Know info before watch, but no Spoiler

Showing posts with label Hollywood. Show all posts
Showing posts with label Hollywood. Show all posts

হ্যারি পটার এর জাদুর স্কুল সমুহের বর্ননা



আমরা একসময় জানতাম হগওয়ার্টস নামক ম্যাজিক স্কুলের কথা...
পার্ট ফোর থেকে আরো 2 টা ম্যাজিক স্কুলের নাম
জানা যায় যেগুলা ইউরোপের মধ্যে আছে।
কিন্তু জে. কে. রাওলিং শুধু ইউরোপ নয়, পৃথিবী জুড়ে
১১ টি প্রধান ম্যাজিক স্কুলের অবস্থানের কথা বলেছেন
এবং তার সাথে ছোট বড় আরো অনেক স্কুল আছে।

হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি স্কুলের কথাই আজ বলব।


১) BEAUXBATONS : ১২৯০ সালে এই স্কুল ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকতর ফ্রান্সের ছেলে মেয়েরা পড়লেও বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের
শিক্ষার্থীরা আসে৷ এদের পোশাক নীল সিল্কের কাপড়ে
তৈরী। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি হগওয়ার্টস কেও হার
মানায়। চারিদিক পাহাড় ও বাগানে ঘেড়া এই স্কুল।
এর ঝড়নার পানি মানুষের রোগমুক্তি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হ্যারি পটার পার্ট ৪ এই স্কুল ট্রাই উইজার্ড কম্পটিশনে আসে।  এরা যানবাহনের জন্য উড়ন্ত ঘোড়া
ব্যাবহার করে।

যেকোনো প্রতিযোগিতায় এরা ৬২ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে যেখানে হগওয়ার্টস ৬৩ বার।

"নিকোলাস ফ্লামেল" যিনি ফিলোসফার স্টোনের আবিষ্কারক।  তিনি এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

২) DURMSTRANG INSTITUTE : ইউরোপের আর একটি স্কুল। যেখানে অধিকতর বুলগেরিয়ান স্টুডেন্ট
পড়ে। ১২৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। ডার্ক আর্ট ম্যাজিক এর জন্য বিখ্যাত এই স্কুল।

মাগলবর্ন এই স্কুলে পড়তে পারত না শুরুর দিকে কিন্তু
পরবর্তীতে মাগলরা সেই সুযোগ পায়।
ভিক্টর ক্রাম ( পার্ট ৪ দেখানো হয়েছে) এই স্কুলের ছাত্র।

বরফে আচ্ছাদিত থাকে এই স্কুল তাই সেখানকার পোশাক
খুব মোটা হয়।

ডার্ক ম্যাজিককে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া স্কুল এটি।
যেখান থেকে " গ্রিন্ডেলওয়াল্ড " পড়াশোনা করেছে।
এবং ১৮৯০ সালের দিক ভয়ানক ডার্ক ম্যাজিক করার
কারণে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

৩) ILVERMORNY : "ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস" মুভিতে এই স্কুলের নাম শোনা যায়। যেখান থেকে "কুইনি ও টিনা গোল্ডস্টেইন "পাশ করা শিক্ষার্থী ছিল।
এটি আমেরিকায় অবস্থিত। হগওয়ার্টস এর মত এদের
৪ টি হাউজ আছে। " Thunderbird, Wampus, PukwudG, Horned Sarpent."

স্কুলের স্টুডেন্টদের হাউজ সিলেকশন "গর্ডিয়ান নট"
নামক যায়গায় হয় যেটা এনট্রানস হলের সামনেই
অবস্থিত।  হাউজের প্রতীক তাদের স্টুডেন্ট চুজ করে
নেয়। ১৮০০ শতাব্দীতে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়
এবং ১৯০০ শতাব্দীতে এটিকে হগওয়ার্টসের সমান
জনপ্রিয় মানা হয়।

ইলভারমরনি বাহির থেকে সাধারণ মানুষের চোখে
মেঘের মত মনে হয়।
হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি ম্যাজিক স্কুলের বর্ণনার
২য় পার্ট এটি। প্রথম টির লিংক পোস্টের শেষে দেয়া।

৪) CASTELOBRUXO : এটি ব্রাজিলের আমাজন রেইন ফরেস্টে অবস্থিত। লাতিন আমেরিকার স্টুডেন্ট
এখানে পড়তে আসে। এটি দেখতে পুরোনো মন্দিরের মত।
"ক্যাসেলোব্রোসো" হগওয়ার্টসের মতই পুরোনো স্কুল।
"কাইপোরা" নামক ছোটো জীব এটার দেখাশোনা করে।
রনের বড়ভাই বিল উইজলির পেনফ্রেন্ড এই স্কুলে পড়ত। আর্থিক অভাব থাকায় "বিল উইজলি" ব্রাজিলে
গিয়ে সেখানে পড়তে পারে নি।

এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়
এবং এরা "হার্বালোজি ও ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচার সাবজেক্ট " এ অনেক পারদর্শী হয়।
ক্যাসেলোব্রোসো একটি পর্তুগিজ শব্দ। যার অর্থ হলো
"জাদুর মহল।"

৫) MAHUTOKORO : এটির অবস্থান জাপানে।
"মাহুতোকরো" একটি জাপানিজ শব্দ যার অর্থ হলো
"জাদুর স্থান।"
এটিই হচ্ছে সবচেয়ে পুরোনো জাদুর স্কুল এবং মজার
তথ্য হলো " কিডিচ" খেলার উৎপত্তি এখানেই।
সবচেয়ে কম স্টুডেন্ট নিয়ে গড়া এই স্কুল জাপানের
আগ্নেয়গিরি পাহাড়ের উপর অবস্থিত যা সাধারন চোখে
জাপানের মন্দিরের মত লাগে।
৭ বছর বয়সেই এদের স্টুডেন্ট সিলেকশন হয়ে যায়।
যদিও বা ১১ বছর বয়স থেকে ক্লাস শুরু করে তারা।

এদের পোশাক প্রথম অবস্থায় গোলাপি কালার এবং
অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সোনালিতে পরিনত হয়।
কোনো স্টুডেন্ট রুল ব্রেক করলে তার কাপড় সাথে
সাথে সাদা কালার ধারণ করে এবং তাকে বের করে দেয়া হয়।
নিয়ম কানুন প্রয়োগের জন্য এরা সবখানেই সমাদৃত।

৬) UGADOU : পশ্চিম উগান্ডার "মাউন্টেন অব দ্যা মুন"
এর উপর অবস্থিত। বলতে গেলে সবচেয়ে বড় এবং
বেশি স্টুডেন্ট নিয়ে গঠিত এই স্কুল যা হগওয়ার্টস থেকে
বেশি পুরোনো। এতটাই উপরে অবস্থিত য দেখলে মনে
হয় মেঘে ভাসমান অবস্থায় আছে।
এরা ট্রান্সফিগারেশন, এলকেমি, এস্ট্রোনমি তে পারদর্শী।

স্টুডেন্ট বাছাই প্রক্রিয়া এখানে "ড্রিম মেসেনজার"
মাধ্যমে ঘটে। অর্থাৎ স্বপ্নে বার্তা আসে এবং স্টুডেন্টদের
হাতে একটা পাথর দেয়া হয়। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে
পারে যে তাদের স্কুলে পড়ার যোগ্যতা আছে।

এরা নিজের হাত বা আংগুল দিয়ে জাদু করে।

৭) KOLDOVSTORETZ : এর অবস্থান রাশিয়ায়।
এই স্কুল সম্পর্কে রাইটার এখনো কিছু তথ্য প্রকাশ করেনি।

হগওয়ার্টস সহ এই ছিল ৮ টি স্কুল যার তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ডফেমাস ১১ টি স্কুল এর মধ্যে এখনো ৩ টি স্কুল কোথায় আছে বা কেমন রাইটার
প্রকাশ করে নি।

নেক্সট "হোগওয়ার্টস" স্কুলের উৎপত্তি আর যেই ৪ জন
তৈরী করেছেন তাদের নিয়ে আলোচনা করব।

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা চেম্বার অফ সিক্রেটস রিভিউ


প্রথম একটি রোমাঞ্চকর বছরের শেষে ডার্সলি ফ্যামিলিতে ছুটি কাটানো হ্যারি তার বাবা মায়ের ছবি দেখছে, এই দৃশ্যের মাধ্যমে ছবি শুরু হয়।  নিচতলায় ডার্সলি পরিবারে উৎসব উৎসব আমেজ। হ্যারিকে বলা হয়েছে উপরে যেন চুপ করে বসে থাকে কোন প্রকার শব্দ না হয়, ভার্ণনের ক্লাইন্ট ও তার স্ত্রী এসব পছন্দ করেন না, হ্যারির ও এসব ঘাটানোর ইচ্ছে নেই, কিন্তু ঝামেলা তার পিছু ছাড়বার নয়, হ্যারির রুমে এসে হাজির হয় হাউজ এলফ ডবি,  হ্যারিকে হাতে পায়ে ধরে সাবধান করে এই বছর হগওয়ার্টসে ফিরে না যেতে, কারন এই বছর ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটবে হগওয়ার্টসে, যার প্লট সাজানো হয়ে গেছে, হ্যারি কোন ভাবেই ডবির কথা কানে তুলেনা, তাই ডবি হ্যারিকে আটকানোর জন্য আংকেল ভার্ণনের গেস্টের মাথায় আস্ত কেক ফেলে দেয় আর উধাও হয়ে যায় নাম পরে হ্যারির, আর হ্যারি গৃহবন্দী হয়।
ছুটি শেষ হয়ে আসছে, হ্যারির কোন খবর না পেয়ে তার বন্ধু রন উড়ন্ত গাড়ী নিয়ে আসে রেসকিউ মিশনে, ভার্ণনের বাড়ির জানালা ভেঙে উদ্ধার করে হ্যারিকে প্রথমবারের মতো নিয়ে যায় উইজলি ফ্যামিলির বাড়ি "দ্যা ব্যারো" তে। হ্যারি প্রথমবারের মতো কোন জাদুকরী বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো চমকিত হয়,ঘরের সব কাজ জাদুর মাধ্যমে নিজে নিজে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে পুলকিত ভাবটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনা হ্যারি, মলি এসে তার ছেলেদের বকাঝকা শুরু করে গাড়ী চুরি করার জন্য, উপর থেকে জিনি উইজলি এসে হ্যারিকে দেখে লজ্জা পেয়ে আবার দৌড়ে পালায়। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে আর্থার উইজলির, রনের, জর্জ,ফ্রেড,জিনি উইজিলির বাবা তারা সকলে মিলে বই কেনার জন্য ফ্লু পাউডার দিয়ে ডায়গন আ্যলিতে যায়। কিন্তু হ্যারি আগে ফ্লু পাউডার ব্যাবহার না করায় ভুল করে নকটার্ন আ্যলির একটি দোকানে চলে যায়, সেখানে দেখতে পায় লুসিয়াস ম্যালফয় আর তার ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় কিছু বিক্র‍য় করতে এসেছে।হ্যারি সেখান থেকে এসে রন আর হারময়নির দেখা পায়, তারা সকলে মিলে বিখ্যাত লেখক গিল্ডরয় লকহার্টের দোকানে যায়। হ্যারিকে গিল্ডরয় লকহার্ট চিনতে পারে আর একসেট বই উপহার দেয়। এটা দেখে ম্যালফয় ফ্যামিলির সাথে হ্যারি আর উইজলি ফ্যামিলর দ্বন্দ্ব বাঁধে।
ঝামেলা যেন হ্যারির পিছু ছাড়েইনা, হ্যারি আর রন হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস মিস করে বসে, তারা তাদের উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে রওনা হয় হগওয়ার্টসের দিকে। গাড়ি তাদের হগওয়ার্টসে পৌছে দেয় ঠিকি কিন্তু তাদের নামিয়ে নিয়ে নিজে নিজে  ডার্ক ফরেস্টের দিকে চলে যায়। যার বদৌলতে রন তার মায়ের থেকে হাউলার পায়।
প্রফেসর কুইরেল মারা যাবার পর ডার্ক আর্টস ক্লাসের টিচার হয় গিল্ডরয় লকহার্ট! যে কিনা নিজের সুনাম করতেই ব্যাস্ত। অন্য দিকে হ্যারি দেয়ালের ভেতর থেকে কোন অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় যা শুধু একটাই কথা বলে "Kill"
হ্যারি দৌড়ে করিডোরে যায় সেখানে দেখে ফিলচের বেড়াল পোট্রিফাইড হয়ে পরে আছে, আর পাশে লিখা "চেম্বার অফ সিক্রেট খুলে গেছে শত্রুদের উত্তরসূরিরা ভয় পাও"।  পাশ দিয়ে দেখা যায় কিছু মাকড়শা ভবন থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
চেম্বার অফ সিক্রেটস আসলে কি তা প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর কাছে জানতে চায় হ্যারি, উনি উত্তর দেয় হগওয়ার্টসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সালাজার স্লিদারিন এই ক্যাসেলে একটি গোপন চেম্বার নির্মান করে যান। যা একমাত্র তার আসল উত্তরসূরি ই খুলতে পারবেন। আর সেই গোপন চেম্বারের ভেতর রয়েছে মনস্টারের বসবাস। অন্য দিকে হগওয়ার্টসের গোস্ট নিয়ারিলি হেডলেস নিক, কলিন ক্রিভি পেট্রিফাইড হয় রহস্যজনক ভাবে। হ্যারি রন হারমোয়নি ধারনা করে এসব কিছুর পেছনে ড্র‍্যাকোর হাত থাকতে পারে, তাই তারা পোলিজুস পোশন ব্যাবহার করে ক্রাব আর গোয়াল এর রূপ ধরে ড্রাকোর কাছে যায় কথা বের করতে।
এদিকে হ্যারি মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে এসে একটি অদ্ভুত ডায়েরি পায়, যেটায় কিছু লিখলেই গায়েব হয়ে যায়। হ্যারি জানতে পারে ডায়েরীর মালিকের নাম টম রিডল। সে হগওয়ার্টসের একজন প্রাক্তন ছাত্র, হ্যারি ডায়রীর কাছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের ব্যাপারে জানতে চায়, ডায়রী হ্যারিকে দেখায় অনেক বছর আগে হ্যাগ্রিড চেম্বারটি খুলেছিল, যা টম রিডল ধরে ফেলে। আর সে চেম্বারের মন্সটার আসলে একটি মাকড়শা যার নাম এরাগগ।
হ্যারি রন হারমোয়নি হ্যাগ্রিডের কাছে জানতে চায়, হ্যাগ্রিড বলে সে চেম্বার ওপেন করেনি, আর এরাগগ কাউকে হত্যাও করেনি, এই সময় জাদুমন্ত্রী কর্নেলিয়াস ফাজ সাথে লুসিয়াস ম্যালফয় এসে হ্যাগ্রিডকে ধরে আজকাবানে নিয়ে যায় পুনরায় চেম্বার খোলার অপরাধে। যাওয়ার সময় হ্যাগ্রিড বলে মাকড়শা দের অনুসরণ করো, সব উত্তর পাবা। অন্য দিকে হারমোয়নিও অজানা কারনে পেট্রিফাইড হয়ে যায়। রন আর হ্যারি মাকড়শা কে ফলো করতে করতে ডার্ক ফরেস্টের ভেতর চলে যায়, সেখানে দেখা হয় এরাগগ এর সাথে, এরাগগ জানায় চেম্বারে এমন এক মন্সটার আছে যে কিনা শুধু মাকড়শাকেই ভয় পায়। এই কথা বলে এরাগগ হ্যারি আর রন কে খেয়ে ফেলার অনুমতি দেয় তার বাচ্চাদের। সেখান থেকের রনের উড়ন্ত গাড়ি তাদের রক্ষা করে।
কিন্তু তারা কোন ভাবেই বের করতে পারছিলোনা চেম্বারের ভেতর কি রয়েছে কিভাবে এতো ছাত্রছাত্রী পেট্রিফাইড হচ্ছে। এদিকে জিনিয়াস হারমোয়নিও নেই, তারা হারমোয়নির কাছে গিয়ে তার হাতে একটি কাগজ পায়, যেখানে লিখা চেম্বারের ভেতর রয়েছে বাসিলিস্ক। যার চোখে চোখ পরলেই মৃত্যু অবধারিত,  আর বাসিলিস্ক যেহেতু একটা সাপ তাই হ্যারি তার চলাফেরা শব্দ সব টের পায়। কিন্তু কারো চোখ ই সরাসরি বাসিলিস্কের চোখে পরেনি তাই কেউই মারা যায়নি সবাই পেট্রিফাইড হয়েছে।
এসব জানতে পারার পরপর ই রনের ছোটবোন জিনিকে চেম্বারের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে বাঁচাতে গিল্ডরয় লকহার্টের উপর দায়িত্ব পরে। কিন্তু সে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে ফেলে রন আর হ্যারি, তাকে ধরে নিয়ে যায় মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে যেখানে রয়েছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের দরজা। হ্যারি পার্সেলটাং ব্যাবহার করে দরজা খুলে ফেলে আর ভেতরে যায় তিনজন, সেখানে লকহার্ট পালাতে হ্যারি আর রনের উপর স্পেল ছুড়ে মারে কিন্তু স্পেল ব্যাকফায়ার করে নিজের ই মেমরী চলে যায়। অন্য দিকে হ্যারি চেম্বারের ভেতর ঢুকে দেখে জিনি মেঝেতে পরে আছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছে ডায়েরীতে থাকা টম রিডল। টম রিডল বলে আমার নাম ই লর্ড ভল্ডমোর্ট। আজ জিনি মারা যাবে আর আমি বেঁচে উঠবো, চেম্বার আসলে জিনিকে দিয়ে আমি ই খুলিয়েছি।এবং অনেক বছর আগে আমি ই চেম্বার খুলেছিলাম। আমি ই সালাজার স্লিদারিনের আসল উত্তরসূরী। অপর দিকে কৌশলে হ্যারির জাদুদণ্ড ও নিয়ে নেয় টম রিডল, কিন্তু হ্যারিকে সাহায্যের জন্য ডাম্বেরলডোর তার ফিনিক্স পাখি আর হ্যাট পাঠায়, যার ভেতর থাকে গড্রিচ গ্রিফিন্ডোরের তলোয়ার,  ফিনিক্স বাসিলিস্কের চোখ অন্ধ করে দেয় আর হ্যারি সেই তলোয়ার দিয়ে বাসিলিস্ক কে হত্যা করে।আর বাসিলিস্কের দাঁত দিয়ে টম রিডলের ডায়েরী ধ্বংস করে ফেলে। সাথে সাথে জিনির জ্ঞান ফিরে আসে। বাসিলিস্কের একটি দাঁত হ্যারির হাতে ঢুকে যায়, কিন্তু ফিনিক্স পাখির চোখের পানির কল্যানে হ্যারি সে যাত্রায় রক্ষা পায়। যারা পেট্রিফাইড হয়েছিল তারাও ম্যাডাম পামফ্রের সেবায় সেড়ে উঠে।
পরবর্তীতে জানা যায় লুসিয়াস ম্যালফয় উইজলি ফ্যামিলের সাথে ঝামেলার সময় কৌশলে জিনির ব্যাগে টম রিডলের ডায়েরী রেখে দেয়, সেখান থেকেই জিনিকে সম্মোহিত করে এসব কাজ ঘটায় টম রিডলের স্মৃতি। আর এসব জানতে পেরে ম্যালফয় ফ্যামিলের হাউজ এলফ ডবি হ্যারিকে সাবধান করতে আসে। হ্যারি কৌশলে ম্যালফয়ে কাছ থেকে ডবিকে মুক্ত করে দেয় আর হ্যারিও তাকে মুক্ত ঘোষণা করে। যার ফলে ডবি একজন ফ্রি এলফ হয়ে যায়। আর আসল কালপ্রিট ধরা পরায় হ্যাগ্রিড ও আজকাবান মুক্তি পায়।
এভাবেই হ্যারি পটারের আরো একটি রোমাঞ্চকর বছরের সমাপ্তি হয়। রন হারমোয়নি হ্যারি যার যার বাড়িতে ফিরে যায় নতুন বছর শুরুর অপেক্ষায়।

