Know info before watch, but no Spoiler

হ্যারি পটার এর জাদুর স্কুল সমুহের বর্ননা



আমরা একসময় জানতাম হগওয়ার্টস নামক ম্যাজিক স্কুলের কথা...
পার্ট ফোর থেকে আরো 2 টা ম্যাজিক স্কুলের নাম
জানা যায় যেগুলা ইউরোপের মধ্যে আছে।
কিন্তু জে. কে. রাওলিং শুধু ইউরোপ নয়, পৃথিবী জুড়ে
১১ টি প্রধান ম্যাজিক স্কুলের অবস্থানের কথা বলেছেন
এবং তার সাথে ছোট বড় আরো অনেক স্কুল আছে।

হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি স্কুলের কথাই আজ বলব।


১) BEAUXBATONS : ১২৯০ সালে এই স্কুল ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিকতর ফ্রান্সের ছেলে মেয়েরা পড়লেও বেলজিয়াম, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসের
শিক্ষার্থীরা আসে৷ এদের পোশাক নীল সিল্কের কাপড়ে
তৈরী। সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি হগওয়ার্টস কেও হার
মানায়। চারিদিক পাহাড় ও বাগানে ঘেড়া এই স্কুল।
এর ঝড়নার পানি মানুষের রোগমুক্তি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। হ্যারি পটার পার্ট ৪ এই স্কুল ট্রাই উইজার্ড কম্পটিশনে আসে।  এরা যানবাহনের জন্য উড়ন্ত ঘোড়া
ব্যাবহার করে।

যেকোনো প্রতিযোগিতায় এরা ৬২ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে যেখানে হগওয়ার্টস ৬৩ বার।

"নিকোলাস ফ্লামেল" যিনি ফিলোসফার স্টোনের আবিষ্কারক।  তিনি এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন।

২) DURMSTRANG INSTITUTE : ইউরোপের আর একটি স্কুল। যেখানে অধিকতর বুলগেরিয়ান স্টুডেন্ট
পড়ে। ১২৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এটি। ডার্ক আর্ট ম্যাজিক এর জন্য বিখ্যাত এই স্কুল।

মাগলবর্ন এই স্কুলে পড়তে পারত না শুরুর দিকে কিন্তু
পরবর্তীতে মাগলরা সেই সুযোগ পায়।
ভিক্টর ক্রাম ( পার্ট ৪ দেখানো হয়েছে) এই স্কুলের ছাত্র।

বরফে আচ্ছাদিত থাকে এই স্কুল তাই সেখানকার পোশাক
খুব মোটা হয়।

ডার্ক ম্যাজিককে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া স্কুল এটি।
যেখান থেকে " গ্রিন্ডেলওয়াল্ড " পড়াশোনা করেছে।
এবং ১৮৯০ সালের দিক ভয়ানক ডার্ক ম্যাজিক করার
কারণে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়।

৩) ILVERMORNY : "ফ্যান্টাস্টিক বিস্টস" মুভিতে এই স্কুলের নাম শোনা যায়। যেখান থেকে "কুইনি ও টিনা গোল্ডস্টেইন "পাশ করা শিক্ষার্থী ছিল।
এটি আমেরিকায় অবস্থিত। হগওয়ার্টস এর মত এদের
৪ টি হাউজ আছে। " Thunderbird, Wampus, PukwudG, Horned Sarpent."

স্কুলের স্টুডেন্টদের হাউজ সিলেকশন "গর্ডিয়ান নট"
নামক যায়গায় হয় যেটা এনট্রানস হলের সামনেই
অবস্থিত।  হাউজের প্রতীক তাদের স্টুডেন্ট চুজ করে
নেয়। ১৮০০ শতাব্দীতে এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়
এবং ১৯০০ শতাব্দীতে এটিকে হগওয়ার্টসের সমান
জনপ্রিয় মানা হয়।

ইলভারমরনি বাহির থেকে সাধারণ মানুষের চোখে
মেঘের মত মনে হয়।
হগওয়ার্টস ব্যাতিত বাকি ম্যাজিক স্কুলের বর্ণনার
২য় পার্ট এটি। প্রথম টির লিংক পোস্টের শেষে দেয়া।

৪) CASTELOBRUXO : এটি ব্রাজিলের আমাজন রেইন ফরেস্টে অবস্থিত। লাতিন আমেরিকার স্টুডেন্ট
এখানে পড়তে আসে। এটি দেখতে পুরোনো মন্দিরের মত।
"ক্যাসেলোব্রোসো" হগওয়ার্টসের মতই পুরোনো স্কুল।
"কাইপোরা" নামক ছোটো জীব এটার দেখাশোনা করে।
রনের বড়ভাই বিল উইজলির পেনফ্রেন্ড এই স্কুলে পড়ত। আর্থিক অভাব থাকায় "বিল উইজলি" ব্রাজিলে
গিয়ে সেখানে পড়তে পারে নি।

এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাক গাঢ় সবুজ বর্ণের হয়
এবং এরা "হার্বালোজি ও ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচার সাবজেক্ট " এ অনেক পারদর্শী হয়।
ক্যাসেলোব্রোসো একটি পর্তুগিজ শব্দ। যার অর্থ হলো
"জাদুর মহল।"

৫) MAHUTOKORO : এটির অবস্থান জাপানে।
"মাহুতোকরো" একটি জাপানিজ শব্দ যার অর্থ হলো
"জাদুর স্থান।"
এটিই হচ্ছে সবচেয়ে পুরোনো জাদুর স্কুল এবং মজার
তথ্য হলো " কিডিচ" খেলার উৎপত্তি এখানেই।
সবচেয়ে কম স্টুডেন্ট নিয়ে গড়া এই স্কুল জাপানের
আগ্নেয়গিরি পাহাড়ের উপর অবস্থিত যা সাধারন চোখে
জাপানের মন্দিরের মত লাগে।
৭ বছর বয়সেই এদের স্টুডেন্ট সিলেকশন হয়ে যায়।
যদিও বা ১১ বছর বয়স থেকে ক্লাস শুরু করে তারা।

এদের পোশাক প্রথম অবস্থায় গোলাপি কালার এবং
অভিজ্ঞতার সাথে সাথে সোনালিতে পরিনত হয়।
কোনো স্টুডেন্ট রুল ব্রেক করলে তার কাপড় সাথে
সাথে সাদা কালার ধারণ করে এবং তাকে বের করে দেয়া হয়।
নিয়ম কানুন প্রয়োগের জন্য এরা সবখানেই সমাদৃত।

