Know info before watch, but no Spoiler

Showing posts with label Thriller. Show all posts
Showing posts with label Thriller. Show all posts

Once Upon A Time In America (1984) Movie Review

Once Upon A Time In America (1984)

সার্জিও লিওনি! ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিনেমা পরিচালকদের একজন। “ডলার'স ট্রিলজি” থেকে সার্জিও লিওনি আত্মপ্রকাশ করে পরিপূর্ণরূপে, যদিও তার নির্মিত প্রথম সিনেমা “They Stole A Tram” মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালে। তার পরিচালিত ১১ টি সিনেমার মধ্যে ৫ টি নির্মিত হয়েছে ওয়েস্টার্ন ধারায়, যার প্রতিটি সিনেমা দর্শকনন্দিত হয়েছে, যার ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এটি লিওনি'র নির্মিত শেষ সিনেমা।

হ্যারি গ্রে এর “The Hoods” উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি ১৯৮৪ সালে ইতালিতে মুক্তি পায়। সিনেমাটি ৮৯৪ টি থিয়েটারে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০ মিলিয়ন বাজেটে নির্মিত ২২৯ মিনিটের সিনেমাটি বক্স অফিসে মাত্র ৫.৩ মিলিয়ন আয় করতে সক্ষম হয়। বক্স অফিস ফ্লপ্ড! সিনেমাটি নির্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬ টি লোকেশন ব্যবহার করা হয়। IMDb এর ৭০ নাম্বার পজিশনে থাকা সিনেমাটি এক এবং অদ্বিতীয় সিনেমা হিসেবে অডিয়েন্স এবং ক্রিটিক্সের কাছে বর্তমানে সমাদৃত হয়েছে।

বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এসব নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। তবে সিনেমায় এর রহস্যময় উপস্থাপন, সে তো কালে-ভদ্রে পরিলক্ষিত হয়। সার্জিও লিওনি এমনটাই করে দেখিয়েছেন এই সিনেমায়। সিনেমাটি Drama, Crime ক্যাটাগরীভুক্ত করা হলেও, এটি মূলত Psychological Drama, Crime Thriller পর্যায়ভুক্ত। কপোলা'র “The Godfather” এর মতো লিওনি'র এই সিনেমাটিও গ্যাংস্টার তৈরীর দৃষ্টান্ত বহন করে। এক অর্থে দুটি সিনেমাকেই তুলনা করা যায় এভাবে যে, প্রতিটি সিনেমা ই  আমেরিকায় তৎকালীন উঠতি পুঁজিবাদ এবং নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদকে নির্দেশ করেছে। তবে “The Godfather” থেকে লিওনি'র এই সৃষ্টির সৃজনশীলতা কোথায়?

সিনেমায় প্রধান চরিত্রে ছিলেন রবার্ট ডি নিরো। স্কোরসিজি'র “Taxi Driver” এবং “Raging Bul” এর পরে নিরো এই সিনেমায় তার সেরা অভিনয় প্রদর্শন করেছেন। একইসাথে রহস্যময়, একশন এবং এডাল্ট সিকুয়েন্স গুলোতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। সহ-অভিনেতা হিসেবে জেমস উডস ছিলেন অতুলনীয়। এছাড়া এলিজাবেথ ম্যাকগভার্ন এবং জো পেস্কি তাদের অভিনয়ে ছিলেন মনোমুগ্ধকর।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সাউন্ড কম্বিনেশন, একশন, সিনেমাটোগ্রাফি, কস্টিউম, এডাল্ট সিন, স্ক্রিনপ্লে এসবের এক অনন্য মিশ্রন ঘটিয়েছেন লিওনি। বরাবরের মতোই স্ক্রিনে চোখ লেগে থাকার জন্য সৃজনশীল এই স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে করেছেন সাফল্যমন্ডিত। প্রায় ৪ ঘন্টার এই মুভিটি আপনাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারবে এতটুকু বলাই যায়।

Plot Summary:- অন্ধকার কক্ষ, একলা রমনী। হঠাৎ আলোর আবির্ভাব, ক্লান্ত রমনীর মুখাবয়ব। হঠাৎ তিন আগন্তুকের প্রবেশ, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে হত্যা। টেলিফোনের উৎকট শব্দ! ঘুম ভাঙে নুডলস এর। বৃষ্টিস্নাত অবস্থায় পুলিশের সাইরেন, ৩ টি লাশ। টেলিফোন বেজেই চলছে। কফিনাকৃতি বিশাল কেক পরিবহন করছে চারজন। কফিনের গায়ে লেখা “Prohibition”. সময়কাল ১৯৩৩। হঠাৎ করেই বয়স্ক নুডলস অবতীর্ন হন। ধাবিত হন তার নিজস্ব পথে। হঠাৎ করেই আবার পিছুটান, নুডলস ফিরে যায় তার শৈশবে। ছোট নুডলস এবং তার সঙ্গীদের অপরাধের চিত্র! নানা উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে ছোট গ্যাংস্টার গ্রুপ।