মুভিতে অনেক প্লটহোল,প্লটজাম্প আছে! যা
অন্য মুভিতে গিয়ে ক্লিয়ার হয়, তাই প্রথম দেখায় মুগ্ধ না হলেও সব গুলো দেখার পর বুঝা যাবে হ্যারি পটার সিরিজের অন্যতম ইম্পরট্যান্ট মুভি এটা।
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৭.৪
রোটেন টমাটোঃ ৮৩%

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা ফিলোসফার্স স্টোন রিভিউ


রিভিউ লিখা শুরু করার আগে জানা উচিৎ  হ্যারি পটার আসলে কে, হ্যারি পটার হলো অনাথ একটি ছেলে যে তার বাবা মাকে একটি কার এক্সিডেন্টে হারায় তারপর থেকেই সে  ডার্সলি ফ্যামিলিতে বড় হতে থাকে তার খালার তত্ত্বাবধায়নে। যেখানে সে বরাবর ই অবহেলিত নির্যাতিত,  সিড়িঘরের ছোট্ট কামড়ায় তার বসবাস, ঘরের ছোটখাটো কাজ করা, খালাতো ভাইয়ের অত্যাচার সহ্য করে আর খালাতো ভাইয়ের পুরনো হয়ে যাওয়া জামাকাপড় পরেই আস্তে আস্তে আমাদের হ্যারি পটার বড় হতে থাকে।

হ্যারি পটারের ভেতরে যে কিছু অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তা প্রথম বোঝা যায় একবার চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে, একটি সাপের সাথে সে পার্সেলটাং ভাষায় কথা বলে নিজের অজান্তেই। তার মনের চাওয়াতে সাপের খাচার কাঁচটি উধাও হয়ে যায় সাপটি মুক্তি পায়। কিন্তু এর রহস্য কি?  কেন ছেলেটি সকলের থেকে আলাদা?  তার সকল উত্তর মেলে ছেলেটির এগারোতম জন্মদিনের রাতে।
হগওয়ার্টস নামক কোন স্কুল থেকে হ্যারিপটারের নামে নিয়মিত চিঠি আসতে থাকে পেচা মারফত, প্রথমে কিছু কিছু চিঠি ছিড়ে ফেলা হয়, কিছু লুকনো হয় কিছু পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও আংকেল ভার্নন আর আন্ট পেটুনিয়া এই অদ্ভুত চিঠি আসা কোন ভাবেই বন্ধ করতে না পেরে পালিয়ে যায় নির্জন একটি দ্বীপে, সব কিছু ছেড়ে,
সেখানেই আমাদের হ্যারি প্রতিবারের মতো একা একা জন্মদিন বানানোর প্রস্তুতি নেয় মেঝেতে শুয়ে। কিন্তু বিধিবাম,  এই নির্জন দ্বীপে ঝড়ের রাতে ঠিক বারোটায় উপস্থিত হয় দৈত্যাকার আকারের রুবিয়াস হ্যাগ্রিড। যে কিনা হগওয়ার্টস স্কুলের গেটকিপার, সে এসেই হ্যারি পটারকে খোঁজা শুরু করে এবং তাকে প্রথমবারের মতো বার্থডে উইশ করে।
সেদিন হ্যারি পটার জানতে পারে, তার সাথে ঘটা সকল অদ্ভুত  ঘটনার উত্তর। হ্যারি পটার সেদিন জানতে পারে সে কোন সাধারণ ছেলে নয়, সে একজন জাদুকর,  শুধু জাদুকর ই নয়,  জাদু দুনিয়ায় সে রীতিমতো বিখ্যাত একজন ছেলে, যেখানে বিখ্যাত সকল বইয়ে তার নাম রয়েছে।  সে এটাও জানতে পারে তার বাবা মা কার ক্রাশে মারা যায়নি! ঐতিহাসিক কোন কারনে মারা গিয়েছে সাহসী জেমস আর লিলি পটার। হ্যাগ্রিড তাকে এসেছে জাদুবিদ্যা শেখার স্কুল "হগওয়ার্টস স্কুল অফ উইচক্রাফট এন্ড উইজার্ডি" তে নিয়ে যেতে, যেখানের বর্তমান হেডমাস্টার স্মরণকালের সেরা হেডমাস্টার যার নাম "এলবাস ডাম্বেলডোর"  এবং তার নির্দেশেই হ্যারি  এতো বছর তার খালাদের পরিবারে ছিলো। কোন এক বিশেষ কারনে।
এগারো বছরের অবহেলিত ছেলে হ্যারি পটার এতো কিছু শুনে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনা। সে ধরেই নেয় সে স্বপ্ন দেখছে বা সে আসলে আসল হ্যারি পটার নয়, কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। কিন্তু হ্যাগ্রিডের সাথে "ডায়গন আ্যলিতে" যাদুসামগ্রী কিনতে যওয়ার সময় টের পায় তার সে আসলেই বিখ্যাত একজন ছেলে, যাকে একবার দেখতে পেয়ে সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। সকলে তাকে দেখা মাত্রই চিনে যায়। হ্যারি হ্যাগ্রিডের সাথে তার প্রথম যাদুদণ্ড কিনে, আর প্রথমবর্ষের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে। তারপর কিংক্রস স্টেশনে হাজির হয় হওগওয়ার্টসের উদ্দেশ্যে এক রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য। সেখানে ট্রেনে তার পরিচয় হয় রন উইজলি আর হারমোয়নি গ্রেঞ্জারের সাথে।যারা হ্যারির কপালে থাকা সেই বিখ্যাত স্কার দেখে অবাক হয়ে যায়, এবং তারা তিনজনেই সর্টিং হ্যাটের মাধ্যমে গ্রিফিন্ডর হাউজ পায়।  অন্যদিকে হ্যারি পটারের সাথে বন্ধুত্ব করতে আসা অন্য রয়েল ফ্যামিলির ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় পায় স্লিদারিন হাউজ! হগওয়ার্টস স্কুলে আরো দুটি হাউজ রয়েছে যথাক্রমে রেভেনক্ল আর হাফলপাফ।প্রতিটি হাউজের নামকরণ হয়েছে হগওয়ার্টসের চার প্রতিষ্ঠাকারীর নামে। প্রতিটা হাউজের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে।
স্কুলে এসে বিভিন্ন স্যারদের সাথে পরিচয় হয় হ্যারির,  পোশন শিক্ষার স্যার সেভেরাস স্নেইপের সাথে পরিচয় হয় যে কিনা সব সময় ডার্ক আর্টসের টিচার হতে চায়, ডার্ক আর্টস টিচার কুইরেলের সাথে পরিচয় হয়, গ্রিফিন্ডর হাউজের প্রধান প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর সাথে পরিচয় হয় যিনি হ্যারিকে পরবর্তীতে কুইডিচ খেলার সর্বকনিষ্ঠ সীকার হিসেবে নিযুক্ত করেন, 
হ্যারি দেখা পায় হগওয়ার্টস স্কুলের সর্বশ্রেষ্ঠ হেডমাস্টার প্রফেসর ডাম্বেলডোরের। এতো সবের মাঝে তার দিনগুলো স্বপ্নের মতো কাটতে থাকে। কিন্তু বিখ্যাত ছেলেটির বিপদ যেন কাটেইনা,  সিড়ির নিজস্ব নড়াচড়ার কারনে হ্যারি,রন, হারময়নি এক্সিডেন্টলি হগওয়ার্টসের নিষিদ্ধ এরিয়াতে চলে যায়, সেখানে গিয়ে ধরা খায় হগওয়ার্টের কেয়ারটেকার ফিলচের বিড়াল মিসেস নরিসের হাতে,তার থেকে বাঁচতে তিনজন একটি রুমের দরজার আড়ালে লুকায়, সেখানে গিয়ে তিন মাথাওয়ালা বিশাল কুকুর ফ্লাফির সামনে গিয়ে পরে তারা, কোনরকমে সেখান থেকে জীবন নিয়ে পালায় , তখন তাদের মাথায় খটকা লাগে এতো ভয়ংকর একটা প্রাণী এই ভবনের ভেতর কি করছে! তারা সে ব্যাপারে জানতে হ্যাগ্রিডের কাছে গিয়ে, জানতে পারে ব্যাপারটি খুবই গোপনীয়, তবে হ্যাগ্রিড ভুল করে নিকোলাস ফ্লামেলের নাম বলে ফেলে, এবং তারা বুঝতে পারে কুকুরটি আসলে ফিলোসোফার্স স্টোন প্রটেক্ট করছে যা কিনা যে কোন মেটাল কে স্বর্ণতে পরিণত  করে, আর অমৃত সুধা প্রোডিউস করে।  হ্যারি ধারনা করে প্রফেসর স্নেইপ সেই পাথরটি চুরি করতে চাচ্ছে, যার করনে সে কুইডিচ ম্যাচে হ্যারিকে মারতে চায় আর হ্যালোয়িনের দিন একটি আস্ত ট্রল কে ভবনের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়।
হ্যারি,রন,হারময়নি তিনজন মিলে সেই কুকুরকে পার করে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় আর সেখানে গিয়ে দেখতে পায় চেজবোর্ড, সেই চেজবোর্ডে দাবা না খেলে পার হওয়ার কোন উপায় নেই, রন সেই ভয়ংকর খেলায় লীড দেয় আর জিতে যায়, হ্যারি ভেতরে গিয়ে সেখানে স্নেইপের বদলে দেখতে পায় প্রফেসর কুইরেল কে,  আর জানতে পারে স্নেইপ তাকে মারতে নয় বাঁচাতে চেয়েছে, স্নেপের কারনেই হ্যারিকে কুইরেল মারতে পারেনি।কুইরেলের পাগড়ি খোলার পর হ্যারি দেখতে পায় তার পেছনে আরেকটি মাথা, যে কিনা ইউ নো হু বা লর্ড ভল্ডোমর্ট নামে পরিচিত। তাকে ক্ষমতায় আনতেই কুইরেল ফিলোসফার্স স্টোনটি খুঁজছে,  কিন্তু হ্যারি "মিরর অফ এরিসেড" এ দেখতে পায় হ্যারির পকেটে রয়েছে সে স্টোনটি। কুইরেল সেটি হ্যারির কাছে চাইলে হ্যারি দিতে রাজী হয়না, তখন ভল্ডোমর্ট হ্যারিকে মেরে ফেলতে বলে, কিন্তু হ্যারিকে স্পর্শ করা মাত্রই কুইরেলের হাত পুড়ে যায় কোন এক অজানা কারনে। হ্যারি তার হাত লাগিয়ে কুইরেল কে ধ্বংস করে এবং আরেকবার হ্যারির কাছে পরাস্ত হয় লর্ড ভল্ডমোর্ট। বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগে বলে যায় আমি আবার ফিরে আসবো।