৬) UGADOU : পশ্চিম উগান্ডার "মাউন্টেন অব দ্যা মুন"
এর উপর অবস্থিত। বলতে গেলে সবচেয়ে বড় এবং
বেশি স্টুডেন্ট নিয়ে গঠিত এই স্কুল যা হগওয়ার্টস থেকে
বেশি পুরোনো। এতটাই উপরে অবস্থিত য দেখলে মনে
হয় মেঘে ভাসমান অবস্থায় আছে।
এরা ট্রান্সফিগারেশন, এলকেমি, এস্ট্রোনমি তে পারদর্শী।

স্টুডেন্ট বাছাই প্রক্রিয়া এখানে "ড্রিম মেসেনজার"
মাধ্যমে ঘটে। অর্থাৎ স্বপ্নে বার্তা আসে এবং স্টুডেন্টদের
হাতে একটা পাথর দেয়া হয়। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে
পারে যে তাদের স্কুলে পড়ার যোগ্যতা আছে।

এরা নিজের হাত বা আংগুল দিয়ে জাদু করে।

৭) KOLDOVSTORETZ : এর অবস্থান রাশিয়ায়।
এই স্কুল সম্পর্কে রাইটার এখনো কিছু তথ্য প্রকাশ করেনি।

হগওয়ার্টস সহ এই ছিল ৮ টি স্কুল যার তথ্য প্রকাশ
করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ডফেমাস ১১ টি স্কুল এর মধ্যে এখনো ৩ টি স্কুল কোথায় আছে বা কেমন রাইটার
প্রকাশ করে নি।

নেক্সট "হোগওয়ার্টস" স্কুলের উৎপত্তি আর যেই ৪ জন
তৈরী করেছেন তাদের নিয়ে আলোচনা করব।

