Know info before watch, but no Spoiler

Showing posts with label Horror. Show all posts
Showing posts with label Horror. Show all posts

Tumbbad Movie Review || টুম্বাত মুভি রিভিউ


মুভি সম্পর্কে লিখতে গেলে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা সামনে আনতে হবে সেটা হলো মুভির জনরা, মুভির জনরা কি? হরোর ফ্যান্টাসি ঘরানার এই মুভিটি সচারাচর হরোর উপাদানকে উপেক্ষা করে আপনাকে দিয়েছে এক ব্যতিক্রম কনসেপ্ট। মুভির শুরুর মিথকে যদি কোনো হিস্টোরির সাথে মিলিয়ে আপনি জনরা নির্ধারণ করতে যান তখন হরোর ফ্যান্টাসির সাথে হিস্টোরিক্যাল পিরিয়ড ড্রামার মিশেলে তৈরী মুভিটি, মুভির শুরুর মিথ কোনো হিস্টোরির সাথে মিলে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে, হিন্দুত্ববাদে এমন কোনো মিথ না পাওয়া গেলেও গ্রিকত্বত্ত্বে কিছুটা মিল পাওয়া যায়।

স্টোরিঃ-
মুভিটি দুবার শুট করা হয়েছে, এর আগে বছর ছয়েক আগে মুভিটিকে শুট করা হয় বাট ডিরেক্টর যে জিনিসটাকে উপস্থাপন করতে চেয়েছে সেটা সেই শুটে উঠে আসেনি, তাই তিনি নতুন স্ক্রিপ্টে আবারো শুট করেন। মুভিটিকে ৩টি কালে বিভক্ত করেছেন পরিচালক, খোলা চোখে মনে হবে "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু" এই প্রবাদকে কেন্দ্র করে মুভির কনসেপ্ট এগিয়েছে। ১ম অধ্যায় এগিয়ে যায় ১৯১৮ সনের তুম্বাড় গ্রামের এক ফ্যামেলিকে কেন্দ্র করে, যেখান থেকে পরিবারটি পথ মাড়ায় অন্য দিকে। ২য় পর্বে দেখানো হয় ১৫ বছর পর প্রধাণ চরিত্রের আবারো সেই তুম্বাড়ে গমন, এবং লাস্ট অধ্যায়তে দেখতে পাই মূল চরিত্র তার ফ্যামেলির ভবিষ্যৎ নির্ধানের যুদ্ধ। এ গল্প যেনো এক অনন্য আর্ট, যেখানে ফ্যান্টাসি, হরোর, ড্রামা সবকিছুকে নিয়ে এসেছে।

চরিত্রঃ-
মেইন চরিত্র ভিনায়কের প্রাপ্ত বয়সের ক্যারেক্টারে যে অভিনয় করে সে হলো সোহান শাহ, এতো দারুন ও সাংঘাতিক অভিনয় অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হতো কিনা জানা নেই, বডিল্যাঙ্গুয়েজ থেকে শুরু করে প্রতিটা সংলাপ ছিলো অসাধারণ, দৃঢ় এক লোভী পৌরষ কে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছে সত্যিই অতুলোনীয়, আর ভিনায়কের ছোটো বেলার চরিত্র ও তার ভাইয়ের চরিত্র এবং ভিনায়কের ছেলের চরিত্রে যে শিশুগুলা ছিলো, তারাও নিজেদের বেস্টটা দিয়েছে, অসাধারণ বললেও কম হবে। সাবলিল ও পর্যাপ্ত অভিনয় ছিলো পুরো মুভিজুড়ে। আরেকটা জিনিস আপনি জানলে আপনার চোখ আসমানে উঠে যাবে, ভিনায়কের ছেলের চরিত্রে যে ছেলেটা অভিনয় করে, ভিনায়কের দাদির চরিত্রে সেই অভিনয় করে, আমি ওর ফ্যান হয়ে গেছিরে। মোহাম্মাদ সামাদ ওর নাম, কতোটা ট্যালেন্টেড হলে এটা সম্ভব ভেবে দেখেছেন? সেরা সেরা।