এভাবেই হ্যারিপটার মুভির প্রথম ছবিটি শেষ হয়। এই ছবিতে তিন বাচ্চার বন্ধুত্ব সাহসিকতা অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে, যাদের সাহসিকতার উপর ভর করে গ্রিফিন্ডর হাউজ বাৎসরিক হাউজ কাপ জিতে, আর একটি বছরের সমাপ্তি হয়। সকলে যার যার বাড়িতে যায় ছুটি কাটাতে। হ্যারিও ফিরে যায় ডার্সলি পরিবারে অসংখ্য সুখ স্মৃতি নিয়ে।
হ্যারি পটারের প্রথম ছবি বা স্টার্টিং হিসেবে মুভিটি অসাধারণ।  মন কাড়ার মতো বলা চলে। ধাপে ধাপে একটি অনাথ ছেলের বিখ্যাত জাদুকর হয়ে উঠা খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে।

ছবিটি পার্সোনাল রেটিং-৯.৮
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৫
রোটেন টমাটো- ৮১%

Inception (2010) মুভি রিভিউ

এই ছবির মূলভিত্তি হল স্বপ্ন শেয়ারিং এবং স্বপ্ন তৈরি করা। অর্থাৎ অন্যের অবচেতন মনে ঢুকে স্বপ্ন অবজার্ভেশন করা এবং নিজেদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করা। এই কাজে তারা উপস্থিতবুদ্ধি সম্পূর্ণ একজন অর্কিটেকের সহয়তা নেয়। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে তারা একই সাথে তিন চার জন একই স্বপ্নে প্রবেশ করে? মূলত এই স্বপ্নে প্রবেশে তারা ছোট একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যেটা হল পুরা সাইন্সফিকশন অর্থাৎ এটার বাস্তব কোন লজিক নেই। বাস্তবধর্মী মেডিটেশন কিংবা হিপনোটাইজ প্রক্রিয়ায় যেভাবে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানে সেইরূপ কোন সাইট্রিফিক কোন মেথড ব্যবহার করা হয় না বরং একটা ছোট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটি করা হয়। তাই মুভির আসল সাধ অনুভব করতে হলে আপনাকে এটা মেনে নিতে হবে অতিরিক্ত বাস্তববাদী হলে মুভি না দেখাই ভালো। আর ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া না দেখাই ভালো ।
মুভিটা শুরু হয় সমুদ্র সৈকতে অচেতন অবস্থায়একজনকে(কোব=ডিক্যাপিও)পাওয়ার মাধ্যমে। কোবকে নেয়া হয় মিঃসাইতো এর সামনে। এরপর শুরু হয় কোব ও সাইতোর মুখোমুখি হবার পূর্ববতী ঘটনা।

কোব মুলত একজন এক্সট্রাক্টর। এক্সট্রাকর হল সেই যে অন্যের স্বপ্নে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে সাথে সাথে সে স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। প্রয়োজনে সে অন্যের হাত থেকে স্বপ্নর মাধ্যমে যাতে কেউ তার আইডিয়াকে চুরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করতে পারে। অপরদিকে মিঃসাইতো একজন ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী। কোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামক এক কোম্পানি কোব ও তার সহযোগীদের কে ভাড়া করে স্বপ্নের মাধ্যমে মিঃসাইতোর এক গোপন নথির তথ্য উদ্ধার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়।মিঃসাইতোর নিকট স্বপ্নের মাধ্যমে অন্যের গোপন নথি সম্পর্কে জানার এই প্রক্রিয়া মৌলিক আইডিয়া এবং বেশ কার্যকরী মনে হয় ফলে সে কোব ও তার সহযোগী মিঃঅার্থার( জোসেফ) কে তার হয়ে একটি কাজ করার অনুরোধ করে তবে সেটা তথ্য জানা নয় বরং তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীর মনে এমন এক ধারনা ঢুকিয়ে দেয়া যাতে সে নিজ থেকেই নিজের ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অাইডিয়া ঢুকিয়ে দেয়াকেই inception বলে। মজার বিষয় হচ্ছে কোব ও অার্থার আগে কখন এমন কাজ করে নি। এবং তারা জানে এই কাজটি করতে হলে স্বপ্নের তৃতীয় লেয়ারে যেতে হয় যেটা শুধু কষ্টসাধ্য নহে বরং জীবনের জন্যও হুমকি। সেইজন্য তারা প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু যখন মিঃসাইতো কাজটির বিনিময়ে কোবকে তার সন্তানদের কাছে অর্থাৎ বাড়িতে ফিরতে সাহায্য করবে বলে তখন কোব রাজি হয়। কারণ কোব তার স্ত্রী ম্যালের হত্যা মামলার আসামী। সেইকারনে সে অনেকবছর ধরে দেশে ফিরতে পারছে না।এইটুকুই কাহিনী। এখন ডিক্যাপিও (কোব) কি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা না আদো সম্ভব না? সে কি তার বাচ্ছাদের কাছে যেতে পারছে এটা জানতে হলে আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে। এই ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলে এখানে আমরা সচারচর স্বপ্নের মধ্যে যে দৃশ্য গুলো দেখি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান চেষ্টা করছে ঠিক সেইরূপ দৃশ্য তুলে ধরতে। এখানেই পরিচালক অনেকাংশ সার্থক।

কিন্তু জটলাগে স্বপ্নের লেভেলগুলো বুজতে।
১ম লেভেল হচ্ছে সচারচর ঘুমালে যে স্বপ্ন দেখি। ২য় লেভেল হল আপনি যদি স্বপ্নের ভেতর আবার স্বপ্ন দেখেন। ৩য় লেভেল হল ২য় স্বপ্নের ভেতর যদি আবার স্বপ্ন দেখেন। । এখন আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া মানে এই না আপনি বাস্তবে ফিরে আসলেন বরং আপনি স্বপ্নের ২য় লেভেলে আছেন। আবার স্বপ্ন ভাঙ্গলে আপনি আসবেন ১মলেভেলে। এরপর যদি স্বপ্ন ভাগে তবেই আপনি বাস্তবে ফিরে আসবেন। এই সিকুয়েন্স মেনটেইন করেই মুভির কার্যক্রম চলে। আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে এই সিকুয়েন্স টা ধরা। তাহলেই মুভির কাহিণী বুঝা সহজ হবে।
আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে সেটা হল "সময়"। স্বপ্নে সময়ের গতি বাস্তব জগতের চেয়ে বেশি। ফলে বাস্তব জগতের ৫ মিনিট স্বপ্নে সেটা মনে হবে ১ঘন্টার মতো। শুধু তাই নয় স্বপ্নের লেভেল যত বাড়বে এই গতি তত বৃদ্ধি পাবে। তাই ছবি দেখার মুহুর্তে এই সময়ের গতি বেগের দিকেও ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। এই গতিবেগের মূল রহস্য হল, আমাদের অবচেতন মনের চেতন মনের চেয়ে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা।                                 আরেকটা বিষয় ছবিটাতে ব্যবহার করা হয় সেটা হল টোটেম। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে সে কি স্বপ্নে নাকি বাস্তবে আছে। যেমন ডিক্যাপিওর টোটেম হল "লাটিম"। লাটিম ঘুরতেই থাকলে স্বপ্নে আর লাটিম ঘুরতে ঘুরতে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝবে বাস্তবে আছে সে।

মুভিটির মাধ্যমে ক্রিস্টোফার সাহেব মুলত আমাদের চিন্তার ও গবেষণার জন্য নতুন একটি ক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। কোনভাবে যদি সত্যি সত্যি স্বপ্ন শেয়ারিং ও স্বপ্ন তৈরি ব্যপারটা নিয়ন্ত্রন করা যায়। অর্থাৎ অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সত্যিই একটা শিল্প বিপ্লবের মতো একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। ব্যপারটা বুঝার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে অবচেতন মন কি? এবং অবচেতন মনের ক্ষমতা?
ধরুন আপনার সামনে একপ্লেট সুস্বাদু খাবার রাখা আছে। কিংবা আপনি টয়লেট বসে হাগু করছেন? কখনও কি এমন হয়েছে, আপনি মনের ভূলে বামহাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে কিংবা ডানহাত দিয়ে হাগু পরিষ্কার করছেন? আপনার এই দীর্ঘ জীবনে এমনটা কখনও হয়নি এবং কাজগুলোও আপনি চিন্তা ভাবনা করেও করেননি বরং আপনার চেতন মনের অলক্ষ্যেই হয়ে গেছে বা হচ্ছে ।আপনি ভালো করে খেয়াল দেখবেন হঠাৎ করে উড়ে আসা কোন ঢিল প্রতিরোধে আপনার শরীর অটোমেটিক সঠিকভাবে মুভ করছে আপনার বিনা ইন্সট্রাকশনে। এই কর্মকান্ড আপনার চেতন মনের নিয়ন্ত্রনে নহে। এইগুলো ঘটে অবচেতন মনে। শুধু তাই নহে এইকাজগুলো অবচেতন মনের গভীরের এমনভাবে প্রথিত আছে যা আপনার পক্ষে কখনও তা থেকে সরে আসা সম্ভব না।
আর আমরা জানি স্বপ্নে আমাদের অবচেতন মন উম্মুক্ত হয় আর চেতন মন অনেকটা বন্ধ থাকে। তাই পরিচালক ক্রিস্টোফার চেষ্টা করেছে স্বপ্নের মাধ্যমে অবচেতন মনের কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রন করার। এবং তার মাধ্যমে অবচেতন মনের গভীরে কিছু অাইডিয়া প্রথিত করা যাতে সেটা বাস্তব জীবনেও ঢিল প্রতিরোধের মতো কোন কাজে লাগে।
কি ভাবছেন? অন্যের মাথায় এইভাবে আইডিয়া ঢুকানো কি আদো সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। এই যে আমি যেভাবে আপনাদের চেতন মনে অাইডিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছি এই বলে যে এই ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখবেন না। আপনার চেতন মন অলরেডি ঠিক করেই নিয়েছে যে, inception ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখা যাবে না? ঠিক একই ভাবে অবচেতন মনেও অাইডিয়া প্রথিত করা যাবে।
ডিক্যাপিও, ট্রম হার্ডি, ক্যান, আর্কিটেক চরিত্রে ইলেন পেইজ, জোসেফ গর্ডন সবাই ভালো অভিনয় করে। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় অভিনেতা হল পরিচালকর ও লেখক ক্রিস্টোফার নোয়ান। এমন একটা থিম নিয়ে ছবি করার ভাবনা এবং সেটা সার্থক ভাবে উপস্থাপন করা চাট্টিখানি কথা না।
আমার রেটিংঃ৮/১০

Avengers: End Game ফ্যান থিওরি


মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ২২ তম মুভিটি রিলিজ পেতে আর মাত্র ৩৮ দিন বাকি। এর মধ্যে আমরা দুটি ট্রেলার একটি টিভি স্পট পেয়েছি, যা থেকে অল্প একটু ধারণা করা যায় কী হবে মুভিটিতে। কারণ কেভিন ফাইগি সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন প্রমোশনাল যা কিছুই রিলিজ দেয়া হবে, সেগুলোতে  কেবল মুভির প্রথম ১৫-২০ মিনিটের সিন ব্যবহার করা হবে। আর মার্ভেলের ট্রেলারে ফেক সিন তো থাকবেই। তাই নিশ্চিত ভাবে কিছুই ধারণা করা যায় না।


যা বোঝা যাচ্ছে।

১. টনি স্টার্ক তো অবশ্যই ফিরে আসবে। সম্ভবত ট্রেলারের শেষে নতুন যে স্যুটগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো সে বানিয়েছে। তাকে কে উদ্ধার করবে সেটার লিস্ট আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে৷ গতমাসেই সম্ভবত অডি গাড়ির বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় রকেট উদ্ধার করবে টনি স্টার্ককে। টনির সাথে সাথে প্রথমবারের মত পৃথিবীতে আসে নেবুলা। মূলত কমিকে নেবুলা থ্যানসের কাছ থেকে গন্টলেট নিয়ে স্ন্যাপ রিভার্স করে। তবে মুভিতে এটা হবে না তা নিশ্চিত। তবে সে বর্তমানে সবচাইতে বেশি জানে থ্যানস সম্পর্কে। তাই সে মুভিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাই প্লে করবে।

২. হক আই যেকারণে মুভিতে রোনিন হবে তা মূলত এই ট্রেলারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেল। স্ন্যাপে পরিবার হারানোর পর সে হক-আই ছেড়ে এই রোনিন ম্যান্টল নিবে।

ট্রেলারে হক-আইকে দেখানো হয় একটি মেয়ের সাথে। মেয়েটি সম্ভবত কেট বিশপ বা হক-আইয়ের মেয়ে। তবে যেই হোক, সম্ভবত এই চরিত্রে অভিনয় করবে ক্যাথেরিন ল্যাংফোর্ড।

৩. হাল্ক বেচারাকে একবারও দেখানি। যদিও অনেকের ধারণা প্রফেসর হাল্ক থাকবে মুভিতে। মার্ভেল আমাদের শেষ মূহুর্তেই চমক দিবে হয়তো।

৪. ক্যাপ্টেন মার্ভেল যোগ দিলো এভেঞ্জারসদের সাথে। হ্যাঁ, নিক ফিউরির ম্যাসেজ ফিরিয়ে এনেছে তাকে আবার পৃথিবীতে৷ ক্যাপ্টেন মার্ভেল মুভিতে দেখেছি সে কতটা পাওয়ার ফুল। তাই এবার থ্যানসের খবর আছে।


এবার জানাই একটা ফ্যান থিওরি। এভেঞ্জারস মুভিটা তিন ঘন্টা কাছাকাছি হবে। এবং ধারণা করা হচ্ছে এভেঞ্জারসরা দুই থেকে তিনবার থ্যানসের সাথে ফাইট করবে। অর্থাৎ একবারেই গিয়ে থ্যানসকে হারিয়ে জিতে ফিরে আসবে না। মুভিতে অনেক কাহিনী আছে যা এই কয়েক মিনিটের ট্রেলার দেখে ধারণা করা যায়না। সুতরাং সম্ভবত প্রথমে সবাই একসাথে থ্যানসের প্ল্যানেটে গিয়ে ওকে আক্রমণ করবে।অর্থাৎ টাইটান টু, যেটায় থ্যানস চাষাবাদ শুরু করেছিল। কিন্তু ছয়টি স্টোন থাকায় আবার হেরে যাবে এভেঞ্জারস রা। সেখানে থেকে ফিরে আসবে। তারপর নতুনভাবে পরিকল্পনা করবে। এর মাঝে কেটে যাবে পাঁচ থেকে ছয় বছর। সুতরাং আমরা ধারণা করতে পারি এরমাঝেই নতুন কিছু ইয়াং সুপারহিরো দেখব। যেমন হক-আইয়ের মেয়ে, এন্টম্যানের মেয়ে এরাও মেবি সুপারহিরো হবে। প্লাস আয়রন ম্যান মুভির সেই পিচ্চি ছেলেটাকেও নাকি দেখা যাবে মুভিতে।

মুভিতে কোয়ান্টান রেলমের অনেক ভুমিকা থাকবে। তবে সেটা দিয়ে কি টাইম ট্রাভেল করবে নাকি অন্য কোন রিয়েলিটিতে যাবে সেটা মুভি দেখার পরেই বুঝতে পারব।