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা চেম্বার অফ সিক্রেটস রিভিউ


প্রথম একটি রোমাঞ্চকর বছরের শেষে ডার্সলি ফ্যামিলিতে ছুটি কাটানো হ্যারি তার বাবা মায়ের ছবি দেখছে, এই দৃশ্যের মাধ্যমে ছবি শুরু হয়।  নিচতলায় ডার্সলি পরিবারে উৎসব উৎসব আমেজ। হ্যারিকে বলা হয়েছে উপরে যেন চুপ করে বসে থাকে কোন প্রকার শব্দ না হয়, ভার্ণনের ক্লাইন্ট ও তার স্ত্রী এসব পছন্দ করেন না, হ্যারির ও এসব ঘাটানোর ইচ্ছে নেই, কিন্তু ঝামেলা তার পিছু ছাড়বার নয়, হ্যারির রুমে এসে হাজির হয় হাউজ এলফ ডবি,  হ্যারিকে হাতে পায়ে ধরে সাবধান করে এই বছর হগওয়ার্টসে ফিরে না যেতে, কারন এই বছর ভয়ংকর সব ঘটনা ঘটবে হগওয়ার্টসে, যার প্লট সাজানো হয়ে গেছে, হ্যারি কোন ভাবেই ডবির কথা কানে তুলেনা, তাই ডবি হ্যারিকে আটকানোর জন্য আংকেল ভার্ণনের গেস্টের মাথায় আস্ত কেক ফেলে দেয় আর উধাও হয়ে যায় নাম পরে হ্যারির, আর হ্যারি গৃহবন্দী হয়।
ছুটি শেষ হয়ে আসছে, হ্যারির কোন খবর না পেয়ে তার বন্ধু রন উড়ন্ত গাড়ী নিয়ে আসে রেসকিউ মিশনে, ভার্ণনের বাড়ির জানালা ভেঙে উদ্ধার করে হ্যারিকে প্রথমবারের মতো নিয়ে যায় উইজলি ফ্যামিলির বাড়ি "দ্যা ব্যারো" তে। হ্যারি প্রথমবারের মতো কোন জাদুকরী বাড়িতে গিয়ে রীতিমতো চমকিত হয়,ঘরের সব কাজ জাদুর মাধ্যমে নিজে নিজে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে পুলকিত ভাবটা বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনা হ্যারি, মলি এসে তার ছেলেদের বকাঝকা শুরু করে গাড়ী চুরি করার জন্য, উপর থেকে জিনি উইজলি এসে হ্যারিকে দেখে লজ্জা পেয়ে আবার দৌড়ে পালায়। এমন সময় আবির্ভাব ঘটে আর্থার উইজলির, রনের, জর্জ,ফ্রেড,জিনি উইজিলির বাবা তারা সকলে মিলে বই কেনার জন্য ফ্লু পাউডার দিয়ে ডায়গন আ্যলিতে যায়। কিন্তু হ্যারি আগে ফ্লু পাউডার ব্যাবহার না করায় ভুল করে নকটার্ন আ্যলির একটি দোকানে চলে যায়, সেখানে দেখতে পায় লুসিয়াস ম্যালফয় আর তার ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় কিছু বিক্র‍য় করতে এসেছে।হ্যারি সেখান থেকে এসে রন আর হারময়নির দেখা পায়, তারা সকলে মিলে বিখ্যাত লেখক গিল্ডরয় লকহার্টের দোকানে যায়। হ্যারিকে গিল্ডরয় লকহার্ট চিনতে পারে আর একসেট বই উপহার দেয়। এটা দেখে ম্যালফয় ফ্যামিলির সাথে হ্যারি আর উইজলি ফ্যামিলর দ্বন্দ্ব বাঁধে।
ঝামেলা যেন হ্যারির পিছু ছাড়েইনা, হ্যারি আর রন হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস মিস করে বসে, তারা তাদের উড়ন্ত গাড়ি নিয়ে রওনা হয় হগওয়ার্টসের দিকে। গাড়ি তাদের হগওয়ার্টসে পৌছে দেয় ঠিকি কিন্তু তাদের নামিয়ে নিয়ে নিজে নিজে  ডার্ক ফরেস্টের দিকে চলে যায়। যার বদৌলতে রন তার মায়ের থেকে হাউলার পায়।
প্রফেসর কুইরেল মারা যাবার পর ডার্ক আর্টস ক্লাসের টিচার হয় গিল্ডরয় লকহার্ট! যে কিনা নিজের সুনাম করতেই ব্যাস্ত। অন্য দিকে হ্যারি দেয়ালের ভেতর থেকে কোন অদ্ভুত শব্দ শুনতে পায় যা শুধু একটাই কথা বলে "Kill"
হ্যারি দৌড়ে করিডোরে যায় সেখানে দেখে ফিলচের বেড়াল পোট্রিফাইড হয়ে পরে আছে, আর পাশে লিখা "চেম্বার অফ সিক্রেট খুলে গেছে শত্রুদের উত্তরসূরিরা ভয় পাও"।  পাশ দিয়ে দেখা যায় কিছু মাকড়শা ভবন থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
চেম্বার অফ সিক্রেটস আসলে কি তা প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর কাছে জানতে চায় হ্যারি, উনি উত্তর দেয় হগওয়ার্টসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সালাজার স্লিদারিন এই ক্যাসেলে একটি গোপন চেম্বার নির্মান করে যান। যা একমাত্র তার আসল উত্তরসূরি ই খুলতে পারবেন। আর সেই গোপন চেম্বারের ভেতর রয়েছে মনস্টারের বসবাস। অন্য দিকে হগওয়ার্টসের গোস্ট নিয়ারিলি হেডলেস নিক, কলিন ক্রিভি পেট্রিফাইড হয় রহস্যজনক ভাবে। হ্যারি রন হারমোয়নি ধারনা করে এসব কিছুর পেছনে ড্র‍্যাকোর হাত থাকতে পারে, তাই তারা পোলিজুস পোশন ব্যাবহার করে ক্রাব আর গোয়াল এর রূপ ধরে ড্রাকোর কাছে যায় কথা বের করতে।
এদিকে হ্যারি মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে এসে একটি অদ্ভুত ডায়েরি পায়, যেটায় কিছু লিখলেই গায়েব হয়ে যায়। হ্যারি জানতে পারে ডায়েরীর মালিকের নাম টম রিডল। সে হগওয়ার্টসের একজন প্রাক্তন ছাত্র, হ্যারি ডায়রীর কাছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের ব্যাপারে জানতে চায়, ডায়রী হ্যারিকে দেখায় অনেক বছর আগে হ্যাগ্রিড চেম্বারটি খুলেছিল, যা টম রিডল ধরে ফেলে। আর সে চেম্বারের মন্সটার আসলে একটি মাকড়শা যার নাম এরাগগ।
হ্যারি রন হারমোয়নি হ্যাগ্রিডের কাছে জানতে চায়, হ্যাগ্রিড বলে সে চেম্বার ওপেন করেনি, আর এরাগগ কাউকে হত্যাও করেনি, এই সময় জাদুমন্ত্রী কর্নেলিয়াস ফাজ সাথে লুসিয়াস ম্যালফয় এসে হ্যাগ্রিডকে ধরে আজকাবানে নিয়ে যায় পুনরায় চেম্বার খোলার অপরাধে। যাওয়ার সময় হ্যাগ্রিড বলে মাকড়শা দের অনুসরণ করো, সব উত্তর পাবা। অন্য দিকে হারমোয়নিও অজানা কারনে পেট্রিফাইড হয়ে যায়। রন আর হ্যারি মাকড়শা কে ফলো করতে করতে ডার্ক ফরেস্টের ভেতর চলে যায়, সেখানে দেখা হয় এরাগগ এর সাথে, এরাগগ জানায় চেম্বারে এমন এক মন্সটার আছে যে কিনা শুধু মাকড়শাকেই ভয় পায়। এই কথা বলে এরাগগ হ্যারি আর রন কে খেয়ে ফেলার অনুমতি দেয় তার বাচ্চাদের। সেখান থেকের রনের উড়ন্ত গাড়ি তাদের রক্ষা করে।
কিন্তু তারা কোন ভাবেই বের করতে পারছিলোনা চেম্বারের ভেতর কি রয়েছে কিভাবে এতো ছাত্রছাত্রী পেট্রিফাইড হচ্ছে। এদিকে জিনিয়াস হারমোয়নিও নেই, তারা হারমোয়নির কাছে গিয়ে তার হাতে একটি কাগজ পায়, যেখানে লিখা চেম্বারের ভেতর রয়েছে বাসিলিস্ক। যার চোখে চোখ পরলেই মৃত্যু অবধারিত,  আর বাসিলিস্ক যেহেতু একটা সাপ তাই হ্যারি তার চলাফেরা শব্দ সব টের পায়। কিন্তু কারো চোখ ই সরাসরি বাসিলিস্কের চোখে পরেনি তাই কেউই মারা যায়নি সবাই পেট্রিফাইড হয়েছে।
এসব জানতে পারার পরপর ই রনের ছোটবোন জিনিকে চেম্বারের ভেতর নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে বাঁচাতে গিল্ডরয় লকহার্টের উপর দায়িত্ব পরে। কিন্তু সে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ধরে ফেলে রন আর হ্যারি, তাকে ধরে নিয়ে যায় মোয়ানিং মর্টালের বাথরুমে যেখানে রয়েছে চেম্বার অফ সিক্রেটসের দরজা। হ্যারি পার্সেলটাং ব্যাবহার করে দরজা খুলে ফেলে আর ভেতরে যায় তিনজন, সেখানে লকহার্ট পালাতে হ্যারি আর রনের উপর স্পেল ছুড়ে মারে কিন্তু স্পেল ব্যাকফায়ার করে নিজের ই মেমরী চলে যায়। অন্য দিকে হ্যারি চেম্বারের ভেতর ঢুকে দেখে জিনি মেঝেতে পরে আছে, পাশে দাঁড়িয়ে আছে ডায়েরীতে থাকা টম রিডল। টম রিডল বলে আমার নাম ই লর্ড ভল্ডমোর্ট। আজ জিনি মারা যাবে আর আমি বেঁচে উঠবো, চেম্বার আসলে জিনিকে দিয়ে আমি ই খুলিয়েছি।এবং অনেক বছর আগে আমি ই চেম্বার খুলেছিলাম। আমি ই সালাজার স্লিদারিনের আসল উত্তরসূরী। অপর দিকে কৌশলে হ্যারির জাদুদণ্ড ও নিয়ে নেয় টম রিডল, কিন্তু হ্যারিকে সাহায্যের জন্য ডাম্বেরলডোর তার ফিনিক্স পাখি আর হ্যাট পাঠায়, যার ভেতর থাকে গড্রিচ গ্রিফিন্ডোরের তলোয়ার,  ফিনিক্স বাসিলিস্কের চোখ অন্ধ করে দেয় আর হ্যারি সেই তলোয়ার দিয়ে বাসিলিস্ক কে হত্যা করে।আর বাসিলিস্কের দাঁত দিয়ে টম রিডলের ডায়েরী ধ্বংস করে ফেলে। সাথে সাথে জিনির জ্ঞান ফিরে আসে। বাসিলিস্কের একটি দাঁত হ্যারির হাতে ঢুকে যায়, কিন্তু ফিনিক্স পাখির চোখের পানির কল্যানে হ্যারি সে যাত্রায় রক্ষা পায়। যারা পেট্রিফাইড হয়েছিল তারাও ম্যাডাম পামফ্রের সেবায় সেড়ে উঠে।
পরবর্তীতে জানা যায় লুসিয়াস ম্যালফয় উইজলি ফ্যামিলের সাথে ঝামেলার সময় কৌশলে জিনির ব্যাগে টম রিডলের ডায়েরী রেখে দেয়, সেখান থেকেই জিনিকে সম্মোহিত করে এসব কাজ ঘটায় টম রিডলের স্মৃতি। আর এসব জানতে পেরে ম্যালফয় ফ্যামিলের হাউজ এলফ ডবি হ্যারিকে সাবধান করতে আসে। হ্যারি কৌশলে ম্যালফয়ে কাছ থেকে ডবিকে মুক্ত করে দেয় আর হ্যারিও তাকে মুক্ত ঘোষণা করে। যার ফলে ডবি একজন ফ্রি এলফ হয়ে যায়। আর আসল কালপ্রিট ধরা পরায় হ্যাগ্রিড ও আজকাবান মুক্তি পায়।
এভাবেই হ্যারি পটারের আরো একটি রোমাঞ্চকর বছরের সমাপ্তি হয়। রন হারমোয়নি হ্যারি যার যার বাড়িতে ফিরে যায় নতুন বছর শুরুর অপেক্ষায়।