ঘটনাপ্রবাহ/পরিবেশঃ-
এই এখানেই পরিচালক এক অনন্য আর্টের পরিচয় দিয়েছেন, মুভিটা হরোর, বাট কোনো ভীতিকর কিছু পাবেন না মুভির শুরু থেকেই, বাট ডিরেক্টরের স্ক্রিনপ্লেই এতো অসাধারণ ছিলো যে, কিছু না দেখেও অজানা এক ভীতি সবসময়ই আপনার মধ্যে কাজ করবে, ভিনায়কের দাদীমা এক আশ্চর্য ক্যারেক্টার ছিলো পুরো মুভিতে, মুভির শুরু থেকে বদ্ধ ঘরে বন্দী থাকে, বাট পরিবারের সবার মাঝে তার ভীতিটাকে এমনভাবে প্রেজেন্ট করেছেন পরিচালক যে অডিয়েন্সদেরও গা ছমছম করে উঠবে, এরপর যখন দাদীমাকে প্রথম স্ক্রিনে আনা হয়, আপনি শিউরে উঠবেন নিশ্চিত, এবং স্তব্ধ হয়ে যাবেন, সে এক সাংঘাতিক পরিস্থিতি, এরপর সেই ব্রিটিশ আমলকে এতো সুন্দরভাবে স্ক্রিনে আনেন যেনো ডিরেক্টর আর্টের কারিগর। লাস্টের ঘটনাপ্রবাহ আপনাকে এমন আজিব ঘটনার মুখোমুখি করবে যেটা হয়তো আপনি ভেবে পাবেন না এখন।

সিনেমাটোগ্রাফীঃ-
মুভির মূল শক্তি ছিলো এই সিনেমাটোগ্রাফিতে, আপনি এই মুভিটাকে গভীরভাবে দেখলেই বুঝবেন আসলে দারুন সিনেমাটোগ্রাফি একটা সিনেমাকে কোন লেভেলে নিয়ে যেতে পারে, একদম শুরুর তুম্বাড় শহরকে যেভাবে প্রেজেন্ট করা হয় তা ছিলো নয়নাভিরাম, সিনেমাটোগ্রাফার পংকজ কুমার, নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি সেরা কাজ আমাদের উপহার দিয়েছেন। গা ছমছম করে তোলা তুম্বাড় গ্রামের এমন নিরিবিলি, বৃষ্টিস্নাত ও অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশ, মুভির প্রতিটি দৃশ্যে, বিশেষত ভিনায়কের বেড়ে উঠা বাড়ি, বিভিন্ন অংশে আবাসস্থলে যে থমথমে ভাব বজায় ছিল, তা আপনাকে কোনো রকম ভূত-পেত্নীর আগমন ছাড়াও  অস্বস্তিকর ও ভীতিকর করে ছাড়বে তার উপর সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পরিস্থিতিকে আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ করে তুলেছিল। কিছু দৃশ্যের অভূতপূর্ব কাজ একদম পিলে চমকে দেবে আপনাকে। এসবই ছিলো ডিরেক্টর ও সিনেমাটোগ্রাফির যৌথ কেলমা। তবে সিনেমাটোগ্রাফার না হলে এসব সম্ভব হতোনা।

নাহ, রিভিউকে আর বড় করবোনা, শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিলো রিভিউকে সংক্ষেপ করবো, বাট মুভিটা আমাকে এতোটাই মুগ্ধ করেছে যে, বড় হয়ে গেলো, আরো তিন ডবল করলেও মুভি নিয়ে আমার অভিব্যক্তি শেষ হবেনা। এক কথায় বলতে গেলে মুভিটি ছিলো বলিউডের হরোর মুভির এক অনন্য সৃষ্টি, যা বলিউডকে আরো সমৃদ্ধি এনে দিলো।

Sleep Tight (2011) Movie Review || মুভি রিভিউ


“Let's wipe that smile off that face”