অত্যন্ত দুঃখবোধ হচ্ছে এটা ভেবে যে, আসলে সিনেমার প্লট তুলে ধরার সামর্থ্য আমার নেই। বিশাল দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার নির্মানে ৪ টি সময়কাল তুলে ধরা হয়েছে। অগ্র-পশ্চাৎ-বর্তমান নিয়ে তুলে ধরা স্ক্রিনপ্লে যে কাউকে চমকে দিতে প্রস্তুত। বস্তুত “Once Upon A Time In America” সিনেমাটির তুলনা চলে শুধুমাত্র লিওনির অন্যান্য সৃষ্টির সাথে। লিওনি তার সততা, নিষ্ঠা এবং তীব্র আবেগ মিশ্রিত করেছেন চলচিত্রটি নির্মানে। ক্যামেরার অ্যাংগেল মাঝে মাঝে ইতালিয়ান মেলোড্রামা ভঙ্গির। যৌনতার দৃশ্যগুলি যেনো কৈশোরের আবেগভরা দৃষ্টি থেকে তৈরী, সেগুলো প্রচন্ড অসহ্যনীয়। তবে শেষে এসে সিনেমাটি তৈরী করেছে এক সাইকোলজিক্যাল প্রেসার। শেষ চমকের জন্য এটাকে মাস্টারপিস বললেও কম হয়ে যায়।

সিনেমাটি আপনি দেখুন কিংবা নাই-বা দেখুন, কিন্তু এটা আপনি অবশ্যই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, এমন সিনেমা দ্বিতীয়টি তৈরী করা সম্ভব নয়।

Memories of Murder (2003) Movie Review || মুভি রিভিউ

Memories of  Murder  (2003)

সাইথ কোরিয়ানরা তাদের মুভি দক্ষতায় দিনে দিনে ওয়ার্ল্ড মুভি লাভারদের মন জয় করে নিয়েছে। তাদের মুভির গল্পে আপনি একটু একটু করে ঢুকবেন আর শেষ করবেন একরাশ মুগ্ধতার ঢেকুর তুলে। এককথায় কোরিয়ানরা দর্শকের মন ব্রেন নিয়ে খেলতে জানে।

Memories of Murder মুভির পটভূমি তৈরী হয়েছে একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ১৯৮৬-১৯৯১ তে দক্ষিন কোরিয়ার একটি ছোট্ট প্রদেশে ঘটে যায় বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ঐ সময়ে হত্যা হতে থাকে একের পর এক মেয়ে। উদ্ভব হয় এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার এর।

মুভির শুরুটা হয় অল্পবয়স্ক এক নারীর মৃতদেহ খুঁজে পায় পুলিশ মাঠে সেটি দিয়ে।কোন ক্লু বা তথ্য কিছুই থাকে না। ঐ নারীকে মূলত ধর্ষন করে হত্যা করা হয়। পুলিশ যখন এই হত্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত ঠিক তখনই একই জায়গায় আরেকটি ধর্ষিত নারীর মৃত দেহ।এবং এই দুটো খুনের মধ্য একধরনের মিল খুঁজে পায় পুলিশ।কি ধরনের মিল পায় পুলিশ তা আপনারা দেখলেই বুঝবেন…। এই খানে মফঃস্বল পুলিশের ভূমিকায় আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সিউল থেকে এক গোয়েন্দাকে তলব করা হয়। মুভির মাঝে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের বেশ সময় আমরা বেশ কয়েকটি হাস্যরসাত্মক উপাদান খুঁজে পাবো।মোট কথা এই মুভিটি তে ড্রামা,রহস্য,কমেডি,ইমোশন সবই আছে।সেই শহুরে ডিটেকটিভ আর মফস্বলের ডিটেকটিভের মধ্য অন্তদ্বন্দ্ব আমরা এই খানে দেখতে পাবেন প্রবল,অনেকটা যেন আমাদের বাস্তব জীবনেই যেন অংশ। এরই মধ্য খুনি খুন করে আরো এক নারীকে।ডিটেকটিভদের তখন মাথা পাগল অবস্থা…নেই কোন ক্লু,নেই কোন সাক্ষি।এটা দেখে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের লোকাল সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর কথা মনে পরে গেল। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ডিটেকটিভরা আরো সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করলো। এমন হতে হতে তারা একটা ক্লু পেলো..খুনি একটি নিদিষ্ট সময়ে খুন করে..এবং খুন করার আগে সে রেডিওতে একটা নিদিষ্ট গানের রিকোয়েস্ট পাঠায়।অনেকটা কাকতালীয় হলেও তারা এই তথ্য নিয়ে খোঁজা শুরু করে খুনিকে। ঠিক সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে,শহুরে ডিটেকটিভ এক নারী কে খুঁজে পায় যাকে কিনা খুন করেনি ঐ খুনি। সে তার কথা রেকর্ড করে এবং একটা তথ্য পায়,যে খুনির হাত মেয়েদের মত নরম। এরই মাঝে ঘটে যায় আরো কিছু ঘটনা…পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতার করে এক ব্যাক্তিকে চরম এক শ্বাসরুদ্ধ কর পরিস্থিতিতে। আবার সেই রেডিওর গানের সূত্র ধরে ডিটেকটিভরা গ্রেফতার করে এক ব্যক্তিকে যে কিনা আবার সামরিক বাহিনী হতে ফেরত।এবং তারা দেখতে পায় তার হাত অনেক নরম,ঠিক যেন মেয়েদের মত।কিন্তু তাদের কাছ কোন ক্লু নেই এই ব্যাক্তিকে আটকে রাখার জন্য।এক সময় তারা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরই মাঝে ঘটে আরো একটি হত্যাকান্ড।ডিটেকটিভ নিশ্চিত থাকে যে এই ব্যক্তিই খুনি। তারা তার DNA টেষ্ট করানোর জন্য চেষ্টা করে কিন্তু এই পরীক্ষার ব্যবস্থা তখন সেখানে ছিলনা বিধায় তারা পরীক্ষার সব উপকরন আমেরিকায় পাঠায় এবং ঐ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়…শহুরে ডিটেকটিভ ফলো করতে থাকে ঐ সন্দেজনক ব্যক্তিকে এবং একদিন বৃষ্টির রাত আসে এবং রেডিওতে সেই গান বাজে। ডিটেকটিভ তখন পাগলপ্রায় খুনীর পিছু নিতে।কিন্তু পারে না। ঐ দিন খুন হয় আরো এক কিশোরী। অনেকটা উন্মাদ হয়ে শহুরে ঐ ডিটেকটিভ হামলে পড়ে ঐ ব্যক্তির উপর। এর মধ্যে চলে আশে DNA টেস্টের রিপোর্ট। কিন্তু কি কি ছিলো সেই রিপোর্টে? জটলা কি খুলবে?

