Know info before watch, but no Spoiler

BORDER মুভি রিভিউ


ভেবে দেখুন মুভি জগতে কতগুলা জনরা আছে !
ড্রামা,রোম্যান্স,থ্রিলার,হরর,ফ্যান্টাসি, অ্যাকশন আরো কত কী! এখন এক কাজ করেন। এই সবগুলো জনরা একসাথে একটা মুভির মধ্যে ঢেলে দেন।তৈরী হয়ে গেল ২০১৮ সালের সুইডিশ ফিল্ম 'বর্ডার'।
ভাবছেন সবগুলো জনরার মিক্স?
কী অখাদ্য জগাখিচুড়ি মুভি কে জানে!
তবে  আপনার ধারণা একেবারেই ভুল। ‘বর্ডার’ এর মত ওয়েল ব্যালেন্সড একটা সিনেমা খুবই কম দেখেছি গত কয়েক মাসে। এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমাগুলো নিয়ে আমার একটা ধারণা আছে,হয় সেগুলো একেবারে জঘন্য হয় না হলে সেগুলো একেবারে অনন্য হয়। ‘বর্ডার’ এ বছরের এক্সেপশোনাল  একই সাথে অনালোচিত একটা ফিল্ম।মুভির স্টোরিলাইন খুবই সুন্দর এবং সিকুয়েন্সগুলো সুন্দরভাবে পরিকল্পিত। মুভি শুরু হওয়ার পর আপনি একটা সেরেনিটির মধ্যে পড়ে যাবেন।ভিজুয়ালি এট্রাক্ট করার মত দারুণ সব দৃশ্য আছে।তবে একই সাথে রয়েছে অনেক ডিস্টার্বিং সিন। অনেক আনইউজুয়াল সেক্সুয়াল সিন আছে যা অনেকেরই হজম হবে না।তাও মুভিটা সুন্দর।প্রথম প্রথম আপনার মনে হবে কোনো ঢিলাঢালা ড্রামা দেখতে বসেছেন।সময়ের সঙ্গে কাহিনীর ভেতরকার জট যখন খুলতে শুরু করে তখন মুভিটা আরো জমতে শুরু করে।এবং মিস্ট্রি কিন্তু একটাই না, একাধিক। ড্রামা থেকে বেরিয়ে আস্তে আস্তে মুভিটা বিভিন্ন জনরায় বিচরণ শুরু করে। একই মুভির ভেতর অনেক ভিন্ন জিনিস নিয়ে আলোচনার বিষয় আছে যা অন্যান্য মুভি থেকে এটিকে আলাদা করে।

মুভির প্রোটাগনিস্ট টিনা (এভা মালেনদার) একজন সুইডিশ কাস্টম অফিসার।টিনার একটা অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। সে কোনো মানুষের কিংবা বস্তুর গন্ধ শুঁকে কোনো অসংগতি শনাক্ত করতে পারে।মানুষের লজ্জা,অনুতপ্তবোধ কিংবা অন্যায়ের কথা বুঝতে পারে।এই কারণেই সে বুঝতে পারে প্লেনের কোনো যাত্রী ড্রাগস কিংবা অন্য কোনো কিছু বহন করছে কী না। একদিন সে এক প্যাসেঞ্জারের কাছ থেকে চাইল্ড পর্নোগ্রাফিতে ভর্তি একটি মেমরি কার্ড উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। টিনার বস তাই তাকে এই ব্যাপারে ইনভেস্টিগেট করার জন্য নিযুক্ত করে। কাহিনীর এই হল একটা পিঠ যা এখনো পর্যন্ত সব নরমাল বলেই মনে হচ্ছে।
কাহিনীর অন্য পিঠে আসা যাক, টিনা নিজে একটা রোগে আক্রান্ত। তার মুখটা অদ্ভুতভাবে বিকৃত। ক্রোমোসোমাল ডিফর্মিটির কারণে তার এই অবস্থা।তবে একদিন সে এয়ারপোর্টে তারই মত অবিকল একটি লোককে দেখতে পেল যার মুখও বিকৃত। তখনই সে লোকটার জন্য অদ্ভুত এট্রাকশন অনুভব করে।ঘটনাচক্রে লোকটার সাথে আবার দেখা হয় এবং টিনা তাকে নিজের বাসায় রেন্টে থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানায়। টিনা থাকে জঙ্গলে ঘেরা এক আইসোলেটেড জায়গায়। এখানে সে রোল্যান্ড নামের একজন ডগফাইটারের সাথে একসাথে লিভ ইন করে।একসময় টিনা এবং অদ্ভুত লোকটির মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে।এরা নিজেদের শরীর নিয়ে বিভিন্ন মিস্টিরি জানতে শুরু করে।অদ্ভুত লোকটা সম্পর্কেও বিভিন্ন অজানা মিস্টিরিয়াস তথ্য জানতে পারে।একই সাথে এগিয়ে চলে চাইল্ড পর্নোগ্রাফির ইনভেস্টিগেশন।এভাবেই সমান্তরালভাবে দু দুটো মিস্টিরি আস্তে আস্তে আনর‍্যাভেল হতে থাকে।সে পর্যন্ত কী দাঁড়ায় সেটা নিয়েই 'বর্ডার' সিনেমা।

আপাত দৃষ্টিতে একটা সিম্পল মিস্ট্রি ফিল্ম মনে হলেও এই মুভিতে সোশ্যাল রিয়ালিজম এর অনেক ব্যাপার স্যাপার আছে। হিউম্যানিটিকে স্যাটায়ার করা হয়েছে অনেকভাবে।সঙ্গে সঙ্গে  নর্স মিথোলজির সাথে মিলমিশ খাইয়ে এমন একটা অস্থির ফ্যান্টাসি মুভির অবতারণা করা হয়েছে যে প্রশংসা না করে পারা যায় না।প্রথমদিকে একটু স্লো হলেও শেষের দিকে একটা দারুণ থ্রিল উপভোগ করতে পারবেন।তার উপর টিনা এবং তার বাবাকে নিয়ে হাল্কা পাতলা ফ্যামিলি ড্রামার ছোঁয়াও পেয়ে যাবেন।অনেক ডিস্টার্বিং সিনে পরিপূর্ণ থাকলেও শেষে একটা অদ্ভুত প্রশান্তির দৃশ্য দিয়ে মুভিটার এন্ডিং।মুভিটায়ে বিশদভাবে আলোচনা করার অনেক বিষয়বস্তু আছে,আপনি দেখলে মোটামুটি ফিল করতে পারবেন।যেহেতু রহস্য এবং টুইস্ট আছে তাই সবকিছু নিয়ে আলোচনা করার স্কোপ কম।স্পয়লার হয়ে যাবে।তবে এটা বলব যে, পুরো মুভিটাই একটা সাররিয়াল এক্সপেরিয়ান্স।
অভিনয়ের দিক থেকে অন্য সবকিছু থেকে ছাড়িয়ে গেছে এই মুভি।মূল চরিত্রে এভা মালেনদার এবং এওরো মিলানফ রীতিমতো ‘দানবীয়’ পারফরম্যান্স দিয়েছেন।সিনেমাটোগ্রাফি এবং প্রোডাকশন ডিজাইন গ্রেট।সব মিলিয়ে আলি আব্বাসির দারুণ একটা সিনেমা দাড় করিয়েছেন।যদিও সুইডেন থেকে মুভি অস্কারের জন্য পার্টিসিপেট করলেও নমিনেশন পায় নি।একমাত্র কৃতিত্ব মেক আপ এবং হেয়ার স্টাইলিং এ নমিনেশন।
মুভির ত্রুটির মধ্যে আমার চোখে যেটা লেগেছে যে একটা দুইটা টুইস্ট আন্দাজ করতে পেরেছি।তবে আমি পেরেছি বলে অন্য সবাই পারবে সেটা আমার মনে হয় না।তবে এই টপ নচ ফিল্মটা সবার আননোটিসড যেন না থেকে যায় তাই আমি রেকমেন্ড করব মুভিটা দেখতে।
হ্যাপি ওয়াচিং!