স্প্যানিশ চলচিত্র জগতের আলোড়নকারী একটি সাইকোলজ্যিকাল থ্রিলার  ফিল্ম Jaume Balagueró এর “Sleep Tight”. ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুভিটি সারা বিশ্ব জুড়ে দর্শকনন্দিত হয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আরেকটি মাত্রা যুক্ত হয় যখন দক্ষিন কোরিয়ায় এর রিমেক করা হয় “Door Lock” নামে। মাত্র ২ টি প্রধান চরিত্র এবং গুটিকতক প্বার্শ-চরিত্রে মুভিটি অনেকাংশে অবাক করার মতো প্রতিক্রিয়া পেতে সক্ষম।

বাসায় একা? ঘুমাচ্ছেন? ঘুমানোর আগে খেয়াল করেছেন, কেউ বিছানার নিচে আছে কিনা কিংবা ওয়াশরুমে অথবা লুকিয়ে অন্য কোথাও? ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারবেন কি ঘটে গিয়েছে আপনার সাথে, গত রাত্রে?
হয়তো এমনই সব ভাবনার মুখোমুখি হবেন মুভিটা শেষ করার পর।

Plot Summary:- সিজার একটি এপার্টমেন্টের প্রহরী। ইহজগৎে তার একটি মাত্র সমস্যা, সে সুখী নয়। ছোটখাটো আনন্দে তো নয়ই বরং তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন ঘটনাও তাকে সুখী করতে পারেনি। তার জীবনে নেই কোনো অনুপ্রেরনা, নেই উৎসাহ, নেই বেঁচে থাকার জন্য বিন্দুমাত্র লক্ষ। যন্ত্রনাদায়ক এই জীবন সিজারের জন্য অসহ্য হয়ে উঠে। কিন্তু এপার্টমেন্টের সকল ভাড়াটিয়ার সাথে তার চমৎকার সম্পর্ক। অন্যের উপকারে সে সর্বদা এগিয়ে আসে। কিন্তু এটা তার মুখোশ মাত্র, অন্যের দুঃখেই বরং সে একটু আনন্দের ছোঁয়া পায়। এপার্টমেন্টের এক হাসিখুশি এবং প্রানবন্ত তরুনী ক্লারা। কোনো দুঃখই যেনো তাকে স্পর্শ করেনা। সিজারের লক্ষ্য ক্লারার জীবনের হাসিটুকু ছিনিয়ে নিয়ে আলতো করে কান্নার ছোঁয়া লাগিয়ে দেওয়া, বিনিময়ে জীবনে একটুখানি প্রশান্তি লাভ।

কাহিনী এগিয়ে যাবে ধীরে আর আপনাকে নিয়ে যাবে রোমাঞ্চকর এক অতিমানবীয় অনুভূতির মধ্য দিয়ে। সমগ্র চিত্ত বিকৃত হয়ে দংশন করবে যখন মনে হবে আমরাও তো মাঝে মাঝে অন্যের অপকার করে/দেখে আনন্দ পাই কিন্তু বিনিময়ে অপরপক্ষ কি নিদারুন কষ্ট অনুভব করে।

“Cell 211” মুভিতে দুর্দান্ত অভিনয় করা Luis Tosar 'সিজার' চরিত্রে নিজেকে আবির্ভূত করেছেন এমন এক দ্বৈত চরিত্রে, যেখানে তার সমগ্র প্রতিভা যেনো বিকশিত হয়েছে। ক্লারা চরিত্রে ছিলেন Marta Etura, যার হাসিখুশি মুখটা আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক ভুবনে।

অসাধারন স্ক্রিনপ্লে, ভয়ংকর শীতল এটিটিউড, প্রতি মুহূর্তে রোমাঞ্চকর ছোঁয়া, ফিনিশিং এ অবাক হওয়ার অনুভূতি নেওয়ার জন্য “Sleep Tight” একটি উৎকৃষ্ট মুভি। থ্রিলার-সাসপেন্স প্রেমীদের জন্য মাস্ট সি মুভি।

হিংসা, ঈর্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং ভালো রাখুন কাছের মানুষটিকে।