আরো ৩৮ দিন ।

Boss Baby মুভি রিভিউ


সাড়ে ৭ বছরের বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান টিম। সে কল্পনা করতে ভালবাসে। কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে ফেলে নিজেকে সবসময় আর কল্পনার রাজ্যে তার সঙ্গী হয় তার মা-বাবা। টিমের আদর যত্নের প্রতি কোনো কমতি রাখেন না তার মা বাবা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও টিমের মা-বাবা তাকে অনেক সময় দেন। খুব ভালই কাটছিল টিমের শৈশব। রাতে ঘুমানোর সময় ৩ টা গল্প, ৫ টা চুমু আর স্পেশাল গান তার চাই। একদিন টিমের বাবা-মা তাঁর (টিম) কাছে জানতে চায়, তাঁর একটা ছোট ভাই হলে কেমন হয়? টিম সোজাসুজি না বলে দেয়, এই ভেবে যে, তাঁর ছোট ভাই হলে তার আদর-ভালবাসা কমে যাবে।

কিন্তু একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টিম দেখতে পায়, একটা টেক্সি থেকে স্যূট,বুট, টাই, ঘড়ি পরা একটা বাচ্চা তাদের বাসায় আসছে । তার মা-বাবা তাকে টিমের ছোটভাই বলে পরিচয় দেয়।এই স্যূট-বুট,টাই, ঘড়ি পরা ছোট বাচ্চাটিই হল "বস বেবি"।  এই বাচ্চা বাড়ির সবাইকে মাতিয়ে রাখে। কিছুদিন পর টিম লক্ষ্য করল, টিমের প্রতি তার মা-বাবার ভালবাসা, মনোযোগ আর আগের মত নেই। সব এই বস বেবি কেড়ে নিয়েছে।

আবার, টিম বুঝতে পারে এই বাচ্চা সাধারণ কেউ নয়, কেননা, এই বস বেবি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মত আচরণ করছে। একদিন দেখতে পায়, সে স্পষ্ট করে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে। ব্যাপারটা টিম তার বাবা-মাকে বুঝাতে চাইলেও, পারে না। উল্টো নিজে বিপদে পরে, তার মা-বাবার কাছ থেকে শাস্তি পায়।

একদিন বস বেবি নিজেই টিমকে তাঁর  পরিচয় জানায়, তার পৃথিবীতে আসার   পেছনে যে মিশন রয়েছে, সেটাও বলে ফেলে। মিশনের পর কি করবে সেটাও বলে ফেলে টিমকে। এই মিশনের কথা শুনে বস বেবিকে টিম সাহায্য করতে শুরু করে। হয়ে যায়, তারা একে অপরের পার্টনার।

কি মিশন নিয়ে পৃথিবীতে আসে এই বস বেবি? সেই মিশনে কি সফল হয় সে? টিম কি তার মা-বাবার ভালবাসা আবার আগের মত পায়? বস বেবিকে কিভাবে মিশনে সাহায্য করে টিম?  এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে,  আজই দেখে ফেলুন অ্যানিমেটেড মুভি "The Boss Baby "

রিভিউ :

এই মুভিতে পরিচালক খুব সুন্দর করে দুই ভাইয়ের শৈশবকালকে এডভেঞ্চারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। সেই সাথে দুই ভাইয়ের শত্রু থেকে বন্ধু হওয়ার মাধ্যমে যে গভীর সম্পর্ক হয়, তাও বুঝিয়েছেন। প্রথমদিকে গল্প সাদামাটা মনে হলেও, বস বেবি "টিম" এর পরিবারে আসার পর থেকে গল্পটা অসাধারণ।

এছাড়াও মুভির VFX, এডিটিং, ভয়েস সবকিছুই ভাল লেগেছে আমার।

( আপনি যদি এখনো মুভিটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভাল লাগা দিকটি Ignore করেন। নয়তো, স্পয়লার পেয়ে যেতে পারেন।)

ভাল লাগা দিক :

১.মুভিতে টিমের জন্য যে স্পেশাল গানটা আছে, সেটা আমাকে খুব ভাল লেগেছে।

২. বস বেবি যখন সত্যিকারের বেবি হয়ে গেলে, যে কাজগুলো করে। সাথে কিন্তু ঐ সময় তার মুখটা দেখার মত হয়।

৩. মুভির মাধ্যমে পরিচালক যে মেসেজ দিয়েছেন, তা হৃদয়স্পর্শী।

Favourite  Quoted :

1. The path to success is not a straight line, Templeton! But rather a wild ride, like a ship at sea. And you're a sea captain... taming a turbulent ocean!

2. Whether you think you can, or you think you can't, you're right!

3. Survival of the fittest. It's the law of the jungle. There's always someone trying to take what's yours.

4. You can't be fired from your own family. Can you?

5.  I may look like a baby, but I was born all grown up.

6.  I can't even imagine not being a kid. You missed out on your whole childhood? You never had someone to love you?

7. You can’t miss what you never had.

MARVEL এর নতুন অধ্যায় এর সূচনা, Fox এর সমাপ্তি


অবশেষে ডিজনী-ফক্স চুক্তি সম্পন্ন হলো। এক্স-মেন, ফ্যান্টাস্টিক ফোর ও অন্যান্য ক্যারেক্টাররা এখন ডিজনীর ঘরে চলে এসেছে। এতদিন তারা ফক্সের কাছে বন্দী ছিল। তাই এখন ডিজনী মার্ভেল স্টুডিও সেই ক্যারেক্টারগুলোকে নিয়ে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মুভি বানাবে। পুরোপুরি রিবুট করে নতুন অভিনেতা এর মাধ্যমে ক্যারেক্টার গুলো উপস্থাপন করবে। সবার আগে এক্স-মেন দের মুভি আসার সম্ভাবনা বেশী। তারপর ফ্যান্টাস্টিক ফোর সিরিজ টাও প্রায় দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকবে। এক্স-মেন, ফ্যান্টাস্টিক ফোর দের অনেকগুলা মুভির সিকুয়্যাল বের হবে, যেগুলোতে নতুন নতুন মার্ভেল কমিকবুক ভিলেন দের আগমন ঘটাবে। এতে মুভিগুলো দারুণভাবে জমবে। তো দেখা যাক কি কি ধরণের ক্যারেক্টারগুলোকে মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, একটু ধারণ করা যাক:
আমরা অনেক আগে থেকেই শুনে আসছি, মার্ভেল সুপারহিরো "সিলভার সার্ফার" এর সলো মুভি আসবে। সেটা অবশ্য কেভিন ফাইগী কনফার্ম করেছেন, সিলভার সার্ফার এর খুব দ্রুত এমসিউতে আবির্ভাব হবে। এরপর "ওলভারিন" চরিত্রটাও রিবুট করা হবে। নতুন কোনো অভিনেতা খোজা হচ্ছে ওলভারিন এর জন্য। "গ্যাম্বিট" এর সলো মুভি ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে আসার কথা ছিল, কিন্তু ডিজনী-ফক্স এর চুক্তির কারণে সেটার পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু "গ্যাম্বিট" যেহেতু এক্স-মেন এর সদস্যা, তাই তাকে মার্ভেল স্টুডিওস এর মুভিতে আনা হবে।  হলিউড জনপ্রিয় অভিনেতা Channing Tatum অনেকে আগে থেকেই "Gambit" এর ভৃমিকায় অভিনয় করতে রাজি আছেন। অন্যদিকে মার্ভেল কমিক্সের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বিখ্যাত সুপারভিলেন হলো "ডক্টর ডুম"। ডক্টর ডুম কে অবশ্য আগের ফ্যান্টাস্টিক ফোর মুভিগুলাতে দেখা গেলেও ঠিকমত উপস্থাপন করতে পারে নি। কিন্তু এবার ডক্টর ডুম কমিক অনুযায়ী যেরকম রয়েছে, একদম সেভাবেই লাইভ অ্যাকশনে ঠিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। ডক্টর ডুম চরিত্রটা খুবই দূর্দান্ত ও Awesome Level এর। সে Thanos এর থেকেও উচ্চমাত্রার ভয়াবহ ভিলেন। এরপর অবশেষে "ফ্যান্টাস্টিক ফোর" দলটি মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সে জায়গা পেল। ফ্যান্টাস্টিক ফোর দের লিডার "রিড রিচার্ড/মিস্টার ফ্যান্টাস্টিক" কে আমরা আবারো লাইভ অ্যাকশনে দেখতে পাবো। এই মিস্টার ফ্যান্টাস্টিক কে মার্ভেল ইউনিভার্সের মধ্যে সবচেয়ে শীর্ষ স্মার্ট ব্যাক্তি ও উচ্চ লেভেলের জিনিয়াস হিসেবে ধরা হয়। "রিড রিচার্ডস/মিস্টার ফ্যান্টাস্টিক" এর মত জিনিয়াস সাইন্টিস্ট কে যত দ্রুত সম্ভব তাড়াতাড়ি মুভিতে নিয়ে আসা উচিত। খুব জোরেসোড়ে শোনা যাচ্ছে যে, অভিনেতা John Kraisinski খুব বেশী আগ্রহ নিয়ে Mister Fantastic চরিত্রে অভিনয় করতে প্রস্তুত আছেন। আর ওদিকে মার্ভেল কমিকবুকের শীর্ষ সুপারভিলেন "ম্যাগনিটো" কে আমরা এমনিতেই এক্স-মেন মুভিগুলাতে দেখে আসছি। এমনকি এবছরের "ডার্ক ফিনিক্স" মুভিতেও ম্যাগনিটো কে আবার দেখা যাবে। কিন্তু এই ভার্সনের ম্যাগনিটো কে পরবর্তীতে আর দেখা যাবে না। পরবর্তীতে সব রিবুট করা হবে, যা ম্যাগনিটো কেও নতুন অভিনেতা দিয়ে কাস্ট করাবে। আমরা অনেকেই জানি ম্যাগনিটো খুব বয়স্ক, তাই ম্যাগনিটো কে হয়তো কমিক অনুযায়ী বুড়ো বয়সের কাউকে এই চরিত্রে দেখবো। যদিও আমি চেয়েছিলাম মাইকেল ফেসবেন্ডার এই ম্যাগনিটো রুলটির জন্য থেকে যাক, কিন্তু সেটা আর সম্ভব নয়। তারপর অবশেষে আমাদের স্বপ্ন প্রায় পূরণ হতে যাচ্ছে, যার জন্য আমরা অধীর আগ্রহে আছি। তিনি হলেন "গ্যালাক্টেস"। এই গ্যালাক্টেস কে এখনো কোনো মুভিতে দেখানো হয়নি। অনেক ফ্যানরাই গ্যালাক্টেস কে লাইভ অ্যাকশনে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যদি "সিলভার সার্ফার" এর নিজস্ব মুভি আসে, তাহলে সেখানেই গ্যালাক্টেস এর মত ইউনিভার্সের সবচেয়ে Bigger Threat কে খুব তাড়াতাড়ি দেখা যাবে.
.
মূলত ফেজ ৪ এর পর থেকেই Marvel Cinematic Universe এর মুভিগূলোতে শুধু Cosmic, Omni Multiversal পর্যায়ের মাধ্যমে তৈরী করা হবে। ফেজ ৫ এই হয়তো Secret Wars, Secret Invansion, Annihillus এর মত বিশাল Event এর মাধ্যমে মুভিগুলো তৈরী হবে, যা কসমিক এন্টিটি দের আগমন অনবরত ঘটতে থাকবে। ফ্যান্টাস্টিক ফোর এর অনেক বেশী ফ্রান্সাইজি হবে, যেখানে সুপারভিলেন ডক্টর ডুম, উইজার্ড, ক্যাং, সুপার স্ক্রুল দের আনার সম্ভাবনা বেশী।

BORDER মুভি রিভিউ


ভেবে দেখুন মুভি জগতে কতগুলা জনরা আছে !
ড্রামা,রোম্যান্স,থ্রিলার,হরর,ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন আরো কত কী! এখন এক কাজ করেন। এই সবগুলো জনরা একসাথে একটা মুভির মধ্যে ঢেলে দেন।তৈরী হয়ে গেল ২০১৮ সালের সুইডিশ ফিল্ম 'বর্ডার'।
ভাবছেন সবগুলো জনরার মিক্স?
কী অখাদ্য জগাখিচুড়ি মুভি কে জানে!
তবে  আপনার ধারণা একেবারেই ভুল। ‘বর্ডার’ এর মত ওয়েল ব্যালেন্সড একটা সিনেমা খুবই কম দেখেছি গত কয়েক মাসে। এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমাগুলো নিয়ে আমার একটা ধারণা আছে,হয় সেগুলো একেবারে জঘন্য হয় না হলে সেগুলো একেবারে অনন্য হয়। ‘বর্ডার’ এ বছরের এক্সেপশোনাল  একই সাথে অনালোচিত একটা ফিল্ম।মুভির স্টোরিলাইন খুবই সুন্দর এবং সিকুয়েন্সগুলো সুন্দরভাবে পরিকল্পিত। মুভি শুরু হওয়ার পর আপনি একটা সেরেনিটির মধ্যে পড়ে যাবেন।ভিজুয়ালি এট্রাক্ট করার মত দারুণ সব দৃশ্য আছে।তবে একই সাথে রয়েছে অনেক ডিস্টার্বিং সিন। অনেক আনইউজুয়াল সেক্সুয়াল সিন আছে যা অনেকেরই হজম হবে না।তাও মুভিটা সুন্দর।প্রথম প্রথম আপনার মনে হবে কোনো ঢিলাঢালা ড্রামা দেখতে বসেছেন।সময়ের সঙ্গে কাহিনীর ভেতরকার জট যখন খুলতে শুরু করে তখন মুভিটা আরো জমতে শুরু করে।এবং মিস্ট্রি কিন্তু একটাই না, একাধিক। ড্রামা থেকে বেরিয়ে আস্তে আস্তে মুভিটা বিভিন্ন জনরায় বিচরণ শুরু করে। একই মুভির ভেতর অনেক ভিন্ন জিনিস নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে যা অন্যান্য মুভি থেকে এটিকে আলাদা করে।

মুভির প্রোটাগনিস্ট টিনা (এভা মালেনদার) একজন সুইডিশ কাস্টম অফিসার।টিনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে কোনো মানুষের কিংবা বস্তুর গন্ধ শুঁকে কোনো অসংগতি শনাক্ত করতে পারে।মানুষের লজ্জা,অনুতপ্তবোধ কিংবা অন্যায়ের কথা বুঝতে পারে।এই কারণেই সে বুঝতে পারে প্লেনের কোনো যাত্রী ড্রাগস কিংবা অন্য কোনো কিছু বহন করছে কী না। একদিন সে এক প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে ভর্তি একটি মেমরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। টিনার বস তাই তাকে এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেট করার জন্য নিযুক্ত করে। কাহিনীর এই হল একটা পিঠ যা এখনো পর্যন্ত সব নরমাল বলেই মনে হচ্ছে।
কাহিনীর অন্য পিঠে আসা যাক, টিনা নিজে একটা রোগে আক্রান্ত। তার মুখটা অদ্ভুতভাবে বিকৃত। ক্রোমোসোমাল ডিফর্মিটির কারণে তার এই অবস্থা।তবে একদিন সে এয়ারপোর্টে তারই মত অবিকল একটি লোককে দেখতে পেল যার মুখও বিকৃত। তখনই সে লোকটার জন্য অদ্ভুত এট্রাকশন অনুভব করে।ঘটনাচক্রে লোকটার সাথে আবার দেখা হয় এবং টিনা তাকে নিজের বাসায় রেন্টে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। টিনা থাকে জঙ্গলে ঘেরা এক আইসোলেটেড জায়গায়। এখানে সে রোল্যান্ড নামের একজন ডগফাইটারের সাথে একসাথে লিভ ইন করে।একসময় টিনা এবং অদ্ভুত লোকটির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এরা নিজেদের শরীর নিয়ে বিভিন্ন মিস্টিরি জানতে শুরু করে।অদ্ভুত লোকটা সম্পর্কেও বিভিন্ন অজানা মিস্টিরিয়াস তথ্য জানতে পারে।একই সাথে এগিয়ে চলে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ইনভেস্টিগেশন।এভাবেই সমান্তরালভাবে দু দুটো মিস্টিরি আস্তে আস্তে আনর‍্যাভেল হতে থাকে।সে পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটা নিয়েই 'বর্ডার' সিনেমা।

