম থ্রিলার টাইপ মুভি কিন্তু না!

বেশ কিছু Gore Type এবং অন্যান্য ডিস্টার্বিং সিন আছে।

আরো কারো যদি কার্স ওয়ার্ড নিয়ে চুলকানি থাকে তাহলেও সমস্যা।  এই মুভিতে প্রচুর এফ ওয়ার্ড ইউজ করা হইছে :3

অনেক এ বাচ্চকাচ্চা নিয়া আসায় ইন্টারমিশন এ সুন্দর মতো উঠে বের হয়ে গিয়েছেন :3

It's a R Rated Movie.
১৫,১৬ বছরের নিচে কারো দেখাই উচিত না এই ছবি (অন্তত বড় পর্দায়)।

কিন্তু সারপ্রাইজিংলি এই মুভি টা টেরিফায়িং হলেও কাওকে ডেট হিসেবে নিয়ে খুব মানিয়ে যাবে।

স্টোরি সামারি হিসেবে বলা যায়

একটা ছোট শহর যেখানে ঠিক ২৭ বছর পর পর অনেক জন ছেলে মেয়ে মিসিং হয়ে যায় তাদের আর খুজে পাওয়া যায় না। ঘটনাচক্রে কিছু টিনএজারস এর লুজারস ক্লাব খুজে পায় এর পেছনে Pennywise The Dancing Clown নামে এক ডেমোনিক এনটিটি আছে।

স্ক্রিপ্ট যে লিখসে সে অসাধারণ একটা কাজ করসে। এক মুহুর্তের জন্যও আপনি পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারবেন না।

একটা স্টিফেন কিং এর হরর উপন্যাস শুধুমাত্র হরর এর দিকে কখোনো পুরোপুরি ফোকাস দেয় না। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি  তুলে ধরা হয়।

এই মুভি টা এই জিনিসটা খুব ভালো ভাবে করেছে।
ঘটনার নিজস্বতা আমরা খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারি।

এই শুধু স্ক্রিপ্ট হাতে দু কাপ কফির সাথে দিলে অনায়াসে পড়ে এনজয় করা যাবে।

আমি 'IT' মিনি সিরিজ টাও দেখেছিলাম কয়েকদিন আগে। সেখানে মূলত ক্লাউন a.k.a Pennywise এর দিকে ফোকাস করে করা হয়েছে সিরিজ টা।

এই মুভিতে আরো পার্সোনাল একটা স্টোরি দেখা গিয়েছে কিছু ১৪ বছরের ছেলেপেলের।

কাস্ট গুলা খুবই মারাত্নক হইসে। সেকেন্ড চাপ্টার এর কাস্ট ও আশা করি এই কাস্ট এর মান রাখতে পারবে।
বিশেষ করে ' Stranger Things ' এ অভিনয় করা Finn Wolfhard এবং Pennywise এর চরিত্রে Bill Skarsgard অনেক অসাধারণ অভিনয় করেছে।

 Finn এর কমেডিক টাইমিং খুব ভালো ছিলো।
লাস্ট এ এই ক্যারেক্টার এর একটা পাঞ্চ ডায়ালগ থাকে যার জন্য পুরো হল তালি দিতে বাধ্য হয়েছিলো!

Directing and Cinematography was top notch. সেকেন্ড চাপ্টার এর জন্যও এই ডিরেক্টর থাকলে বেস্ট হবে।

'It' is a terrifying story based movie that has Sadness, comedy and rommance too!

ফাইনালি এমন একটা মুভি যা শেষ হওয়ার পর পর চাপ্টার ওয়ান লিখা টা উঠার সাথে সাথে খেয়াল করবেন হলের সবাই তালি দিচ্ছে। যা হরর মুভিতে সচরাচর হয় না।

আমি হয়ত ৮ দিবো ১০ এ এই মুভি কে।

Rotten Tomatoes - 85%

IMDB - 8

Forrest Gump (1994) মুভি রিভিউ


"Life was like a box of chocolates. You never know what you're gonna get."

বোকাসোকা ফরেস্ট গাম্প, কোনো এক বাস স্টেশনে বসে আছে ৯ নম্বর বাসটি ধরে গন্তব্যে পৌছানোর জন্যে... বাস আসতে দেরি আছে। এমনিতে প্রচুর কথা বলে সে। একা একা চুপচাপই ছিলো, যেই পাশে এক মহিলা এসে বসলো - অমনি তার কথার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে দিলো, একে একে একমনে বলতে লাগলো সেই ছোট্টবেলার কথা, যখন তার মা স্কুলে ভর্তির জন্যে নিয়ে গেলে তার আইকিউ লেভেল দেখে টিচার ভর্তি নিতে চায় নি। সেই ছোট্টবেলার কথা, যখন জেনি নামের মেয়েটা তার মন দখল করে বসলো আজীবনের জন্যে! তারপর বড় হয়ে যেসব বিচিত্র পরিস্থিতি আর অনুভূতির সম্মুখীন হতে হয়েছিলো তাকে!! জীবন বিচিত্রময়! বড্ড বেশি বিচিত্র...  বাস্তবে টম হ্যাঙ্কসের মত অত বেশি বিচিত্র কারো লাইফে হয় না যদিও, তবে এমনই তো হয় জীবন! পদে পদে নতুন এবং অপ্রত্যাশিত কিছু!