© movie review bd 

BORDER মুভি রিভিউ


ভেবে দেখুন মুভি জগতে কতগুলা জনরা আছে !
ড্রামা,রোম্যান্স,থ্রিলার,হরর,ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন আরো কত কী! এখন এক কাজ করেন। এই সবগুলো জনরা একসাথে একটা মুভির মধ্যে ঢেলে দেন।তৈরী হয়ে গেল ২০১৮ সালের সুইডিশ ফিল্ম 'বর্ডার'।
ভাবছেন সবগুলো জনরার মিক্স?
কী অখাদ্য জগাখিচুড়ি মুভি কে জানে!
তবে  আপনার ধারণা একেবারেই ভুল। ‘বর্ডার’ এর মত ওয়েল ব্যালেন্সড একটা সিনেমা খুবই কম দেখেছি গত কয়েক মাসে। এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমাগুলো নিয়ে আমার একটা ধারণা আছে,হয় সেগুলো একেবারে জঘন্য হয় না হলে সেগুলো একেবারে অনন্য হয়। ‘বর্ডার’ এ বছরের এক্সেপশোনাল  একই সাথে অনালোচিত একটা ফিল্ম।মুভির স্টোরিলাইন খুবই সুন্দর এবং সিকুয়েন্সগুলো সুন্দরভাবে পরিকল্পিত। মুভি শুরু হওয়ার পর আপনি একটা সেরেনিটির মধ্যে পড়ে যাবেন।ভিজুয়ালি এট্রাক্ট করার মত দারুণ সব দৃশ্য আছে।তবে একই সাথে রয়েছে অনেক ডিস্টার্বিং সিন। অনেক আনইউজুয়াল সেক্সুয়াল সিন আছে যা অনেকেরই হজম হবে না।তাও মুভিটা সুন্দর।প্রথম প্রথম আপনার মনে হবে কোনো ঢিলাঢালা ড্রামা দেখতে বসেছেন।সময়ের সঙ্গে কাহিনীর ভেতরকার জট যখন খুলতে শুরু করে তখন মুভিটা আরো জমতে শুরু করে।এবং মিস্ট্রি কিন্তু একটাই না, একাধিক। ড্রামা থেকে বেরিয়ে আস্তে আস্তে মুভিটা বিভিন্ন জনরায় বিচরণ শুরু করে। একই মুভির ভেতর অনেক ভিন্ন জিনিস নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে যা অন্যান্য মুভি থেকে এটিকে আলাদা করে।

মুভির প্রোটাগনিস্ট টিনা (এভা মালেনদার) একজন সুইডিশ কাস্টম অফিসার।টিনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে কোনো মানুষের কিংবা বস্তুর গন্ধ শুঁকে কোনো অসংগতি শনাক্ত করতে পারে।মানুষের লজ্জা,অনুতপ্তবোধ কিংবা অন্যায়ের কথা বুঝতে পারে।এই কারণেই সে বুঝতে পারে প্লেনের কোনো যাত্রী ড্রাগস কিংবা অন্য কোনো কিছু বহন করছে কী না। একদিন সে এক প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে ভর্তি একটি মেমরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। টিনার বস তাই তাকে এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেট করার জন্য নিযুক্ত করে। কাহিনীর এই হল একটা পিঠ যা এখনো পর্যন্ত সব নরমাল বলেই মনে হচ্ছে।
কাহিনীর অন্য পিঠে আসা যাক, টিনা নিজে একটা রোগে আক্রান্ত। তার মুখটা অদ্ভুতভাবে বিকৃত। ক্রোমোসোমাল ডিফর্মিটির কারণে তার এই অবস্থা।তবে একদিন সে এয়ারপোর্টে তারই মত অবিকল একটি লোককে দেখতে পেল যার মুখও বিকৃত। তখনই সে লোকটার জন্য অদ্ভুত এট্রাকশন অনুভব করে।ঘটনাচক্রে লোকটার সাথে আবার দেখা হয় এবং টিনা তাকে নিজের বাসায় রেন্টে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। টিনা থাকে জঙ্গলে ঘেরা এক আইসোলেটেড জায়গায়। এখানে সে রোল্যান্ড নামের একজন ডগফাইটারের সাথে একসাথে লিভ ইন করে।একসময় টিনা এবং অদ্ভুত লোকটির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এরা নিজেদের শরীর নিয়ে বিভিন্ন মিস্টিরি জানতে শুরু করে।অদ্ভুত লোকটা সম্পর্কেও বিভিন্ন অজানা মিস্টিরিয়াস তথ্য জানতে পারে।একই সাথে এগিয়ে চলে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ইনভেস্টিগেশন।এভাবেই সমান্তরালভাবে দু দুটো মিস্টিরি আস্তে আস্তে আনর‍্যাভেল হতে থাকে।সে পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটা নিয়েই 'বর্ডার' সিনেমা।