আপাত দৃষ্টিতে একটা সিম্পল মিস্ট্রি ফিল্ম মনে হলেও এই মুভিতে সোশ্যাল রিয়ালিজম এর অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে। হিউম্যানিটিকে স্যাটায়ার করা হয়েছে অনেকভাবে।সঙ্গে সঙ্গে  নর্স মিথোলজির সাথে মিলমিশ খাইয়ে এমন একটা অস্থির ফ্যান্টাসি মুভির অবতারণা করা হয়েছে যে প্রশংসা না করে পারা যায় না।প্রথমদিকে একটু স্লো হলেও শেষের দিকে একটা দারুণ থ্রিল উপভোগ করতে পারবেন।তার উপর টিনা এবং তার বাবাকে নিয়ে হাল্কা পাতলা ফ্যামিলি ড্রামার ছোঁয়াও পেয়ে যাবেন।অনেক ডিস্টার্বিং সিনে পরিপূর্ণ থাকলেও শেষে একটা অদ্ভুত প্রশান্তির দৃশ্য দিয়ে মুভিটার এন্ডিং।মুভিটায়ে বিশদভাবে আলোচনা করার অনেক বিষয়বস্তু আছে,আপনি দেখলে মোটামুটি ফিল করতে পারবেন।যেহেতু রহস্য এবং টুইস্ট আছে তাই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার স্কোপ কম।স্পয়লার হয়ে যাবে।তবে এটা বলব যে, পুরো মুভিটাই একটা সাররিয়াল এক্সপেরিয়ান্স।
অভিনয়ের দিক থেকে অন্য সবকিছু থেকে ছাড়িয়ে গেছে এই মুভি।মূল চরিত্রে এভা মালেনদার এবং এওরো মিলানফ রীতিমতো ‘দানবীয়’ পারফরম্যান্স দিয়েছেন।সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ডিজাইন গ্রেট।সব মিলিয়ে আলি আব্বাসির দারুণ একটা সিনেমা দাড় করিয়েছেন।যদিও সুইডেন থেকে মুভি অস্কারের জন্য পার্টিসিপেট করলেও নমিনেশন পায় নি।একমাত্র কৃতিত্ব মেক আপ এবং হেয়ার স্টাইলিং এ নমিনেশন।
মুভির ত্রুটির মধ্যে আমার চোখে যেটা লেগেছে যে একটা দুইটা টুইস্ট আন্দাজ করতে পেরেছি।তবে আমি পেরেছি বলে অন্য সবাই পারবে সেটা আমার মনে হয় না।তবে এই টপ নচ ফিল্মটা সবার আননোটিসড যেন না থেকে যায় তাই আমি রেকমেন্ড করব মুভিটা দেখতে।
হ্যাপি ওয়াচিং!

V for Vendetta Movie Review || মুবি রিভিউ


একটি অভ্যুত্থানের মহাকাব্য

দেশের যখন সংকট মুহূর্ত,যখন অন্তঃশত্রুর উল্লাস অভিযানে দেশের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত,যখন রক্তচক্ষু শাসকের নির্যাতন চরমে,যখন স্বাধীনতার মোড়কে বেষ্টিত পরাধীনতার বিষজ্বালায় জর্জরিত মানুষ মুক্তি কামনায় উদ্বেল অস্থির, যখন রাষ্ট্রের শাসক নিজেই হয়ে পড়ে সর্বোচ্চ শোষক, আইনের রক্ষক যখন আবির্ভূত হয় ভক্ষকরূপে তখন রাষ্ট্রের মুক্তি হয়ে পড়ে অবশ্যম্ভাবী,সে অবশ্যম্ভাবীকে সম্ভব করতে প্রয়োজন হয় একটি বিপ্লবের, আর বিপ্লবের বীজ নিহিত থাকে একটি আইডিয়ার মধ্যে৷আইডিয়া মানে একটি স্ফূরণ,একটি জাগরণ, একটি অভ্যুত্থান৷ এই আইডিয়াই অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত জাতিকে মুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত করতে পারে, ক্ষমতার সুউচ্চ মসনদ থেকে অত্যাচারী শাসককে টেনে হিচড়ে নামিয়ে আনতে পারে জনতার কাতারে, একটি আইডিয়াই যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা দাসত্বের শৃংঙ্খল থেকে মুক্তি দিতে পারে, উন্মোচন করতে পারে একটি নতুন দিগন্তের, যেখানে মনুষ্যসৃষ্ট বৈষম্যের বেড়াজাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে,সৃষ্টি হবে ভারসাম্য৷ আর এই আইডিয়া যাঁর মস্তৃষ্ক প্রসূত, যিনি এর ধারক ও বাহক,তিনি হন একজন নেতা, একজন বিপ্লবী৷ শত বছরের অপেক্ষার পর একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে৷ আইডিয়ার ধারক যেহেতু মানুষ তাই তাঁর মৃত্যু হতে পারে৷ কিন্তু একটা আইডিয়ার কখনোই মৃত্যু হয় না৷ আইডিয়াকে বুলেটবিদ্ধ করা যায় না,আইডিয়া অবিনশ্বর,অনন্ত-অক্ষয়,অবিনাশী৷ বেনিয়া শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে একটা আইডিয়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়ে, একসময় হয়ে যায় যুগ পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক৷

নিকট ভবিষ্যতের ইংল্যান্ড৷ রাষ্ট্রনায়ক সাটলার পাড় করছেন ক্ষমতার চূড়ান্ত সময়৷ বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় উন্নতির চরম শেখরে অবস্থান করছে দেশ৷ কোথাও অশান্তি,বিশৃংঙ্খলা নেই৷ সর্বত্র বিদ্যমান সুখ আর সমৃর্দ্ধি কিন্তু রাষ্ট্রের ভেতরকার রূপ ঠিক উল্টো৷ সে রূপ বিভৎস আর কদর্যতায় পূর্ণ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই হরণ করছে নিরাপত্তা৷ নিরাপরাদ মানুষদের ধরে নিয়ে করা হচ্ছে অমানিক পরীক্ষণ,ধর্মকে হাতিয়ার করে চলছে স্বৈরাচারের ভিতকে শক্ত করার পায়তারা,রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপরীত চিন্তাধারীকে যেতে হচ্ছে দমন-পীড়ণের মধ্য দিয়ে এমনকি তাদেরকে হত্যা করতেও কুন্ঠিত হচ্ছে না শাসকগোষ্টী৷ বহুবছর ধরে চলা এ শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্র যেন নিজেই অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে, মানুষের মননে  জং ধরে গেছে, মূক-বধির জনতার ব্যক্তিসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ভোতা, রাহুগ্রস্থ মানুষ জীবন ধারনকেই মনে করছে অভিষ্ট লক্ষ্য৷ এমন অসার,জড়তাগ্রস্থ সিস্টেমে জমা হওয়া আবর্জনার স্তুপ ধোয়ে-মুছে সাফ করার জন্য, বহুবছরের পুরনো একটি আইডিয়া ধারণ করে, মুক্তির পয়গাম নিয়ে হাজির হন একজন ত্রাণকর্তা,A man under mask. মুখ তাঁর মুখোশে আর সারা দেহ তার কালো আলখাল্লায় ঢাকা৷

এ বেশেই তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের মিশনে নামেন৷ সম্পূর্ণ একা আর নিঃসঙ্গ অবস্থায়৷  রাষ্ট্রের কিছু দুর্নীতিবাজ,লম্পট অফিসারদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে একটি মেয়েকে বাঁচানোর পর,তাঁর কিম্ভুতকিমাকার সাঁজ দেখে বিস্ময় নিয়ে মেয়েটি যখন জানতে চায়, Who are you? তখন তিনি বলেন," Who? Who is but the form following the function of what and what I am is a man in a mask. একটা ছোট মনোলগের মাধ্যমে তিনি যখন নিজ পরিচয়ের বর্ণনা দেন তখন বিস্ময় নিয়ে মেয়েটি তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে,বিস্ময়ের শেষে তাঁর নাম জানা যায় "V"৷

V একটি রূপক, প্রতীকী নাম৷ এই নামের পেছনেও রয়েছে ইতিহাস৷ সে ইতিহাস নৃশংসতার, লোমহর্ষক আর ভয়ংকরের৷  অত্যাচারের সর্বোচ্চ সীমা থেকে বেঁচে ফেরা এক নির্যাতিতের বক্ষে দ্রোহের অনল নিয়ে জেগে উঠার গল্প৷কারাগারে এক ভয়াবহ এক্সপেরিমেন্টের মুখ থেকে কাকতালীয়ভাবে বেঁচে ফেরার গল্প৷ আত্মপরিচয়ের মনোলগে সে প্রায় চল্লিশটি V দ্বারা গঠিত শব্দের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দেয় ৷ মুভির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোমান হরফ V মানে পাঁচের ছড়াছড়ি৷ এমনকি ছিলো Faust থেকে নেয়া বিখ্যাত ডায়লগ, 'Vi Veri Veniversum Vivus Vici'. V কে যে কারাগারে থেকে অমানবিক পরীক্ষনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সেটার নাম্বার ছিলো পাঁচ বা রোমান অক্ষর V.

আলোচিত সিনেমার নাম V for vendetta. এটি শুধু একটি সিনেমা নয়,এটি একটি বিপ্লবের মহাকাব্য৷এ মহাকাব্যের সূচনা হয় নারী কন্ঠে আবৃত্তি করা একটি কবিতার মাধ্যমে,

Remember, remember,
the fifth of November,
the Gunpowder Treason and Plot;
I know of no reason,
why the Gunpowder Treason,
 should ever be forgot.

গান পাউডার ট্রিজন, বিপ্লবের পেছনের ইতিহাস,গল্পের পেছনের গল্প৷সালটা ছিল ১৬০৫৷ ব্রিটেনজুড়ে চলছে রাজা প্রথম জেমসের শাসন৷ খ্রীষ্টধর্মের তিনটি শাখার একটি হলো ক্যাথলিক৷ এসময় ক্যাথলিকদের উপর নেমে আসে অত্যাচারের খড়গহস্ত৷ ক্যাথলিক নিধন চলতে থাকে নির্বিচারে৷ ক্যাথলিকদের মনে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিন্দু বিন্দু ক্ষোভ জন্মাতে শুরু করে একসময় তা সিন্ধুর আকার ধারণ করে৷ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যা করে,সেটাই হলো৷ জন্ম দিল একটি আইডিয়া৷ গানপাউডার দিয়ে পুরো পার্লামেন্ট ভবন উড়িয়ে দেয়ার আইডিয়া ৷ এ গল্পের নায়ক দুজন, গাই ফকস আর রবার্ট ক্যাটসবি৷ ধার্য করা হলো পাঁচই নভেম্বর বাস্তবায়ন করা হবে আইডিয়া৷ পরিকল্পনা মোতাবেক গাই ফকস গান পাউডার আর শুকনো কাঠ নিয়ে উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে৷ কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার দরুণ রাজপরিবার জেনে যায় ঘটনাটি৷ হাতে নাতে ধরা পড়ে গাই ফকস৷ এ অপরাধে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় গাই ফসকসের আর গুলি করে হত্যা করা হয় রবার্ট ক্যাটসবিকে৷ আপাত দৃষ্টিতে একটি আইডিয়ার মৃত্যু হতে দেখা যায়, একটি অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে দেখা যায়৷ কিন্তু আইডিয়ার মৃত্যু নেই, সময়ের প্রয়োজনে সে প্রবল বেগে ধেয়ে আসে দুর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মূল করে দিতে৷ সিনেমার নায়ক V সে তেজে তেজোদীপ্ত একজন প্রতিবাদী৷

 সিনেমার প্লট মূলত একই গঠনাকে উপজীব্য করে ১৯৯০ বের হওয়া এলান মুরের V for vendetta কমিক সিরিজের অনুকরণে তৈরী৷ DC Comics এর এই সিরিজের গ্রাফিকস আর্টিস্ট ছিলেন ডেভিড লয়েড৷ V এর মুখোশের পেছনের কারিগরও তিনি৷ এই মুখোশটা তখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠে৷ সিনেমার প্লট কমিকসের প্লট থেকে কিছুটা ভিন্ন৷ সিনেমা দেখার পর এলান মুর পরিচালকের প্রতি এতোটাই বিরক্ত ছিলেন স্টোরি রাইটার থেকে নিজের নামটা পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেন৷ এলান মুর সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও লক্ষ কোটি সিনেপ্রেমীর চোখের মণি হয়ে আছে V for vendetta.

সিনেমার শুরুতেই বিস্ফোরণের মাধ্যমে আদালত ধ্বংস করে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিকট নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় V. এতে সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা৷ স্বৈরাচারী সাটলার ঘোষণা দেয়, যে করেই হোক ধরতে হবে এ আতঙ্কবাজকে৷ দায়িত্ব পড়ে হেড অব পুলিশ ক্রিডি এবং ফিঞ্চের উপর৷ V কে খোঁজতে শুরু হয়ে যায় চিরুণী চল্লাশী৷ এদিকে হঠাৎ একদিন রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলকে জিম্মি করে V একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করে৷ এতে নির্জীব হয়ে পড়া জনগনকে গান পাউডার ট্রিজনের কথা মনে করিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতি আর স্বৈরাচারের চিত্র তুলে ধরে ভোতা হয়ে যাওয়া চিন্তা শক্তিতে গতিসঞ্চারের আহবান জানান৷ ব্রিটেনের জনগনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আর যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনতাকে কলুষণের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের ডাক দেন৷ সেজন্য তিনি পরের বছরের পাঁচই নভেম্বর পার্লামেন্ট ভবণ উড়িয়ে দেবার বার্তা দেন৷ এ বার্তা জনমনে সুপ্ত প্রতিবাদের ঘিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়৷ পরিবর্তনের এ ডাক আলোড়িত করে তাদের৷ দিন চলে যায়,এগিয়ে আসে পাঁচই নভেম্বর৷ এদিকে V থাকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে৷ ফলে স্বৈরশাসকের আতঙ্ক অবস্থান করে চূড়ান্তসীমায়৷ নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় পার্লামেন্ট ভবণের চারদিকে৷ পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও নামিয়ে দেয়া হয় মাঠে৷ এতো প্রতিকুলতার মধ্যে কি V পারবে তার এতোদিনের প্ল্যান সফল করতে?
জানতে হলে দেখতে হবে V for Vendetta সিনেমাটি৷

সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক তার সংলাপ৷ লিখে বাঁধাই করে রাখার মতো বহু সংলাপ আছে৷

”People shouldn’t be afraid of their government, Governments should be afraid of their people ”

"Everybody is special. Everybody. Everybody is a hero, a lover, a fool, a villain. Everybody. Everybody has their story to tell ”

” Happiness is the most insidious prison of all.”

