Know info before watch, but no Spoiler

ফাগুন হাওয়ায় রিভিউ ২০১৯



ভাষা আন্দোলনের উপর নির্মিত ছবিটি টিটো রহমানের "বউ কথা কও" উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত।
এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা,যশপাল শর্মা(ভারতীয়),আবুল হায়াত,ফজলুর রহমান বাবু  সহ আরো অনেকে।

প্রথমেই বলতে হয় এদেশে বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের উপর ছবিই নির্মিত হয় না।
এক্ষেত্রে তৌকির আহমেদ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছোট্টো করে হলেও তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ছবিটিতে প্রথম প্লটেই দেখা যায় যশপাল শর্মার (ওসি) গ্রামে প্রবেশ।
প্রবেশের পর থেকেই বাঙালিদের উপর নিষ্ঠুরতা,অত্যাচারের চিহ্ন ফুটে ওঠে।
বাংলা ভাষায় কথা বলা প্রত্যেক ব্যাক্তি এমন কি পাখির উপরও তার নির্যাতন,বর্বরতা কমে না।

দেয়ালে লিখন,রাজনৈতিক আলাপ, পশ্চিম পাকিস্তান তথা ছবিতে উল্লেখিত দেশ বিরোধি কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে ছবিতে।

যশপাল শর্মা তথা পাকিস্তানি পুলিশ অফিসার এর চরিত্রটি উনি ভালো ভাবেই অভিনয় করেছেন।
তিশা আর সিয়াম এর চরিত্র নিয়ে বলার কিছু নেই কারণ তাদের অভিনয়ে অন্তত আপাত দৃষ্টিতে না ছিলো কোনো খুত না অভার এক্টিং।
হ্যা তবে সিয়ামের চরিত্রটা আরো প্রতিবাদি করে তোলা যেতো।
ফজলুর রহমান বাবু ভাই বরাবরের মত নিজেকেই তার অভিনয় দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন।তার অভিনয় দেখে মুগ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য।
এছাড়া পার্শ্ব চরিত্রে রওনক হাসান,সাচ্চু ভাই,সাজু খাদেম, সবাই সবার চরিত্র অনেক সুন্দর করে অভিনয় করেছেন।

এইটা শুধু ভাষা আন্দোলনের ছবি না সুন্দর একটি প্রেমেরও ছবি।পরিচালক কম বেশি করে হলেও সুন্দর করে সেখানে সেই পরিবেশে যুক্তি সঙ্গত ভালোবাসা উপস্থাপন করেছেন।
এছাড়া ছবিতে কমেডি,ড্রামা,হাসি,কান্না,ইমোশন সবকিছুরই ছোঁয়া রয়েছে।ব্যাকগ্রাউন্ডে তোমাকে চাই গানটির সুর যতক্ষণ ছিলো তা ছিলো মুগ্ধকর।

তবে ছবিতে শুধু ভাষা আন্দোলনের দিন পর্যন্ত তথা ২১  ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাম্য পটভূমিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পরিবর্তি কিছু ঘটনা তুলে ধরলে আরো ভালো হতো বলে আমি মনে করি।সর্বোপরি এইটি আমাদের  ছবি, আমাদের বাংলা ভাষার ছবি।
প্রত্যেক বাঙালির এই ছবিটি দেখা কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

একটা কথা না বললেই নয়,
চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ বলেছেন,

"ফ্রিতে দেখার আমন্ত্রন ছেড়ে টিকিট কেটে "ফাগুন হাওয়ায়" দেখলাম।
বাংলাভাষীরা যদি এ ছবি না দেখে তাহলে  সেটা তাদের ক্ষতি, ছবির নয়...."

কথাগুলো অন্তত সবার বোঝা উচিত যে কতটা গভীরতা রয়েছে কথাগুলোয়।
বাঙালি হিসেবে অনুরোধ সবাই অন্তত এই ছবিটি দেখবেন হলে যেয়ে। বাংলা চলচিত্রের ভালো ছবিগুলো আমরা আপনারা সাপোর্ট না করলে কে আর করবে?