” Memories Of Murder ” পরিচালক Bong Joon-ho এর ২য় ছবি এবং এ ছবি তাকে A লিস্টেড কোরিয়ান পরিচালকদের তালিকায় নিয়ে যায়। সে ২০০০ সালে এ ছবির কাজ শুরু করলেও প্রথম ৬ মাস স্ক্রিপ্ট লেখাও শুরু করেন নি ,শুধু মার্ডার সম্পর্কিত তথ্য কালেক্ট করে গেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় এ মুভি তৈরির আগে কতটা রিসার্চ করা হয়েছে।

ছবির প্রধান দুই অভিনেতা ছিল Song Kang-ho আর Kim Sang-kyung। একজন গ্রাম্য ডিটেকটিভ ( মারামারিতে,শামানিজম এ বিশ্বাসী ) আরেকজন শহুরে ডিটেকটিভ ( information,document এসবে বিশ্বাসী ) .পুরো মুভিতে তাদের খুনসুটি আর সময়ের সাথে সাথে চরিত্রের transformation দারুন লেগেছে।বিশেষ করে গ্রাম্য ডিটেকটিভ চরিত্রে Song Kang-ho এর অভিনয় ছিল একেবারে চোখ ধাধানো। এ দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সে ওই বছর Grand Bell Award , Chunsa Film Awards , Korean Film Awards সহ প্রায় প্রতিটি Award ceremony এ Best Actor এর Award জিতে নেয়।
Memories of  Murder  (2003)

এ ছবি মুক্তির পরে critical and commercial , দুই দিক থেকেই প্রচুর acclaim পায়। ২০০৩ সালের দক্ষিন কোরিয়ার সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ছিল এটি। আর সে বছর কোরিয়ার প্রায় সব award এর সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নেয় এ ছবি। বর্তমানে IMDB এর টপ ২৫০ এর list এ এই মুভি রয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সেরা ছবি হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে।

Pihu (2018) Movie Review || পিহু (২০১৮) মুভি রিভিউ


প্লট বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক না,আমাকে যেই জিনিসটা একদম থ করে দিয়েছে সেটা হলো,ফিল্মের মেইন এবং একমাত্র অভিনেতা একটা ২ বছরের বাচ্চা মেয়ে।হ্যা অন্য একজন মহিলা যে বাচ্চা মেয়ে পিহুর মায়ের ভূমিকায় ছিলেন,তিনিও স্ক্রিনে একটু পরে পরে এসেছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন মৃতা একজন।পুরা ৯০ মিনিটের ফিল্মে একটা ২ বছরের বাচ্চা মেয়ে,তার চলন–বলন,তার আধো আধো কথা!পরিচালককে একটা স্যালুট দিতেই হয় যে ২ বছরের বাচ্চাকে দিয়ে এমন অভিনয় করাতে পেরেছেন।অভিনয় তো করিয়েছেন আবার ডাবিং ও করিয়েছেন এই বাচ্চা মেয়েটাকে দিয়ে।হ্যাটস অফ!