Bates Motel (American Web Series) রিভিউ




একজন মায়ের কাছে সন্তানের থেকে বড় আর কি হতে পারে?? আর সন্তানের কাছে মায়ের জায়গাটা ঠিক কোন জায়গায়??
হ্যাঁ, আজকে আপনাদের যেই সিরিজের কথা শোনাতে যাচ্ছি তা গড়ে উঠেছে একটা অন্যরকম, অদ্ভুত মা-ছেলের সম্পর্ক নিয়ে। যেটা শুধুই একটা টিনএজ ছেলের সাথে মায়ের গল্প বললে ভুল হবে। মা-ছেলের সম্পর্ক কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ আর মধুর হতে পারে শুধু সেটা না, কখনো কখনো সেটা কতটা ভয়ানক হতে পারে সেটাই দেখবেন নরম্যান বেটসের মাধ্যমে। বিকৃত পরিবেশে বেড়ে ওঠা একটা ছেলের অসুস্থ মানসিক বিকাশ আর মায়ের ছেলের উপর আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা এমন ভয়ংকর হতে পারে সেটা হয়ত ছেলেটিকে বাইরে থেকে দেখে আন্দাজ করতে পারবেন না। নরম্যান কতটা ভালবেসে একসময় মায়ের অস্তিত্ব নিজের মাঝে ধারণ করে ফেলে, সেই গল্প নিয়ে এগিয়ে যাবে সিরিজটি। অত্যন্ত বিনয়ী এবং সৎ মনের ছেলেটি একসময় মানুষ খুন করতেও দ্বিধা করে না। কিন্তু কেন? এই খুনের জন্য সত্যিই কি নরম্যান দায়ী, নাকি যাকে ঘিরে তার পৃথিবী সেই মা দায়ী?
 প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে অবশ্যই সিরিজটির সবগুলো সিজন দেখতে হবে।

সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারপ্রেমীদের জন্য এককথায় মাস্টারপিস মুভি বানিয়েছিলেন আলফ্রেড হিচকক। রবার্ট ব্লকের সাইকো উপন্যাস অবলম্বনে "সাইকো" (১৯৬০) মুভিটির আলোকেই এই "বেটস মোটেল"। মুভিটি যারা দেখেছেন তাদের জন্য মাস্ট ওয়াচ সিরিজ এটা৷ প্রথম ৪টি সিজনে মূলতঃ "সাইকো" মুভির পূর্বাবস্থা দেখানো হবে। মানে মুভির প্রিকুয়্যাল বলতে পারেন। আর সিজন-৫ "সাইকো" মুভিটিকেই মডিফাই করে বানানো হয়েছে। সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারপ্রমীদের জন্য মাস্ট ওয়াচ সিরিজ এটি। তবে আমি বলব যারা "সাইকো" দেখেননি সিরিজ শুরু করার আগে "সাইকো" দেখে নিন। "সাইকো"র আরো ২টা সিকুয়্যাল মুভি আছে। সেগুলোও দেখে নিতে পারেন।

মুভির গল্পের সাথে সাথে আপনাকে যেটা সবথেকে বেশি আকৃষ্ট করবে সেটা হলো মা-ছেলের অসাধারণ অভিনয়। কাহিনীর সাথে সাথে তাদের অভিনয়ের মধ্যে আপনি ঢুকে যেতে বাধ্য। মায়ের চরিত্রে (নর্মা বেটস) অভিনয় করেছেন ভেরা ফারমিগা। "কনজুরিং"-এর বদৌলতে আমরা অনেকেই তাঁর অভিনয় দক্ষতা সম্পর্কে জানি। এখানেও তিনি খুবই সাবলীল অভিনয় করেছেন। তবে নরম্যান বেটসের চরিত্রে অভিনয় করা ফ্রেড্ডি হিফমোরে নিজেকেও ছাড়িয়ে গেছেন এই সিরিজে। শুধু তাঁর অভিনয়ের জন্যও সিরিজটা মনে গেঁথে যেতে বাধ্য করবে আপনাকে। টিনএজ বয়সেই এত সাবলীল অভিনয় এককথায় আমাকে তাঁর ফ্যান বানিয়ে দিয়েছে। সিরিজটিতে তাঁর অভিনয় কখনো আপনাকে তাঁর প্রতি করুণা জাগাবে আবার কখনো ঘৃণা। কিন্তু অভিনয়ে মুগ্ধ হবেন অবশ্যই।

আমাকে সিরিজটি এতটাই আকৃষ্ট করে ফেলেছিল যে, টানা ৬দিনেই ৫টা সিজন শেষ করে ফেলেছি!!
প্রতিটি সিজনে ১০টি করে এপিসোড। টোটাল রানিং টাইম প্রায় ৩৮ঘন্টা। তো দেরি না করে দেখে ফেলুন। আশাকরি ভালো লাগবে।
Happy watching...😊😊😊
Total season -5 (2013-2017)
Genre: Psychological thriller
IMDB : 8.2
Rotten Tomatoes : 93%

V for Vendetta Movie Review || মুবি রিভিউ


একটি অভ্যুত্থানের মহাকাব্য

দেশের যখন সংকট মুহূর্ত,যখন অন্তঃশত্রুর উল্লাস অভিযানে দেশের স্বাধীনতা ভূলুন্ঠিত,যখন রক্তচক্ষু শাসকের নির্যাতন চরমে,যখন স্বাধীনতার মোড়কে বেষ্টিত পরাধীনতার বিষজ্বালায় জর্জরিত মানুষ মুক্তি কামনায় উদ্বেল অস্থির, যখন রাষ্ট্রের শাসক নিজেই হয়ে পড়ে সর্বোচ্চ শোষক, আইনের রক্ষক যখন আবির্ভূত হয় ভক্ষকরূপে তখন রাষ্ট্রের মুক্তি হয়ে পড়ে অবশ্যম্ভাবী,সে অবশ্যম্ভাবীকে সম্ভব করতে প্রয়োজন হয় একটি বিপ্লবের, আর বিপ্লবের বীজ নিহিত থাকে একটি আইডিয়ার মধ্যে৷আইডিয়া মানে একটি স্ফূরণ,একটি জাগরণ, একটি অভ্যুত্থান৷ এই আইডিয়াই অন্ধকারের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত জাতিকে মুক্তির আলোয় উদ্ভাসিত করতে পারে, ক্ষমতার সুউচ্চ মসনদ থেকে অত্যাচারী শাসককে টেনে হিচড়ে নামিয়ে আনতে পারে জনতার কাতারে, একটি আইডিয়াই যুগ যুগ ধরে বয়ে চলা দাসত্বের শৃংঙ্খল থেকে মুক্তি দিতে পারে, উন্মোচন করতে পারে একটি নতুন দিগন্তের, যেখানে মনুষ্যসৃষ্ট বৈষম্যের বেড়াজাল ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে,সৃষ্টি হবে ভারসাম্য৷ আর এই আইডিয়া যাঁর মস্তৃষ্ক প্রসূত, যিনি এর ধারক ও বাহক,তিনি হন একজন নেতা, একজন বিপ্লবী৷ শত বছরের অপেক্ষার পর একজন নেতার আবির্ভাব ঘটে৷ আইডিয়ার ধারক যেহেতু মানুষ তাই তাঁর মৃত্যু হতে পারে৷ কিন্তু একটা আইডিয়ার কখনোই মৃত্যু হয় না৷ আইডিয়াকে বুলেটবিদ্ধ করা যায় না,আইডিয়া অবিনশ্বর,অনন্ত-অক্ষয়,অবিনাশী৷ বেনিয়া শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে একটা আইডিয়াই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বাহিত হয়ে, একসময় হয়ে যায় যুগ পরিবর্তনের প্রধান নিয়ামক৷