Sui Dhaga Movie Review


লিড রোলে আনুস্কা শর্মা (যার অভিনয় শর্মা কাবাবের মতোই টেস্টি) আর বরুন ধাওয়ান (নাহ্ এই ছেলে খালি এন্টারটেইনিং আর ওভার দ্য টপ এক্টিংই করে না হৃদয় টাচ করা এক্টিং করা এক্টিংটাও পারে)
কাহিনী নির্যাসঃ একজন লুজার মওজি আর তার অতি সহনশীল বুদ্ধিমতী স্ত্রী মমতার কাহিনী। যারা নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একসময় তাদের স্বপ্নে সফল হয়।
আনুস্কা আগেও নিজেকে ভাংসে কিন্ত গ্ল্যামারের মধ্যে থেকেই। ২০১৮ তে পারি,সুই ধাগা এরপরে জিরো তিনটাতেই নন গ্ল্যামারাস পুরাপুরি ডিফারেন্ট তিনটা ক্যারেক্টার করলো এত ভার্সেটালিটি আর কোন বলিউড একট্রেস রিসেন্ট টাইমে দেখাইসে মনে পড়ে নাই তবে আলিয়াও যথেস্ট ভার্সেটাইল। বরুন ধাওয়ান এরে শুরুর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দেখলাম এক বদলাপুর ছাড়া সব একই রকম ক্যারেক্টার করতে।২০১৮ তে অক্টোবর এরপরে এই সুই ধাগা দেখার পরে মনে হইলো এই ছেলেরে এতদিন খালি সালমান খান যেগুলা বয়সের কারণে করতে পারতো না খালি সেগুলার জন্য ব্যাবহার করতো। নিজের আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করার চেষ্টা করসে ২০১৮ তে এসে। বলিউড ইজ ইন সেফ হ্যান্ডস নিউ জেনারেশন ও এক্টিং পারে।

মুভিটা মাটি ঘেষা। লাস্টে ফিল গুড ফিলিংস হয়।

২০১৮ আসলে বলিউডের জন্য ভালো অর্থে ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। খানদের ঝা চকচকে মুভিগুলার ভরাডুবি হইসে আর এইরকম কন্টেন্ট নির্ভর মুভি মানুষকে টানসে,হিট হইসে। যদিও আমি শাহরুখের ফ্যান তাও ব্যাপারটায় খুশি।

মাই রেটিং: ৮/১০
আইএমডিবি রেটিং: ৬.২/১০

SARKAR MOVIE REVIEW 2018


এই ছবিটা মূলত লেখা হয়েছে দেশের নির্বাচনকে ঘিরে৷ মানুষের ভোট প্রদানের ক্ষমতা নিয়ে৷ তাদের বাক স্বাধীনতা নিয়ে৷ তাদের শোষন এর থেকে কিভাবে বের হতে হবে তা নিয়ে৷

আমরা গল্পে দেখতে পাবো একজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানকে৷ যাকে বলা হয় "মনস্টার" ব্যবসায় ক্ষেত্রে যার অনেক নামডাক আছে৷ তিনি তার নিজস্ব বিমানে করে দেশে এসেছেন শুধুমাত্র মাত্র ভোট দেবেন বলে৷ এরপর আবার চলে যাবেন অ্যামেরিকা৷ কিন্তু তিনি ভোট কেন্দ্রে ঢুকে দেখেন তার ভোট আগেই হয়ে গেছে৷ অন্য কেউ তার ভোট দিয়ে দিছেন৷ আমি আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে যেমন মন খারাপ হবে৷ উনারও তাই হয়েছে৷ এতো কষ্ট করে দেশে আসলো ভোট দিতে আর হলো উল্টাপাল্টা৷ কিন্তু তিনি তো ছেড়ে যাবার পাত্র নন৷ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার অধিকার আছে যেমন ভোট দেবার৷ তেমনই ভোট না দিতে পারার কারণে তার অধিকার আছে এটার বিরুদ্ধে মামলা করার৷ তিনি অবশেষে ডিসিশন নিয়েই নেন মামলা করবেন৷ তাকে অনেকে মানা করেছে ঝামেলাতে না জড়াতে কিন্তু সে তার ডিসিশনে অনড়৷ এদিকে আগামীকাল ভোটের রেজাল্ট৷ সাবেক ক্ষমতায় থাকা মন্ত্রী মিনিস্টাররা আগেই তো সবার ভোট দিয়ে দিছেন৷ মামলাতে জিতে গেলে পুনরায় ভোট হবে৷ কিন্তু ফের ভোট হলে, এরা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না৷ তাছাড়া তাদের এতো কোটি টাকা সব জলে যাবে৷ তাই তারা ডিসিশন নেয় দেশে একটা চোরা হামলা করবে৷ নায়ককে মেরে ফেলবে৷ এতোকিছুর পরেও কি ভদ্রলোক তার ভোট দেবার ক্ষমতা পাবেন? নাকি সমাজের নির্মম রাজনীতির কাছে প্রাণ দিতে হবে তাকে৷ হাতে সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন মুভিটি৷ এই মুভিটি আমাদের দেশের নির্বাচন এবং রাজনীতির জন্যে বড় একটা লেসন৷

মুভিতে পছন্দে কিছু ডায়লগঃ

মন্ত্রীর ডান হাত যাকে সহজ বাংলায় বলে চামচা তিনি ভদ্র লোকটাকে বলেন৷ ভাই মাত্র একটা ভোটই তো৷ এটার জন্যে এতো হাউকাউ করার কি আছে? ভদ্রলোক বললেন "এই একটা মাত্র ভোটের জন্যেই কত কত নির্বাচনের প্লট পাল্টে গেছে জানেন আপনি? একটা ভোটও কতটা গুরত্বপূর্ণ? অ্যামেরিকা আর জার্মানে ভাষা নিয়ে ভোট হয়৷ সেখানে এক ভোটে ইংলিশ ভাষা এগিয়ে যায়৷ হিটলার নাজি পার্টিতে মাত্র একটা ভোটের কারণে এগিয়ে যায়৷ এমনকি অনেকে মাত্র এক ভোটের কারণে হেরে গেছে৷