পিহুর ২য় জন্মদিন হলো।পরদিন তার বাবার কোলকাতা যেতে হবে একটা জরুরী মিটিং এর জন্যে।জন্মদিনের পার্টির শেষে পিহুর মায়ের সাথে তার বাবার ভীষণ ঝগড়া হয়।পিহুর মা সন্দেহ করে পিহুর বাবার সাথে তারই বান্ধুবি এবং পিহুর বাবার কলিগের অনৈতিক সম্পর্ক আছে।এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া।পিহুর বাবা সকালে ইস্ত্রি অন রেখেই রাগারাগি করে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে চলে যায়।এবং পিহুর মা আয়নায় লিপস্টিক দিয়ে সুইসাইড নোট লিখে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে।পিহু ঘুম থেকে উঠে মাকে জাগানোর অনেক চেষ্টা করে,কিন্তু মা আর জাগে না।ঐদিকে বাবাও বাসায় নেই।তারপর সেই একাকী পিহু ঘটাতে থাকে নানা ঘটনা।

এই ফিল্মে একটা জিনিস বুঝা গেলো যে আমরা শহুরে মানুষ কি পরিমাণ যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি।প্রতিবেশীরা আরেকজন প্রতিবেশীর গালমন্দ করেই সময় পায় না,খবর রাখবে কিভাবে?আমাদের অবশ্যই আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।

স্যার বলেন,বয়স্কদের থেকে বাচ্চারা বেশি ভালো অভিনেতা।শুধু ভালো না,বাচ্চারা ভয়ঙ্কর ভালো অভিনেতা।তাদের এত কিছু বুঝানোর দরকার নেই যে এই শট,এই ডায়লগ হেনো–তেনো।তাদেরকে বলো,অভিনয় একটা খেলা।তারা একদম খেলে দিবে।
পর্দায় এই বাচ্চা পিহুকে দেখে সেটাই বুঝলাম।সে অভিনয় করছিল না,সে খেলছিল।
অসাধারণ ।

Ratsasan (2018) Movie Review || মুভি রিভিউ

Ratsasan (2018)

আরুণ কুমার (Vishnu  Vishal) থাকে একজন প্যাশনেট মুভি মেকার, যদিও তার একটা স্ক্রিপ্টও কোন প্রযোজকের মন কেড়ে নিতে পারে নি। বোন, পুলিশ অফিসার দুলাভাই ও ছোট একটা ভাগ্নি আছে তার। প্রত্যেকটা ডিরেক্টরেরই একটা নিজস্ব স্টাইল থাকে, এখানে অরুণ কুমারেরও একটি নির্দিষ্ট গল্পের মুভি বানানোর ইচ্ছা প্রবল থাকে, সেটি হল সিরিয়াল কিলিং! তার রুমের দেয়াল জুড়ে শুধু ভারতই নয়, প্রায় পুরো বিশ্বের নানান সময়ের আলোচিত সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে প্রকাশিত পেপার/ম্যাগাজিন/বুক কাটিং দিয়ে সাঁটা থাকে। দুর্ভাগ্যক্রমে যখন তার মুভি মেকিং কোন ভাবেই আলোর দিক দেখছিল না, তখন তার দুলাভাই তাকে এক প্রকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে পুলিশের এস আই পদে জয়েন করিয়ে দেয়।
এরপর একের পর এক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে মুভির কাহিনী এগিয়ে চলে। প্রত্যেকবার স্কুলের কোন না কোন মেয়ে অপহৃত হতে থাকে। ঠিক তার দুই দিন পর তাদের লাশ পাওয়া যায় বিভিন্ন জায়গায়, খুবই বিকৃত ভাবে মেয়েগুলো কে হত্যা করা হত, এবং ইন্টারেস্টিংলি সবার বাড়ির আশেপাশেই একটা গিফট বক্স থাকত, যেখানে থাকত একটি পুতুলের কাটা মাথা এবং সে মাথাগুলো বিকৃত ভাবে কাটা। আশ্চর্যের ব্যপার হল, লাশগুলোর মুখমন্ডল গুলোও ঠিক সেইভাবেই কাটা থাকত। এভাবে চলতে চলতে ৪ নম্বর ভিক্টিম হয় অরুণের ভাগ্নি। যথারীতি তার লাশও পাওয়া যায় তার দুলাভাইয়ের গাড়ির পিছনের বক্সে। এই সময়েই বিভিন্ন ক্লু মিলিয়ে দেখা দেখা যায় যে যে মেয়েগুলো হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই স্কুলে ঠিক তার দুই দিন আগে কোন না কোন ফাংশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং সেখানে একজন মহিলা (!) ম্যাজিশিয়ান ম্যাজিক পারফর্ম করেছে, এই ক্লু ধরে এগিয়ে যেতে যেতেই এক সময়ে খুনী ধরা পড়ে। কিন্তু দেখা যায় খুনী একজন পুরুষ, যে কি না তার মায়ের বেশ ধরেই একের পর এক খুন করে চলে। যদিও বিশ্বের তাবদ সিরিয়াল কিলিং এর মতই এখানেও রয়েছে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যেটা যে কারোর কাছেই বেশ কষ্টের মনে হতে পারে।

এবার আসি এই ছবির বেশ কিছু জায়গায়, যেখানে দর্শক হিসেবে আমার কিছু অসঙ্গতি লেগেছে।