নিকট ভবিষ্যতের ইংল্যান্ড৷ রাষ্ট্রনায়ক সাটলার পাড় করছেন ক্ষমতার চূড়ান্ত সময়৷ বাহ্যিক দৃষ্টিতে মনে হয় উন্নতির চরম শেখরে অবস্থান করছে দেশ৷ কোথাও অশান্তি,বিশৃংঙ্খলা নেই৷ সর্বত্র বিদ্যমান সুখ আর সমৃর্দ্ধি কিন্তু রাষ্ট্রের ভেতরকার রূপ ঠিক উল্টো৷ সে রূপ বিভৎস আর কদর্যতায় পূর্ণ৷ নাগরিকদের নিরাপত্তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নিজেই হরণ করছে নিরাপত্তা৷ নিরাপরাদ মানুষদের ধরে নিয়ে করা হচ্ছে অমানিক পরীক্ষণ,ধর্মকে হাতিয়ার করে চলছে স্বৈরাচারের ভিতকে শক্ত করার পায়তারা,রাষ্ট্রযন্ত্রের বিপরীত চিন্তাধারীকে যেতে হচ্ছে দমন-পীড়ণের মধ্য দিয়ে এমনকি তাদেরকে হত্যা করতেও কুন্ঠিত হচ্ছে না শাসকগোষ্টী৷ বহুবছর ধরে চলা এ শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্র যেন নিজেই অভ্যস্থ হয়ে পড়েছে, মানুষের মননে  জং ধরে গেছে, মূক-বধির জনতার ব্যক্তিসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ভোতা, রাহুগ্রস্থ মানুষ জীবন ধারনকেই মনে করছে অভিষ্ট লক্ষ্য৷ এমন অসার,জড়তাগ্রস্থ সিস্টেমে জমা হওয়া আবর্জনার স্তুপ ধোয়ে-মুছে সাফ করার জন্য, বহুবছরের পুরনো একটি আইডিয়া ধারণ করে, মুক্তির পয়গাম নিয়ে হাজির হন একজন ত্রাণকর্তা,A man under mask. মুখ তাঁর মুখোশে আর সারা দেহ তার কালো আলখাল্লায় ঢাকা৷

এ বেশেই তিনি রাষ্ট্র সংস্কারের মিশনে নামেন৷ সম্পূর্ণ একা আর নিঃসঙ্গ অবস্থায়৷  রাষ্ট্রের কিছু দুর্নীতিবাজ,লম্পট অফিসারদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে একটি মেয়েকে বাঁচানোর পর,তাঁর কিম্ভুতকিমাকার সাঁজ দেখে বিস্ময় নিয়ে মেয়েটি যখন জানতে চায়, Who are you? তখন তিনি বলেন," Who? Who is but the form following the function of what and what I am is a man in a mask. একটা ছোট মনোলগের মাধ্যমে তিনি যখন নিজ পরিচয়ের বর্ণনা দেন তখন বিস্ময় নিয়ে মেয়েটি তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকে,বিস্ময়ের শেষে তাঁর নাম জানা যায় "V"৷

V একটি রূপক, প্রতীকী নাম৷ এই নামের পেছনেও রয়েছে ইতিহাস৷ সে ইতিহাস নৃশংসতার, লোমহর্ষক আর ভয়ংকরের৷  অত্যাচারের সর্বোচ্চ সীমা থেকে বেঁচে ফেরা এক নির্যাতিতের বক্ষে দ্রোহের অনল নিয়ে জেগে উঠার গল্প৷কারাগারে এক ভয়াবহ এক্সপেরিমেন্টের মুখ থেকে কাকতালীয়ভাবে বেঁচে ফেরার গল্প৷ আত্মপরিচয়ের মনোলগে সে প্রায় চল্লিশটি V দ্বারা গঠিত শব্দের মাধ্যমে নিজের পরিচয় দেয় ৷ মুভির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রোমান হরফ V মানে পাঁচের ছড়াছড়ি৷ এমনকি ছিলো Faust থেকে নেয়া বিখ্যাত ডায়লগ, 'Vi Veri Veniversum Vivus Vici'. V কে যে কারাগারে থেকে অমানবিক পরীক্ষনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল সেটার নাম্বার ছিলো পাঁচ বা রোমান অক্ষর V.

আলোচিত সিনেমার নাম V for vendetta. এটি শুধু একটি সিনেমা নয়,এটি একটি বিপ্লবের মহাকাব্য৷এ মহাকাব্যের সূচনা হয় নারী কন্ঠে আবৃত্তি করা একটি কবিতার মাধ্যমে,

Remember, remember,
the fifth of November,
the Gunpowder Treason and Plot;
I know of no reason,
why the Gunpowder Treason,
 should ever be forgot.

গান পাউডার ট্রিজন, বিপ্লবের পেছনের ইতিহাস,গল্পের পেছনের গল্প৷সালটা ছিল ১৬০৫৷ ব্রিটেনজুড়ে চলছে রাজা প্রথম জেমসের শাসন৷ খ্রীষ্টধর্মের তিনটি শাখার একটি হলো ক্যাথলিক৷ এসময় ক্যাথলিকদের উপর নেমে আসে অত্যাচারের খড়গহস্ত৷ ক্যাথলিক নিধন চলতে থাকে নির্বিচারে৷ ক্যাথলিকদের মনে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে বিন্দু বিন্দু ক্ষোভ জন্মাতে শুরু করে একসময় তা সিন্ধুর আকার ধারণ করে৷ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে মানুষ যা করে,সেটাই হলো৷ জন্ম দিল একটি আইডিয়া৷ গানপাউডার দিয়ে পুরো পার্লামেন্ট ভবন উড়িয়ে দেয়ার আইডিয়া ৷ এ গল্পের নায়ক দুজন, গাই ফকস আর রবার্ট ক্যাটসবি৷ ধার্য করা হলো পাঁচই নভেম্বর বাস্তবায়ন করা হবে আইডিয়া৷ পরিকল্পনা মোতাবেক গাই ফকস গান পাউডার আর শুকনো কাঠ নিয়ে উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে৷ কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার দরুণ রাজপরিবার জেনে যায় ঘটনাটি৷ হাতে নাতে ধরা পড়ে গাই ফকস৷ এ অপরাধে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয় গাই ফসকসের আর গুলি করে হত্যা করা হয় রবার্ট ক্যাটসবিকে৷ আপাত দৃষ্টিতে একটি আইডিয়ার মৃত্যু হতে দেখা যায়, একটি অভ্যুত্থান ব্যর্থ হতে দেখা যায়৷ কিন্তু আইডিয়ার মৃত্যু নেই, সময়ের প্রয়োজনে সে প্রবল বেগে ধেয়ে আসে দুর্নীতিগ্রস্থ রাষ্ট্রযন্ত্রকে নির্মূল করে দিতে৷ সিনেমার নায়ক V সে তেজে তেজোদীপ্ত একজন প্রতিবাদী৷

