Know info before watch, but no Spoiler

Mission Impossible : Fallout Movie Review


স্পাই-একশন জনরার সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশন ইম্পসিবল।এ জনরার অন্যান্য সিরিজ থেকে এ সিরিজ অনেকাংশেই ভিন্ন-তা সেটা এর সেট আপ,গিমিক,চরিত্র,একশন দেখলেই বুঝা যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এর প্রধান চরিত্রে একই অভিনেতা কাজ করে চলেছেন এর জন্মলগ্ন থেকেই আর আমরাও (দর্শক) তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি সাদরে, পরিচালনায়ও ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কাজ করেছেন এ সিরিজের ৫ নম্বর সিনেমা পর্যন্ত, কোন পর্বের কাহিনীর সাথে অন্য পর্বের তেমন কোন কানেকশন নেই। ১৯৯৬ এ শুরু হওয়া এ মুভি সিরিজের ৬ নম্বর পর্ব ফলআউট মুক্তি পায় এ বছর। অনেকগুলো ব্যতিক্রমের জন্ম দেয়া এ মুভিতে অভিনয়ে ছিলেন টম ক্রুজ, অ্যালেক বোল্ডউইন, ভিং রাইমস, রেবেকা ফারগুসন, সাইমন পেগ, মিশেল মনাহান, শন হ্যারিসের সাথে সিরিজের এ পর্বে যুক্ত হয়েছেন ভ্যানেসা কারবি, এঞ্জেলা বেসেট আর হ্যানরি কাভিল।

ব্যতিক্রমের কথার বিষয়ে বলছিলাম, এটি এ ফ্রাঞ্চাইজির একমাত্র মুভি যার পরিচালক এর আগের পর্ব-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন,স্টিভেন ম্যাকুয়ারি রোগ নেশনের পর আবার ফিরেছেন ফলআউট এর জাহাজ সামলাতে,আরো কিছু ব্যতিক্রমের ভিতর আছে-এটার সাথে সিরিজের অন্যান্য পর্বের  যোগাযোগ আছে আর তা ভালমতোই,সবচেয়ে সরাসরি যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায়,৫ নম্বর সিনেমার সিকুইয়েল হচ্ছে এ সিনেমা। এ বছরের অন্যতম সেরা’র তকমা পাওয়া ১৭৮ মিলিয়নে বানানো এ মুভি দেখেছিলাম বেশকিছুদিন আগে সিনেপ্লেক্স-এ, কেমন লাগল আমার আসেন দেখি...

এবারের মিশনে দেখা যায় প্লুটোনিয়াম বাহী তিনটি বোমা উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ে ইথানের (ক্রুজ) দলের উপর কিন্তু বার্লিনের সেই মিশনে ব্যর্থ হয় তার দল আর সেই বোমাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে ঊঠে পড়ে লাগে এপোস্টল নামের এক সংগঠন যারা মূলত বিগড়ে যাওয়া আর বিপথে পরিচালিত সাবেক আইএমএফ এজেন্টদের নিয়ে গঠিত। এ দলের অন্যতম সদস্য হচ্ছে জন লারক আর মূলত সেই এ বোমাগুলো এপোস্টোলের কব্জায় নেয়ার জন্য কাজ করছে, কিন্তু লারকের কোন তথ্য,ছবি সিআইএ,আইএমএফ, এম আই সিক্স কারো কাছেই নেই। কে এই লারক? সিআইএ-এ মিশনের ব্যর্থতার জন্য আইএমএফকে দায়ী করে এবং এ বোমাগুলো উদ্ধারের মিশনে তথা আইএমএফ এর উপর নজরদারী করতে তাদের এক এজেন্ট অগাস্ট ওয়াকারকে (কাভিল) নিযুক্ত করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব কয়েকগুণ জটিল হয়ে যায় যখন জানা যায় এ সবের পিছনে সন্ত্রাসী দল সিন্ডিকেট-এর নেতা সাবেক এজেন্ট সলোমান লেনের (হ্যারিস) হাত রয়েছে।কিন্তু সে কিভাবে এগুলো করবে কেননা সে তো এখন বন্দী। আর এসবের মাঝে এম আই সিক্স এজেন্ট এলসা ফস্ট (ফারগুসন) কি করছে? সে কার হয়ে কাজ করছে? ইথান কাকে বিশ্বাস করবে?