১। হয়ত প্রত্যেক সিরিয়াল কিলারেরই কিছু নিজস্ব স্টাইল থেকে থাকে, যার ফলে তাদের কিলিং এর ধরন প্রায় একই থাকে, কিন্তু তারা এখানে কিলার প্রত্যেকবারের ফাংশনের ম্যাজিকে এসিস্ট করা মেয়েগুলোকেই কেন বেছে নিলেন, এতে করে তার ধরা পড়াটা বেশ সহজ ছিল, এত পেঁচানোরও দরকার ছিল না। এখন অনেকেই সিনেমাতে যেভাবে উপস্থিত করা হয়েছে বিষয়টা তার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে পারেন, সেই মেয়েটিকে প্রলুব্ধ করা সহজ ছিল। কিন্তু বিষয়টি তেমন না, যেই বয়সী মেয়েদের এখানে দেখানো হয়েছে, তারা ম্যাজিকে এসিস্ট না করলেও শুধু ম্যাজিক দেখার ফলেই পরবর্তীতে সেই খুনীর প্ররোচনার ফাঁদে পড়ত।

২। হরমোনাল প্রবলেমের কারণে যে কিশোরটি ইম্পোটেন্ট ছিল, সেই লোকটি বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসারের সাথে যেভাবে পাল্লা দিয়ে ফাইট করে গেল, সেটা হাস্যকর বললেও কম বলা হয়ে যাবে। যদিও অনেকেই বলবে মুভিটিতে একটু বাড়তি উত্তেজনা যোগ করাই ছিল এত উদ্দেশ্য, তাহলে মেনে নিতে আপত্তি নেই যে এর দরকার ছিল।

ভালো লেগেছে যে যে বিষয়ঃ

১। ঠিক এই ধরনের মুভি ইন্ডিয়ান সিনেমাকে অনেক উপরে তুলতে সাহায্য করবে। কাহিনী, অভিনয় সর্বোপরি সাস্পেন্সে ভরপুর একটি সিনেমা, মানতেই হবে।

২। শেষ মেয়েটি কে দেখানো হয়েছে ক্লাস টেন টপার, কিন্তু সে ব্যাকবেঞ্চার, এটা খুবই ভাল লেগেছে। শুধু সামনের পোলাপানই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সায়েন্টিস্ট হবে, এটা ভাবা ঠিক না।

৩। এটা আসলে ভাল লাগার বিষয় না, কিন্তু মনে দাগ কেটেছে, সেটা হল অরুণের ভাগ্নির লাশের ব্যাপারটা যেভাবে ওর বোনের কাছে লুকিয়ে মর্গে নিয়ে যাওয়া হল, সেই ৭-৮ মিনিট আমি জীবনের ভুলব না। অসাধারণ অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি এবং পরিচালকের পান্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।

সব শেষে, এ ধরনের সিনেমা আরও হওয়া উচিৎ, এতে করে আমাদের মত সিনেমাভোজীদের ক্ষুধা আরও অনেক বেড়ে যাবে, সাথে বাড়বে সুস্থ ধারার বিনোদনের প্রতিযোগিতা।
© Movie Review Bd 

Inception (2010) মুভি রিভিউ

এই ছবির মূলভিত্তি হল স্বপ্ন শেয়ারিং এবং স্বপ্ন তৈরি করা। অর্থাৎ অন্যের অবচেতন মনে ঢুকে স্বপ্ন অবজার্ভেশন করা এবং নিজেদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করা। এই কাজে তারা উপস্থিতবুদ্ধি সম্পূর্ণ একজন অর্কিটেকের সহয়তা নেয়। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে তারা একই সাথে তিন চার জন একই স্বপ্নে প্রবেশ করে? মূলত এই স্বপ্নে প্রবেশে তারা ছোট একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যেটা হল পুরা সাইন্সফিকশন অর্থাৎ এটার বাস্তব কোন লজিক নেই। বাস্তবধর্মী মেডিটেশন কিংবা হিপনোটাইজ প্রক্রিয়ায় যেভাবে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানে সেইরূপ কোন সাইট্রিফিক কোন মেথড ব্যবহার করা হয় না বরং একটা ছোট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটি করা হয়। তাই মুভির আসল সাধ অনুভব করতে হলে আপনাকে এটা মেনে নিতে হবে অতিরিক্ত বাস্তববাদী হলে মুভি না দেখাই ভালো। আর ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া না দেখাই ভালো ।
মুভিটা শুরু হয় সমুদ্র সৈকতে অচেতন অবস্থায়একজনকে(কোব=ডিক্যাপিও)পাওয়ার মাধ্যমে। কোবকে নেয়া হয় মিঃসাইতো এর সামনে। এরপর শুরু হয় কোব ও সাইতোর মুখোমুখি হবার পূর্ববতী ঘটনা।