এই মুভিতে আরেকটা ডায়লগ ছিলো, বিরোধী দলকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবেন সেটা কিন্তু কাম্য নয়৷ বিরোধী দল না থাকলে দেশে কোনো গনতন্ত্র থাকতে পারে না৷

আপনারা তো নির্বাচনে কতশত ইশতেহার দেন, তাহলে মানুষ না খেয়ে মরে কেন? সুদ দিতে না পেরে সুইসাইড করে কেন?

মুভি - সরকার
দেশ - দক্ষিণ ইন্ডিয়া
পরিচালক - মরুগাদোস
সাল - ২০১৮
অভিনয়ে - বিজয়, কৃর্তি সুরেস
ধন্যবাদ

Mission Impossible : Fallout Movie Review


স্পাই-একশন জনরার সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশন ইম্পসিবল।এ জনরার অন্যান্য সিরিজ থেকে এ সিরিজ অনেকাংশেই ভিন্ন-তা সেটা এর সেট আপ,গিমিক,চরিত্র,একশন দেখলেই বুঝা যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এর প্রধান চরিত্রে একই অভিনেতা কাজ করে চলেছেন এর জন্মলগ্ন থেকেই আর আমরাও (দর্শক) তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি সাদরে, পরিচালনায়ও ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কাজ করেছেন এ সিরিজের ৫ নম্বর সিনেমা পর্যন্ত, কোন পর্বের কাহিনীর সাথে অন্য পর্বের তেমন কোন কানেকশন নেই। ১৯৯৬ এ শুরু হওয়া এ মুভি সিরিজের ৬ নম্বর পর্ব ফলআউট মুক্তি পায় এ বছর। অনেকগুলো ব্যতিক্রমের জন্ম দেয়া এ মুভিতে অভিনয়ে ছিলেন টম ক্রুজ, অ্যালেক বোল্ডউইন, ভিং রাইমস, রেবেকা ফারগুসন, সাইমন পেগ, মিশেল মনাহান, শন হ্যারিসের সাথে সিরিজের এ পর্বে যুক্ত হয়েছেন ভ্যানেসা কারবি, এঞ্জেলা বেসেট আর হ্যানরি কাভিল।

ব্যতিক্রমের কথার বিষয়ে বলছিলাম, এটি এ ফ্রাঞ্চাইজির একমাত্র মুভি যার পরিচালক এর আগের পর্ব-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন,স্টিভেন ম্যাকুয়ারি রোগ নেশনের পর আবার ফিরেছেন ফলআউট এর জাহাজ সামলাতে,আরো কিছু ব্যতিক্রমের ভিতর আছে-এটার সাথে সিরিজের অন্যান্য পর্বের  যোগাযোগ আছে আর তা ভালমতোই,সবচেয়ে সরাসরি যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায়,৫ নম্বর সিনেমার সিকুইয়েল হচ্ছে এ সিনেমা। এ বছরের অন্যতম সেরা’র তকমা পাওয়া ১৭৮ মিলিয়নে বানানো এ মুভি দেখেছিলাম বেশকিছুদিন আগে সিনেপ্লেক্স-এ, কেমন লাগল আমার আসেন দেখি...

এবারের মিশনে দেখা যায় প্লুটোনিয়াম বাহী তিনটি বোমা উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ে ইথানের (ক্রুজ) দলের উপর কিন্তু বার্লিনের সেই মিশনে ব্যর্থ হয় তার দল আর সেই বোমাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে ঊঠে পড়ে লাগে এপোস্টল নামের এক সংগঠন যারা মূলত বিগড়ে যাওয়া আর বিপথে পরিচালিত সাবেক আইএমএফ এজেন্টদের নিয়ে গঠিত। এ দলের অন্যতম সদস্য হচ্ছে জন লারক আর মূলত সেই এ বোমাগুলো এপোস্টোলের কব্জায় নেয়ার জন্য কাজ করছে, কিন্তু লারকের কোন তথ্য,ছবি সিআইএ,আইএমএফ, এম আই সিক্স কারো কাছেই নেই। কে এই লারক? সিআইএ-এ মিশনের ব্যর্থতার জন্য আইএমএফকে দায়ী করে এবং এ বোমাগুলো উদ্ধারের মিশনে তথা আইএমএফ এর উপর নজরদারী করতে তাদের এক এজেন্ট অগাস্ট ওয়াকারকে (কাভিল) নিযুক্ত করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব কয়েকগুণ জটিল হয়ে যায় যখন জানা যায় এ সবের পিছনে সন্ত্রাসী দল সিন্ডিকেট-এর নেতা সাবেক এজেন্ট সলোমান লেনের (হ্যারিস) হাত রয়েছে।কিন্তু সে কিভাবে এগুলো করবে কেননা সে তো এখন বন্দী। আর এসবের মাঝে এম আই সিক্স এজেন্ট এলসা ফস্ট (ফারগুসন) কি করছে? সে কার হয়ে কাজ করছে? ইথান কাকে বিশ্বাস করবে?