মুভিতে অনেক প্লটহোল,প্লটজাম্প আছে! যা
অন্য মুভিতে গিয়ে ক্লিয়ার হয়, তাই প্রথম দেখায় মুগ্ধ না হলেও সব গুলো দেখার পর বুঝা যাবে হ্যারি পটার সিরিজের অন্যতম ইম্পরট্যান্ট মুভি এটা।
পার্সোনাল রেটিংঃ ৯.৫
আই এম ডি বি রেটিংঃ ৭.৪
রোটেন টমাটোঃ ৮৩%

হ্যারি পটার এন্ড দ্যা ফিলোসফার্স স্টোন রিভিউ


রিভিউ লিখা শুরু করার আগে জানা উচিৎ  হ্যারি পটার আসলে কে, হ্যারি পটার হলো অনাথ একটি ছেলে যে তার বাবা মাকে একটি কার এক্সিডেন্টে হারায় তারপর থেকেই সে  ডার্সলি ফ্যামিলিতে বড় হতে থাকে তার খালার তত্ত্বাবধায়নে। যেখানে সে বরাবর ই অবহেলিত নির্যাতিত,  সিড়িঘরের ছোট্ট কামড়ায় তার বসবাস, ঘরের ছোটখাটো কাজ করা, খালাতো ভাইয়ের অত্যাচার সহ্য করে আর খালাতো ভাইয়ের পুরনো হয়ে যাওয়া জামাকাপড় পরেই আস্তে আস্তে আমাদের হ্যারি পটার বড় হতে থাকে।