কোব মুলত একজন এক্সট্রাক্টর। এক্সট্রাকর হল সেই যে অন্যের স্বপ্নে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে সাথে সাথে সে স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। প্রয়োজনে সে অন্যের হাত থেকে স্বপ্নর মাধ্যমে যাতে কেউ তার আইডিয়াকে চুরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করতে পারে। অপরদিকে মিঃসাইতো একজন ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী। কোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামক এক কোম্পানি কোব ও তার সহযোগীদের কে ভাড়া করে স্বপ্নের মাধ্যমে মিঃসাইতোর এক গোপন নথির তথ্য উদ্ধার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়।মিঃসাইতোর নিকট স্বপ্নের মাধ্যমে অন্যের গোপন নথি সম্পর্কে জানার এই প্রক্রিয়া মৌলিক আইডিয়া এবং বেশ কার্যকরী মনে হয় ফলে সে কোব ও তার সহযোগী মিঃঅার্থার( জোসেফ) কে তার হয়ে একটি কাজ করার অনুরোধ করে তবে সেটা তথ্য জানা নয় বরং তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীর মনে এমন এক ধারনা ঢুকিয়ে দেয়া যাতে সে নিজ থেকেই নিজের ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অাইডিয়া ঢুকিয়ে দেয়াকেই inception বলে। মজার বিষয় হচ্ছে কোব ও অার্থার আগে কখন এমন কাজ করে নি। এবং তারা জানে এই কাজটি করতে হলে স্বপ্নের তৃতীয় লেয়ারে যেতে হয় যেটা শুধু কষ্টসাধ্য নহে বরং জীবনের জন্যও হুমকি। সেইজন্য তারা প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু যখন মিঃসাইতো কাজটির বিনিময়ে কোবকে তার সন্তানদের কাছে অর্থাৎ বাড়িতে ফিরতে সাহায্য করবে বলে তখন কোব রাজি হয়। কারণ কোব তার স্ত্রী ম্যালের হত্যা মামলার আসামী। সেইকারনে সে অনেকবছর ধরে দেশে ফিরতে পারছে না।এইটুকুই কাহিনী। এখন ডিক্যাপিও (কোব) কি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা না আদো সম্ভব না? সে কি তার বাচ্ছাদের কাছে যেতে পারছে এটা জানতে হলে আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে। এই ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলে এখানে আমরা সচারচর স্বপ্নের মধ্যে যে দৃশ্য গুলো দেখি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান চেষ্টা করছে ঠিক সেইরূপ দৃশ্য তুলে ধরতে। এখানেই পরিচালক অনেকাংশ সার্থক।

কিন্তু জটলাগে স্বপ্নের লেভেলগুলো বুজতে।
১ম লেভেল হচ্ছে সচারচর ঘুমালে যে স্বপ্ন দেখি। ২য় লেভেল হল আপনি যদি স্বপ্নের ভেতর আবার স্বপ্ন দেখেন। ৩য় লেভেল হল ২য় স্বপ্নের ভেতর যদি আবার স্বপ্ন দেখেন। । এখন আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া মানে এই না আপনি বাস্তবে ফিরে আসলেন বরং আপনি স্বপ্নের ২য় লেভেলে আছেন। আবার স্বপ্ন ভাঙ্গলে আপনি আসবেন ১মলেভেলে। এরপর যদি স্বপ্ন ভাগে তবেই আপনি বাস্তবে ফিরে আসবেন। এই সিকুয়েন্স মেনটেইন করেই মুভির কার্যক্রম চলে। আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে এই সিকুয়েন্স টা ধরা। তাহলেই মুভির কাহিণী বুঝা সহজ হবে।
আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে সেটা হল "সময়"। স্বপ্নে সময়ের গতি বাস্তব জগতের চেয়ে বেশি। ফলে বাস্তব জগতের ৫ মিনিট স্বপ্নে সেটা মনে হবে ১ঘন্টার মতো। শুধু তাই নয় স্বপ্নের লেভেল যত বাড়বে এই গতি তত বৃদ্ধি পাবে। তাই ছবি দেখার মুহুর্তে এই সময়ের গতি বেগের দিকেও ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। এই গতিবেগের মূল রহস্য হল, আমাদের অবচেতন মনের চেতন মনের চেয়ে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা।                                 আরেকটা বিষয় ছবিটাতে ব্যবহার করা হয় সেটা হল টোটেম। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে সে কি স্বপ্নে নাকি বাস্তবে আছে। যেমন ডিক্যাপিওর টোটেম হল "লাটিম"। লাটিম ঘুরতেই থাকলে স্বপ্নে আর লাটিম ঘুরতে ঘুরতে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝবে বাস্তবে আছে সে।