সবকিছুতেই ব্যপকতা ছিল এ মুভিতে। আগের পর্ব গূলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা বা জেদ কাজ করেছে এর নির্মাতা গোষ্ঠীর।তা এর প্রতিটা ফ্রেমেই বুঝা যায়। কি ক্যামেরার কাজ, সেট, সেট-পিছ, কি এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইন, ব্যাকগ্রাঊণ্ড স্কোর, কি স্টান্ট, কি অভিনয়, কি পরিচালনা সব কিছুই আপ্ট। এ সিনেমা শুধূ দেখার জন্য না উপভোগেরও আর সিনেমা মেকার বা ভবিষ্যৎ মেকার যারা মূলত একশন সিনেমা বানাবেন তাদের জন্য এটা দেখা একেবারেই মাস্ট।একের পর এক টুইস্ট আর রোমহর্ষক সব সেট-পিছের সমাহার বলা যায় এ সিনেমাকে। পরিচালনায় ম্যাকুয়ারি অনবদ্য, তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। অভিনয়ে সবাই ভাল করেছেন, বিশেষ করে ৫৬ বছরের তরুণ টম ক্রুজ। তিনি সত্যিই মানুষ না অন্য কিছু। এ সিনেমার জন্য তিনি যা করেছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়-প্যারিসের ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরবাইক চালনা, এক ভবন থেকে আরেক ভবনে লাফিয়ে চলা আর সেটা করতে গিয়ে পা ভাঙ্গা, হেলিকপ্টার চালনা শিখা আর সেটা সিনেমায় ব্যবহার, হেলো জাম্প...টম ক্রুজ আসলে মানুষ না এলিয়েন...

কাভিল এ সিনেমার বড় সারপ্রাইজ...এ সিনেমার হাইলাইট অনেক কিছুই তবে আমার কাছে যদি কিছু থাকে তবে তা হচ্ছে এর বাথরুম ফাইট সিন। যেখানে ইনি অনবদ্য। অভিনয়ে অন্যরাও ভাল...

Darty Picture Movie Review || মুভি রিভিউ



দ্য ডার্টি পিকচার!
বায়োগ্রাফিকাল মিউজিকাল ড্রামা মুভি।
এক সময়কার দক্ষিণা নায়িকা সিল্ক স্মিথের জীবনে ঘটে যাওয়া উত্থান-পতন নিয়ে তৈরি, যে ছিল তার ইরোটিক রোলের জন্য বিখ্যাত, পরিচিত ও আলোচিত-সমালোচিত।

সেই ২০১১ সালে মুভিটি রিলিজের পর, দেখেছি বেশ ক'বার কিন্তু তখন তো আর এত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতাম না, বুঝতামনা, মন ছিল আবেগী!
বার্তা নিরিক্ষার ক্ষমতা ছিলনা!
এডাল্ট মুভি হলেই লুকোচুরি করে দেখাটাই ছিল একটা নেশার মতো, এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, বয়স ভেদে প্রায় সবারই এমন হয়।

যাকগে থাক সেসব, বিদ্যা বালানের একটু গুণগান না গাইলে কী হয়?

বিদ্যা বালান ন্যাশনাল এওয়ার্ড ও বেশকিছু এওয়ার্ড পেয়েছিল তখন এ ফিল্মের জন্যেই।
কারণ এরকম সাহসী অভিনয়, ও দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া আজকালকার অনেকেরই মধ্যেউ নেই এক্সেপ্ট কঙ্গনা।

সংক্ষেপ রিভিউঃ একদা বিয়ের রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রেশমা (বিদ্যা) চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ধারণ করে।
বহুদিন অপেক্ষা করেও অডিশনের লাইনে দাঁড়িয়েও হতাশ হয়ে ফেরে, শুধু হতাশাই না রীতিমতো অপমান করে পাঁচ রুপিয়া দেয়।


দোকানি কে খাবারের অর্ডার করে, সিনেমা হলে তার প্রিয় চরিত্র সুরিয়াকান্ত (নাসিরুদ্দিন শাহ) এর সিনেমার পোস্টার দেখতে পেয়ে না খেয়েই হলে চলে যায় সিনেমা হলে।

হঠাৎ এক লোক তার পা ধরে মালিশ করে প্রস্তাব দেয় দশ রুপিয়া দেওয়ার শর্ত তো থাকছেই.......
দৌড়ে বাহিরে গিয়ে ভাবে, আমার মাঝে এমন তো কিছু আছে যেজন্য লোক টাকা দিতে চায়!