কালো আলখাল্লায় দেহ আর মুখোশে মুখ ঢেকে পুরো সিনেমা জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন V চরিত্রে হিউগো ওয়েভিং৷ একজন অভিনেতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো অভিনয়ের সময় মুখের অভিব্যক্তি৷ কিন্তু এই অভিব্যক্তি প্রকাশের কোন সুযোগই ছিল না ওয়েভিংয়ের৷ সে অভাবটা বোধ হতে দেবেই না তাঁর কন্ঠ৷ জাদুকরী কন্ঠে ডায়লগ ডেলিভারি করে সম্পূর্ণ সিনেমা মাতিয়ে রেখেছেন তিনি৷ এ সিনেমায় অভিনয় করে অভিনয় সত্তাকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায় যেখানে দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো পর্দায় তাকিয়ে দেখা ছাড়া অন্য উপায় নেই৷
নাটালি পোর্টম্যান সমদক্ষতায় অভিনয় করে গিয়েছেন ওয়েভিংয়ের সাথে৷ সিনেমায় তাকে দুটি আলাদা লুকে দেখা যায়৷ প্রতিটি লুক আলাদা সত্তাকে বহন করে৷ সিনেমার পট পরিবর্তনে রয়েছে সত্তাদুটোর সম পরিমান ভুমিকা৷
সিনেমার আরেকটি শক্তিশালী দিক স্ক্রিনপ্লে৷ একটু সময়ের জন্যেও বোরিং লাগবে না এই স্ক্রিনপ্লের কারণে৷ ঘটনার পর ঘটনার উপস্থিতির যে নিরবিচ্ছিন্নতা,তা সিনেমাকে টান টান উত্তেজনায় রাখে পুরো সময়৷ সিনেমার পরিসমাপ্তি এনে দেবে তৃপ্তির ঢেকুর৷
সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি রাষ্ট্রেই একজন করে V এর জন্ম হয়৷ অত্যাচারী ক্ষমতাধরের টুটি চেপে ধরে জনতার অধিকার ফিরিয়ে দিতে যুগে যুগে তাদের আবির্ভাব এক সজীব প্রফুল্লের বার্তা বয়ে আনে৷ ক্ষনজন্মা সেসব নায়কদের পদতলেই রচিত হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়৷

Mission Impossible : Fallout Movie Review


স্পাই-একশন জনরার সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশন ইম্পসিবল।এ জনরার অন্যান্য সিরিজ থেকে এ সিরিজ অনেকাংশেই ভিন্ন-তা সেটা এর সেট আপ,গিমিক,চরিত্র,একশন দেখলেই বুঝা যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এর প্রধান চরিত্রে একই অভিনেতা কাজ করে চলেছেন এর জন্মলগ্ন থেকেই আর আমরাও (দর্শক) তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি সাদরে, পরিচালনায়ও ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কাজ করেছেন এ সিরিজের ৫ নম্বর সিনেমা পর্যন্ত, কোন পর্বের কাহিনীর সাথে অন্য পর্বের তেমন কোন কানেকশন নেই। ১৯৯৬ এ শুরু হওয়া এ মুভি সিরিজের ৬ নম্বর পর্ব ফলআউট মুক্তি পায় এ বছর। অনেকগুলো ব্যতিক্রমের জন্ম দেয়া এ মুভিতে অভিনয়ে ছিলেন টম ক্রুজ, অ্যালেক বোল্ডউইন, ভিং রাইমস, রেবেকা ফারগুসন, সাইমন পেগ, মিশেল মনাহান, শন হ্যারিসের সাথে সিরিজের এ পর্বে যুক্ত হয়েছেন ভ্যানেসা কারবি, এঞ্জেলা বেসেট আর হ্যানরি কাভিল।

ব্যতিক্রমের কথার বিষয়ে বলছিলাম, এটি এ ফ্রাঞ্চাইজির একমাত্র মুভি যার পরিচালক এর আগের পর্ব-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন,স্টিভেন ম্যাকুয়ারি রোগ নেশনের পর আবার ফিরেছেন ফলআউট এর জাহাজ সামলাতে,আরো কিছু ব্যতিক্রমের ভিতর আছে-এটার সাথে সিরিজের অন্যান্য পর্বের  যোগাযোগ আছে আর তা ভালমতোই,সবচেয়ে সরাসরি যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায়,৫ নম্বর সিনেমার সিকুইয়েল হচ্ছে এ সিনেমা। এ বছরের অন্যতম সেরা’র তকমা পাওয়া ১৭৮ মিলিয়নে বানানো এ মুভি দেখেছিলাম বেশকিছুদিন আগে সিনেপ্লেক্স-এ, কেমন লাগল আমার আসেন দেখি...

এবারের মিশনে দেখা যায় প্লুটোনিয়াম বাহী তিনটি বোমা উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ে ইথানের (ক্রুজ) দলের উপর কিন্তু বার্লিনের সেই মিশনে ব্যর্থ হয় তার দল আর সেই বোমাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে ঊঠে পড়ে লাগে এপোস্টল নামের এক সংগঠন যারা মূলত বিগড়ে যাওয়া আর বিপথে পরিচালিত সাবেক আইএমএফ এজেন্টদের নিয়ে গঠিত। এ দলের অন্যতম সদস্য হচ্ছে জন লারক আর মূলত সেই এ বোমাগুলো এপোস্টোলের কব্জায় নেয়ার জন্য কাজ করছে, কিন্তু লারকের কোন তথ্য,ছবি সিআইএ,আইএমএফ, এম আই সিক্স কারো কাছেই নেই। কে এই লারক? সিআইএ-এ মিশনের ব্যর্থতার জন্য আইএমএফকে দায়ী করে এবং এ বোমাগুলো উদ্ধারের মিশনে তথা আইএমএফ এর উপর নজরদারী করতে তাদের এক এজেন্ট অগাস্ট ওয়াকারকে (কাভিল) নিযুক্ত করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব কয়েকগুণ জটিল হয়ে যায় যখন জানা যায় এ সবের পিছনে সন্ত্রাসী দল সিন্ডিকেট-এর নেতা সাবেক এজেন্ট সলোমান লেনের (হ্যারিস) হাত রয়েছে।কিন্তু সে কিভাবে এগুলো করবে কেননা সে তো এখন বন্দী। আর এসবের মাঝে এম আই সিক্স এজেন্ট এলসা ফস্ট (ফারগুসন) কি করছে? সে কার হয়ে কাজ করছে? ইথান কাকে বিশ্বাস করবে?

সবকিছুতেই ব্যপকতা ছিল এ মুভিতে। আগের পর্ব গূলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা বা জেদ কাজ করেছে এর নির্মাতা গোষ্ঠীর।তা এর প্রতিটা ফ্রেমেই বুঝা যায়। কি ক্যামেরার কাজ, সেট, সেট-পিছ, কি এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইন, ব্যাকগ্রাঊণ্ড স্কোর, কি স্টান্ট, কি অভিনয়, কি পরিচালনা সব কিছুই আপ্ট। এ সিনেমা শুধূ দেখার জন্য না উপভোগেরও আর সিনেমা মেকার বা ভবিষ্যৎ মেকার যারা মূলত একশন সিনেমা বানাবেন তাদের জন্য এটা দেখা একেবারেই মাস্ট।একের পর এক টুইস্ট আর রোমহর্ষক সব সেট-পিছের সমাহার বলা যায় এ সিনেমাকে। পরিচালনায় ম্যাকুয়ারি অনবদ্য, তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। অভিনয়ে সবাই ভাল করেছেন, বিশেষ করে ৫৬ বছরের তরুণ টম ক্রুজ। তিনি সত্যিই মানুষ না অন্য কিছু। এ সিনেমার জন্য তিনি যা করেছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়-প্যারিসের ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরবাইক চালনা, এক ভবন থেকে আরেক ভবনে লাফিয়ে চলা আর সেটা করতে গিয়ে পা ভাঙ্গা, হেলিকপ্টার চালনা শিখা আর সেটা সিনেমায় ব্যবহার, হেলো জাম্প...টম ক্রুজ আসলে মানুষ না এলিয়েন...

কাভিল এ সিনেমার বড় সারপ্রাইজ...এ সিনেমার হাইলাইট অনেক কিছুই তবে আমার কাছে যদি কিছু থাকে তবে তা হচ্ছে এর বাথরুম ফাইট সিন। যেখানে ইনি অনবদ্য। অভিনয়ে অন্যরাও ভাল...

Hereditary (2018) মুভি রিভিউ।। Movie Review


সতর্কীকরন: দূর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়!
.
অনেকের মতে Hereditary এই বছরের অন্যতম scariest মুভি! প্রমিনেন্ট রিভিউয়ার ও হরর মুভি লাভারদের মাঝে তাই অন্যরকম একটা অপেক্ষা কাজ করছিল। অপেক্ষায় ছিলাম আমিও। প্রথম সুযোগ পাওয়ামাত্রই তাই দেখে এলাম। রাত দেড়টার দিকে মিডনাইট শো  দেখে যখন মুভি থিয়েটার থেকে বেরোলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফাঁকা শপিং মলের ভেতরটা হঠাতই অনেক বেশী ভূতুরে মনে হতে লাগলো। একের পর এক সাজিয়ে রাখা ম্যানিকুইনগুলো জীবন্ত মনে হচ্ছিল! ফাঁকা রাস্তা ধরে একা হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম, সত্যি বলতে বারবার শরীরে কাঁটা দিচ্ছিলো! পায়ের নীচে শুকনো পাতার শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল কেউ অনুসরন করছে, পেছনে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হচ্ছিল বারবার! প্রচন্ড ডিস্টার্বিং মুহূর্তগুলো বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল।
.
শেষ কবে কোন হরর মুভি দেখে এরকম অনুভব করেছি, আমার মনে পড়েনা! হরর জনরার পাঁড় ভক্ত আমি! তবে এই ক্ষেত্রে বাছবিচারের স্বভাবটাও খুব প্রকট। থ্রিলার বা সাইফাই যেমন তেমন হলেও গিলতে পারি কিন্তু লেইম হরর মুভি ঠিক সহ্য করতে পারিনা। কারণটা খুব সোজাসাপটা, হরর মুভি দেখে আমি সাধারণত এফেক্টেড হইনা। জাম্প স্কেয়ার, পরিচিত গল্প আর পুওর মেকিং আমাকে খুব বেশীই বিরক্ত করে। মিস্ট্রি বেজড, স্ট্রং স্টোরিলাইন না হলে আমার মতে হরর মুভি জমেনা।
.
এই সব ক্যাটেগরিতেই খুব ভালোভাবে উৎরে গেছে Hereditary! ইন্টারেস্টিং একটা স্টোরির পাশাপাশি প্রতিটি ক্যারেক্টার বিল্ড আপ এবং  এক্সিকিউশন মুগ্ধ করেছে। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের পাশাপাশি মিউজিকের ব্যবহার ছিল লক্ষ্য করার মতো! সেই সাথে ডিরেক্টর কৃতিত্বের সাথে ব্যবহার করেছেন সাইলেন্সকে যা একটা হরর মুভির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা এলিমেন্ট! স্টোরিলাইন পুরোপুরি আনফিমিলিয়ার বা ইউনিক দাবী করবোনা, বরং Ouija টাইপ মুভিতে এই ধরণের স্টোরির কিছু ছোঁয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু Hereditary এর মাঝে কিছু ইউনিক টুইস্ট আছে, মুভির পেসিং, ক্যারেক্টারাইজেশন এবং দুর্দান্ত এক্সিকিউশনের মাধ্যমে ডিরেক্টর একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
.
গল্পটার শুরুটা বেশ টিপিক্যাল, একটা ফ্যামিলিকে নিয়ে।  এটা প্রথম দেখায় শুধু প্লেইন এন্ড সিম্পল অ্যামটিভিল হরর ক্যাটাগরির মুভি মনে হতে পারে। কিন্তু ঘটনার বিল্ড আপ এতো সারপ্রাইজিংলি টার্ন নেয় যে শেষদিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, অনুভব করতে পারছিলাম নিজের হৃদস্পন্দন! একজন গ্রিভিং মাদার, তার মৃত অদ্ভুত রহস্যময়ী মা, অদ্ভুতুড়ে কন্যা, পুত্রের সাথে কমপ্লিকীড সম্পর্ক, ভুডু/ব্ল্যাক ম্যাজিক সব কিছুই আছে এই মুভিতে। বাচ্চা মেয়েটার কথা কি বলবো, এতো সাটল কোন ক্যারেক্টার যে এতো ভয়াবহ আর পাওয়ারফুল হয়ে উঠতে পারে তা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! Charlie আমার দেখা অন্যতম ক্রিপিয়েস্ট হরর মুভি ক্যারেক্টার। আমি কোন কিছু স্পয়েল করতে চাইনা, যারাই দেখতে আগ্রহী কাইন্ডলি স্পয়লার থেকে দূরে থাকবেন, ভালো হয় ট্রেলারও না দেখলে। 
.
সব মিলিয়ে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই, Hereditary এই সময়ের অন্যতম সেরা হরর মুভি। তবে এন্ডিংটা আমার কাছে একটু underwelming লেগেছে টু বি অনেস্ট। এর কারণ হয়ত মুভিটার লং বিল্ড আপ, এজ এ ভিউয়ার আমি হয়ত খুব বেশী প্যে অফ আশা করছিলাম। একদিক দিয়ে এটাও ক্রেডিটের দাবীদার কারণ টিপিক্যাল হরর ক্লিশে থেকে বেরিয়ে আসাটা ফ্রেশ একটা এক্সপ্রিয়েন্স আর টেস্ট রেখে গেছে ভিউয়ারদের মনে! দাগ কেটেছে এর সাইকটিক অ্যাসপেক্ট, ক্যারেক্টারের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেক দিন মনে থাকবে মুভিটা!
.
বিঃদ্রঃ ওয়াইড শটগুলোর পাশাপাশি ক্লোজআপগুলোতেও শুধু সাবজেক্টের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। ফোকাসড এন্ড আউট অফ ফোকাসড ব্যাকগ্রাউণ্ড ব্যাবহার করে বেশ ভালো কিছু শক দিয়েছে ডিরেক্টর। আর ভালো সাউন্ড-সিস্টেম এই মুভি থেকে বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স পাওয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Rampage (2018) Movie Review



শুধুমাত্র বিনোদন উপভোগ করাটাই যদি মুখ্য হয় , তাহলে বিশ্বখ্যাত অভিনেতা রকের "র‍্যাম্পেজ" সিনেমা দেখে সময় টা বেশ ভালো ভাবেই যাবে !

আগেই বলা রাখি , এই সিনেমাকে "ব্রেইনলেস ব্লকবাস্টার" উপাধি দেওয়াটাই শ্রেয় ! সিনেমার গল্প যেমন বিশ্বাস্যযোগ্য নাহ, আরো বেশ কিছু দিক অতিরঞ্জিত লেগেছে ! তবে, সিনেমার মূল জনরা এডভেঞ্চার হওয়ায় অনেকের কাছে লজিক্যাল গল্পের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়টি মাথায় আসবে নাহ ! সিনেমার ভিজুয়ালাইজেশন দারুণ হওয়াটাই হয়তো এক্ষেত্রে মূল ব্যাপার !