হ্যারি পটারের ভেতরে যে কিছু অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে তা প্রথম বোঝা যায় একবার চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গিয়ে, একটি সাপের সাথে সে পার্সেলটাং ভাষায় কথা বলে নিজের অজান্তেই। তার মনের চাওয়াতে সাপের খাচার কাঁচটি উধাও হয়ে যায় সাপটি মুক্তি পায়। কিন্তু এর রহস্য কি?  কেন ছেলেটি সকলের থেকে আলাদা?  তার সকল উত্তর মেলে ছেলেটির এগারোতম জন্মদিনের রাতে।
হগওয়ার্টস নামক কোন স্কুল থেকে হ্যারিপটারের নামে নিয়মিত চিঠি আসতে থাকে পেচা মারফত, প্রথমে কিছু কিছু চিঠি ছিড়ে ফেলা হয়, কিছু লুকনো হয় কিছু পুড়িয়ে ফেলা হয়, তবুও আংকেল ভার্নন আর আন্ট পেটুনিয়া এই অদ্ভুত চিঠি আসা কোন ভাবেই বন্ধ করতে না পেরে পালিয়ে যায় নির্জন একটি দ্বীপে, সব কিছু ছেড়ে,
সেখানেই আমাদের হ্যারি প্রতিবারের মতো একা একা জন্মদিন বানানোর প্রস্তুতি নেয় মেঝেতে শুয়ে। কিন্তু বিধিবাম,  এই নির্জন দ্বীপে ঝড়ের রাতে ঠিক বারোটায় উপস্থিত হয় দৈত্যাকার আকারের রুবিয়াস হ্যাগ্রিড। যে কিনা হগওয়ার্টস স্কুলের গেটকিপার, সে এসেই হ্যারি পটারকে খোঁজা শুরু করে এবং তাকে প্রথমবারের মতো বার্থডে উইশ করে।
সেদিন হ্যারি পটার জানতে পারে, তার সাথে ঘটা সকল অদ্ভুত  ঘটনার উত্তর। হ্যারি পটার সেদিন জানতে পারে সে কোন সাধারণ ছেলে নয়, সে একজন জাদুকর,  শুধু জাদুকর ই নয়,  জাদু দুনিয়ায় সে রীতিমতো বিখ্যাত একজন ছেলে, যেখানে বিখ্যাত সকল বইয়ে তার নাম রয়েছে।  সে এটাও জানতে পারে তার বাবা মা কার ক্রাশে মারা যায়নি! ঐতিহাসিক কোন কারনে মারা গিয়েছে সাহসী জেমস আর লিলি পটার। হ্যাগ্রিড তাকে এসেছে জাদুবিদ্যা শেখার স্কুল "হগওয়ার্টস স্কুল অফ উইচক্রাফট এন্ড উইজার্ডি" তে নিয়ে যেতে, যেখানের বর্তমান হেডমাস্টার স্মরণকালের সেরা হেডমাস্টার যার নাম "এলবাস ডাম্বেলডোর"  এবং তার নির্দেশেই হ্যারি  এতো বছর তার খালাদের পরিবারে ছিলো। কোন এক বিশেষ কারনে।
এগারো বছরের অবহেলিত ছেলে হ্যারি পটার এতো কিছু শুনে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারেনা। সে ধরেই নেয় সে স্বপ্ন দেখছে বা সে আসলে আসল হ্যারি পটার নয়, কোথাও কোন ভুল হচ্ছে। কিন্তু হ্যাগ্রিডের সাথে "ডায়গন আ্যলিতে" যাদুসামগ্রী কিনতে যওয়ার সময় টের পায় তার সে আসলেই বিখ্যাত একজন ছেলে, যাকে একবার দেখতে পেয়ে সকলের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। সকলে তাকে দেখা মাত্রই চিনে যায়। হ্যারি হ্যাগ্রিডের সাথে তার প্রথম যাদুদণ্ড কিনে, আর প্রথমবর্ষের সকল প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে। তারপর কিংক্রস স্টেশনে হাজির হয় হওগওয়ার্টসের উদ্দেশ্যে এক রোমাঞ্চকর যাত্রার জন্য। সেখানে ট্রেনে তার পরিচয় হয় রন উইজলি আর হারমোয়নি গ্রেঞ্জারের সাথে।যারা হ্যারির কপালে থাকা সেই বিখ্যাত স্কার দেখে অবাক হয়ে যায়, এবং তারা তিনজনেই সর্টিং হ্যাটের মাধ্যমে গ্রিফিন্ডর হাউজ পায়।  অন্যদিকে হ্যারি পটারের সাথে বন্ধুত্ব করতে আসা অন্য রয়েল ফ্যামিলির ছেলে ড্র‍্যাকো ম্যালফয় পায় স্লিদারিন হাউজ! হগওয়ার্টস স্কুলে আরো দুটি হাউজ রয়েছে যথাক্রমে রেভেনক্ল আর হাফলপাফ।প্রতিটি হাউজের নামকরণ হয়েছে হগওয়ার্টসের চার প্রতিষ্ঠাকারীর নামে। প্রতিটা হাউজের নিজস্ব ইতিহাস রয়েছে।
স্কুলে এসে বিভিন্ন স্যারদের সাথে পরিচয় হয় হ্যারির,  পোশন শিক্ষার স্যার সেভেরাস স্নেইপের সাথে পরিচয় হয় যে কিনা সব সময় ডার্ক আর্টসের টিচার হতে চায়, ডার্ক আর্টস টিচার কুইরেলের সাথে পরিচয় হয়, গ্রিফিন্ডর হাউজের প্রধান প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এর সাথে পরিচয় হয় যিনি হ্যারিকে পরবর্তীতে কুইডিচ খেলার সর্বকনিষ্ঠ সীকার হিসেবে নিযুক্ত করেন, 
হ্যারি দেখা পায় হগওয়ার্টস স্কুলের সর্বশ্রেষ্ঠ হেডমাস্টার প্রফেসর ডাম্বেলডোরের। এতো সবের মাঝে তার দিনগুলো স্বপ্নের মতো কাটতে থাকে। কিন্তু বিখ্যাত ছেলেটির বিপদ যেন কাটেইনা,  সিড়ির নিজস্ব নড়াচড়ার কারনে হ্যারি,রন, হারময়নি এক্সিডেন্টলি হগওয়ার্টসের নিষিদ্ধ এরিয়াতে চলে যায়, সেখানে গিয়ে ধরা খায় হগওয়ার্টের কেয়ারটেকার ফিলচের বিড়াল মিসেস নরিসের হাতে,তার থেকে বাঁচতে তিনজন একটি রুমের দরজার আড়ালে লুকায়, সেখানে গিয়ে তিন মাথাওয়ালা বিশাল কুকুর ফ্লাফির সামনে গিয়ে পরে তারা, কোনরকমে সেখান থেকে জীবন নিয়ে পালায় , তখন তাদের মাথায় খটকা লাগে এতো ভয়ংকর একটা প্রাণী এই ভবনের ভেতর কি করছে! তারা সে ব্যাপারে জানতে হ্যাগ্রিডের কাছে গিয়ে, জানতে পারে ব্যাপারটি খুবই গোপনীয়, তবে হ্যাগ্রিড ভুল করে নিকোলাস ফ্লামেলের নাম বলে ফেলে, এবং তারা বুঝতে পারে কুকুরটি আসলে ফিলোসোফার্স স্টোন প্রটেক্ট করছে যা কিনা যে কোন মেটাল কে স্বর্ণতে পরিণত  করে, আর অমৃত সুধা প্রোডিউস করে।  হ্যারি ধারনা করে প্রফেসর স্নেইপ সেই পাথরটি চুরি করতে চাচ্ছে, যার করনে সে কুইডিচ ম্যাচে হ্যারিকে মারতে চায় আর হ্যালোয়িনের দিন একটি আস্ত ট্রল কে ভবনের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়।
হ্যারি,রন,হারময়নি তিনজন মিলে সেই কুকুরকে পার করে ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যায় আর সেখানে গিয়ে দেখতে পায় চেজবোর্ড, সেই চেজবোর্ডে দাবা না খেলে পার হওয়ার কোন উপায় নেই, রন সেই ভয়ংকর খেলায় লীড দেয় আর জিতে যায়, হ্যারি ভেতরে গিয়ে সেখানে স্নেইপের বদলে দেখতে পায় প্রফেসর কুইরেল কে,  আর জানতে পারে স্নেইপ তাকে মারতে নয় বাঁচাতে চেয়েছে, স্নেপের কারনেই হ্যারিকে কুইরেল মারতে পারেনি।কুইরেলের পাগড়ি খোলার পর হ্যারি দেখতে পায় তার পেছনে আরেকটি মাথা, যে কিনা ইউ নো হু বা লর্ড ভল্ডোমর্ট নামে পরিচিত। তাকে ক্ষমতায় আনতেই কুইরেল ফিলোসফার্স স্টোনটি খুঁজছে,  কিন্তু হ্যারি "মিরর অফ এরিসেড" এ দেখতে পায় হ্যারির পকেটে রয়েছে সে স্টোনটি। কুইরেল সেটি হ্যারির কাছে চাইলে হ্যারি দিতে রাজী হয়না, তখন ভল্ডোমর্ট হ্যারিকে মেরে ফেলতে বলে, কিন্তু হ্যারিকে স্পর্শ করা মাত্রই কুইরেলের হাত পুড়ে যায় কোন এক অজানা কারনে। হ্যারি তার হাত লাগিয়ে কুইরেল কে ধ্বংস করে এবং আরেকবার হ্যারির কাছে পরাস্ত হয় লর্ড ভল্ডমোর্ট। বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার আগে বলে যায় আমি আবার ফিরে আসবো।

এভাবেই হ্যারিপটার মুভির প্রথম ছবিটি শেষ হয়। এই ছবিতে তিন বাচ্চার বন্ধুত্ব সাহসিকতা অসাধারণ ভাবে ফুটে উঠেছে, যাদের সাহসিকতার উপর ভর করে গ্রিফিন্ডর হাউজ বাৎসরিক হাউজ কাপ জিতে, আর একটি বছরের সমাপ্তি হয়। সকলে যার যার বাড়িতে যায় ছুটি কাটাতে। হ্যারিও ফিরে যায় ডার্সলি পরিবারে অসংখ্য সুখ স্মৃতি নিয়ে।
হ্যারি পটারের প্রথম ছবি বা স্টার্টিং হিসেবে মুভিটি অসাধারণ।  মন কাড়ার মতো বলা চলে। ধাপে ধাপে একটি অনাথ ছেলের বিখ্যাত জাদুকর হয়ে উঠা খুব সুন্দর ভাবে দেখানো হয়েছে।