উৎসাহ অনুপ্রেরণা পায় নিজের ভিতর, শ্যুটিং স্পটে যায়। গানের শ্যুটিং চলছে, কিন্তু মডেল নেই!
তখনি রেশমা বলে উঠে "কুচবি কারনে কে লিয়ে তৈয়ার সে"।
আবেদনময়ী হয়ে চাবুকের আঘাতে নিজেকে মেলে ধরে ক্যামেরায়!

শ্যুট হয়।
প্রিমিয়ারে যাওয়ার আগেই ডিরেক্টর আব্রাহাম (ইমরান হাশমি) তা কেটে দেয়, এবং বকাঝকা শুরু করে।

মা-মেয়ে (পালিত- মা) হলে যায় অনেক আশা নিয়ে, অপমানিত হয়ে ফিরে, আবারো হতাশা!
ছবিটিও ফ্লপ হয়, তখনি ক্যামেরাম্যান প্রডিউসার কে বলে স্যার একটা গানের দৃশ্য আব্রাহাম স্যার কেটে দিয়েছে, সায়েদ ঐ গান থাকলে ব্লকবাস্টার হতে পারত!

তখনি প্রডিউসার গানটি দেখে, পুনরায় গানটি সহ রিলিজ দেয় এবং ওকে খুঁজতে বলে এজন্য যে সে মিডিয়ায় আঁগ লাগাবে!

অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে পায়, নাম দেয় রেশমা হতে সিল্ক। এবং সরাসরি গানের শ্যুটিং এ সেই স্বপ্নের নায়ক সুরিয়াকান্তের সাথে।
কিন্তু সে পারছেনা, বারবার কাট হচ্ছে, মেজাজ বিগড়ে যায় তার, ফ্যাকাপ বলে রুমে যায়।
পেছনেই সিল্ক তাকে সিডিউস করে এবং লংটাইম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ রাখার শর্তে এগেইন শটে নিয়ে আসে।
শুরু হয় সেই উলা-লা, উলা-লা গানটি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না সিল্ক কে.......

আমি শুধু উত্থানের আলোচনা করলাম, পতন বাঁকি, ট্রাজেডি, হতাশা, বিমর্ষ রূপ সবকিছু ছবিতেই পাবেন।

রিলিজের সালে ছবিটি আঠারো প্লাস বলা যায়, কিন্তু আজকালকার মুভি অনুসারে কিছুই না।
তারপরও নিজ দায়িত্বে দেখাই শ্রেয়।

পরিচালনা মিলান লুথ্রিয়া।
উলা-লা, উলা-লা গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পি লাহিড়ী ও শ্রেয়া ঘোষাল।


আমার কাছে, ইশ্ক সুফিয়ানা গানটি খুব ভাল্লাগে, এখনো শুনি সবসময়।

ধন্যবাদ।

Sacred Games Season 01 Review || রিভিউ


Sacred অর্থ পবিত্র, পূন্য, পূত, ধার্মিক, ধর্ম সম্পর্কীয়।
তবে আমরা কী বলতে পারি 'পবিত্র গেমস'?
না আক্ষরিক অর্থে বলা যায়না, সম্ভবত ভাবানুবাদে বুঝিয়েছি 'ধর্ম নিয়ে খেলা' জাতিয় কিছু অথবা ধর্ম সম্বন্ধিত কিছু হবে।

কারণ পুরো সিরিজে গডফাদার গাইতোণ্ডে ওরফে গণেশ নিজেকে ভগবান বলেছিল বারবার এছাড়াও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার কীভাবে দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টি করে মানুষ নিজস্ব ফায়দা লুটে সেসবও দেখানো হয়েছে।

যদি আক্ষরিক অর্থে পবিত্র গেমস ভাবি তবে সবচে বড় ভুল হবে, এটিই আমার ধারণা!

দুনিয়ার ভয়ংকর গালাগালি, এবং ন্যুড দৃশ্যে ভরা পুরো পর্বগুলোতে।
সিরিজ দেখে যেকেউ অশ্লীলতায় আর গালিবাজে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী কে (গাইতোণ্ডে) নোবেল দিতে একপায়ে খাড়া হয়ে আবদার রাখবে যদিনা গালাগালির উপর কোনো পিএইচডি ডিগ্রি পায় তবে সত্যিই সে দাবিদার।

সাইফ আলি খান এত ভালো অভিনেতা, নবাব পৌতদির খান বংশের পোলা, অথচ তার মুখেও বেশ কবার আনসেন্সরড গালি শুনেছি।
রাধিকা অপ্তে তো এমনিতেই নারীবাদী টাইপের তার মুখে আগেও শুনেছি, সে সাহসী দৃশ্যে এক্সপার্ট তাই সেসব বড় করে দেখছিনা। যদিও এ সিরিজে রয় এজেন্টের সিনিয়র অফিসার তিনি তাই ভালোই অভিনয় করেছে।