আপাত দৃষ্টিতে একটা সিম্পল মিস্ট্রি ফিল্ম মনে হলেও এই মুভিতে সোশ্যাল রিয়ালিজম এর অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে। হিউম্যানিটিকে স্যাটায়ার করা হয়েছে অনেকভাবে।সঙ্গে সঙ্গে  নর্স মিথোলজির সাথে মিলমিশ খাইয়ে এমন একটা অস্থির ফ্যান্টাসি মুভির অবতারণা করা হয়েছে যে প্রশংসা না করে পারা যায় না।প্রথমদিকে একটু স্লো হলেও শেষের দিকে একটা দারুণ থ্রিল উপভোগ করতে পারবেন।তার উপর টিনা এবং তার বাবাকে নিয়ে হাল্কা পাতলা ফ্যামিলি ড্রামার ছোঁয়াও পেয়ে যাবেন।অনেক ডিস্টার্বিং সিনে পরিপূর্ণ থাকলেও শেষে একটা অদ্ভুত প্রশান্তির দৃশ্য দিয়ে মুভিটার এন্ডিং।মুভিটায়ে বিশদভাবে আলোচনা করার অনেক বিষয়বস্তু আছে,আপনি দেখলে মোটামুটি ফিল করতে পারবেন।যেহেতু রহস্য এবং টুইস্ট আছে তাই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার স্কোপ কম।স্পয়লার হয়ে যাবে।তবে এটা বলব যে, পুরো মুভিটাই একটা সাররিয়াল এক্সপেরিয়ান্স।
অভিনয়ের দিক থেকে অন্য সবকিছু থেকে ছাড়িয়ে গেছে এই মুভি।মূল চরিত্রে এভা মালেনদার এবং এওরো মিলানফ রীতিমতো ‘দানবীয়’ পারফরম্যান্স দিয়েছেন।সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ডিজাইন গ্রেট।সব মিলিয়ে আলি আব্বাসির দারুণ একটা সিনেমা দাড় করিয়েছেন।যদিও সুইডেন থেকে মুভি অস্কারের জন্য পার্টিসিপেট করলেও নমিনেশন পায় নি।একমাত্র কৃতিত্ব মেক আপ এবং হেয়ার স্টাইলিং এ নমিনেশন।
মুভির ত্রুটির মধ্যে আমার চোখে যেটা লেগেছে যে একটা দুইটা টুইস্ট আন্দাজ করতে পেরেছি।তবে আমি পেরেছি বলে অন্য সবাই পারবে সেটা আমার মনে হয় না।তবে এই টপ নচ ফিল্মটা সবার আননোটিসড যেন না থেকে যায় তাই আমি রেকমেন্ড করব মুভিটা দেখতে।
হ্যাপি ওয়াচিং!