সবকিছুতেই ব্যপকতা ছিল এ মুভিতে। আগের পর্ব গূলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা বা জেদ কাজ করেছে এর নির্মাতা গোষ্ঠীর।তা এর প্রতিটা ফ্রেমেই বুঝা যায়। কি ক্যামেরার কাজ, সেট, সেট-পিছ, কি এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইন, ব্যাকগ্রাঊণ্ড স্কোর, কি স্টান্ট, কি অভিনয়, কি পরিচালনা সব কিছুই আপ্ট। এ সিনেমা শুধূ দেখার জন্য না উপভোগেরও আর সিনেমা মেকার বা ভবিষ্যৎ মেকার যারা মূলত একশন সিনেমা বানাবেন তাদের জন্য এটা দেখা একেবারেই মাস্ট।একের পর এক টুইস্ট আর রোমহর্ষক সব সেট-পিছের সমাহার বলা যায় এ সিনেমাকে। পরিচালনায় ম্যাকুয়ারি অনবদ্য, তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। অভিনয়ে সবাই ভাল করেছেন, বিশেষ করে ৫৬ বছরের তরুণ টম ক্রুজ। তিনি সত্যিই মানুষ না অন্য কিছু। এ সিনেমার জন্য তিনি যা করেছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়-প্যারিসের ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরবাইক চালনা, এক ভবন থেকে আরেক ভবনে লাফিয়ে চলা আর সেটা করতে গিয়ে পা ভাঙ্গা, হেলিকপ্টার চালনা শিখা আর সেটা সিনেমায় ব্যবহার, হেলো জাম্প...টম ক্রুজ আসলে মানুষ না এলিয়েন...

কাভিল এ সিনেমার বড় সারপ্রাইজ...এ সিনেমার হাইলাইট অনেক কিছুই তবে আমার কাছে যদি কিছু থাকে তবে তা হচ্ছে এর বাথরুম ফাইট সিন। যেখানে ইনি অনবদ্য। অভিনয়ে অন্যরাও ভাল...

Darty Picture Movie Review || মুভি রিভিউ



দ্য ডার্টি পিকচার!
বায়োগ্রাফিকাল মিউজিকাল ড্রামা মুভি।
এক সময়কার দক্ষিণা নায়িকা সিল্ক স্মিথের জীবনে ঘটে যাওয়া উত্থান-পতন নিয়ে তৈরি, যে ছিল তার ইরোটিক রোলের জন্য বিখ্যাত, পরিচিত ও আলোচিত-সমালোচিত।

সেই ২০১১ সালে মুভিটি রিলিজের পর, দেখেছি বেশ ক'বার কিন্তু তখন তো আর এত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতাম না, বুঝতামনা, মন ছিল আবেগী!
বার্তা নিরিক্ষার ক্ষমতা ছিলনা!
এডাল্ট মুভি হলেই লুকোচুরি করে দেখাটাই ছিল একটা নেশার মতো, এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, বয়স ভেদে প্রায় সবারই এমন হয়।

যাকগে থাক সেসব, বিদ্যা বালানের একটু গুণগান না গাইলে কী হয়?

বিদ্যা বালান ন্যাশনাল এওয়ার্ড ও বেশকিছু এওয়ার্ড পেয়েছিল তখন এ ফিল্মের জন্যেই।
কারণ এরকম সাহসী অভিনয়, ও দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া আজকালকার অনেকেরই মধ্যেউ নেই এক্সেপ্ট কঙ্গনা।

সংক্ষেপ রিভিউঃ একদা বিয়ের রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রেশমা (বিদ্যা) চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ধারণ করে।
বহুদিন অপেক্ষা করেও অডিশনের লাইনে দাঁড়িয়েও হতাশ হয়ে ফেরে, শুধু হতাশাই না রীতিমতো অপমান করে পাঁচ রুপিয়া দেয়।


দোকানি কে খাবারের অর্ডার করে, সিনেমা হলে তার প্রিয় চরিত্র সুরিয়াকান্ত (নাসিরুদ্দিন শাহ) এর সিনেমার পোস্টার দেখতে পেয়ে না খেয়েই হলে চলে যায় সিনেমা হলে।

হঠাৎ এক লোক তার পা ধরে মালিশ করে প্রস্তাব দেয় দশ রুপিয়া দেওয়ার শর্ত তো থাকছেই.......
দৌড়ে বাহিরে গিয়ে ভাবে, আমার মাঝে এমন তো কিছু আছে যেজন্য লোক টাকা দিতে চায়!

উৎসাহ অনুপ্রেরণা পায় নিজের ভিতর, শ্যুটিং স্পটে যায়। গানের শ্যুটিং চলছে, কিন্তু মডেল নেই!
তখনি রেশমা বলে উঠে "কুচবি কারনে কে লিয়ে তৈয়ার সে"।
আবেদনময়ী হয়ে চাবুকের আঘাতে নিজেকে মেলে ধরে ক্যামেরায়!

শ্যুট হয়।
প্রিমিয়ারে যাওয়ার আগেই ডিরেক্টর আব্রাহাম (ইমরান হাশমি) তা কেটে দেয়, এবং বকাঝকা শুরু করে।

মা-মেয়ে (পালিত- মা) হলে যায় অনেক আশা নিয়ে, অপমানিত হয়ে ফিরে, আবারো হতাশা!
ছবিটিও ফ্লপ হয়, তখনি ক্যামেরাম্যান প্রডিউসার কে বলে স্যার একটা গানের দৃশ্য আব্রাহাম স্যার কেটে দিয়েছে, সায়েদ ঐ গান থাকলে ব্লকবাস্টার হতে পারত!