মুভিটির মাধ্যমে ক্রিস্টোফার সাহেব মুলত আমাদের চিন্তার ও গবেষণার জন্য নতুন একটি ক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। কোনভাবে যদি সত্যি সত্যি স্বপ্ন শেয়ারিং ও স্বপ্ন তৈরি ব্যপারটা নিয়ন্ত্রন করা যায়। অর্থাৎ অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সত্যিই একটা শিল্প বিপ্লবের মতো একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। ব্যপারটা বুঝার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে অবচেতন মন কি? এবং অবচেতন মনের ক্ষমতা?
ধরুন আপনার সামনে একপ্লেট সুস্বাদু খাবার রাখা আছে। কিংবা আপনি টয়লেট বসে হাগু করছেন? কখনও কি এমন হয়েছে, আপনি মনের ভূলে বামহাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে কিংবা ডানহাত দিয়ে হাগু পরিষ্কার করছেন? আপনার এই দীর্ঘ জীবনে এমনটা কখনও হয়নি এবং কাজগুলোও আপনি চিন্তা ভাবনা করেও করেননি বরং আপনার চেতন মনের অলক্ষ্যেই হয়ে গেছে বা হচ্ছে ।আপনি ভালো করে খেয়াল দেখবেন হঠাৎ করে উড়ে আসা কোন ঢিল প্রতিরোধে আপনার শরীর অটোমেটিক সঠিকভাবে মুভ করছে আপনার বিনা ইন্সট্রাকশনে। এই কর্মকান্ড আপনার চেতন মনের নিয়ন্ত্রনে নহে। এইগুলো ঘটে অবচেতন মনে। শুধু তাই নহে এইকাজগুলো অবচেতন মনের গভীরের এমনভাবে প্রথিত আছে যা আপনার পক্ষে কখনও তা থেকে সরে আসা সম্ভব না।
আর আমরা জানি স্বপ্নে আমাদের অবচেতন মন উম্মুক্ত হয় আর চেতন মন অনেকটা বন্ধ থাকে। তাই পরিচালক ক্রিস্টোফার চেষ্টা করেছে স্বপ্নের মাধ্যমে অবচেতন মনের কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রন করার। এবং তার মাধ্যমে অবচেতন মনের গভীরে কিছু অাইডিয়া প্রথিত করা যাতে সেটা বাস্তব জীবনেও ঢিল প্রতিরোধের মতো কোন কাজে লাগে।
কি ভাবছেন? অন্যের মাথায় এইভাবে আইডিয়া ঢুকানো কি আদো সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। এই যে আমি যেভাবে আপনাদের চেতন মনে অাইডিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছি এই বলে যে এই ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখবেন না। আপনার চেতন মন অলরেডি ঠিক করেই নিয়েছে যে, inception ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখা যাবে না? ঠিক একই ভাবে অবচেতন মনেও অাইডিয়া প্রথিত করা যাবে।
ডিক্যাপিও, ট্রম হার্ডি, ক্যান, আর্কিটেক চরিত্রে ইলেন পেইজ, জোসেফ গর্ডন সবাই ভালো অভিনয় করে। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় অভিনেতা হল পরিচালকর ও লেখক ক্রিস্টোফার নোয়ান। এমন একটা থিম নিয়ে ছবি করার ভাবনা এবং সেটা সার্থক ভাবে উপস্থাপন করা চাট্টিখানি কথা না।
আমার রেটিংঃ৮/১০

BORDER মুভি রিভিউ


ভেবে দেখুন মুভি জগতে কতগুলা জনরা আছে !
ড্রামা,রোম্যান্স,থ্রিলার,হরর,ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন আরো কত কী! এখন এক কাজ করেন। এই সবগুলো জনরা একসাথে একটা মুভির মধ্যে ঢেলে দেন।তৈরী হয়ে গেল ২০১৮ সালের সুইডিশ ফিল্ম 'বর্ডার'।
ভাবছেন সবগুলো জনরার মিক্স?
কী অখাদ্য জগাখিচুড়ি মুভি কে জানে!
তবে  আপনার ধারণা একেবারেই ভুল। ‘বর্ডার’ এর মত ওয়েল ব্যালেন্সড একটা সিনেমা খুবই কম দেখেছি গত কয়েক মাসে। এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমাগুলো নিয়ে আমার একটা ধারণা আছে,হয় সেগুলো একেবারে জঘন্য হয় না হলে সেগুলো একেবারে অনন্য হয়। ‘বর্ডার’ এ বছরের এক্সেপশোনাল  একই সাথে অনালোচিত একটা ফিল্ম।মুভির স্টোরিলাইন খুবই সুন্দর এবং সিকুয়েন্সগুলো সুন্দরভাবে পরিকল্পিত। মুভি শুরু হওয়ার পর আপনি একটা সেরেনিটির মধ্যে পড়ে যাবেন।ভিজুয়ালি এট্রাক্ট করার মত দারুণ সব দৃশ্য আছে।তবে একই সাথে রয়েছে অনেক ডিস্টার্বিং সিন। অনেক আনইউজুয়াল সেক্সুয়াল সিন আছে যা অনেকেরই হজম হবে না।তাও মুভিটা সুন্দর।প্রথম প্রথম আপনার মনে হবে কোনো ঢিলাঢালা ড্রামা দেখতে বসেছেন।সময়ের সঙ্গে কাহিনীর ভেতরকার জট যখন খুলতে শুরু করে তখন মুভিটা আরো জমতে শুরু করে।এবং মিস্ট্রি কিন্তু একটাই না, একাধিক। ড্রামা থেকে বেরিয়ে আস্তে আস্তে মুভিটা বিভিন্ন জনরায় বিচরণ শুরু করে। একই মুভির ভেতর অনেক ভিন্ন জিনিস নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে যা অন্যান্য মুভি থেকে এটিকে আলাদা করে।