Hereditary (2018) মুভি রিভিউ।। Movie Review


সতর্কীকরন: দূর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়!
.
অনেকের মতে Hereditary এই বছরের অন্যতম scariest মুভি! প্রমিনেন্ট রিভিউয়ার ও হরর মুভি লাভারদের মাঝে তাই অন্যরকম একটা অপেক্ষা কাজ করছিল। অপেক্ষায় ছিলাম আমিও। প্রথম সুযোগ পাওয়ামাত্রই তাই দেখে এলাম। রাত দেড়টার দিকে মিডনাইট শো  দেখে যখন মুভি থিয়েটার থেকে বেরোলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফাঁকা শপিং মলের ভেতরটা হঠাতই অনেক বেশী ভূতুরে মনে হতে লাগলো। একের পর এক সাজিয়ে রাখা ম্যানিকুইনগুলো জীবন্ত মনে হচ্ছিল! ফাঁকা রাস্তা ধরে একা হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম, সত্যি বলতে বারবার শরীরে কাঁটা দিচ্ছিলো! পায়ের নীচে শুকনো পাতার শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল কেউ অনুসরন করছে, পেছনে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হচ্ছিল বারবার! প্রচন্ড ডিস্টার্বিং মুহূর্তগুলো বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল।
.
শেষ কবে কোন হরর মুভি দেখে এরকম অনুভব করেছি, আমার মনে পড়েনা! হরর জনরার পাঁড় ভক্ত আমি! তবে এই ক্ষেত্রে বাছবিচারের স্বভাবটাও খুব প্রকট। থ্রিলার বা সাইফাই যেমন তেমন হলেও গিলতে পারি কিন্তু লেইম হরর মুভি ঠিক সহ্য করতে পারিনা। কারণটা খুব সোজাসাপটা, হরর মুভি দেখে আমি সাধারণত এফেক্টেড হইনা। জাম্প স্কেয়ার, পরিচিত গল্প আর পুওর মেকিং আমাকে খুব বেশীই বিরক্ত করে। মিস্ট্রি বেজড, স্ট্রং স্টোরিলাইন না হলে আমার মতে হরর মুভি জমেনা।
.
এই সব ক্যাটেগরিতেই খুব ভালোভাবে উৎরে গেছে Hereditary! ইন্টারেস্টিং একটা স্টোরির পাশাপাশি প্রতিটি ক্যারেক্টার বিল্ড আপ এবং  এক্সিকিউশন মুগ্ধ করেছে। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের পাশাপাশি মিউজিকের ব্যবহার ছিল লক্ষ্য করার মতো! সেই সাথে ডিরেক্টর কৃতিত্বের সাথে ব্যবহার করেছেন সাইলেন্সকে যা একটা হরর মুভির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা এলিমেন্ট! স্টোরিলাইন পুরোপুরি আনফিমিলিয়ার বা ইউনিক দাবী করবোনা, বরং Ouija টাইপ মুভিতে এই ধরণের স্টোরির কিছু ছোঁয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু Hereditary এর মাঝে কিছু ইউনিক টুইস্ট আছে, মুভির পেসিং, ক্যারেক্টারাইজেশন এবং দুর্দান্ত এক্সিকিউশনের মাধ্যমে ডিরেক্টর একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
.
গল্পটার শুরুটা বেশ টিপিক্যাল, একটা ফ্যামিলিকে নিয়ে।  এটা প্রথম দেখায় শুধু প্লেইন এন্ড সিম্পল অ্যামটিভিল হরর ক্যাটাগরির মুভি মনে হতে পারে। কিন্তু ঘটনার বিল্ড আপ এতো সারপ্রাইজিংলি টার্ন নেয় যে শেষদিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, অনুভব করতে পারছিলাম নিজের হৃদস্পন্দন! একজন গ্রিভিং মাদার, তার মৃত অদ্ভুত রহস্যময়ী মা, অদ্ভুতুড়ে কন্যা, পুত্রের সাথে কমপ্লিকীড সম্পর্ক, ভুডু/ব্ল্যাক ম্যাজিক সব কিছুই আছে এই মুভিতে। বাচ্চা মেয়েটার কথা কি বলবো, এতো সাটল কোন ক্যারেক্টার যে এতো ভয়াবহ আর পাওয়ারফুল হয়ে উঠতে পারে তা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! Charlie আমার দেখা অন্যতম ক্রিপিয়েস্ট হরর মুভি ক্যারেক্টার। আমি কোন কিছু স্পয়েল করতে চাইনা, যারাই দেখতে আগ্রহী কাইন্ডলি স্পয়লার থেকে দূরে থাকবেন, ভালো হয় ট্রেলারও না দেখলে। 
.
সব মিলিয়ে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই, Hereditary এই সময়ের অন্যতম সেরা হরর মুভি। তবে এন্ডিংটা আমার কাছে একটু underwelming লেগেছে টু বি অনেস্ট। এর কারণ হয়ত মুভিটার লং বিল্ড আপ, এজ এ ভিউয়ার আমি হয়ত খুব বেশী প্যে অফ আশা করছিলাম। একদিক দিয়ে এটাও ক্রেডিটের দাবীদার কারণ টিপিক্যাল হরর ক্লিশে থেকে বেরিয়ে আসাটা ফ্রেশ একটা এক্সপ্রিয়েন্স আর টেস্ট রেখে গেছে ভিউয়ারদের মনে! দাগ কেটেছে এর সাইকটিক অ্যাসপেক্ট, ক্যারেক্টারের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেক দিন মনে থাকবে মুভিটা!
.
বিঃদ্রঃ ওয়াইড শটগুলোর পাশাপাশি ক্লোজআপগুলোতেও শুধু সাবজেক্টের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। ফোকাসড এন্ড আউট অফ ফোকাসড ব্যাকগ্রাউণ্ড ব্যাবহার করে বেশ ভালো কিছু শক দিয়েছে ডিরেক্টর। আর ভালো সাউন্ড-সিস্টেম এই মুভি থেকে বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স পাওয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