তখনি প্রডিউসার গানটি দেখে, পুনরায় গানটি সহ রিলিজ দেয় এবং ওকে খুঁজতে বলে এজন্য যে সে মিডিয়ায় আঁগ লাগাবে!

অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে পায়, নাম দেয় রেশমা হতে সিল্ক। এবং সরাসরি গানের শ্যুটিং এ সেই স্বপ্নের নায়ক সুরিয়াকান্তের সাথে।
কিন্তু সে পারছেনা, বারবার কাট হচ্ছে, মেজাজ বিগড়ে যায় তার, ফ্যাকাপ বলে রুমে যায়।
পেছনেই সিল্ক তাকে সিডিউস করে এবং লংটাইম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ রাখার শর্তে এগেইন শটে নিয়ে আসে।
শুরু হয় সেই উলা-লা, উলা-লা গানটি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না সিল্ক কে.......

আমি শুধু উত্থানের আলোচনা করলাম, পতন বাঁকি, ট্রাজেডি, হতাশা, বিমর্ষ রূপ সবকিছু ছবিতেই পাবেন।

রিলিজের সালে ছবিটি আঠারো প্লাস বলা যায়, কিন্তু আজকালকার মুভি অনুসারে কিছুই না।
তারপরও নিজ দায়িত্বে দেখাই শ্রেয়।

পরিচালনা মিলান লুথ্রিয়া।
উলা-লা, উলা-লা গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পি লাহিড়ী ও শ্রেয়া ঘোষাল।


আমার কাছে, ইশ্ক সুফিয়ানা গানটি খুব ভাল্লাগে, এখনো শুনি সবসময়।

ধন্যবাদ।

Sacred Games Season 01 Review || রিভিউ


Sacred অর্থ পবিত্র, পূন্য, পূত, ধার্মিক, ধর্ম সম্পর্কীয়।
তবে আমরা কী বলতে পারি 'পবিত্র গেমস'?
না আক্ষরিক অর্থে বলা যায়না, সম্ভবত ভাবানুবাদে বুঝিয়েছি 'ধর্ম নিয়ে খেলা' জাতিয় কিছু অথবা ধর্ম সম্বন্ধিত কিছু হবে।

কারণ পুরো সিরিজে গডফাদার গাইতোণ্ডে ওরফে গণেশ নিজেকে ভগবান বলেছিল বারবার এছাড়াও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার কীভাবে দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টি করে মানুষ নিজস্ব ফায়দা লুটে সেসবও দেখানো হয়েছে।

যদি আক্ষরিক অর্থে পবিত্র গেমস ভাবি তবে সবচে বড় ভুল হবে, এটিই আমার ধারণা!

দুনিয়ার ভয়ংকর গালাগালি, এবং ন্যুড দৃশ্যে ভরা পুরো পর্বগুলোতে।
সিরিজ দেখে যেকেউ অশ্লীলতায় আর গালিবাজে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী কে (গাইতোণ্ডে) নোবেল দিতে একপায়ে খাড়া হয়ে আবদার রাখবে যদিনা গালাগালির উপর কোনো পিএইচডি ডিগ্রি পায় তবে সত্যিই সে দাবিদার।

সাইফ আলি খান এত ভালো অভিনেতা, নবাব পৌতদির খান বংশের পোলা, অথচ তার মুখেও বেশ কবার আনসেন্সরড গালি শুনেছি।
রাধিকা অপ্তে তো এমনিতেই নারীবাদী টাইপের তার মুখে আগেও শুনেছি, সে সাহসী দৃশ্যে এক্সপার্ট তাই সেসব বড় করে দেখছিনা। যদিও এ সিরিজে রয় এজেন্টের সিনিয়র অফিসার তিনি তাই ভালোই অভিনয় করেছে।

সিজন একের সবগুলো পর্ব মিলে ৬ ঘন্টা ৩১ মি. ইনক্লুডিং এড। আমার একদিন ডিউটি এবসেন্ট দিতে হয়েছিল দেখতে দেখতে, আমি পুরাই আশ্চর্য হয়েছি প্রথমবার দেখতে বসে কারণ ভারতীয় প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি, এবং এর আগে কোনো ছবিতেও এত গালাগালি আর এরকম ন্যুড দৃশ্য খুব কমই দেখেছি অন্তত, বলিউডের।
যদিও চরিত্র মেলাতে অথবা নেটফ্লিক্সের (গ্লোবাল ফ্লার্টফরম)সিরিজ হওয়ায় সেন্সর ছাড়পত্র সহজেই পেয়েছে।