 সিনেমার প্লট মূলত একই গঠনাকে উপজীব্য করে ১৯৯০ বের হওয়া এলান মুরের V for vendetta কমিক সিরিজের অনুকরণে তৈরী৷ DC Comics এর এই সিরিজের গ্রাফিকস আর্টিস্ট ছিলেন ডেভিড লয়েড৷ V এর মুখোশের পেছনের কারিগরও তিনি৷ এই মুখোশটা তখন খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠে৷ সিনেমার প্লট কমিকসের প্লট থেকে কিছুটা ভিন্ন৷ সিনেমা দেখার পর এলান মুর পরিচালকের প্রতি এতোটাই বিরক্ত ছিলেন স্টোরি রাইটার থেকে নিজের নামটা পর্যন্ত প্রত্যাহার করে নেন৷ এলান মুর সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও লক্ষ কোটি সিনেপ্রেমীর চোখের মণি হয়ে আছে V for vendetta.

সিনেমার শুরুতেই বিস্ফোরণের মাধ্যমে আদালত ধ্বংস করে রাষ্ট্রযন্ত্রের নিকট নিজের অস্তিত্বের জানান দেয় V. এতে সন্ত্রস্থ হয়ে পড়ে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারকেরা৷ স্বৈরাচারী সাটলার ঘোষণা দেয়, যে করেই হোক ধরতে হবে এ আতঙ্কবাজকে৷ দায়িত্ব পড়ে হেড অব পুলিশ ক্রিডি এবং ফিঞ্চের উপর৷ V কে খোঁজতে শুরু হয়ে যায় চিরুণী চল্লাশী৷ এদিকে হঠাৎ একদিন রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলকে জিম্মি করে V একটি ভিডিও বার্তা প্রচার করে৷ এতে নির্জীব হয়ে পড়া জনগনকে গান পাউডার ট্রিজনের কথা মনে করিয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রের দুর্নীতি আর স্বৈরাচারের চিত্র তুলে ধরে ভোতা হয়ে যাওয়া চিন্তা শক্তিতে গতিসঞ্চারের আহবান জানান৷ ব্রিটেনের জনগনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম আর যুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে জনতাকে কলুষণের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের ডাক দেন৷ সেজন্য তিনি পরের বছরের পাঁচই নভেম্বর পার্লামেন্ট ভবণ উড়িয়ে দেবার বার্তা দেন৷ এ বার্তা জনমনে সুপ্ত প্রতিবাদের ঘিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়৷ পরিবর্তনের এ ডাক আলোড়িত করে তাদের৷ দিন চলে যায়,এগিয়ে আসে পাঁচই নভেম্বর৷ এদিকে V থাকে ধরাছোঁয়ার বাহিরে৷ ফলে স্বৈরশাসকের আতঙ্ক অবস্থান করে চূড়ান্তসীমায়৷ নিছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয় পার্লামেন্ট ভবণের চারদিকে৷ পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকেও নামিয়ে দেয়া হয় মাঠে৷ এতো প্রতিকুলতার মধ্যে কি V পারবে তার এতোদিনের প্ল্যান সফল করতে?
জানতে হলে দেখতে হবে V for Vendetta সিনেমাটি৷

সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক তার সংলাপ৷ লিখে বাঁধাই করে রাখার মতো বহু সংলাপ আছে৷

”People shouldn’t be afraid of their government, Governments should be afraid of their people ”

"Everybody is special. Everybody. Everybody is a hero, a lover, a fool, a villain. Everybody. Everybody has their story to tell ”

” Happiness is the most insidious prison of all.”

কালো আলখাল্লায় দেহ আর মুখোশে মুখ ঢেকে পুরো সিনেমা জুড়ে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন V চরিত্রে হিউগো ওয়েভিং৷ একজন অভিনেতার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো অভিনয়ের সময় মুখের অভিব্যক্তি৷ কিন্তু এই অভিব্যক্তি প্রকাশের কোন সুযোগই ছিল না ওয়েভিংয়ের৷ সে অভাবটা বোধ হতে দেবেই না তাঁর কন্ঠ৷ জাদুকরী কন্ঠে ডায়লগ ডেলিভারি করে সম্পূর্ণ সিনেমা মাতিয়ে রেখেছেন তিনি৷ এ সিনেমায় অভিনয় করে অভিনয় সত্তাকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায় যেখানে দর্শক মন্ত্রমুগ্ধের মতো পর্দায় তাকিয়ে দেখা ছাড়া অন্য উপায় নেই৷
নাটালি পোর্টম্যান সমদক্ষতায় অভিনয় করে গিয়েছেন ওয়েভিংয়ের সাথে৷ সিনেমায় তাকে দুটি আলাদা লুকে দেখা যায়৷ প্রতিটি লুক আলাদা সত্তাকে বহন করে৷ সিনেমার পট পরিবর্তনে রয়েছে সত্তাদুটোর সম পরিমান ভুমিকা৷
সিনেমার আরেকটি শক্তিশালী দিক স্ক্রিনপ্লে৷ একটু সময়ের জন্যেও বোরিং লাগবে না এই স্ক্রিনপ্লের কারণে৷ ঘটনার পর ঘটনার উপস্থিতির যে নিরবিচ্ছিন্নতা,তা সিনেমাকে টান টান উত্তেজনায় রাখে পুরো সময়৷ সিনেমার পরিসমাপ্তি এনে দেবে তৃপ্তির ঢেকুর৷
সময়ের ব্যবধানে প্রতিটি রাষ্ট্রেই একজন করে V এর জন্ম হয়৷ অত্যাচারী ক্ষমতাধরের টুটি চেপে ধরে জনতার অধিকার ফিরিয়ে দিতে যুগে যুগে তাদের আবির্ভাব এক সজীব প্রফুল্লের বার্তা বয়ে আনে৷ ক্ষনজন্মা সেসব নায়কদের পদতলেই রচিত হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়৷

ফাগুন হাওয়ায় রিভিউ ২০১৯



ভাষা আন্দোলনের উপর নির্মিত ছবিটি টিটো রহমানের "বউ কথা কও" উপন্যাসের ভিত্তিতে নির্মিত।
এতে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ, নুসরাত ইমরোজ তিশা,যশপাল শর্মা(ভারতীয়),আবুল হায়াত,ফজলুর রহমান বাবু  সহ আরো অনেকে।

প্রথমেই বলতে হয় এদেশে বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের উপর ছবিই নির্মিত হয় না।
এক্ষেত্রে তৌকির আহমেদ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ছোট্টো করে হলেও তুলে ধরতে চেয়েছেন।

ছবিটিতে প্রথম প্লটেই দেখা যায় যশপাল শর্মার (ওসি) গ্রামে প্রবেশ।
প্রবেশের পর থেকেই বাঙালিদের উপর নিষ্ঠুরতা,অত্যাচারের চিহ্ন ফুটে ওঠে।
বাংলা ভাষায় কথা বলা প্রত্যেক ব্যাক্তি এমন কি পাখির উপরও তার নির্যাতন,বর্বরতা কমে না।