হাসি পাচ্ছিলো খুব অটিজমে আক্রান্ত গাম্পের বোকাসুলভ আচরন দেখে, আবার গম্ভিরও হতে হয়েছে ইমোশনাল টাচ দেখে! টম হ্যাঙ্কসের অভিনয়? লোকটা হলিউডের সর্বকালের সেরা অভিনেতাদের একজন! এরপরও সে কি অভিনয় করেছে, বলার প্রয়োজন নেই!

এত বেশি ইন্সপায়রেশন মুভিটায়, বলার মত না...  জেনির সেই প্রার্থনাটুকু, "Dear God, make me a bird. So I could fly far. Far far away from here."

মুভিটি ৯টি অস্কার সহ দুনিয়ার সকল বড় বড় এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের হিংসভাগ পুরস্কার নিজের ঝুলিতে আনতে সক্ষম হয়েছিলো!! অর্থাৎ বলা যায়, আপনি যদি এখনও মুভিটি না দেখে থাকেন, তাহলে আপনার কপাল খারাপ! রিয়েলি! মানে আমি বলতে চাচ্ছি মুভিটা দেখা মিস করা উচিত না আপনার!

Director: Robert Zemeckis
Cast: Tom Hanks, Robin Wright.
IMDb Ratting: 8.8/10
Personal Ratting: 8/10

Perfume: The Story of a Murderer (2006) মুভি রিভিউ




       পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের একটি হলো নাসিকা, পৃথিবীর প্রতিটা জিনিষের রয়েছে নিজস্ব আলাদা গন্ধ/দুর্গন্ধ, দু চোখে আমরা এইযে যা দেখি মাটি,পাথর,পাতা,গাছ,পানি এমনকি প্রতিটা জন্তুর বস্তুরও রয়েছে আলাদা গন্ধ যা মানুষ বা সব জীব জন্তুই অনুভব করতে পারে তার নাক দিয়ে, আমাদের ঘ্রাণ শাক্তি কতোটুকু? কেউ সুগন্ধি লাগিয়ে আসলে বা দুর্গন্ধ জড়িয়ে আসলে আমরা টের পাই, আমাদের ঘ্রানশক্তির একটা পরিমাপ আছে এর বেশী ঘ্রাণ বা এর থেকে দূরের বস্তুর ঘ্রাণ পাইনা, যতোটুকু জানি সবচেয়ে বেশী ঘ্রাণ শক্তি রয়েছে কুকুরের যা মানুষে থেকেও ৫গুণ (মতান্তরে ইঁদুর,পিপিলিকা,হাতি) যদি বলি এর থেকেও শতগুণ প্রখর ঘ্রাণ শক্তি আছে কোনো মানুষের তাহলে??
হ্যাঁ Perfumeএ সেই চরিত্রের চিত্রায়নই করা হয়েছে,
১৯৮৫ সালে জার্মানের বিখ্যাত লেখক প্যাট্রিক সাসকাইন্ড রচনা করেন "Perfume" নামের বিশ্ববিখ্যাত বইটি। যা পৃথিবীর ৪৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
আর সেই বিশ্ববিখ্যাত বইকে পর্দায় নিয়ে আসতে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেন জার্মান পরিচালক টম টাইকার।
বইটির লেখক শঙ্কিত ছিলেন তার বইয়ের চরিত্রগুলো উপস্থাপনে ব্যার্থ হওয়ার সম্ভবনাই বেশী তাই সে বিগত ১৫বছর বিভিন্নজন থেকে অফার পেয়েও ফিরিয়ে দেন, অবশেষে ২০০০সালে তিনি গল্পটি তুলে দেন টম টাইকারের হাতে।
বাট মেইন ক্যারেক্টার কে প্লে করবে?? তা নিয়ে ধুম্রজালের শেষ ছিলো না সবাইকে অবাক করে পরিচালক সুদূর ইংল্যান্ড থেকে ধরে নিয়ে আসলেন Ben Whishaw নামক এক নতুন মুখ। এই নতুন মুখ নিয়ে সমালোচকরা পরিচালকের জাত উদ্ধার করতে ভুলে যাননি। এই নতুন মুখ কতটা দিতে পেরেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ, কিন্তু প্রথম মুভিতেই জাত চিনাতে ভুল করেনি এই তরুণ অভিনেতা। যেনো অভিনয়টা একটা শিল্প আর সে নিখুঁত শিল্পী। অভিনয় দিয়ে মুখ বন্ধ করেছেন বড় বড় সিনেবোদ্ধাদের।
অভিনয় কাকে বলে,চরিত্রের মধ্যে মিশে যাওয়া কাকে বলে, এটা সে দেখিয়ে দিয়েছে, ঘটনা প্রবাহে কঠিন পরিস্থিতিতেও এক্সপ্রেশনটা শুধু সুবাসবিদ্ধ রাখার যে অভিনয়টা সত্যিই অবাককর।