মদ্যপান, ধূমপান করার সময় কোনোপ্রকার এওয়ারনেস সাইন দেয়নি, শুনেছি এজন্য নাকি মামলা খেয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ও রাজীব গান্ধী কে (২ বার) কটাক্ষপাত করা হয়েছে এ নিয়েও বেশ সমালচোনায় পড়েছে সিরিজটা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ সাইফ আলি খান (সারতাজ সিং) একজন সৎ ও আদর্শ পুলিশ অফিসার, যে তার সিনিয়র অফিসারদের উপর নারাজ, আবার করারও কিছু নেই সাধারণ পোস্টে থাকার জন্যে।

একদিন মিশনে তার বস ইনকাউন্টার করে এক নিষ্পাপ মুসলিম ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে।
এতে সে হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ তাকে বলতে বলা হয় সেলফ ডিপেন্ড করতে গিয়ে গুলি করেছে!
সে ভাবে সত্য ঘটনা বলে দিবে কিন্তু বসের উপর তো আর পারা যায়না, এজন্য দুর্দশাগ্রস্ত হয়।

হঠাৎ তার কাছে ফোন আসে গণেশ গাইতোণ্ডের (মুম্বাইয়ের ১৫ বছরের পলাতক ডন) এবং সে তাকে আল্টিমেটাম দেয় ২৫ দিনের মাঝে এ শহর শেষ করে দিবে। যেহেতু সে সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ তাই শহরকে বাঁচাতে বলে তাকে, যদি সে পারে! (ক্ষমতা থাকলে রুখতে)

দুজনের কল ট্র‍্যাপ করে শুনে ফেলে রয় এজেন্ট এ কর্মরত অফিসার অঞ্জলি মাথুর (রাধিকা অপ্তে)

প্রথম দিকে সারতাজ সিং গাইতোণ্ডে কে অবিশ্বাস করলেও তারপর যখন পুরনো ফাইল ঘেটে দেখতে পায় তার নামের 'মামলা' তখনি বিশ্বাস করে তার কথা, এবং চিন্তিত হয়ে সিনসিয়ার হয়ে উঠে।

এবং পঁচিশ দিনে কী হবে, কীভাবে কি হয়েছে পুরো সিরিজ সে কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায়।

কীভাবে একজন সাধারণ ব্রাহ্মনের ছেলে হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের শীর্ষ  সন্ত্রাসীদের ডন (গাইতোণ্ডে) পরিণত হয়েছে সে চিত্রায়ন দেখাতে থাকে, পঁচিশ দিনে ঘটা সম্পূর্ণ কাহিনীতে।

যদিও এ সিজনে ৮ পর্বে এমন ভাবে দ্য এন্ড টেনেছে যা দর্শক কে অতৃপ্ত রেখেছে অনুরাগ ক্যাশপ (পরিচালক) দ্বিতীয় সিরিজ দেখা ছাড়া কিছুই বুঝা যাবেনা, আত্মতৃপ্তিও পাওয়া যাবেনা!

পুরো সিরিজ বিক্রম চন্দ্র নামের একজন লেখকের  "sacred games" উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

মূলত ধর্ম নিয়ে খেলা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মকে প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক দিয়ে কীভাবে মানুষ নিজস্ব সর্বার্থসিদ্ধি উদ্ধার করছে পৃথিবীজুড়ে সেসবের আলোচনায় বেশি, বাস্তবতার মিশেল।

নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী একমাত্র অভিনেতা যার মুখেই গালিগুলোও হাস্যরসাত্মক মনে হয়েছে এবং চিত্রনাট্য ও তার চরিত্র পারফেক্ট কম্বিনেশন আমার ধারণা অন্যকোন নায়কের আদৌ সম্ভবপর হত না এ চরিত্র।