দেয়ালে লিখন,রাজনৈতিক আলাপ, পশ্চিম পাকিস্তান তথা ছবিতে উল্লেখিত দেশ বিরোধি কথা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে ছবিতে।

যশপাল শর্মা তথা পাকিস্তানি পুলিশ অফিসার এর চরিত্রটি উনি ভালো ভাবেই অভিনয় করেছেন।
তিশা আর সিয়াম এর চরিত্র নিয়ে বলার কিছু নেই কারণ তাদের অভিনয়ে অন্তত আপাত দৃষ্টিতে না ছিলো কোনো খুত না অভার এক্টিং।
হ্যা তবে সিয়ামের চরিত্রটা আরো প্রতিবাদি করে তোলা যেতো।
ফজলুর রহমান বাবু ভাই বরাবরের মত নিজেকেই তার অভিনয় দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন।তার অভিনয় দেখে মুগ্ধতা ছাড়িয়ে যেতে বাধ্য।
এছাড়া পার্শ্ব চরিত্রে রওনক হাসান,সাচ্চু ভাই,সাজু খাদেম, সবাই সবার চরিত্র অনেক সুন্দর করে অভিনয় করেছেন।

এইটা শুধু ভাষা আন্দোলনের ছবি না সুন্দর একটি প্রেমেরও ছবি।পরিচালক কম বেশি করে হলেও সুন্দর করে সেখানে সেই পরিবেশে যুক্তি সঙ্গত ভালোবাসা উপস্থাপন করেছেন।
এছাড়া ছবিতে কমেডি,ড্রামা,হাসি,কান্না,ইমোশন সবকিছুরই ছোঁয়া রয়েছে।ব্যাকগ্রাউন্ডে তোমাকে চাই গানটির সুর যতক্ষণ ছিলো তা ছিলো মুগ্ধকর।

তবে ছবিতে শুধু ভাষা আন্দোলনের দিন পর্যন্ত তথা ২১  ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গ্রাম্য পটভূমিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের পরিবর্তি কিছু ঘটনা তুলে ধরলে আরো ভালো হতো বলে আমি মনে করি।সর্বোপরি এইটি আমাদের  ছবি, আমাদের বাংলা ভাষার ছবি।
প্রত্যেক বাঙালির এই ছবিটি দেখা কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

একটা কথা না বললেই নয়,
চিত্রনায়ক আরিফিন শুভ বলেছেন,

"ফ্রিতে দেখার আমন্ত্রন ছেড়ে টিকিট কেটে "ফাগুন হাওয়ায়" দেখলাম।
বাংলাভাষীরা যদি এ ছবি না দেখে তাহলে  সেটা তাদের ক্ষতি, ছবির নয়...."

কথাগুলো অন্তত সবার বোঝা উচিত যে কতটা গভীরতা রয়েছে কথাগুলোয়।
বাঙালি হিসেবে অনুরোধ সবাই অন্তত এই ছবিটি দেখবেন হলে যেয়ে। বাংলা চলচিত্রের ভালো ছবিগুলো আমরা আপনারা সাপোর্ট না করলে কে আর করবে?

Sui Dhaga Movie Review


লিড রোলে আনুস্কা শর্মা (যার অভিনয় শর্মা কাবাবের মতোই টেস্টি) আর বরুন ধাওয়ান (নাহ্ এই ছেলে খালি এন্টারটেইনিং আর ওভার দ্য টপ এক্টিংই করে না হৃদয় টাচ করা এক্টিং করা এক্টিংটাও পারে)
কাহিনী নির্যাসঃ একজন লুজার মওজি আর তার অতি সহনশীল বুদ্ধিমতী স্ত্রী মমতার কাহিনী। যারা নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে একসময় তাদের স্বপ্নে সফল হয়।
আনুস্কা আগেও নিজেকে ভাংসে কিন্ত গ্ল্যামারের মধ্যে থেকেই। ২০১৮ তে পারি,সুই ধাগা এরপরে জিরো তিনটাতেই নন গ্ল্যামারাস পুরাপুরি ডিফারেন্ট তিনটা ক্যারেক্টার করলো এত ভার্সেটালিটি আর কোন বলিউড একট্রেস রিসেন্ট টাইমে দেখাইসে মনে পড়ে নাই তবে আলিয়াও যথেস্ট ভার্সেটাইল। বরুন ধাওয়ান এরে শুরুর থেকে ২০১৭ পর্যন্ত দেখলাম এক বদলাপুর ছাড়া সব একই রকম ক্যারেক্টার করতে।২০১৮ তে অক্টোবর এরপরে এই সুই ধাগা দেখার পরে মনে হইলো এই ছেলেরে এতদিন খালি সালমান খান যেগুলা বয়সের কারণে করতে পারতো না খালি সেগুলার জন্য ব্যাবহার করতো। নিজের আইডেন্টিটি ক্রিয়েট করার চেষ্টা করসে ২০১৮ তে এসে। বলিউড ইজ ইন সেফ হ্যান্ডস নিউ জেনারেশন ও এক্টিং পারে।

মুভিটা মাটি ঘেষা। লাস্টে ফিল গুড ফিলিংস হয়।

২০১৮ আসলে বলিউডের জন্য ভালো অর্থে ট্রানজিশনাল পিরিয়ড। খানদের ঝা চকচকে মুভিগুলার ভরাডুবি হইসে আর এইরকম কন্টেন্ট নির্ভর মুভি মানুষকে টানসে,হিট হইসে। যদিও আমি শাহরুখের ফ্যান তাও ব্যাপারটায় খুশি।

মাই রেটিং: ৮/১০
আইএমডিবি রেটিং: ৬.২/১০

SARKAR MOVIE REVIEW 2018


এই ছবিটা মূলত লেখা হয়েছে দেশের নির্বাচনকে ঘিরে৷ মানুষের ভোট প্রদানের ক্ষমতা নিয়ে৷ তাদের বাক স্বাধীনতা নিয়ে৷ তাদের শোষন এর থেকে কিভাবে বের হতে হবে তা নিয়ে৷