ছবিটি পার্সোনাল রেটিং-৯.৮
আইএমডিবি রেটিং- ৭.৫
রোটেন টমাটো- ৮১%

সীমানা পেরিয়ে মুভি রিভিউ


জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নির্জন দ্বীপে আটকে পড়েছে কালু আর টিনা। টিনা (জয়শ্রী কবির) জমিদার বংশের মেয়ে, লন্ডনে পড়তে যাবে শীঘ্রই আর কালু (বুলবুল আহমেদ) জেলে। কিন্তু এই দ্বীপে এসব পরিচয়, বিত্ত কোন কাজেই আসবে না। বাঁচতে হলে একসাথে চলতে হবে। এমনই এক গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে আলমগীর কবিরের সীমানা পেরিয়ে। ১৯৭৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিটি তিনটি জাতীয় পুরস্কার পায়। পরবর্তীতে ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের সেরা ১০ বাংলাদেশী চলচ্চিত্রর তালিকাতেও স্থান করে নেয়। আপাত দৃষ্টিতে এটাকে "বড়লোকের মেয়ের সাথে গরীবের ছেলের প্রেম" বিষয়ক চলচ্চিত্রের কাতারে ফেলতে পারেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে ছবিটি বিবিধ মার্ক্সিস্ট অ্যালিগোরিতে পরিপূর্ণ। আজকের লেখা সেসব ভাবনা নিয়েই। যেহেতু ছবিটার মূল বিষয় নিয়ে কথা বলবো, স্বাভাবিকভাবেই স্পয়লার চলে থাকবে। সিনেমাটি দেখা না থাকলে, আর না পড়াই ভালো। 
সীমানা পেরিয়ে নিয়ে বাতচিৎ আগে, এর পরিচালক আলমগীর কবিরকে নিয়ে একটু কথা বলা যাক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন করে, আলমগীর কবির অক্সফোর্ডে যান ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে। সেখান দুটো জিনিস তার জীবনের পুরো গতিপথটাই পাল্টে দেয়- বাম রাজনীতি আর সিনেমা। কবির দেখতে শুরু করেন বিখ্যাত সব ফিল্ম আর দেখা করে আসেন ফিদেল কাস্ত্রোর সাথে। দেশে ফিরেও তিনি সক্রিয়ভাবে বাম রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। সুতরাং তার ছবিতে কম্যিউনিস্ট সিমিওটিক্স থাকা অস্বাভাবিক কিছু নয়। 
সীমানা পেরিয়ে'র দুই মূল চরিত্র কালু আর টিনা। টিনাকে পুঁজিবাদী (Bourgeoisie) আর কালুকে শ্রমজীবী (Proletariat) শ্রেণীর প্রতিনিধি ধরলে, ছবিটা আরো পরিষ্কার হয়ে যায়। কালু মাটি কেটে রাস্তা বানিয়ে দেয়, দড়ি ফেলে টিনাকে উপরে উঠতে সাহায্য করে। অথচ দ্বীপে যাওয়ার পর থেকে, টিনা সারাক্ষণ ভয়ে থাকে কালু কখন তার কোন ক্ষতি করবে। সম্ভ্রম নিয়ে টিনার এই তটস্থটা যেন ধনিক শ্রেণীর প্যারানয়াকে তুলে ধরে। যাদের চিরাচরিত ভীতি হচ্ছে, "গরীবরা আমার সব কিছু লুটে নেবে"। কিন্তু তারা ভুলে যায়, প্রান্তিক মানুষের তৈরী করা পথ বেয়েই তাদের আজকের এই উত্থান। 
আমরা দেখতে পাই কালুর স্পীচ ইমপেডিমেন্ট (তোতলামি) আছে। কথা বলতে গিয়ে এই থেমে যাওয়া বা আটকে যাওয়া, শ্রমজীবী মানুষের পরিপূর্ণ বাক স্বাধীনতার অভাবকে ফুটিয়ে তোলে। ফ্রিডম অফ স্পীচের এহেন রূপক চিত্রায়ন অবশ্য খুব একটা বিরল নয়। মাজিদ মাজিদির বারান, অনুরাগ কাশ্যপের মুক্কাবাজ অথবা শহীদুল ইসলাম খোকনের বাঙলা (কিংবা আহমেদ ছফা'র ওঙ্কার উপন্যাসে) চলচ্চিত্রগুলোতে নারী চরিত্রদের নির্বাক হিসেবে দেখানো হয়েছে (বারান মেয়েটির কোন সংলাপ ছিলো না)। এগুলো আসলে পর্যায়ক্রমে আফগান শরণার্থী, ভারতের উত্তর প্রদেশের নারী ও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের প্রতীক। বাক স্বাধীনতার এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কবির একটা পরামর্শ দিয়েছেন। ছবিতে টিনা কালুর তোতলামি ও কথ্য ভাষা শুধরে দেয়। অর্থাৎ কিনা পুঁজিবাদী সমাজের এই প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণে এগিয়ে আসা উচিৎ।
এই সিনেমায় আলমগীর কবির আরেকটা বিষয় সামান্য সময়ের জন্য স্পর্শ করেছেন। এক পর্যায়ে টিনার মা (মায়া হাজারিকা) টিনাকে বলে, "বিয়ের পরে তোর বাবা আমাকে রেপ করেছে"। স্ত্রীর কাছ থেকেও যে কনসেন্ট নিতে হবে, এই বিষয়টি আগে-পরের কোন বাংলা সিনেমায় পাইনি। উপমহাদেশীয় চলচ্চিত্রে প্যাট্রিয়ার্কি ও সোশ্যিয়ালিস্ট ফেমিনিজমের রূপায়ন নিয়ে অন্য কোন দিন আলাপ করা যাবে। সীমানা পেরিয়েতে ফিরে যাই।
সিনেমার শুরুতে টিনাকে ধনী এক ছেলে বিয়ে করতে চায়, কিন্তু টিনা রাজি হয় না। কালুর পাশাপাশি সেই ছেলেটির চরিত্রেও অভিনয় করেছেন বুলবুল আহমেদ। আমার মনে হয়েছে, দুটো চরিত্রেই বুলবুলকে নিয়ে কবির একটা বাহ্যিক সমান্তরালতা (প্যারালালিজম) তৈরী করেছেন। স্যুট-টাই পড়া বুলবুলকে ফিরিয়ে দিলেও, জেলে বুলবুলকে টিনা আপন করে নেয়। পোশাকের সাথে যে পরিচয়ের একটা সংযোগ আছে আর তা যে দ্বৈততার জন্ম দেয়, সেটা তো শেখ সাদীর কল্যাণে ইতোমধ্যে আমাদের জানা আছে। এটা মনে করিয়ে দেয় মৃণাল সেনের ভুবন সোম সিনেমাটির কথা। যেখানে উৎপল দত্ত পাখির খোঁজে সাহেবী পোশাক ছেড়ে গ্রামীণ পোশাক পড়েন, গাছের মাঝে লুকিয়ে থাকেন (প্রকৃতির কাছে ফিরে যান), কিন্তু (সুখ) পাখি তো অধরা। আর ইন্টারভিউ সিনেমাতে ধুতি-পাঞ্জাবী পড়ার কারণে রঞ্জিত মল্লিকের কর্পোরেট চাকরিটা হাতছাড়া হয়ে যায়। এখানে বলে রাখি, মৃণাল সেনের ছবিগুলোও কিন্তু বাম ঘরানার মতাদর্শে নির্মিত।
অনেকেই সীমানা পেরিয়ের গল্পের সাথে ভিয়ার স্ট্যাকপুলের "ব্লু ল্যাগুন" উপন্যাসের মিল পেলেও, আলমগীর কবির '৭০-এর জলোচ্ছ্বাস পরবর্তী একটা নিউজপেপার আর্টিকেল থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি লিখেছিলেন। পরিচালক নিজেই এটিকে ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন। টিনা আর কালু জানে না কিভাবে তারা দ্বীপটিতে এসে উপস্থিত হলো। জলোচ্ছ্বাসের সময় ভূপেন হাজারিকা (যিনি নিজেও সারাজীবন সাম্যের জন্য গান করেছেন)-এর কণ্ঠে মেঘ থম থম করে গানটা শোনা যায়। গানের কথাগুলো ছিলো এরকম : 