Hereditary (2018) মুভি রিভিউ।। Movie Review


সতর্কীকরন: দূর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়!
.
অনেকের মতে Hereditary এই বছরের অন্যতম scariest মুভি! প্রমিনেন্ট রিভিউয়ার ও হরর মুভি লাভারদের মাঝে তাই অন্যরকম একটা অপেক্ষা কাজ করছিল। অপেক্ষায় ছিলাম আমিও। প্রথম সুযোগ পাওয়ামাত্রই তাই দেখে এলাম। রাত দেড়টার দিকে মিডনাইট শো  দেখে যখন মুভি থিয়েটার থেকে বেরোলাম, বন্ধ হয়ে যাওয়া ফাঁকা শপিং মলের ভেতরটা হঠাতই অনেক বেশী ভূতুরে মনে হতে লাগলো। একের পর এক সাজিয়ে রাখা ম্যানিকুইনগুলো জীবন্ত মনে হচ্ছিল! ফাঁকা রাস্তা ধরে একা হেঁটে বাসায় ফিরছিলাম, সত্যি বলতে বারবার শরীরে কাঁটা দিচ্ছিলো! পায়ের নীচে শুকনো পাতার শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল কেউ অনুসরন করছে, পেছনে ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হচ্ছিল বারবার! প্রচন্ড ডিস্টার্বিং মুহূর্তগুলো বারবার মনের পর্দায় ভেসে উঠছিল।
.
শেষ কবে কোন হরর মুভি দেখে এরকম অনুভব করেছি, আমার মনে পড়েনা! হরর জনরার পাঁড় ভক্ত আমি! তবে এই ক্ষেত্রে বাছবিচারের স্বভাবটাও খুব প্রকট। থ্রিলার বা সাইফাই যেমন তেমন হলেও গিলতে পারি কিন্তু লেইম হরর মুভি ঠিক সহ্য করতে পারিনা। কারণটা খুব সোজাসাপটা, হরর মুভি দেখে আমি সাধারণত এফেক্টেড হইনা। জাম্প স্কেয়ার, পরিচিত গল্প আর পুওর মেকিং আমাকে খুব বেশীই বিরক্ত করে। মিস্ট্রি বেজড, স্ট্রং স্টোরিলাইন না হলে আমার মতে হরর মুভি জমেনা।
.
এই সব ক্যাটেগরিতেই খুব ভালোভাবে উৎরে গেছে Hereditary! ইন্টারেস্টিং একটা স্টোরির পাশাপাশি প্রতিটি ক্যারেক্টার বিল্ড আপ এবং  এক্সিকিউশন মুগ্ধ করেছে। ক্যামেরা অ্যাঙ্গেলের পাশাপাশি মিউজিকের ব্যবহার ছিল লক্ষ্য করার মতো! সেই সাথে ডিরেক্টর কৃতিত্বের সাথে ব্যবহার করেছেন সাইলেন্সকে যা একটা হরর মুভির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা এলিমেন্ট! স্টোরিলাইন পুরোপুরি আনফিমিলিয়ার বা ইউনিক দাবী করবোনা, বরং Ouija টাইপ মুভিতে এই ধরণের স্টোরির কিছু ছোঁয়া পাওয়া যাবে। কিন্তু Hereditary এর মাঝে কিছু ইউনিক টুইস্ট আছে, মুভির পেসিং, ক্যারেক্টারাইজেশন এবং দুর্দান্ত এক্সিকিউশনের মাধ্যমে ডিরেক্টর একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
.
গল্পটার শুরুটা বেশ টিপিক্যাল, একটা ফ্যামিলিকে নিয়ে।  এটা প্রথম দেখায় শুধু প্লেইন এন্ড সিম্পল অ্যামটিভিল হরর ক্যাটাগরির মুভি মনে হতে পারে। কিন্তু ঘটনার বিল্ড আপ এতো সারপ্রাইজিংলি টার্ন নেয় যে শেষদিকে স্তব্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলাম, অনুভব করতে পারছিলাম নিজের হৃদস্পন্দন! একজন গ্রিভিং মাদার, তার মৃত অদ্ভুত রহস্যময়ী মা, অদ্ভুতুড়ে কন্যা, পুত্রের সাথে কমপ্লিকীড সম্পর্ক, ভুডু/ব্ল্যাক ম্যাজিক সব কিছুই আছে এই মুভিতে। বাচ্চা মেয়েটার কথা কি বলবো, এতো সাটল কোন ক্যারেক্টার যে এতো ভয়াবহ আর পাওয়ারফুল হয়ে উঠতে পারে তা ঠিক বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! Charlie আমার দেখা অন্যতম ক্রিপিয়েস্ট হরর মুভি ক্যারেক্টার। আমি কোন কিছু স্পয়েল করতে চাইনা, যারাই দেখতে আগ্রহী কাইন্ডলি স্পয়লার থেকে দূরে থাকবেন, ভালো হয় ট্রেলারও না দেখলে। 
.
সব মিলিয়ে দ্বিমত করার কোন সুযোগ নেই, Hereditary এই সময়ের অন্যতম সেরা হরর মুভি। তবে এন্ডিংটা আমার কাছে একটু underwelming লেগেছে টু বি অনেস্ট। এর কারণ হয়ত মুভিটার লং বিল্ড আপ, এজ এ ভিউয়ার আমি হয়ত খুব বেশী প্যে অফ আশা করছিলাম। একদিক দিয়ে এটাও ক্রেডিটের দাবীদার কারণ টিপিক্যাল হরর ক্লিশে থেকে বেরিয়ে আসাটা ফ্রেশ একটা এক্সপ্রিয়েন্স আর টেস্ট রেখে গেছে ভিউয়ারদের মনে! দাগ কেটেছে এর সাইকটিক অ্যাসপেক্ট, ক্যারেক্টারের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন। অনেক দিন মনে থাকবে মুভিটা!
.
বিঃদ্রঃ ওয়াইড শটগুলোর পাশাপাশি ক্লোজআপগুলোতেও শুধু সাবজেক্টের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। ফোকাসড এন্ড আউট অফ ফোকাসড ব্যাকগ্রাউণ্ড ব্যাবহার করে বেশ ভালো কিছু শক দিয়েছে ডিরেক্টর। আর ভালো সাউন্ড-সিস্টেম এই মুভি থেকে বেস্ট এক্সপেরিয়েন্স পাওয়ার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