সিজন একের সবগুলো পর্ব মিলে ৬ ঘন্টা ৩১ মি. ইনক্লুডিং এড। আমার একদিন ডিউটি এবসেন্ট দিতে হয়েছিল দেখতে দেখতে, আমি পুরাই আশ্চর্য হয়েছি প্রথমবার দেখতে বসে কারণ ভারতীয় প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি, এবং এর আগে কোনো ছবিতেও এত গালাগালি আর এরকম ন্যুড দৃশ্য খুব কমই দেখেছি অন্তত, বলিউডের।
যদিও চরিত্র মেলাতে অথবা নেটফ্লিক্সের (গ্লোবাল ফ্লার্টফরম)সিরিজ হওয়ায় সেন্সর ছাড়পত্র সহজেই পেয়েছে।


মদ্যপান, ধূমপান করার সময় কোনোপ্রকার এওয়ারনেস সাইন দেয়নি, শুনেছি এজন্য নাকি মামলা খেয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ও রাজীব গান্ধী কে (২ বার) কটাক্ষপাত করা হয়েছে এ নিয়েও বেশ সমালচোনায় পড়েছে সিরিজটা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ সাইফ আলি খান (সারতাজ সিং) একজন সৎ ও আদর্শ পুলিশ অফিসার, যে তার সিনিয়র অফিসারদের উপর নারাজ, আবার করারও কিছু নেই সাধারণ পোস্টে থাকার জন্যে।

একদিন মিশনে তার বস ইনকাউন্টার করে এক নিষ্পাপ মুসলিম ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে।
এতে সে হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ তাকে বলতে বলা হয় সেলফ ডিপেন্ড করতে গিয়ে গুলি করেছে!
সে ভাবে সত্য ঘটনা বলে দিবে কিন্তু বসের উপর তো আর পারা যায়না, এজন্য দুর্দশাগ্রস্ত হয়।

হঠাৎ তার কাছে ফোন আসে গণেশ গাইতোণ্ডের (মুম্বাইয়ের ১৫ বছরের পলাতক ডন) এবং সে তাকে আল্টিমেটাম দেয় ২৫ দিনের মাঝে এ শহর শেষ করে দিবে। যেহেতু সে সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ তাই শহরকে বাঁচাতে বলে তাকে, যদি সে পারে! (ক্ষমতা থাকলে রুখতে)

দুজনের কল ট্র‍্যাপ করে শুনে ফেলে রয় এজেন্ট এ কর্মরত অফিসার অঞ্জলি মাথুর (রাধিকা অপ্তে)

প্রথম দিকে সারতাজ সিং গাইতোণ্ডে কে অবিশ্বাস করলেও তারপর যখন পুরনো ফাইল ঘেটে দেখতে পায় তার নামের 'মামলা' তখনি বিশ্বাস করে তার কথা, এবং চিন্তিত হয়ে সিনসিয়ার হয়ে উঠে।

এবং পঁচিশ দিনে কী হবে, কীভাবে কি হয়েছে পুরো সিরিজ সে কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায়।

কীভাবে একজন সাধারণ ব্রাহ্মনের ছেলে হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের শীর্ষ  সন্ত্রাসীদের ডন (গাইতোণ্ডে) পরিণত হয়েছে সে চিত্রায়ন দেখাতে থাকে, পঁচিশ দিনে ঘটা সম্পূর্ণ কাহিনীতে।

যদিও এ সিজনে ৮ পর্বে এমন ভাবে দ্য এন্ড টেনেছে যা দর্শক কে অতৃপ্ত রেখেছে অনুরাগ ক্যাশপ (পরিচালক) দ্বিতীয় সিরিজ দেখা ছাড়া কিছুই বুঝা যাবেনা, আত্মতৃপ্তিও পাওয়া যাবেনা!

পুরো সিরিজ বিক্রম চন্দ্র নামের একজন লেখকের  "sacred games" উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

মূলত ধর্ম নিয়ে খেলা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মকে প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক দিয়ে কীভাবে মানুষ নিজস্ব সর্বার্থসিদ্ধি উদ্ধার করছে পৃথিবীজুড়ে সেসবের আলোচনায় বেশি, বাস্তবতার মিশেল।

নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী একমাত্র অভিনেতা যার মুখেই গালিগুলোও হাস্যরসাত্মক মনে হয়েছে এবং চিত্রনাট্য ও তার চরিত্র পারফেক্ট কম্বিনেশন আমার ধারণা অন্যকোন নায়কের আদৌ সম্ভবপর হত না এ চরিত্র।