"পুরনো সব নিয়ম ভাঙ্গে অনিয়মের ঝড়
ঝড়ো হাওয়া ভেঙ্গে দিও মিথ্যে তাসের ঘর
ভাঙ্গনের যে নেই পারাপার
তুমি আমি সব একাকার।"

টিনা আর কালু যে সীমানা পেরোয়; সেটা যতটা না সামাজিক বা ভৌগোলিক সীমানা, তার চেয়েও অনেক বেশি করে অর্থনৈতিক শ্রেণীর সীমানা। আর একটা তীব্র (রাজনৈতিক বিপ্লবের) জলোচ্ছ্বাস বোধ হয় পারে, সব শ্রেণীকে একই সমতলে নিয়ে আসতে।

Once Upon A Time In America (1984) Movie Review

Once Upon A Time In America (1984)

সার্জিও লিওনি! ইতিহাসের অন্যতম সেরা সিনেমা পরিচালকদের একজন। “ডলার'স ট্রিলজি” থেকে সার্জিও লিওনি আত্মপ্রকাশ করে পরিপূর্ণরূপে, যদিও তার নির্মিত প্রথম সিনেমা “They Stole A Tram” মুক্তি পায় ১৯৫৪ সালে। তার পরিচালিত ১১ টি সিনেমার মধ্যে ৫ টি নির্মিত হয়েছে ওয়েস্টার্ন ধারায়, যার প্রতিটি সিনেমা দর্শকনন্দিত হয়েছে, যার ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এটি লিওনি'র নির্মিত শেষ সিনেমা।

হ্যারি গ্রে এর “The Hoods” উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটি ১৯৮৪ সালে ইতালিতে মুক্তি পায়। সিনেমাটি ৮৯৪ টি থিয়েটারে মুক্তি দেওয়া হয়। ২০ মিলিয়ন বাজেটে নির্মিত ২২৯ মিনিটের সিনেমাটি বক্স অফিসে মাত্র ৫.৩ মিলিয়ন আয় করতে সক্ষম হয়। বক্স অফিস ফ্লপ্ড! সিনেমাটি নির্মানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৬ টি লোকেশন ব্যবহার করা হয়। IMDb এর ৭০ নাম্বার পজিশনে থাকা সিনেমাটি এক এবং অদ্বিতীয় সিনেমা হিসেবে অডিয়েন্স এবং ক্রিটিক্সের কাছে বর্তমানে সমাদৃত হয়েছে।

বন্ধুত্ব, প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এসব নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা। তবে সিনেমায় এর রহস্যময় উপস্থাপন, সে তো কালে-ভদ্রে পরিলক্ষিত হয়। সার্জিও লিওনি এমনটাই করে দেখিয়েছেন এই সিনেমায়। সিনেমাটি Drama, Crime ক্যাটাগরীভুক্ত করা হলেও, এটি মূলত Psychological Drama, Crime Thriller পর্যায়ভুক্ত। কপোলা'র “The Godfather” এর মতো লিওনি'র এই সিনেমাটিও গ্যাংস্টার তৈরীর দৃষ্টান্ত বহন করে। এক অর্থে দুটি সিনেমাকেই তুলনা করা যায় এভাবে যে, প্রতিটি সিনেমা ই  আমেরিকায় তৎকালীন উঠতি পুঁজিবাদ এবং নতুন স্বপ্নে বিভোর হয়ে গড়ে ওঠা সন্ত্রাসবাদকে নির্দেশ করেছে। তবে “The Godfather” থেকে লিওনি'র এই সৃষ্টির সৃজনশীলতা কোথায়?