প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ ডেভিস ওকোয়া জর্জ নামক এক গরিলাকে লালন পালন করে । গভীর বন্ধুত্ব তাদের মাঝে । সাংকেতিক ভাষায় তাদের ভাবের আদান প্রদান ও হয়ে থাকে । ঘটনাক্রমে এক বিশেষ সিরামের প্রভাবে গরিলার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয় । খুব দ্রত তার আকার বড় হতে থাকে ! হিংস্রতা চলে আসে !

পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় যখন জানা যায় একটি নেকড়ে এবং কুমীরের মধ্যেও একই রকম পরিবর্তন হচ্ছে ! একসময় জানা যায়, একদল বিজ্ঞানী প্রজেক্ট র‍্যাম্পেজ নামে একটি গবেষণা চালায় মহাকাশে ! তারই ফল এই রকম অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলো !
একের পর এক শহর, স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকা সেই তিন প্রাণী ! কিন্তু কোনো কিছুতেই আটকানো যায়না তাদেরকে । শুরু হয় তাদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার লড়াই !
ডেভিস এবং তার দল কি পারবে এই প্রাণীগুলোকে দমাতে?!

Imdb : 6.4/10
ডাউনলোড লিংকঃ                                   DOWNLOAD HARE

Ready Player One Movie (2018) Movie Review



সাল ২০৪৫ । নিঃসঙ্গ কিশোর ওয়েড জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত এক শহরে বসবাস করে । তার বাবা মা দুজনই মারা গেছে । সেই শহরের সকল লোকদের বিনোদন এবং সময় কাটানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ওয়েসিস নামের এক ভার্চুয়াল জগত ! এই জগতে মানুষ আসে কিছু করতে, কিন্তু তারা রয়ে যায় এখানে ; কারণ তারা এখানে পারে যেকোনো কিছু হতে !

এটি এমন এক পৃথিবী যেখানে নিজের ইচ্ছেমতো সকল কিছুই করা যায় ! কল্পনার কোনো সীমা নেই এখানে ! ওয়েসিসের স্থপতি জেমস হ্যালিডে এক প্রতিযোগিতার ঘোষনা দিয়ে যান মারা যাবার আগে । তিনি ওয়েসিসে লুকিয়ে রেখেছেন তিনটি চাবি ! যে ব্যক্তি চাবি তিনটি খুঁজে বের করতে পারবে সে পুরো ওয়েসিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ! আরো পাবে বিশাল অংকের পুরস্কার !

ওয়েড প্রতিযোগিতা জয় লাভ করার জন্য মরিয়া ! তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সাথে যুক্ত হয় সামান্থা নামের এক কিশোরী এবং আরো কিছু গেইমার !

একই নামের উপন্যাস থেকে সিনেমার গল্প লেখা হয়েছে । সিনেমায় ক্যামেরার পিছনে ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ । তাকে নিয়ে নতুন করে বলার দরকার নেই, আশা করি । অভিনয়ে ছিলেন টাই শেরিডান, ওলিভিয়া কোকে, সিমন পেগ এবং আরো কিছু তারকা । সকলের অভিনয় ভালো লাগলেও মূল চরিত্রে অভিনয়কারী শেরিডান থেকে শক্তিশালী অভিনয় প্রত্যাশা করছিলাম !

সব মিলিয়ে, বিনোদনের এক ফুল প্যাকেজ এটি । মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম !

ফিল্ম : Ready Player One Movie (2018)
IMDb : 7.7/10
ডাউনলোড লিংক............           DOWNLOAD

knowing (2009) Movie Review || মুভি রিভিউ



রুদ্ধশ্বাস আর চাপা উত্তেজনায় ভরা এক সাইন্স ফিকশন থ্রিলার মুভি।
      সাল ১৯৫৮! নতুন একটি প্রাইমারী  স্কুল উদ্বোধন করার সময় সেখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আর নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের  "আগামী ৫০ বছর পর পৃথিবী দেখতে কেমন হবে" তার উপর ভিত্তি করে কিছু চিত্র আঁকতে বলা হয়।কারণ আঁকা ছবিগুলো তারা একটি "টাইম ক্যাপসুলে" যত্ন করে রেখে দিবে।আর স্কুলের যেদিন ৫০ বছর পূর্তি হবে সেদিন খোলা হবে এই "টাইম ক্যাপসুল"।ছাত্ররা কেউ রোবটের ছবি,কেউ রকেটের ছবি এঁকে টাইম ক্যাপসুলে ঢুকাল।কিন্তু তাদের মধ্যে এক ছাত্রী ছিল বড় অদ্ভুদ স্বভাবের।সে কোন ছবি না এঁকে বরং সারা পাতা জুড়ে শুধু কিছু সংখ্যা লিখে রাখল।আর সংখ্যা গুলো ছিল একেবারে আগোছালো।
.
৫০ বছর পরে,স্কুলের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে খোলা হলো সেই"টাইম ক্যাপসুলটি"।আর তার ভিতর থাকা সমস্ত হাতে আঁকা ছবি গুলো বতর্মান সময়কার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।ঘটনা কমে সেই অদ্ভুদ সংখ্যার কাগজটি মুভির নায়ক "নিকোলাস কেজ" এর ছেলের ভাগে পড়ে।আর সেই সূত্রে ধরে কাগজটি এক সময় "নিকোলাস কেস" এর হাতে আসে।"নিকোলাস কেজ" ছিলেন একজন দক্ষ গণিত মাস্টার।এমন আগোছালো সংখ্যা গুলো দেখে তার কাছে ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুদ লাগে।প্রথমে দিকে বিষয়টা তেমন গুরুতে না দিলেও পরে অনেকটা কৌতুহলের বসে কাগজে লিখা সংখ্যাগুলো নিয়ে রীতিমত সে গবেষণা শুরু করে। আর গবেষণা করতে গিয়ে এক ভয়ংকর রহস্য আবিষ্কার করে সে।আসলে এই আগোছালো সংখ্যাগুলো গত ৫০ বছরে পৃথিবীতে যতগুলো বড়ধরণের প্রাণহানিকর ঘটনা ঘটেছে- তারই তারিখ ও নিহতের পরিমাণ।"নিকোলাস কেজ" তখন সংখ্যা গুলো নিয়ে আর ব্যাপক গবেষণা শুরু করলেন আর বের করলেন এর ভিতর আরো বড় ধরণের তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ্য আছে।আর শেষটা তে আছে পৃথিবী ধ্বংসের ইঙ্গিত।তাহলে "নিকোলাস কেজ" এখন কি করবে?কিভাবে এই বিপদের হাত থেকে মানব জাতীর অস্তিত্ব রক্ষা করবেন।নাকি শুধুই অপেক্ষায় থাকবে অন্তিম সেই দিনের জন্য?এসোব জানতে হলে অবশ্যই মুভিটি দেখতে হবে।
-------++++--------

A Quiet Place (2018) মুভি রিভিউ


সিনেমার প্রথম ৪০ মিনিটে কোনো সংলাপ নেই !

সিনেমার শুরুটা হয় নি:শব্দে । এক স্টোরে দেখা যায়,  এক ফ্যামিলি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিচ্ছে । তবে খুবই সাবধানে ! বিন্দুমাত্র শব্দ যেনো না'হয় সেভাবে ! তাদের ছেলে এক খেলনা ব্যাটারি দিয়ে চালাতে চাইলে , চালাতে দেওয়া হয় না ! আওয়াজ হবে বলে !

সকল কিছু নেওয়া শেষ হলে তারা তাদের বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় । এদিকে সেই বাচ্চা ছেলেটি খেলনাটি চালু করে হঠাৎ করেই ! তাঁর বাবা দ্রুত তাকে রক্ষা করতে যাবার আগেই এক অদ্ভুতুড়ে প্রাণী এসে তাকে নিয়ে চলে যায় !

আর যাই হোক, কোনোপ্রকার শব্দ তৈরি করা যাবে নাহ ! শব্দ শুনলেই চলে আসবে সেই প্রাণী ! মেরে ফেলবে শব্দের  সৃষ্টিকারীকে !
অর্থাৎ, শব্দ হলেই মৃত্যু !
কিভাবে সেই ফ্যামিলির মেম্বাররা বেঁচে থাকে কোনোপ্রকার শব্দ না করেই ?!

দুর্দান্ত হরর থ্রিলার ! কনসেপ্ট তো খুবই চমৎকার ! এবছরের অন্যতম সেরা সিনেমা, নিঃসন্দেহে !

MAD MAX Fury Road (2015) মুভি রিভিউ


                                     


যে ছবিটি নিয়ে আজ বলবো তা অবশ্য ২০১৫ তে রিলিজ হয়েছে।তখন ই একবার দেখেছি।কিন্তু কয়দিন হলো আবারো মনে হচ্ছিল সিন গুলির কথা।চট করে ডাউনলোড করে দেখতে বসলাম।এর আগে সাউন্ড বক্স ইউজ করিনি কিন্তু এবার সাউন্ড বক্স লাগিয়ে ছবিটা দেখছিলাম!
কারণ মুভির সাউন্ডটা অসাধারণ।

মুভিটা অবশ্যই অবশ্যই দেখবেন তারা যারা অল্পতেই দিশেহারা হয়ে যান, আর এসির বাতাস খেয়ে মনে করেন আহ কত কষ্ট করলাম জীবনে।
মুভিটিতে অসাধারণ দৃশ্যগুলি এত সুন্দর করে পরিচালক ধারণ করেছেন শক্ত একটা স্ক্রিপ্ট দিয়ে তা বলার বাকি রাখেনা।


শুরু হয় একজন পুরুষের মাধ্যমে যে হলো হিরো মুভির, সে প্রায় সময় ই তার মৃত মেয়েকে সহ আরো কিছু মুখ দেখতে পায়।
সে এমন ও সময় দেখে যে সময় প্রতিপক্ষ তাকে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়।
যাইহোক পাশাপাশি মুভিতে দেখতে পাবেন একজন শক্তিশালী নারী, যে অসাধারণভাবে মুভিতে নিজের অভিনয়কে বিকশিত করেছেন।
অবাককর বিষয় এই যে তার বাম হাতের অর্ধেক ই কাটা।কিন্তু তবুও সে ই একমাত্র নারী যে পুরো মুভিতে হিরো এর চেয়েও শক্ত অভিনয় দেখিয়েছে।

মজার বিষয় এখানে হিরো বা হিরোইন ২জনের মাঝে  কোন সম্পর্ক ই হয়নি।
তবুও তারা হিরো, হিরোইন এখানে।

আর ভিলেইন এর কথা যদি বলি তবে আসলে মুভির গল্প বলা হয়ে যাবে।
শুধু এইটুক বলি যে ভিলেইন হইলো একজন স্বৈর শাসক যে নিজে সহ পারিবারিক ভাবে বিলাসী থেকে নিজ প্রজাদের অভুক্ত রাখে।


তবে এখানে সবচাইতে মজার বিষয় হলো শুরু হয় যুদ্ধটা, নিজেদের জান বাচানো নিয়ে।
কিন্তু শেষটা হয় রিভোল্যুশন  চিন্তা দিয়ে মানে পুরো রাজ্যকেই দখলের ভাবনা দিয়ে।
কেমন হতে পারে সেই সাহসিকতা?
পারবে একজন মেয়ে আধা হাত দিয়ে রাজ্যকে দখল করতে?

Btw খুব মজার একটা সিন আছে যদি আপনি গিটারিস্ট ও ড্রামার  হন খুব অবাক হবেন এখানে গিটারিস্ট ও ড্রামারদের কে যুদ্ধ এর মাঝে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়।

October Sky (1999) মুভি রিভিউ



ধরুন আপনার জন্ম এমন এক জায়গায় যেখানকার মানুষের প্রধান পেশা হচ্ছে কয়লা খনিতে কয়লা খনন করা এবং আপনার বাবাও কয়লা খনিতে কাজ করা একজন শ্রমিক । এর বাইরে কোন কিছু করা এখানে অসম্ভব বলে ধরা হয়। কিন্তু আপনি সবার থেকে আলাদা চিন্তা করেন। আপনি জীবনে বড় কিছু হতে চান!  দুনিয়াতে নিজের সাফল্যের পদচিহ্ন আঁকতে চান সব বাধা আর উপহাস অতিক্রম করে। এমনই এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে বানানো হয়েছে "October Sky" সিনেমাটি।

১৯৫৭ সালের অক্টোবার মাসে পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ "স্পুটনিক" লঞ্চ হওয়ার পর তা আকাশে বিচরণ করতে দেখে "কোলউড" গ্রামের "হোমার হিকাম" নামে এক স্বপ্নবিলাসী কিশোরের ইচ্ছা জাগে রকেট বানানো শেখার।  যেন একদিন সেও এমন একটা কৃত্রিম উপগ্রহ তৈরি করতে পারে। সে তার স্বপ্নপূরণে কাজ শুরু করে তার বন্ধুবান্ধব এবং স্কুলের এক ম্যাডামের সহায়তায়। কিন্তু পদে পদে হিকাম তার গ্রামবাসী এবং তার পরিবারের ঠাট্টা-বিদ্রুপের শিকার হয়। তার স্বপ্নপূরণের পথে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার বাবা। কেননা তার বাবার ধারণা এইসব ছেলেমানুষি। তার  ইচ্ছা তার ছেলেও তার মত কয়লা খনিতে কাজ করুক বড় হয়ে। কিন্তু হিকামের ছিল অন্য ইচ্ছা। সে তার বন্ধুদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকে তার স্বপ্নপূরণে। চালিয়ে যেতে
থাকে তার রকেট বিষয়ক বিদ্যা।

হিকাম কি শেষমেশ পেরেছিল তার স্বপ্ন পূরণ করতে? জানতে হলে দেখতে হবে এই মুভিটি।
অসম্ভব ইন্সপায়ারিং আর শিক্ষণীয় একটা মুভি এটা। সব বাধা বিপত্তি আর উপহাসের তোয়াক্কা না করে জীবনে এগিয়ে চলে সাফল্য অর্জনের শিক্ষা দেয় এই মুভি।

হোমার হিকাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন জ্যাক গিল্লেনহ্যাল। হিকামের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্রিস কুপার। এছাড়া  হিকামের বন্ধুর চরিত্রে অভিনয়ে করেছেন ক্রিস ওয়েন,  লি স্কট, উইলিয়াম লিন্ডবার্গ। হিকামের ম্যাডামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন লওরা ডার্ন।

Movie Name: October Sky(1999)
Genre: Biography,Drama,Family
Rotten Tomatoes: 90%
IMDb Rating: 7.8/10 (69k votes)
My Rating: 8.6/10 

IT (2017) মুভি রিভিউ


প্রবাবলি খুব অল্প মুভির মধ্যে 'IT' একটা মুভি যেটাতে এক্সপেক্টেশন হাই থাকার পরেও প্রচুর ভাল্লাগসে!

Hands down the best Stephen King  Live action যেকোনো কিছু.

আজকেই রিলিজ হলো সিনেপ্লেক্স এ।

ফার্স্ট অফ অল সবার ই এই মুভিটা দেখতে যাওয়া উচিত একটা আসল হরর মুভি চিন্তা করে।

 একটা ভয়ংকর ক্লাউন আর কিছু বাচ্চা কাচ্চা নিয়া দেখে বাসার পিচ্চিদের নিয়া দেখা যায় এরকম থ্রিলার টাইপ মুভি কিন্তু না!