Rampage (2018) Movie Review



শুধুমাত্র বিনোদন উপভোগ করাটাই যদি মুখ্য হয় , তাহলে বিশ্বখ্যাত অভিনেতা রকের "র‍্যাম্পেজ" সিনেমা দেখে সময় টা বেশ ভালো ভাবেই যাবে !

আগেই বলা রাখি , এই সিনেমাকে "ব্রেইনলেস ব্লকবাস্টার" উপাধি দেওয়াটাই শ্রেয় ! সিনেমার গল্প যেমন বিশ্বাস্যযোগ্য নাহ, আরো বেশ কিছু দিক অতিরঞ্জিত লেগেছে ! তবে, সিনেমার মূল জনরা এডভেঞ্চার হওয়ায় অনেকের কাছে লজিক্যাল গল্পের গ্রহণযোগ্যতা বিষয়টি মাথায় আসবে নাহ ! সিনেমার ভিজুয়ালাইজেশন দারুণ হওয়াটাই হয়তো এক্ষেত্রে মূল ব্যাপার !

প্রাইমেট বিশেষজ্ঞ ডেভিস ওকোয়া জর্জ নামক এক গরিলাকে লালন পালন করে । গভীর বন্ধুত্ব তাদের মাঝে । সাংকেতিক ভাষায় তাদের ভাবের আদান প্রদান ও হয়ে থাকে । ঘটনাক্রমে এক বিশেষ সিরামের প্রভাবে গরিলার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেয় । খুব দ্রত তার আকার বড় হতে থাকে ! হিংস্রতা চলে আসে !

পরিস্থিতি আরো খারাপ হয় যখন জানা যায় একটি নেকড়ে এবং কুমীরের মধ্যেও একই রকম পরিবর্তন হচ্ছে ! একসময় জানা যায়, একদল বিজ্ঞানী প্রজেক্ট র‍্যাম্পেজ নামে একটি গবেষণা চালায় মহাকাশে ! তারই ফল এই রকম অদ্ভুতুড়ে ঘটনাগুলো !
একের পর এক শহর, স্থাপনা ধ্বংস করতে থাকা সেই তিন প্রাণী ! কিন্তু কোনো কিছুতেই আটকানো যায়না তাদেরকে । শুরু হয় তাদের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার লড়াই !
ডেভিস এবং তার দল কি পারবে এই প্রাণীগুলোকে দমাতে?!

Imdb : 6.4/10
ডাউনলোড লিংকঃ                                   DOWNLOAD HARE

Ready Player One Movie (2018) Movie Review



সাল ২০৪৫ । নিঃসঙ্গ কিশোর ওয়েড জনসংখ্যা ভারাক্রান্ত এক শহরে বসবাস করে । তার বাবা মা দুজনই মারা গেছে । সেই শহরের সকল লোকদের বিনোদন এবং সময় কাটানোর একমাত্র উপায় হচ্ছে ওয়েসিস নামের এক ভার্চুয়াল জগত ! এই জগতে মানুষ আসে কিছু করতে, কিন্তু তারা রয়ে যায় এখানে ; কারণ তারা এখানে পারে যেকোনো কিছু হতে !

এটি এমন এক পৃথিবী যেখানে নিজের ইচ্ছেমতো সকল কিছুই করা যায় ! কল্পনার কোনো সীমা নেই এখানে ! ওয়েসিসের স্থপতি জেমস হ্যালিডে এক প্রতিযোগিতার ঘোষনা দিয়ে যান মারা যাবার আগে । তিনি ওয়েসিসে লুকিয়ে রেখেছেন তিনটি চাবি ! যে ব্যক্তি চাবি তিনটি খুঁজে বের করতে পারবে সে পুরো ওয়েসিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে ! আরো পাবে বিশাল অংকের পুরস্কার !

ওয়েড প্রতিযোগিতা জয় লাভ করার জন্য মরিয়া ! তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে সাথে যুক্ত হয় সামান্থা নামের এক কিশোরী এবং আরো কিছু গেইমার !

একই নামের উপন্যাস থেকে সিনেমার গল্প লেখা হয়েছে । সিনেমায় ক্যামেরার পিছনে ছিলেন স্টিভেন স্পিলবার্গ । তাকে নিয়ে নতুন করে বলার দরকার নেই, আশা করি । অভিনয়ে ছিলেন টাই শেরিডান, ওলিভিয়া কোকে, সিমন পেগ এবং আরো কিছু তারকা । সকলের অভিনয় ভালো লাগলেও মূল চরিত্রে অভিনয়কারী শেরিডান থেকে শক্তিশালী অভিনয় প্রত্যাশা করছিলাম !