           আসলে কিছু মুভি ভিতরে খুব চাপ ফেলে, হাজার ট্যানশনেও মুভিটি মাথা থেকে সরানো মুশকিল হয়ে পরে, আমি তথাকথিত কমার্শিয়াল মুভি যেগুলোর মূর উপাদান ফাইট,কমেডি,রোমাঞ্চ সেগুলোর কথা বলছিনা, এসব মুভি দেখার পর যদি ভালোও লাগে তার স্থায়িত্ব থাকবে বড়জোর ২ঘন্টা এর পর কেউ জিজ্ঞেস করলে অনিহা দেখাবেন বা বলবেন "ভালোই,খারাপ নাহ".....
বাট আমি যে মুভির কথা বলছি সেটা দেখার পাঁচ বছর পরেও কেউ মুভির কথা অনিচ্ছায় মনে করিয়ে দেয় আপনি আবার দেখার জন্যে মনস্থ করবেন।

Perfume...
            মুভিটির কোন দিকটা আপনার ভালোলেগেছে নির্দিষ্ট করে বলা বহুত কঠিন হয়ে যাবে সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সেট, একদম ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া, পুরো মুভিটার মেকিং স্টাইল, কাহিনী প্রবাহ, পরিবেশ, চরিত্রগুলোর গতিবিধি, এবং চূড়ান্ত পরিণতির দিকে আস্তে আস্তে ধাবিত হওয়া আপনাকে শুধু অবাকই করবেনা রীতিমত অভিভূত করবে।
মুভিটা যেহেতু সুগন্ধি নিয়ে, সুগন্ধি উৎপাদনের শহর প্যারিসকে নিয়েই গড়ে উঠেছে পারফিউম মুভির গল্প। আমরা যতোটুকু জানি/শুনেছি প্যারিস কবি সাহিত্যিকের দেশ, ছবির দেশ কবির দেশ। কিন্তু তা না শুধু, সতেরো আঠারো শতকের দিকে প্যারিস ছিল সুগন্ধি উৎপাদনের সর্গরাজ্য। এই আধুনিক যুগে ১৮শত দশকের সেই প্যারিসকে চিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, এতো নিখুঁত পরিবেশন আমি আগে দেখিনি, কোনো ভাবেই মনে হবেনা এটা এই সময়ের মুভি। মুভি দেখতে দেখতে কখন আপনি হঠাৎ চলে যাবেন সেই সময়ে টের ই পাবেন না..
মুভিটিকে জনরা ভিত্তিকভাবে সাঁজালে চলে আসবে ডার্ক থ্রিলার এর নাম, সাথে ড্রামা, এবং কিছু ফ্যান্টাসিও পাবেন।
             প্লট/গল্প নিয়ে বলতে গেলে বলা যায়... আবর্জনা,ময়লা,ডাস্টবিন থেকেও দুর্গন্ধযুক্ত পল্লীর মাছ বাজারের তলনীতে জন্ম নেয় এক শিশু, আগের তিনটি সন্তানের মতো এই শিশুকেও ফেলে দেয় নর্দমায় তার নির্মম মা। ঘটনা চক্রে তার আশ্রয় হয় এক আশ্রমে, সেখান থেকে চামড়া ব্যবসায়ীর কাছে এবং শিশু অবস্থাতেই সে নিজেকে আবিষ্কার করে, বুঝতে পারে তার আছে একটা নিজস্বতা, রয়েছে প্রখর ঘ্রাণ শক্তি, এই সুগন্ধি কে কিভাবে স্থায়ী করে রাখা যায়, বিভাবে পৃথিবীর সেরা পারফিউম তৈরী করে রাখা যায় সেই নেশায় পেয়ে বসে তাকে, এটা নেশা নয় আসক্তি, এরপর?? অবশ্যই মুভিটি দেখতে হবে।
গল্পের প্রথমেই আপনাকে গল্পের গভীর থেকে কেউ খিচে টাঁন দিবে,আর হারিয়ে যাবেন সেই জগতে।
মুভিটির দেখা শেষে তার পরতে পরতে নতুন কিছু আর সাথে মাথায় থেকে যাওয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের এই ডার্ক থ্রিলার, ফ্যান্টাসি মুভিটি খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়াবে মাথা থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য। একই সাথে প্রচন্ডভাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অতিমাত্রায় ভয়াবহ।