আমরা গল্পে দেখতে পাবো একজন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ম্যানকে৷ যাকে বলা হয় "মনস্টার" ব্যবসায় ক্ষেত্রে যার অনেক নামডাক আছে৷ তিনি তার নিজস্ব বিমানে করে দেশে এসেছেন শুধুমাত্র মাত্র ভোট দেবেন বলে৷ এরপর আবার চলে যাবেন অ্যামেরিকা৷ কিন্তু তিনি ভোট কেন্দ্রে ঢুকে দেখেন তার ভোট আগেই হয়ে গেছে৷ অন্য কেউ তার ভোট দিয়ে দিছেন৷ আমি আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে যেমন মন খারাপ হবে৷ উনারও তাই হয়েছে৷ এতো কষ্ট করে দেশে আসলো ভোট দিতে আর হলো উল্টাপাল্টা৷ কিন্তু তিনি তো ছেড়ে যাবার পাত্র নন৷ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে তার অধিকার আছে যেমন ভোট দেবার৷ তেমনই ভোট না দিতে পারার কারণে তার অধিকার আছে এটার বিরুদ্ধে মামলা করার৷ তিনি অবশেষে ডিসিশন নিয়েই নেন মামলা করবেন৷ তাকে অনেকে মানা করেছে ঝামেলাতে না জড়াতে কিন্তু সে তার ডিসিশনে অনড়৷ এদিকে আগামীকাল ভোটের রেজাল্ট৷ সাবেক ক্ষমতায় থাকা মন্ত্রী মিনিস্টাররা আগেই তো সবার ভোট দিয়ে দিছেন৷ মামলাতে জিতে গেলে পুনরায় ভোট হবে৷ কিন্তু ফের ভোট হলে, এরা কোনোদিনই ক্ষমতায় আসতে পারবে না৷ তাছাড়া তাদের এতো কোটি টাকা সব জলে যাবে৷ তাই তারা ডিসিশন নেয় দেশে একটা চোরা হামলা করবে৷ নায়ককে মেরে ফেলবে৷ এতোকিছুর পরেও কি ভদ্রলোক তার ভোট দেবার ক্ষমতা পাবেন? নাকি সমাজের নির্মম রাজনীতির কাছে প্রাণ দিতে হবে তাকে৷ হাতে সময় থাকলে দেখে নিতে পারেন মুভিটি৷ এই মুভিটি আমাদের দেশের নির্বাচন এবং রাজনীতির জন্যে বড় একটা লেসন৷

মুভিতে পছন্দে কিছু ডায়লগঃ

মন্ত্রীর ডান হাত যাকে সহজ বাংলায় বলে চামচা তিনি ভদ্র লোকটাকে বলেন৷ ভাই মাত্র একটা ভোটই তো৷ এটার জন্যে এতো হাউকাউ করার কি আছে? ভদ্রলোক বললেন "এই একটা মাত্র ভোটের জন্যেই কত কত নির্বাচনের প্লট পাল্টে গেছে জানেন আপনি? একটা ভোটও কতটা গুরত্বপূর্ণ? অ্যামেরিকা আর জার্মানে ভাষা নিয়ে ভোট হয়৷ সেখানে এক ভোটে ইংলিশ ভাষা এগিয়ে যায়৷ হিটলার নাজি পার্টিতে মাত্র একটা ভোটের কারণে এগিয়ে যায়৷ এমনকি অনেকে মাত্র এক ভোটের কারণে হেরে গেছে৷

এই মুভিতে আরেকটা ডায়লগ ছিলো, বিরোধী দলকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেবেন সেটা কিন্তু কাম্য নয়৷ বিরোধী দল না থাকলে দেশে কোনো গনতন্ত্র থাকতে পারে না৷

আপনারা তো নির্বাচনে কতশত ইশতেহার দেন, তাহলে মানুষ না খেয়ে মরে কেন? সুদ দিতে না পেরে সুইসাইড করে কেন?

মুভি - সরকার
দেশ - দক্ষিণ ইন্ডিয়া
পরিচালক - মরুগাদোস
সাল - ২০১৮
অভিনয়ে - বিজয়, কৃর্তি সুরেস
ধন্যবাদ

Mission Impossible : Fallout Movie Review


স্পাই-একশন জনরার সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম মিশন ইম্পসিবল।এ জনরার অন্যান্য সিরিজ থেকে এ সিরিজ অনেকাংশেই ভিন্ন-তা সেটা এর সেট আপ,গিমিক,চরিত্র,একশন দেখলেই বুঝা যায়। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এর প্রধান চরিত্রে একই অভিনেতা কাজ করে চলেছেন এর জন্মলগ্ন থেকেই আর আমরাও (দর্শক) তাকে গ্রহণ করে নিয়েছি সাদরে, পরিচালনায়ও ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কাজ করেছেন এ সিরিজের ৫ নম্বর সিনেমা পর্যন্ত, কোন পর্বের কাহিনীর সাথে অন্য পর্বের তেমন কোন কানেকশন নেই। ১৯৯৬ এ শুরু হওয়া এ মুভি সিরিজের ৬ নম্বর পর্ব ফলআউট মুক্তি পায় এ বছর। অনেকগুলো ব্যতিক্রমের জন্ম দেয়া এ মুভিতে অভিনয়ে ছিলেন টম ক্রুজ, অ্যালেক বোল্ডউইন, ভিং রাইমস, রেবেকা ফারগুসন, সাইমন পেগ, মিশেল মনাহান, শন হ্যারিসের সাথে সিরিজের এ পর্বে যুক্ত হয়েছেন ভ্যানেসা কারবি, এঞ্জেলা বেসেট আর হ্যানরি কাভিল।

ব্যতিক্রমের কথার বিষয়ে বলছিলাম, এটি এ ফ্রাঞ্চাইজির একমাত্র মুভি যার পরিচালক এর আগের পর্ব-এর পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন,স্টিভেন ম্যাকুয়ারি রোগ নেশনের পর আবার ফিরেছেন ফলআউট এর জাহাজ সামলাতে,আরো কিছু ব্যতিক্রমের ভিতর আছে-এটার সাথে সিরিজের অন্যান্য পর্বের  যোগাযোগ আছে আর তা ভালমতোই,সবচেয়ে সরাসরি যদি বলতে হয় তাহলে বলা যায়,৫ নম্বর সিনেমার সিকুইয়েল হচ্ছে এ সিনেমা। এ বছরের অন্যতম সেরা’র তকমা পাওয়া ১৭৮ মিলিয়নে বানানো এ মুভি দেখেছিলাম বেশকিছুদিন আগে সিনেপ্লেক্স-এ, কেমন লাগল আমার আসেন দেখি...

এবারের মিশনে দেখা যায় প্লুটোনিয়াম বাহী তিনটি বোমা উদ্ধারের দায়িত্ব পড়ে ইথানের (ক্রুজ) দলের উপর কিন্তু বার্লিনের সেই মিশনে ব্যর্থ হয় তার দল আর সেই বোমাগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে ঊঠে পড়ে লাগে এপোস্টল নামের এক সংগঠন যারা মূলত বিগড়ে যাওয়া আর বিপথে পরিচালিত সাবেক আইএমএফ এজেন্টদের নিয়ে গঠিত। এ দলের অন্যতম সদস্য হচ্ছে জন লারক আর মূলত সেই এ বোমাগুলো এপোস্টোলের কব্জায় নেয়ার জন্য কাজ করছে, কিন্তু লারকের কোন তথ্য,ছবি সিআইএ,আইএমএফ, এম আই সিক্স কারো কাছেই নেই। কে এই লারক? সিআইএ-এ মিশনের ব্যর্থতার জন্য আইএমএফকে দায়ী করে এবং এ বোমাগুলো উদ্ধারের মিশনে তথা আইএমএফ এর উপর নজরদারী করতে তাদের এক এজেন্ট অগাস্ট ওয়াকারকে (কাভিল) নিযুক্ত করে। পরিস্থিতির গুরুত্ব কয়েকগুণ জটিল হয়ে যায় যখন জানা যায় এ সবের পিছনে সন্ত্রাসী দল সিন্ডিকেট-এর নেতা সাবেক এজেন্ট সলোমান লেনের (হ্যারিস) হাত রয়েছে।কিন্তু সে কিভাবে এগুলো করবে কেননা সে তো এখন বন্দী। আর এসবের মাঝে এম আই সিক্স এজেন্ট এলসা ফস্ট (ফারগুসন) কি করছে? সে কার হয়ে কাজ করছে? ইথান কাকে বিশ্বাস করবে?