Hereditary (2018) মুভি রিভিউ।। Movie Review


সতর্কীকরন: দূর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়!
.
অনেকের মতে Hereditary এই বছরের অন্যতম scariest মুভি! প্রমিনেন্ট রিভিউয়ার ও হরর মুভি লাভারদের মাঝে তাই অন্যরকম একটা অপেক্ষা কাজ করছিল। অপেক্ষায় ছিলাম আমিও। প্রথম সুযোগ পাওয়ামাত্রই তাই দেখে এলাম। রাত দেড়টার দিকে মিডনাইট শো  দেখে যখন মুভি থিয়েটার থেকে বেরোলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফাঁকা শপিং মলের ভেতরটা হঠাতই অনেক বেশী ভূতুরে মনে হতে লাগলো। একের পর এক সাজিয়ে রাখা ম্যানিকুইনগুলো জীবন্ত মনে হচ্ছিল! ফাঁকা রাস্তা ধরে একা হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম, সত্যি বলতে বারবার শরীরে কাঁটা দিচ্ছিলো! পায়ের নীচে শুকনো পাতার শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল কেউ অনুসরন করছে, পেছনে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হচ্ছিল বারবার! প্রচন্ড ডিস্টার্বিং মুহূর্তগুলো বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল।
.
শেষ কবে কোন হরর মুভি দেখে এরকম অনুভব করেছি, আমার মনে পড়েনা! হরর জনরার পাঁড় ভক্ত আমি! তবে এই ক্ষেত্রে বাছবিচারের স্বভাবটাও খুব প্রকট। থ্রিলার বা সাইফাই যেমন তেমন হলেও গিলতে পারি কিন্তু লেইম হরর মুভি ঠিক সহ্য করতে পারিনা। কারণটা খুব সোজাসাপটা, হরর মুভি দেখে আমি সাধারণত এফেক্টেড হইনা। জাম্প স্কেয়ার, পরিচিত গল্প আর পুওর মেকিং আমাকে খুব বেশীই বিরক্ত করে। মিস্ট্রি বেজড, স্ট্রং স্টোরিলাইন না হলে আমার মতে হরর মুভি জমেনা।
.
এই সব ক্যাটেগরিতেই খুব ভালোভাবে উৎরে গেছে Hereditary! ইন্টারেস্টিং একটা স্টোরির পাশাপাশি প্রতিটি ক্যারেক্টার বিল্ড আপ এবং  এক্সিকিউশন মুগ্ধ করেছে। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের পাশাপাশি মিউজিকের ব্যবহার ছিল লক্ষ্য করার মতো! সেই সাথে ডিরেক্টর কৃতিত্বের সাথে ব্যবহার করেছেন সাইলেন্সকে যা একটা হরর মুভির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা এলিমেন্ট! স্টোরিলাইন পুরোপুরি আনফিমিলিয়ার বা ইউনিক দাবী করবোনা, বরং Ouija টাইপ মুভিতে এই ধরণের স্টোরির কিছু ছোঁয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু Hereditary এর মাঝে কিছু ইউনিক টুইস্ট আছে, মুভির পেসিং, ক্যারেক্টারাইজেশন এবং দুর্দান্ত এক্সিকিউশনের মাধ্যমে ডিরেক্টর একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
.
গল্পটার শুরুটা বেশ টিপিক্যাল, একটা ফ্যামিলিকে নিয়ে।  এটা প্রথম দেখায় শুধু প্লেইন এন্ড সিম্পল অ্যামটিভিল হরর ক্যাটাগরির মুভি মনে হতে পারে। কিন্তু ঘটনার বিল্ড আপ এতো সারপ্রাইজিংলি টার্ন নেয় যে শেষদিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, অনুভব করতে পারছিলাম নিজের হৃদস্পন্দন! একজন গ্রিভিং মাদার, তার মৃত অদ্ভুত রহস্যময়ী মা, অদ্ভুতুড়ে কন্যা, পুত্রের সাথে কমপ্লিকীড সম্পর্ক, ভুডু/ব্ল্যাক ম্যাজিক সব কিছুই আছে এই মুভিতে। বাচ্চা মেয়েটার কথা কি বলবো, এতো সাটল কোন ক্যারেক্টার যে এতো ভয়াবহ আর পাওয়ারফুল হয়ে উঠতে পারে তা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! Charlie আমার দেখা অন্যতম ক্রিপিয়েস্ট হরর মুভি ক্যারেক্টার। আমি কোন কিছু স্পয়েল করতে চাইনা, যারাই দেখতে আগ্রহী কাইন্ডলি স্পয়লার থেকে দূরে থাকবেন, ভালো হয় ট্রেলারও না দেখলে। 
.
সব মিলিয়ে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই, Hereditary এই সময়ের অন্যতম সেরা হরর মুভি। তবে এন্ডিংটা আমার কাছে একটু underwelming লেগেছে টু বি অনেস্ট। এর কারণ হয়ত মুভিটার লং বিল্ড আপ, এজ এ ভিউয়ার আমি হয়ত খুব বেশী প্যে অফ আশা করছিলাম। একদিক দিয়ে এটাও ক্রেডিটের দাবীদার কারণ টিপিক্যাল হরর ক্লিশে থেকে বেরিয়ে আসাটা ফ্রেশ একটা এক্সপ্রিয়েন্স আর টেস্ট রেখে গেছে ভিউয়ারদের মনে! দাগ কেটেছে এর সাইকটিক অ্যাসপেক্ট, ক্যারেক্টারের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেক দিন মনে থাকবে মুভিটা!
.
বিঃদ্রঃ ওয়াইড শটগুলোর পাশাপাশি ক্লোজআপগুলোতেও শুধু সাবজেক্টের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। ফোকাসড এন্ড আউট অফ ফোকাসড ব্যাকগ্রাউণ্ড ব্যাবহার করে বেশ ভালো কিছু শক দিয়েছে ডিরেক্টর। আর ভালো সাউন্ড-সিস্টেম এই মুভি থেকে বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স পাওয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Rampage (2018) Movie Review