শুধু কি তাই? পারফিউম জার্মান ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যায়বহুল মুভি, এই মুভি তৈরি করতে পরিচালককে বাজেট নিতে হয়েছে অনেক। তৈরী করতে হয়েছে ৫হাজার কলাকৌশলীর একটা মুভি সেট, ঘুরে বেড়াতে হয়েছ ইউরোপের গোটা দশেক দেশে, মুভির গ্রাফিক্স থেকে শুরু করে সাউন্ড কোয়ালিটি সবকিছুই প্রশংসার দাবী রাখে।

এক নজরে মুভিটি....
--------
Perfume: The Story of a Murderer
Year: 2006
Origin: Germany
Language: English

Cast: Ben Whishaw, Alan Rickman, Rachel Hurd-Wood, Dustin Hoffman

Directed by: Tom Tykwer
Based on: 'Perfume' by Patrick Süskind

IMDb Rating: 7.5/10
My Rating: 9/10
Box Office: 165 million/60 million

Main Aur Charles (2015) মুভি রিভিউ



মার্চ , ১৯৮৬ – একজন লোককে ধরার জন্য পুরো ইন্ডিয়ান পুলিশ ফোর্স পাগল হয়ে গিয়েছিল ।
.
ভদ্রলোকের পরিচয় – অনেকগুলো । কখনো সে নেপালের রাজবংশীয় প্রিন্স, কখনো রত্ন ব্যবসায়ী আবার কখনো শুধুই বাবার বখে যাওয়া প্লেবয় সন্তান । অনেকগুলো নাম তার, অনেকগুলো জাতীয়তা । বেশ কয়েকটি ভাষায় সে কথা বলতে পারে অনর্গল, এমন একটা ব্যক্তিত্ব, কেউই তার আকর্ষণ এড়াতে পারে না । শেয়ালের চেয়েও ধূর্ত সে, নেকড়ের চেয়েও হিংস্র , আপাদমস্তক রহস্যময়। অন্যেরা যখন তাদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে, সে তার ভবিষ্যত লিখে, এমনভাবে লিখে– যার ওপরে মুভি বানানো যায় ।
.
লোকটার নাম চার্লস, চার্লস সোবরাজ ।
.
ইতিহাসে সিরিয়াল কিলারদের মাঝে এই অসাধারণ প্রতিভাধর খুনি বিখ্যাত তার ক্ষুরধার বুদ্ধির কারণে । হিপ্পি ট্যুরিস্টদের টার্গেট করা এই খুনির ডাকনাম ‘ দ্য বিকিনি কিলার’ আর ‘দ্য সার্পেন্ট’ । বারবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, কিন্তু সে বেরিয়ে গেছে জেল থেকে – যখন সে চেয়েছে তখন । যখন সে ধরা পড়তে চেয়েছে, সে ধরা পড়েছে । জেলখানায় সে নেশার আসর বসিয়েছিল, ছিল সিনেমা আর প্রেমিকাদের অবাধ যাতায়াত । তাকে আদালতে নেয়া হলে দেখা যায়, তার বিপক্ষে আসলে কারও কাছে তেমন কোন প্রমাণ নেই ।
.
Main Aur Charles – এই খুনির জীবন নিয়ে বানানো বলিউডের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড সিনেমাগুলোর একটা । দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন রণদীপ হুদা – যিনি নিজেই বলিউডের সবচেয়ে আন্ডাররেটেড অভিনেতাদের একজন । ক্যারিশম্যাটিক, ধূর্ত , রহস্যময় চার্লস – আর তার জীবনের একটা বড় ট্যুইস্ট – তার প্রিজন ব্রেক ।
.
রিচা চাড্ডা , মন্দানা কারীমি মুভিতে পর্যন্ত গ্ল্যামার এনেছেন :P আদিল হোসেন – চমৎকারভাবে মানিয়ে গেছেন চরিত্রের সাথে । গানগুলো বেখাপ্পা লেগেছে, পুষিয়ে গেছে দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকে । আশির দশকের ছাপ পাওয়া যায় মিউজিকে, পোশাকে , হেয়ারস্টাইলে। এই মুভির নায়ক, ভিলেন, রম্যঅভিনেতা – সবকিছু একজনই ।
.
.
লোকটার নাম চার্লস, চার্লস সোবরাজ ।