সব মিলিয়ে, বিনোদনের এক ফুল প্যাকেজ এটি । মাস্ট ওয়াচ ফিল্ম !

ফিল্ম : Ready Player One Movie (2018)
IMDb : 7.7/10
ডাউনলোড লিংক............           DOWNLOAD

knowing (2009) Movie Review || মুভি রিভিউ



রুদ্ধশ্বাস আর চাপা উত্তেজনায় ভরা এক সাইন্স ফিকশন থ্রিলার মুভি।
      সাল ১৯৫৮! নতুন একটি প্রাইমারী  স্কুল উদ্বোধন করার সময় সেখানে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।আর নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের  "আগামী ৫০ বছর পর পৃথিবী দেখতে কেমন হবে" তার উপর ভিত্তি করে কিছু চিত্র আঁকতে বলা হয়।কারণ আঁকা ছবিগুলো তারা একটি "টাইম ক্যাপসুলে" যত্ন করে রেখে দিবে।আর স্কুলের যেদিন ৫০ বছর পূর্তি হবে সেদিন খোলা হবে এই "টাইম ক্যাপসুল"।ছাত্ররা কেউ রোবটের ছবি,কেউ রকেটের ছবি এঁকে টাইম ক্যাপসুলে ঢুকাল।কিন্তু তাদের মধ্যে এক ছাত্রী ছিল বড় অদ্ভুদ স্বভাবের।সে কোন ছবি না এঁকে বরং সারা পাতা জুড়ে শুধু কিছু সংখ্যা লিখে রাখল।আর সংখ্যা গুলো ছিল একেবারে আগোছালো।
.
৫০ বছর পরে,স্কুলের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে খোলা হলো সেই"টাইম ক্যাপসুলটি"।আর তার ভিতর থাকা সমস্ত হাতে আঁকা ছবি গুলো বতর্মান সময়কার ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিতরণ করা হয়।ঘটনা কমে সেই অদ্ভুদ সংখ্যার কাগজটি মুভির নায়ক "নিকোলাস কেজ" এর ছেলের ভাগে পড়ে।আর সেই সূত্রে ধরে কাগজটি এক সময় "নিকোলাস কেস" এর হাতে আসে।"নিকোলাস কেজ" ছিলেন একজন দক্ষ গণিত মাস্টার।এমন আগোছালো সংখ্যা গুলো দেখে তার কাছে ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুদ লাগে।প্রথমে দিকে বিষয়টা তেমন গুরুতে না দিলেও পরে অনেকটা কৌতুহলের বসে কাগজে লিখা সংখ্যাগুলো নিয়ে রীতিমত সে গবেষণা শুরু করে। আর গবেষণা করতে গিয়ে এক ভয়ংকর রহস্য আবিষ্কার করে সে।আসলে এই আগোছালো সংখ্যাগুলো গত ৫০ বছরে পৃথিবীতে যতগুলো বড়ধরণের প্রাণহানিকর ঘটনা ঘটেছে- তারই তারিখ ও নিহতের পরিমাণ।"নিকোলাস কেজ" তখন সংখ্যা গুলো নিয়ে আর ব্যাপক গবেষণা শুরু করলেন আর বের করলেন এর ভিতর আরো বড় ধরণের তিনটি ঘটনার কথা উল্লেখ্য আছে।আর শেষটা তে আছে পৃথিবী ধ্বংসের ইঙ্গিত।তাহলে "নিকোলাস কেজ" এখন কি করবে?কিভাবে এই বিপদের হাত থেকে মানব জাতীর অস্তিত্ব রক্ষা করবেন।নাকি শুধুই অপেক্ষায় থাকবে অন্তিম সেই দিনের জন্য?এসোব জানতে হলে অবশ্যই মুভিটি দেখতে হবে।
-------++++--------

A Quiet Place (2018) মুভি রিভিউ


সিনেমার প্রথম ৪০ মিনিটে কোনো সংলাপ নেই !

সিনেমার শুরুটা হয় নি:শব্দে । এক স্টোরে দেখা যায়,  এক ফ্যামিলি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিচ্ছে । তবে খুবই সাবধানে ! বিন্দুমাত্র শব্দ যেনো না'হয় সেভাবে ! তাদের ছেলে এক খেলনা ব্যাটারি দিয়ে চালাতে চাইলে , চালাতে দেওয়া হয় না ! আওয়াজ হবে বলে !

সকল কিছু নেওয়া শেষ হলে তারা তাদের বাসার উদ্দেশে রওনা দেয় । এদিকে সেই বাচ্চা ছেলেটি খেলনাটি চালু করে হঠাৎ করেই ! তাঁর বাবা দ্রুত তাকে রক্ষা করতে যাবার আগেই এক অদ্ভুতুড়ে প্রাণী এসে তাকে নিয়ে চলে যায় !