সবকিছুতেই ব্যপকতা ছিল এ মুভিতে। আগের পর্ব গূলোকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অদম্য বাসনা বা জেদ কাজ করেছে এর নির্মাতা গোষ্ঠীর।তা এর প্রতিটা ফ্রেমেই বুঝা যায়। কি ক্যামেরার কাজ, সেট, সেট-পিছ, কি এডিটিং, সাউন্ড ডিজাইন, ব্যাকগ্রাঊণ্ড স্কোর, কি স্টান্ট, কি অভিনয়, কি পরিচালনা সব কিছুই আপ্ট। এ সিনেমা শুধূ দেখার জন্য না উপভোগেরও আর সিনেমা মেকার বা ভবিষ্যৎ মেকার যারা মূলত একশন সিনেমা বানাবেন তাদের জন্য এটা দেখা একেবারেই মাস্ট।একের পর এক টুইস্ট আর রোমহর্ষক সব সেট-পিছের সমাহার বলা যায় এ সিনেমাকে। পরিচালনায় ম্যাকুয়ারি অনবদ্য, তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। অভিনয়ে সবাই ভাল করেছেন, বিশেষ করে ৫৬ বছরের তরুণ টম ক্রুজ। তিনি সত্যিই মানুষ না অন্য কিছু। এ সিনেমার জন্য তিনি যা করেছেন তা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়-প্যারিসের ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতিতে মোটরবাইক চালনা, এক ভবন থেকে আরেক ভবনে লাফিয়ে চলা আর সেটা করতে গিয়ে পা ভাঙ্গা, হেলিকপ্টার চালনা শিখা আর সেটা সিনেমায় ব্যবহার, হেলো জাম্প...টম ক্রুজ আসলে মানুষ না এলিয়েন...

কাভিল এ সিনেমার বড় সারপ্রাইজ...এ সিনেমার হাইলাইট অনেক কিছুই তবে আমার কাছে যদি কিছু থাকে তবে তা হচ্ছে এর বাথরুম ফাইট সিন। যেখানে ইনি অনবদ্য। অভিনয়ে অন্যরাও ভাল...

Darty Picture Movie Review || মুভি রিভিউ



দ্য ডার্টি পিকচার!
বায়োগ্রাফিকাল মিউজিকাল ড্রামা মুভি।
এক সময়কার দক্ষিণা নায়িকা সিল্ক স্মিথের জীবনে ঘটে যাওয়া উত্থান-পতন নিয়ে তৈরি, যে ছিল তার ইরোটিক রোলের জন্য বিখ্যাত, পরিচিত ও আলোচিত-সমালোচিত।

সেই ২০১১ সালে মুভিটি রিলিজের পর, দেখেছি বেশ ক'বার কিন্তু তখন তো আর এত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারতাম না, বুঝতামনা, মন ছিল আবেগী!
বার্তা নিরিক্ষার ক্ষমতা ছিলনা!
এডাল্ট মুভি হলেই লুকোচুরি করে দেখাটাই ছিল একটা নেশার মতো, এটা শুধু আমার ক্ষেত্রেই নয়, বয়স ভেদে প্রায় সবারই এমন হয়।

যাকগে থাক সেসব, বিদ্যা বালানের একটু গুণগান না গাইলে কী হয়?

বিদ্যা বালান ন্যাশনাল এওয়ার্ড ও বেশকিছু এওয়ার্ড পেয়েছিল তখন এ ফিল্মের জন্যেই।
কারণ এরকম সাহসী অভিনয়, ও দক্ষ অভিনেত্রী হওয়া আজকালকার অনেকেরই মধ্যেউ নেই এক্সেপ্ট কঙ্গনা।

সংক্ষেপ রিভিউঃ একদা বিয়ের রাতে বাসা থেকে পালিয়ে যায় রেশমা (বিদ্যা) চেন্নাইয়ের উদ্দেশে নায়িকা হওয়ার স্বপ্ন ধারণ করে।
বহুদিন অপেক্ষা করেও অডিশনের লাইনে দাঁড়িয়েও হতাশ হয়ে ফেরে, শুধু হতাশাই না রীতিমতো অপমান করে পাঁচ রুপিয়া দেয়।


দোকানি কে খাবারের অর্ডার করে, সিনেমা হলে তার প্রিয় চরিত্র সুরিয়াকান্ত (নাসিরুদ্দিন শাহ) এর সিনেমার পোস্টার দেখতে পেয়ে না খেয়েই হলে চলে যায় সিনেমা হলে।

হঠাৎ এক লোক তার পা ধরে মালিশ করে প্রস্তাব দেয় দশ রুপিয়া দেওয়ার শর্ত তো থাকছেই.......
দৌড়ে বাহিরে গিয়ে ভাবে, আমার মাঝে এমন তো কিছু আছে যেজন্য লোক টাকা দিতে চায়!

উৎসাহ অনুপ্রেরণা পায় নিজের ভিতর, শ্যুটিং স্পটে যায়। গানের শ্যুটিং চলছে, কিন্তু মডেল নেই!
তখনি রেশমা বলে উঠে "কুচবি কারনে কে লিয়ে তৈয়ার সে"।
আবেদনময়ী হয়ে চাবুকের আঘাতে নিজেকে মেলে ধরে ক্যামেরায়!

শ্যুট হয়।
প্রিমিয়ারে যাওয়ার আগেই ডিরেক্টর আব্রাহাম (ইমরান হাশমি) তা কেটে দেয়, এবং বকাঝকা শুরু করে।

মা-মেয়ে (পালিত- মা) হলে যায় অনেক আশা নিয়ে, অপমানিত হয়ে ফিরে, আবারো হতাশা!
ছবিটিও ফ্লপ হয়, তখনি ক্যামেরাম্যান প্রডিউসার কে বলে স্যার একটা গানের দৃশ্য আব্রাহাম স্যার কেটে দিয়েছে, সায়েদ ঐ গান থাকলে ব্লকবাস্টার হতে পারত!

তখনি প্রডিউসার গানটি দেখে, পুনরায় গানটি সহ রিলিজ দেয় এবং ওকে খুঁজতে বলে এজন্য যে সে মিডিয়ায় আঁগ লাগাবে!

অনেক কষ্টে তাকে খুঁজে পায়, নাম দেয় রেশমা হতে সিল্ক। এবং সরাসরি গানের শ্যুটিং এ সেই স্বপ্নের নায়ক সুরিয়াকান্তের সাথে।
কিন্তু সে পারছেনা, বারবার কাট হচ্ছে, মেজাজ বিগড়ে যায় তার, ফ্যাকাপ বলে রুমে যায়।
পেছনেই সিল্ক তাকে সিডিউস করে এবং লংটাইম সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ রাখার শর্তে এগেইন শটে নিয়ে আসে।
শুরু হয় সেই উলা-লা, উলা-লা গানটি। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না সিল্ক কে.......