মুভির প্রোটাগনিস্ট টিনা (এভা মালেনদার) একজন সুইডিশ কাস্টম অফিসার।টিনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে কোনো মানুষের কিংবা বস্তুর গন্ধ শুঁকে কোনো অসংগতি শনাক্ত করতে পারে।মানুষের লজ্জা,অনুতপ্তবোধ কিংবা অন্যায়ের কথা বুঝতে পারে।এই কারণেই সে বুঝতে পারে প্লেনের কোনো যাত্রী ড্রাগস কিংবা অন্য কোনো কিছু বহন করছে কী না। একদিন সে এক প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে ভর্তি একটি মেমরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। টিনার বস তাই তাকে এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেট করার জন্য নিযুক্ত করে। কাহিনীর এই হল একটা পিঠ যা এখনো পর্যন্ত সব নরমাল বলেই মনে হচ্ছে।
কাহিনীর অন্য পিঠে আসা যাক, টিনা নিজে একটা রোগে আক্রান্ত। তার মুখটা অদ্ভুতভাবে বিকৃত। ক্রোমোসোমাল ডিফর্মিটির কারণে তার এই অবস্থা।তবে একদিন সে এয়ারপোর্টে তারই মত অবিকল একটি লোককে দেখতে পেল যার মুখও বিকৃত। তখনই সে লোকটার জন্য অদ্ভুত এট্রাকশন অনুভব করে।ঘটনাচক্রে লোকটার সাথে আবার দেখা হয় এবং টিনা তাকে নিজের বাসায় রেন্টে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। টিনা থাকে জঙ্গলে ঘেরা এক আইসোলেটেড জায়গায়। এখানে সে রোল্যান্ড নামের একজন ডগফাইটারের সাথে একসাথে লিভ ইন করে।একসময় টিনা এবং অদ্ভুত লোকটির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এরা নিজেদের শরীর নিয়ে বিভিন্ন মিস্টিরি জানতে শুরু করে।অদ্ভুত লোকটা সম্পর্কেও বিভিন্ন অজানা মিস্টিরিয়াস তথ্য জানতে পারে।একই সাথে এগিয়ে চলে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ইনভেস্টিগেশন।এভাবেই সমান্তরালভাবে দু দুটো মিস্টিরি আস্তে আস্তে আনর‍্যাভেল হতে থাকে।সে পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটা নিয়েই 'বর্ডার' সিনেমা।

আপাত দৃষ্টিতে একটা সিম্পল মিস্ট্রি ফিল্ম মনে হলেও এই মুভিতে সোশ্যাল রিয়ালিজম এর অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে। হিউম্যানিটিকে স্যাটায়ার করা হয়েছে অনেকভাবে।সঙ্গে সঙ্গে  নর্স মিথোলজির সাথে মিলমিশ খাইয়ে এমন একটা অস্থির ফ্যান্টাসি মুভির অবতারণা করা হয়েছে যে প্রশংসা না করে পারা যায় না।প্রথমদিকে একটু স্লো হলেও শেষের দিকে একটা দারুণ থ্রিল উপভোগ করতে পারবেন।তার উপর টিনা এবং তার বাবাকে নিয়ে হাল্কা পাতলা ফ্যামিলি ড্রামার ছোঁয়াও পেয়ে যাবেন।অনেক ডিস্টার্বিং সিনে পরিপূর্ণ থাকলেও শেষে একটা অদ্ভুত প্রশান্তির দৃশ্য দিয়ে মুভিটার এন্ডিং।মুভিটায়ে বিশদভাবে আলোচনা করার অনেক বিষয়বস্তু আছে,আপনি দেখলে মোটামুটি ফিল করতে পারবেন।যেহেতু রহস্য এবং টুইস্ট আছে তাই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার স্কোপ কম।স্পয়লার হয়ে যাবে।তবে এটা বলব যে, পুরো মুভিটাই একটা সাররিয়াল এক্সপেরিয়ান্স।
অভিনয়ের দিক থেকে অন্য সবকিছু থেকে ছাড়িয়ে গেছে এই মুভি।মূল চরিত্রে এভা মালেনদার এবং এওরো মিলানফ রীতিমতো ‘দানবীয়’ পারফরম্যান্স দিয়েছেন।সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ডিজাইন গ্রেট।সব মিলিয়ে আলি আব্বাসির দারুণ একটা সিনেমা দাড় করিয়েছেন।যদিও সুইডেন থেকে মুভি অস্কারের জন্য পার্টিসিপেট করলেও নমিনেশন পায় নি।একমাত্র কৃতিত্ব মেক আপ এবং হেয়ার স্টাইলিং এ নমিনেশন।
মুভির ত্রুটির মধ্যে আমার চোখে যেটা লেগেছে যে একটা দুইটা টুইস্ট আন্দাজ করতে পেরেছি।তবে আমি পেরেছি বলে অন্য সবাই পারবে সেটা আমার মনে হয় না।তবে এই টপ নচ ফিল্মটা সবার আননোটিসড যেন না থেকে যায় তাই আমি রেকমেন্ড করব মুভিটা দেখতে।
হ্যাপি ওয়াচিং!