শুধুমাত্র বিনোদন উপভোগ করাটাই যদি মুখ্য হয় , তাহলে বিশ্বখ্যাত অভিনেতা রকের "র‍্যাম্পেজ" সিনেমা দেখে সময় টা বেশ ভালো ভাবেই যাবে !

আগেই বলা রাখি , এই সিনেমাকে "ব্রেইনলেস ব্লকবাস্টার" উপাধি দেওয়াটাই শ্রেয় ! সিনেমার গল্প যেমন বিশ্বাস্যযোগ্য নাহ, আরো বেশ কিছু দিক অতিরঞ্জিত লেগেছে ! তবে, সিনেমার মূল জনরা এডভেঞ্চার হওয়ায় অনেকের কাছে লজিক্যাল গল্পের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়টি মাথায় আসবে নাহ ! সিনেমার ভিজুয়ালাইজেশন দারুণ হওয়াটাই হয়তো এক্ষেত্রে মূল ব্যাপার !

প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ ডেভিস ওকোয়া জর্জ নামক এক গরিলাকে লালন পালন করে । গভীর বন্ধুত্ব তাদের মাঝে । সাংকেতিক ভাষায় তাদের ভাবের আদান প্রদান ও হয়ে থাকে । ঘটনাক্রমে এক বিশেষ সিরামের প্রভাবে গরিলার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয় । খুব দ্রত তার আকার বড় হতে থাকে ! হিংস্রতা চলে আসে !

পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় যখন জানা যায় একটি নেকড়ে এবং কুমীরের মধ্যেও একই রকম পরিবর্তন হচ্ছে ! একসময় জানা যায়, একদল বিজ্ঞানী প্রজেক্ট র‍্যাম্পেজ নামে একটি গবেষণা চালায় মহাকাশে ! তারই ফল এই রকম অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলো !
একের পর এক শহর, স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকা সেই তিন প্রাণী ! কিন্তু কোনো কিছুতেই আটকানো যায়না তাদেরকে । শুরু হয় তাদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার লড়াই !
ডেভিস এবং তার দল কি পারবে এই প্রাণীগুলোকে দমাতে?!

Imdb : 6.4/10
ডাউনলোড লিংকঃ                                   DOWNLOAD HARE

Ready Player One Movie (2018) Movie Review



সাল ২০৪৫ । নিঃসঙ্গ কিশোর ওয়েড জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত এক শহরে বসবাস করে । তার বাবা মা দুজনই মারা গেছে । সেই শহরের সকল লোকদের বিনোদন এবং সময় কাটানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ওয়েসিস নামের এক ভার্চুয়াল জগত ! এই জগতে মানুষ আসে কিছু করতে, কিন্তু তারা রয়ে যায় এখানে ; কারণ তারা এখানে পারে যেকোনো কিছু হতে !

এটি এমন এক পৃথিবী যেখানে নিজের ইচ্ছেমতো সকল কিছুই করা যায় ! কল্পনার কোনো সীমা নেই এখানে ! ওয়েসিসের স্থপতি জেমস হ্যালিডে এক প্রতিযোগিতার ঘোষনা দিয়ে যান মারা যাবার আগে । তিনি ওয়েসিসে লুকিয়ে রেখেছেন তিনটি চাবি ! যে ব্যক্তি চাবি তিনটি খুঁজে বের করতে পারবে সে পুরো ওয়েসিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ! আরো পাবে বিশাল অংকের পুরস্কার !

ওয়েড প্রতিযোগিতা জয় লাভ করার জন্য মরিয়া ! তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সাথে যুক্ত হয় সামান্থা নামের এক কিশোরী এবং আরো কিছু গেইমার !

একই নামের উপন্যাস থেকে সিনেমার গল্প লেখা হয়েছে । সিনেমায় ক্যামেরার পিছনে ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ । তাকে নিয়ে নতুন করে বলার দরকার নেই, আশা করি । অভিনয়ে ছিলেন টাই শেরিডান, ওলিভিয়া কোকে, সিমন পেগ এবং আরো কিছু তারকা । সকলের অভিনয় ভালো লাগলেও মূল চরিত্রে অভিনয়কারী শেরিডান থেকে শক্তিশালী অভিনয় প্রত্যাশা করছিলাম !

সব মিলিয়ে, বিনোদনের এক ফুল প্যাকেজ এটি । মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম !

ফিল্ম : Ready Player One Movie (2018)
IMDb : 7.7/10
ডাউনলোড লিংক............           DOWNLOAD