আমি শুধু উত্থানের আলোচনা করলাম, পতন বাঁকি, ট্রাজেডি, হতাশা, বিমর্ষ রূপ সবকিছু ছবিতেই পাবেন।

রিলিজের সালে ছবিটি আঠারো প্লাস বলা যায়, কিন্তু আজকালকার মুভি অনুসারে কিছুই না।
তারপরও নিজ দায়িত্বে দেখাই শ্রেয়।

পরিচালনা মিলান লুথ্রিয়া।
উলা-লা, উলা-লা গানে দ্বৈত কণ্ঠ দিয়েছেন বাপ্পি লাহিড়ী ও শ্রেয়া ঘোষাল।


আমার কাছে, ইশ্ক সুফিয়ানা গানটি খুব ভাল্লাগে, এখনো শুনি সবসময়।

ধন্যবাদ।

Sacred Games Season 01 Review || রিভিউ


Sacred অর্থ পবিত্র, পূন্য, পূত, ধার্মিক, ধর্ম সম্পর্কীয়।
তবে আমরা কী বলতে পারি 'পবিত্র গেমস'?
না আক্ষরিক অর্থে বলা যায়না, সম্ভবত ভাবানুবাদে বুঝিয়েছি 'ধর্ম নিয়ে খেলা' জাতিয় কিছু অথবা ধর্ম সম্বন্ধিত কিছু হবে।

কারণ পুরো সিরিজে গডফাদার গাইতোণ্ডে ওরফে গণেশ নিজেকে ভগবান বলেছিল বারবার এছাড়াও হিন্দু-মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যকার কীভাবে দাঙ্গা-ফাসাদ সৃষ্টি করে মানুষ নিজস্ব ফায়দা লুটে সেসবও দেখানো হয়েছে।

যদি আক্ষরিক অর্থে পবিত্র গেমস ভাবি তবে সবচে বড় ভুল হবে, এটিই আমার ধারণা!

দুনিয়ার ভয়ংকর গালাগালি, এবং ন্যুড দৃশ্যে ভরা পুরো পর্বগুলোতে।
সিরিজ দেখে যেকেউ অশ্লীলতায় আর গালিবাজে নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী কে (গাইতোণ্ডে) নোবেল দিতে একপায়ে খাড়া হয়ে আবদার রাখবে যদিনা গালাগালির উপর কোনো পিএইচডি ডিগ্রি পায় তবে সত্যিই সে দাবিদার।

সাইফ আলি খান এত ভালো অভিনেতা, নবাব পৌতদির খান বংশের পোলা, অথচ তার মুখেও বেশ কবার আনসেন্সরড গালি শুনেছি।
রাধিকা অপ্তে তো এমনিতেই নারীবাদী টাইপের তার মুখে আগেও শুনেছি, সে সাহসী দৃশ্যে এক্সপার্ট তাই সেসব বড় করে দেখছিনা। যদিও এ সিরিজে রয় এজেন্টের সিনিয়র অফিসার তিনি তাই ভালোই অভিনয় করেছে।

সিজন একের সবগুলো পর্ব মিলে ৬ ঘন্টা ৩১ মি. ইনক্লুডিং এড। আমার একদিন ডিউটি এবসেন্ট দিতে হয়েছিল দেখতে দেখতে, আমি পুরাই আশ্চর্য হয়েছি প্রথমবার দেখতে বসে কারণ ভারতীয় প্রথম ওয়েব সিরিজ এটি, এবং এর আগে কোনো ছবিতেও এত গালাগালি আর এরকম ন্যুড দৃশ্য খুব কমই দেখেছি অন্তত, বলিউডের।
যদিও চরিত্র মেলাতে অথবা নেটফ্লিক্সের (গ্লোবাল ফ্লার্টফরম)সিরিজ হওয়ায় সেন্সর ছাড়পত্র সহজেই পেয়েছে।


মদ্যপান, ধূমপান করার সময় কোনোপ্রকার এওয়ারনেস সাইন দেয়নি, শুনেছি এজন্য নাকি মামলা খেয়েছে। সোনিয়া গান্ধী ও রাজীব গান্ধী কে (২ বার) কটাক্ষপাত করা হয়েছে এ নিয়েও বেশ সমালচোনায় পড়েছে সিরিজটা।

কাহিনী সংক্ষেপঃ সাইফ আলি খান (সারতাজ সিং) একজন সৎ ও আদর্শ পুলিশ অফিসার, যে তার সিনিয়র অফিসারদের উপর নারাজ, আবার করারও কিছু নেই সাধারণ পোস্টে থাকার জন্যে।

একদিন মিশনে তার বস ইনকাউন্টার করে এক নিষ্পাপ মুসলিম ছেলেকে গুলি করে মেরে ফেলে।
এতে সে হতাশ হয়ে পড়ে, কারণ তাকে বলতে বলা হয় সেলফ ডিপেন্ড করতে গিয়ে গুলি করেছে!
সে ভাবে সত্য ঘটনা বলে দিবে কিন্তু বসের উপর তো আর পারা যায়না, এজন্য দুর্দশাগ্রস্ত হয়।

হঠাৎ তার কাছে ফোন আসে গণেশ গাইতোণ্ডের (মুম্বাইয়ের ১৫ বছরের পলাতক ডন) এবং সে তাকে আল্টিমেটাম দেয় ২৫ দিনের মাঝে এ শহর শেষ করে দিবে। যেহেতু সে সৎ ও নিষ্ঠাবান পুলিশ তাই শহরকে বাঁচাতে বলে তাকে, যদি সে পারে! (ক্ষমতা থাকলে রুখতে)

দুজনের কল ট্র‍্যাপ করে শুনে ফেলে রয় এজেন্ট এ কর্মরত অফিসার অঞ্জলি মাথুর (রাধিকা অপ্তে)

প্রথম দিকে সারতাজ সিং গাইতোণ্ডে কে অবিশ্বাস করলেও তারপর যখন পুরনো ফাইল ঘেটে দেখতে পায় তার নামের 'মামলা' তখনি বিশ্বাস করে তার কথা, এবং চিন্তিত হয়ে সিনসিয়ার হয়ে উঠে।

এবং পঁচিশ দিনে কী হবে, কীভাবে কি হয়েছে পুরো সিরিজ সে কাহিনী নিয়েই এগিয়ে যায়।

কীভাবে একজন সাধারণ ব্রাহ্মনের ছেলে হয়ে ওঠে মুম্বাইয়ের শীর্ষ  সন্ত্রাসীদের ডন (গাইতোণ্ডে) পরিণত হয়েছে সে চিত্রায়ন দেখাতে থাকে, পঁচিশ দিনে ঘটা সম্পূর্ণ কাহিনীতে।

যদিও এ সিজনে ৮ পর্বে এমন ভাবে দ্য এন্ড টেনেছে যা দর্শক কে অতৃপ্ত রেখেছে অনুরাগ ক্যাশপ (পরিচালক) দ্বিতীয় সিরিজ দেখা ছাড়া কিছুই বুঝা যাবেনা, আত্মতৃপ্তিও পাওয়া যাবেনা!

পুরো সিরিজ বিক্রম চন্দ্র নামের একজন লেখকের  "sacred games" উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি।

মূলত ধর্ম নিয়ে খেলা, ধর্ম নিয়ে রাজনীতি, ধর্মকে প্যাটেন্ট, ট্রেডমার্ক দিয়ে কীভাবে মানুষ নিজস্ব সর্বার্থসিদ্ধি উদ্ধার করছে পৃথিবীজুড়ে সেসবের আলোচনায় বেশি, বাস্তবতার মিশেল।

নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকী একমাত্র অভিনেতা যার মুখেই গালিগুলোও হাস্যরসাত্মক মনে হয়েছে এবং চিত্রনাট্য ও তার চরিত্র পারফেক্ট কম্বিনেশন আমার ধারণা অন্যকোন নায়কের আদৌ সম্ভবপর হত না এ চরিত্র।