বেশ কিছু Gore Type এবং অন্যান্য ডিস্টার্বিং সিন আছে।

আরো কারো যদি কার্স ওয়ার্ড নিয়ে চুলকানি থাকে তাহলেও সমস্যা।  এই মুভিতে প্রচুর এফ ওয়ার্ড ইউজ করা হইছে :3

অনেক এ বাচ্চকাচ্চা নিয়া আসায় ইন্টারমিশন এ সুন্দর মতো উঠে বের হয়ে গিয়েছেন :3

It's a R Rated Movie.
১৫,১৬ বছরের নিচে কারো দেখাই উচিত না এই ছবি (অন্তত বড় পর্দায়)।

কিন্তু সারপ্রাইজিংলি এই মুভি টা টেরিফায়িং হলেও কাওকে ডেট হিসেবে নিয়ে খুব মানিয়ে যাবে।

স্টোরি সামারি হিসেবে বলা যায়

একটা ছোট শহর যেখানে ঠিক ২৭ বছর পর পর অনেক জন ছেলে মেয়ে মিসিং হয়ে যায় তাদের আর খুজে পাওয়া যায় না। ঘটনাচক্রে কিছু টিনএজারস এর লুজারস ক্লাব খুজে পায় এর পেছনে Pennywise The Dancing Clown নামে এক ডেমোনিক এনটিটি আছে।

স্ক্রিপ্ট যে লিখসে সে অসাধারণ একটা কাজ করসে। এক মুহুর্তের জন্যও আপনি পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারবেন না।

একটা স্টিফেন কিং এর হরর উপন্যাস শুধুমাত্র হরর এর দিকে কখোনো পুরোপুরি ফোকাস দেয় না। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি  তুলে ধরা হয়।

এই মুভি টা এই জিনিসটা খুব ভালো ভাবে করেছে।
ঘটনার নিজস্বতা আমরা খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারি।

এই শুধু স্ক্রিপ্ট হাতে দু কাপ কফির সাথে দিলে অনায়াসে পড়ে এনজয় করা যাবে।

আমি 'IT' মিনি সিরিজ টাও দেখেছিলাম কয়েকদিন আগে। সেখানে মূলত ক্লাউন a.k.a Pennywise এর দিকে ফোকাস করে করা হয়েছে সিরিজ টা।

এই মুভিতে আরো পার্সোনাল একটা স্টোরি দেখা গিয়েছে কিছু ১৪ বছরের ছেলেপেলের।

কাস্ট গুলা খুবই মারাত্নক হইসে। সেকেন্ড চাপ্টার এর কাস্ট ও আশা করি এই কাস্ট এর মান রাখতে পারবে।
বিশেষ করে ' Stranger Things ' এ অভিনয় করা Finn Wolfhard এবং Pennywise এর চরিত্রে Bill Skarsgard অনেক অসাধারণ অভিনয় করেছে।

 Finn এর কমেডিক টাইমিং খুব ভালো ছিলো।
লাস্ট এ এই ক্যারেক্টার এর একটা পাঞ্চ ডায়ালগ থাকে যার জন্য পুরো হল তালি দিতে বাধ্য হয়েছিলো!

Directing and Cinematography was top notch. সেকেন্ড চাপ্টার এর জন্যও এই ডিরেক্টর থাকলে বেস্ট হবে।

'It' is a terrifying story based movie that has Sadness, comedy and rommance too!

ফাইনালি এমন একটা মুভি যা শেষ হওয়ার পর পর চাপ্টার ওয়ান লিখা টা উঠার সাথে সাথে খেয়াল করবেন হলের সবাই তালি দিচ্ছে। যা হরর মুভিতে সচরাচর হয় না।

আমি হয়ত ৮ দিবো ১০ এ এই মুভি কে।

Rotten Tomatoes - 85%

IMDB - 8

Forrest Gump (1994) মুভি রিভিউ


"Life was like a box of chocolates. You never know what you're gonna get."

বোকাসোকা ফরেস্ট গাম্প, কোনো এক বাস স্টেশনে বসে আছে ৯ নম্বর বাসটি ধরে গন্তব্যে পৌছানোর জন্যে... বাস আসতে দেরি আছে। এমনিতে প্রচুর কথা বলে সে। একা একা চুপচাপই ছিলো, যেই পাশে এক মহিলা এসে বসলো - অমনি তার কথার ফুলঝুড়ি ছুটিয়ে দিলো, একে একে একমনে বলতে লাগলো সেই ছোট্টবেলার কথা, যখন তার মা স্কুলে ভর্তির জন্যে নিয়ে গেলে তার আইকিউ লেভেল দেখে টিচার ভর্তি নিতে চায় নি। সেই ছোট্টবেলার কথা, যখন জেনি নামের মেয়েটা তার মন দখল করে বসলো আজীবনের জন্যে! তারপর বড় হয়ে যেসব বিচিত্র পরিস্থিতি আর অনুভূতির সম্মুখীন হতে হয়েছিলো তাকে!! জীবন বিচিত্রময়! বড্ড বেশি বিচিত্র...  বাস্তবে টম হ্যাঙ্কসের মত অত বেশি বিচিত্র কারো লাইফে হয় না যদিও, তবে এমনই তো হয় জীবন! পদে পদে নতুন এবং অপ্রত্যাশিত কিছু!

হাসি পাচ্ছিলো খুব অটিজমে আক্রান্ত গাম্পের বোকাসুলভ আচরন দেখে, আবার গম্ভিরও হতে হয়েছে ইমোশনাল টাচ দেখে! টম হ্যাঙ্কসের অভিনয়? লোকটা হলিউডের সর্বকালের সেরা অভিনেতাদের একজন! এরপরও সে কি অভিনয় করেছে, বলার প্রয়োজন নেই!

এত বেশি ইন্সপায়রেশন মুভিটায়, বলার মত না...  জেনির সেই প্রার্থনাটুকু, "Dear God, make me a bird. So I could fly far. Far far away from here."

মুভিটি ৯টি অস্কার সহ দুনিয়ার সকল বড় বড় এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের হিংসভাগ পুরস্কার নিজের ঝুলিতে আনতে সক্ষম হয়েছিলো!! অর্থাৎ বলা যায়, আপনি যদি এখনও মুভিটি না দেখে থাকেন, তাহলে আপনার কপাল খারাপ! রিয়েলি! মানে আমি বলতে চাচ্ছি মুভিটা দেখা মিস করা উচিত না আপনার!

Director: Robert Zemeckis
Cast: Tom Hanks, Robin Wright.
IMDb Ratting: 8.8/10
Personal Ratting: 8/10

Perfume: The Story of a Murderer (2006) মুভি রিভিউ




       পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের একটি হলো নাসিকা, পৃথিবীর প্রতিটা জিনিষের রয়েছে নিজস্ব আলাদা গন্ধ/দুর্গন্ধ, দু চোখে আমরা এইযে যা দেখি মাটি,পাথর,পাতা,গাছ,পানি এমনকি প্রতিটা জন্তুর বস্তুরও রয়েছে আলাদা গন্ধ যা মানুষ বা সব জীব জন্তুই অনুভব করতে পারে তার নাক দিয়ে, আমাদের ঘ্রাণ শাক্তি কতোটুকু? কেউ সুগন্ধি লাগিয়ে আসলে বা দুর্গন্ধ জড়িয়ে আসলে আমরা টের পাই, আমাদের ঘ্রানশক্তির একটা পরিমাপ আছে এর বেশী ঘ্রাণ বা এর থেকে দূরের বস্তুর ঘ্রাণ পাইনা, যতোটুকু জানি সবচেয়ে বেশী ঘ্রাণ শক্তি রয়েছে কুকুরের যা মানুষে থেকেও ৫গুণ (মতান্তরে ইঁদুর,পিপিলিকা,হাতি) যদি বলি এর থেকেও শতগুণ প্রখর ঘ্রাণ শক্তি আছে কোনো মানুষের তাহলে??
হ্যাঁ Perfumeএ সেই চরিত্রের চিত্রায়নই করা হয়েছে,
১৯৮৫ সালে জার্মানের বিখ্যাত লেখক প্যাট্রিক সাসকাইন্ড রচনা করেন "Perfume" নামের বিশ্ববিখ্যাত বইটি। যা পৃথিবীর ৪৫টি ভাষায় অনুদিত হয়েছে।
আর সেই বিশ্ববিখ্যাত বইকে পর্দায় নিয়ে আসতে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেন জার্মান পরিচালক টম টাইকার।
বইটির লেখক শঙ্কিত ছিলেন তার বইয়ের চরিত্রগুলো উপস্থাপনে ব্যার্থ হওয়ার সম্ভবনাই বেশী তাই সে বিগত ১৫বছর বিভিন্নজন থেকে অফার পেয়েও ফিরিয়ে দেন, অবশেষে ২০০০সালে তিনি গল্পটি তুলে দেন টম টাইকারের হাতে।
বাট মেইন ক্যারেক্টার কে প্লে করবে?? তা নিয়ে ধুম্রজালের শেষ ছিলো না সবাইকে অবাক করে পরিচালক সুদূর ইংল্যান্ড থেকে ধরে নিয়ে আসলেন Ben Whishaw নামক এক নতুন মুখ। এই নতুন মুখ নিয়ে সমালোচকরা পরিচালকের জাত উদ্ধার করতে ভুলে যাননি। এই নতুন মুখ কতটা দিতে পেরেছে তা প্রশ্নসাপেক্ষ, কিন্তু প্রথম মুভিতেই জাত চিনাতে ভুল করেনি এই তরুণ অভিনেতা। যেনো অভিনয়টা একটা শিল্প আর সে নিখুঁত শিল্পী। অভিনয় দিয়ে মুখ বন্ধ করেছেন বড় বড় সিনেবোদ্ধাদের।
অভিনয় কাকে বলে,চরিত্রের মধ্যে মিশে যাওয়া কাকে বলে, এটা সে দেখিয়ে দিয়েছে, ঘটনা প্রবাহে কঠিন পরিস্থিতিতেও এক্সপ্রেশনটা শুধু সুবাসবিদ্ধ রাখার যে অভিনয়টা সত্যিই অবাককর।

           আসলে কিছু মুভি ভিতরে খুব চাপ ফেলে, হাজার ট্যানশনেও মুভিটি মাথা থেকে সরানো মুশকিল হয়ে পরে, আমি তথাকথিত কমার্শিয়াল মুভি যেগুলোর মূর উপাদান ফাইট,কমেডি,রোমাঞ্চ সেগুলোর কথা বলছিনা, এসব মুভি দেখার পর যদি ভালোও লাগে তার স্থায়িত্ব থাকবে বড়জোর ২ঘন্টা এর পর কেউ জিজ্ঞেস করলে অনিহা দেখাবেন বা বলবেন "ভালোই,খারাপ নাহ".....
বাট আমি যে মুভির কথা বলছি সেটা দেখার পাঁচ বছর পরেও কেউ মুভির কথা অনিচ্ছায় মনে করিয়ে দেয় আপনি আবার দেখার জন্যে মনস্থ করবেন।

Perfume...
            মুভিটির কোন দিকটা আপনার ভালোলেগেছে নির্দিষ্ট করে বলা বহুত কঠিন হয়ে যাবে সিনেমাটোগ্রাফি, ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সেট, একদম ক্ষুদ্র বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া, পুরো মুভিটার মেকিং স্টাইল, কাহিনী প্রবাহ, পরিবেশ, চরিত্রগুলোর গতিবিধি, এবং চূড়ান্ত পরিণতির দিকে আস্তে আস্তে ধাবিত হওয়া আপনাকে শুধু অবাকই করবেনা রীতিমত অভিভূত করবে।
মুভিটা যেহেতু সুগন্ধি নিয়ে, সুগন্ধি উৎপাদনের শহর প্যারিসকে নিয়েই গড়ে উঠেছে পারফিউম মুভির গল্প। আমরা যতোটুকু জানি/শুনেছি প্যারিস কবি সাহিত্যিকের দেশ, ছবির দেশ কবির দেশ। কিন্তু তা না শুধু, সতেরো আঠারো শতকের দিকে প্যারিস ছিল সুগন্ধি উৎপাদনের সর্গরাজ্য। এই আধুনিক যুগে ১৮শত দশকের সেই প্যারিসকে চিত্রায়ন যেভাবে করা হয়েছে, এতো নিখুঁত পরিবেশন আমি আগে দেখিনি, কোনো ভাবেই মনে হবেনা এটা এই সময়ের মুভি। মুভি দেখতে দেখতে কখন আপনি হঠাৎ চলে যাবেন সেই সময়ে টের ই পাবেন না..
মুভিটিকে জনরা ভিত্তিকভাবে সাঁজালে চলে আসবে ডার্ক থ্রিলার এর নাম, সাথে ড্রামা, এবং কিছু ফ্যান্টাসিও পাবেন।
             প্লট/গল্প নিয়ে বলতে গেলে বলা যায়... আবর্জনা,ময়লা,ডাস্টবিন থেকেও দুর্গন্ধযুক্ত পল্লীর মাছ বাজারের তলনীতে জন্ম নেয় এক শিশু, আগের তিনটি সন্তানের মতো এই শিশুকেও ফেলে দেয় নর্দমায় তার নির্মম মা। ঘটনা চক্রে তার আশ্রয় হয় এক আশ্রমে, সেখান থেকে চামড়া ব্যবসায়ীর কাছে এবং শিশু অবস্থাতেই সে নিজেকে আবিষ্কার করে, বুঝতে পারে তার আছে একটা নিজস্বতা, রয়েছে প্রখর ঘ্রাণ শক্তি, এই সুগন্ধি কে কিভাবে স্থায়ী করে রাখা যায়, বিভাবে পৃথিবীর সেরা পারফিউম তৈরী করে রাখা যায় সেই নেশায় পেয়ে বসে তাকে, এটা নেশা নয় আসক্তি, এরপর?? অবশ্যই মুভিটি দেখতে হবে।
গল্পের প্রথমেই আপনাকে গল্পের গভীর থেকে কেউ খিচে টাঁন দিবে,আর হারিয়ে যাবেন সেই জগতে।
মুভিটির দেখা শেষে তার পরতে পরতে নতুন কিছু আর সাথে মাথায় থেকে যাওয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের এই ডার্ক থ্রিলার, ফ্যান্টাসি মুভিটি খুবই কষ্টকর হয়ে দাড়াবে মাথা থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য। একই সাথে প্রচন্ডভাবে আকর্ষণীয় কিন্তু অতিমাত্রায় ভয়াবহ।

শুধু কি তাই? পারফিউম জার্মান ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যায়বহুল মুভি, এই মুভি তৈরি করতে পরিচালককে বাজেট নিতে হয়েছে অনেক। তৈরী করতে হয়েছে ৫হাজার কলাকৌশলীর একটা মুভি সেট, ঘুরে বেড়াতে হয়েছ ইউরোপের গোটা দশেক দেশে, মুভির গ্রাফিক্স থেকে শুরু করে সাউন্ড কোয়ালিটি সবকিছুই প্রশংসার দাবী রাখে।

এক নজরে মুভিটি....
--------
Perfume: The Story of a Murderer
Year: 2006
Origin: Germany
Language: English

Cast: Ben Whishaw, Alan Rickman, Rachel Hurd-Wood, Dustin Hoffman

Directed by: Tom Tykwer
Based on: 'Perfume' by Patrick Süskind

IMDb Rating: 7.5/10
My Rating: 9/10
Box Office: 165 million/60 million