A Quiet Place (2018) মুভি রিভিউ


সিনেমার প্রথম ৪০ মিনিটে কোনো সংলাপ নেই !

সিনেমার শুরুটা হয় নি:শব্দে । এক স্টোরে দেখা যায়,  এক ফ্যামিলি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিচ্ছে । তবে খুবই সাবধানে ! বিন্দুমাত্র শব্দ যেনো না'হয় সেভাবে ! তাদের ছেলে এক খেলনা ব্যাটারি দিয়ে চালাতে চাইলে , চালাতে দেওয়া হয় না ! আওয়াজ হবে বলে !

সকল কিছু নেওয়া শেষ হলে তারা তাদের বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় । এদিকে সেই বাচ্চা ছেলেটি খেলনাটি চালু করে হঠাৎ করেই ! তাঁর বাবা দ্রুত তাকে রক্ষা করতে যাবার আগেই এক অদ্ভুতুড়ে প্রাণী এসে তাকে নিয়ে চলে যায় !

আর যাই হোক, কোনোপ্রকার শব্দ তৈরি করা যাবে নাহ ! শব্দ শুনলেই চলে আসবে সেই প্রাণী ! মেরে ফেলবে শব্দের  সৃষ্টিকারীকে !
অর্থাৎ, শব্দ হলেই মৃত্যু !
কিভাবে সেই ফ্যামিলির মেম্বাররা বেঁচে থাকে কোনোপ্রকার শব্দ না করেই ?!

দুর্দান্ত হরর থ্রিলার ! কনসেপ্ট তো খুবই চমৎকার ! এবছরের অন্যতম সেরা সিনেমা, নিঃসন্দেহে !

IT (2017) মুভি রিভিউ


প্রবাবলি খুব অল্প মুভির মধ্যে 'IT' একটা মুভি যেটাতে এক্সপেক্টেশন হাই থাকার পরেও প্রচুর ভাল্লাগসে!

Hands down the best Stephen King  Live action যেকোনো কিছু.

আজকেই রিলিজ হলো সিনেপ্লেক্স এ।

ফার্স্ট অফ অল সবার ই এই মুভিটা দেখতে যাওয়া উচিত একটা আসল হরর মুভি চিন্তা করে।

 একটা ভয়ংকর ক্লাউন আর কিছু বাচ্চা কাচ্চা নিয়া দেখে বাসার পিচ্চিদের নিয়া দেখা যায় এরকম থ্রিলার টাইপ মুভি কিন্তু না!