আর যাই হোক, কোনোপ্রকার শব্দ তৈরি করা যাবে নাহ ! শব্দ শুনলেই চলে আসবে সেই প্রাণী ! মেরে ফেলবে শব্দের  সৃষ্টিকারীকে !
অর্থাৎ, শব্দ হলেই মৃত্যু !
কিভাবে সেই ফ্যামিলির মেম্বাররা বেঁচে থাকে কোনোপ্রকার শব্দ না করেই ?!

দুর্দান্ত হরর থ্রিলার ! কনসেপ্ট তো খুবই চমৎকার ! এবছরের অন্যতম সেরা সিনেমা, নিঃসন্দেহে !

Forgotten 2018 মুভি রিভিউ



"টুইস্ট" শব্দটাকে আপনি কিভাবে সঙগায়িত করবেন? একটু ভাবতে হবে তাই তো? কথা দিলাম এই মুভি দেখা শেষে নিজেই এই শব্দটার সঙগা, ব্যাখ্যা, যা খুশি দিতে পারবেন তাও আবার দ্বিতীয়বার না ভেবেই। ঠিক শেষ মুহূর্তেও টুইস্ট আছে এমন এক মুভি এটা, তো এই মুভি খাবেন কিনা তা আপনার ব্যাপার ভাই আমি আমার অপিনিয়নটাই শেয়ার করলাম মাত্র।

কোরিয়ান মুভি মানেই যেখানে মাস্টারপিসের গুদাম সেখানে এই মুভি আপনাকে বোঝাবে মাস্টারপিস আসলে জিনিষটা কি? খায় না গায়ে দেয় ? মুভি দেখার শেষে নিজেই আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করবেন, আপনি কি সেই মানুষ যাকে আপনার স্মৃতি চেনে, নাকি আপনি আয়নার ওপারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই অপার্থিব অজানা ব্যাক্তি। 🤐

কাহিনী (স্পয়লারহীন) ➡️
এক বৃষ্টির রাতে জিনসোকা দেখে একদল লোক তার বড় ভাই ভাই ইউসোকাকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাচ্ছে। সে গাড়ির নাম্বার প্লেট মুখস্থ রাখলেও পুলিশ জানায় ওই প্লেটের কোনো গাড়িই নাকি নাই। ঠিক ১৯ দিন পর ইয়োসোকা বাড়ি ফেরে। কিন্তু কিডন্যাপড হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কিছুই তার মনে নেই । জিনসোকা তার ভাইয়ের নানা ব্যাপার লক্ষ্য করার মাধ্যমে খেয়াল করে যে, এতদিন যেই ভাইকে সে চিনে আসছে সে এই ব্যাক্তি নয়। হয়ত এই লোক তার ভাইই নয়। সে তার লক্ষ্য করা ব্যাপারগুলো তার মাকে জানায়। কিন্তু সেইদিন রাতে মোবাইলে তার মাকে আশ্চর্যজনক কথাবার্তা বলতে শুনে সে বুঝতে পারে যে, তার মা এইসব আগে থেকেই জানতেন এবং সেই ব্যাক্তি আসলে কে তাও জানেন। তারমানে কি এই মহিলা তার মা নন ? সে কাউকেই আর বিশ্বাস করতে পারে না। তাই বাড়ি থেকে পালাতে যায় এবং রাস্তায় তার বাবার সাথে দেখা হয়। তার বাবার ব্যাবহার এবং মায়ের সাথে একাত্মতা দেখে এইটা বুঝতে আর বাকি থাকে না যে এই ব্যাক্তি তার বাবাই না।
তারমানে কি, এতদিন ধরে যাদের নিজের ফ্যামিলি ভেবে এসেছে তারা তার ফ্যামিলিই না!!! এটা কি করে সম্ভব? আর এই লোকজন যদি তার ফ্যামিলি না হয় তাহলে কি তারা এতদিন অভিনয় করে আসল? কেনই বা করবে? কিই বা চায় তারা তার কাছে?

কি ভাবছেন সব টুইস্ট দিয়ে দিলাম? আরেহ দাঁড়ান ভাই এই মুভির টুইস্টগুলা গুনতে গেলে আপনার আঙ্গুল ব্যথা হয়ে যাবে । টুইস্টের উপর টুইস্ট খেতে খেতে যখন ভাববেন খেলা তাহলে শেষ, ঠিক তার পরের মুহূর্তেই মনে হবে আরেহ খেলা তো শুরু হইসে মাত্র (🤘)। কি সেই খেলা আর কোথায় তার শেষ সেটা জানতে দেখে ফেলুন মুভিটি। আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য না থাকায় পরিবার সমেত রোজার সময়েই দেখতে পারবেন মুভিটি।