বেশ কিছু Gore Type এবং অন্যান্য ডিস্টার্বিং সিন আছে।

আরো কারো যদি কার্স ওয়ার্ড নিয়ে চুলকানি থাকে তাহলেও সমস্যা।  এই মুভিতে প্রচুর এফ ওয়ার্ড ইউজ করা হইছে :3

অনেক এ বাচ্চকাচ্চা নিয়া আসায় ইন্টারমিশন এ সুন্দর মতো উঠে বের হয়ে গিয়েছেন :3

It's a R Rated Movie.
১৫,১৬ বছরের নিচে কারো দেখাই উচিত না এই ছবি (অন্তত বড় পর্দায়)।

কিন্তু সারপ্রাইজিংলি এই মুভি টা টেরিফায়িং হলেও কাওকে ডেট হিসেবে নিয়ে খুব মানিয়ে যাবে।

স্টোরি সামারি হিসেবে বলা যায়

একটা ছোট শহর যেখানে ঠিক ২৭ বছর পর পর অনেক জন ছেলে মেয়ে মিসিং হয়ে যায় তাদের আর খুজে পাওয়া যায় না। ঘটনাচক্রে কিছু টিনএজারস এর লুজারস ক্লাব খুজে পায় এর পেছনে Pennywise The Dancing Clown নামে এক ডেমোনিক এনটিটি আছে।

স্ক্রিপ্ট যে লিখসে সে অসাধারণ একটা কাজ করসে। এক মুহুর্তের জন্যও আপনি পর্দা থেকে চোখ সরাতে পারবেন না।

একটা স্টিফেন কিং এর হরর উপন্যাস শুধুমাত্র হরর এর দিকে কখোনো পুরোপুরি ফোকাস দেয় না। সমাজের বিভিন্ন অসংগতি  তুলে ধরা হয়।

এই মুভি টা এই জিনিসটা খুব ভালো ভাবে করেছে।
ঘটনার নিজস্বতা আমরা খুব কাছ থেকে অনুভব করতে পারি।

এই শুধু স্ক্রিপ্ট হাতে দু কাপ কফির সাথে দিলে অনায়াসে পড়ে এনজয় করা যাবে।

আমি 'IT' মিনি সিরিজ টাও দেখেছিলাম কয়েকদিন আগে। সেখানে মূলত ক্লাউন a.k.a Pennywise এর দিকে ফোকাস করে করা হয়েছে সিরিজ টা।

এই মুভিতে আরো পার্সোনাল একটা স্টোরি দেখা গিয়েছে কিছু ১৪ বছরের ছেলেপেলের।

কাস্ট গুলা খুবই মারাত্নক হইসে। সেকেন্ড চাপ্টার এর কাস্ট ও আশা করি এই কাস্ট এর মান রাখতে পারবে।
বিশেষ করে ' Stranger Things ' এ অভিনয় করা Finn Wolfhard এবং Pennywise এর চরিত্রে Bill Skarsgard অনেক অসাধারণ অভিনয় করেছে।

 Finn এর কমেডিক টাইমিং খুব ভালো ছিলো।
লাস্ট এ এই ক্যারেক্টার এর একটা পাঞ্চ ডায়ালগ থাকে যার জন্য পুরো হল তালি দিতে বাধ্য হয়েছিলো!

Directing and Cinematography was top notch. সেকেন্ড চাপ্টার এর জন্যও এই ডিরেক্টর থাকলে বেস্ট হবে।

'It' is a terrifying story based movie that has Sadness, comedy and rommance too!

ফাইনালি এমন একটা মুভি যা শেষ হওয়ার পর পর চাপ্টার ওয়ান লিখা টা উঠার সাথে সাথে খেয়াল করবেন হলের সবাই তালি দিচ্ছে। যা হরর মুভিতে সচরাচর হয় না।

আমি হয়ত ৮ দিবো ১০ এ এই মুভি কে।

Rotten Tomatoes - 85%

IMDB - 8