সিনেমায় প্রধান চরিত্রে ছিলেন রবার্ট ডি নিরো। স্কোরসিজি'র “Taxi Driver” এবং “Raging Bul” এর পরে নিরো এই সিনেমায় তার সেরা অভিনয় প্রদর্শন করেছেন। একইসাথে রহস্যময়, একশন এবং এডাল্ট সিকুয়েন্স গুলোতে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। সহ-অভিনেতা হিসেবে জেমস উডস ছিলেন অতুলনীয়। এছাড়া এলিজাবেথ ম্যাকগভার্ন এবং জো পেস্কি তাদের অভিনয়ে ছিলেন মনোমুগ্ধকর।

ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সাউন্ড কম্বিনেশন, একশন, সিনেমাটোগ্রাফি, কস্টিউম, এডাল্ট সিন, স্ক্রিনপ্লে এসবের এক অনন্য মিশ্রন ঘটিয়েছেন লিওনি। বরাবরের মতোই স্ক্রিনে চোখ লেগে থাকার জন্য সৃজনশীল এই স্রষ্টা তার সৃষ্টিকে করেছেন সাফল্যমন্ডিত। প্রায় ৪ ঘন্টার এই মুভিটি আপনাকে পরিপূর্ণ তৃপ্তি দিতে পারবে এতটুকু বলাই যায়।

Plot Summary:- অন্ধকার কক্ষ, একলা রমনী। হঠাৎ আলোর আবির্ভাব, ক্লান্ত রমনীর মুখাবয়ব। হঠাৎ তিন আগন্তুকের প্রবেশ, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে হত্যা। টেলিফোনের উৎকট শব্দ! ঘুম ভাঙে নুডলস এর। বৃষ্টিস্নাত অবস্থায় পুলিশের সাইরেন, ৩ টি লাশ। টেলিফোন বেজেই চলছে। কফিনাকৃতি বিশাল কেক পরিবহন করছে চারজন। কফিনের গায়ে লেখা “Prohibition”. সময়কাল ১৯৩৩। হঠাৎ করেই বয়স্ক নুডলস অবতীর্ন হন। ধাবিত হন তার নিজস্ব পথে। হঠাৎ করেই আবার পিছুটান, নুডলস ফিরে যায় তার শৈশবে। ছোট নুডলস এবং তার সঙ্গীদের অপরাধের চিত্র! নানা উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করে ছোট গ্যাংস্টার গ্রুপ।

অত্যন্ত দুঃখবোধ হচ্ছে এটা ভেবে যে, আসলে সিনেমার প্লট তুলে ধরার সামর্থ্য আমার নেই। বিশাল দৈর্ঘ্যের এই সিনেমার নির্মানে ৪ টি সময়কাল তুলে ধরা হয়েছে। অগ্র-পশ্চাৎ-বর্তমান নিয়ে তুলে ধরা স্ক্রিনপ্লে যে কাউকে চমকে দিতে প্রস্তুত। বস্তুত “Once Upon A Time In America” সিনেমাটির তুলনা চলে শুধুমাত্র লিওনির অন্যান্য সৃষ্টির সাথে। লিওনি তার সততা, নিষ্ঠা এবং তীব্র আবেগ মিশ্রিত করেছেন চলচিত্রটি নির্মানে। ক্যামেরার অ্যাংগেল মাঝে মাঝে ইতালিয়ান মেলোড্রামা ভঙ্গির। যৌনতার দৃশ্যগুলি যেনো কৈশোরের আবেগভরা দৃষ্টি থেকে তৈরী, সেগুলো প্রচন্ড অসহ্যনীয়। তবে শেষে এসে সিনেমাটি তৈরী করেছে এক সাইকোলজিক্যাল প্রেসার। শেষ চমকের জন্য এটাকে মাস্টারপিস বললেও কম হয়ে যায়।

সিনেমাটি আপনি দেখুন কিংবা নাই-বা দেখুন, কিন্তু এটা আপনি অবশ্যই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন যে, এমন সিনেমা দ্বিতীয়টি তৈরী করা সম্ভব নয়।

Memories of Murder (2003) Movie Review || মুভি রিভিউ

Memories of  Murder  (2003)

সাইথ কোরিয়ানরা তাদের মুভি দক্ষতায় দিনে দিনে ওয়ার্ল্ড মুভি লাভারদের মন জয় করে নিয়েছে। তাদের মুভির গল্পে আপনি একটু একটু করে ঢুকবেন আর শেষ করবেন একরাশ মুগ্ধতার ঢেকুর তুলে। এককথায় কোরিয়ানরা দর্শকের মন ব্রেন নিয়ে খেলতে জানে।

Memories of Murder মুভির পটভূমি তৈরী হয়েছে একটি সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ১৯৮৬-১৯৯১ তে দক্ষিন কোরিয়ার একটি ছোট্ট প্রদেশে ঘটে যায় বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা। ঐ সময়ে হত্যা হতে থাকে একের পর এক মেয়ে। উদ্ভব হয় এক ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলার এর।

মুভির শুরুটা হয় অল্পবয়স্ক এক নারীর মৃতদেহ খুঁজে পায় পুলিশ মাঠে সেটি দিয়ে।কোন ক্লু বা তথ্য কিছুই থাকে না। ঐ নারীকে মূলত ধর্ষন করে হত্যা করা হয়। পুলিশ যখন এই হত্যার রহস্য উন্মোচনে ব্যস্ত ঠিক তখনই একই জায়গায় আরেকটি ধর্ষিত নারীর মৃত দেহ।এবং এই দুটো খুনের মধ্য একধরনের মিল খুঁজে পায় পুলিশ।কি ধরনের মিল পায় পুলিশ তা আপনারা দেখলেই বুঝবেন…। এই খানে মফঃস্বল পুলিশের ভূমিকায় আশানুরূপ সাফল্য না পাওয়ায় সিউল থেকে এক গোয়েন্দাকে তলব করা হয়। মুভির মাঝে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের বেশ সময় আমরা বেশ কয়েকটি হাস্যরসাত্মক উপাদান খুঁজে পাবো।মোট কথা এই মুভিটি তে ড্রামা,রহস্য,কমেডি,ইমোশন সবই আছে।সেই শহুরে ডিটেকটিভ আর মফস্বলের ডিটেকটিভের মধ্য অন্তদ্বন্দ্ব আমরা এই খানে দেখতে পাবেন প্রবল,অনেকটা যেন আমাদের বাস্তব জীবনেই যেন অংশ। এরই মধ্য খুনি খুন করে আরো এক নারীকে।ডিটেকটিভদের তখন মাথা পাগল অবস্থা…নেই কোন ক্লু,নেই কোন সাক্ষি।এটা দেখে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের লোকাল সিরিয়াল কিলার রসু খাঁর কথা মনে পরে গেল। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ডিটেকটিভরা আরো সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করলো। এমন হতে হতে তারা একটা ক্লু পেলো..খুনি একটি নিদিষ্ট সময়ে খুন করে..এবং খুন করার আগে সে রেডিওতে একটা নিদিষ্ট গানের রিকোয়েস্ট পাঠায়।অনেকটা কাকতালীয় হলেও তারা এই তথ্য নিয়ে খোঁজা শুরু করে খুনিকে। ঠিক সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে,শহুরে ডিটেকটিভ এক নারী কে খুঁজে পায় যাকে কিনা খুন করেনি ঐ খুনি। সে তার কথা রেকর্ড করে এবং একটা তথ্য পায়,যে খুনির হাত মেয়েদের মত নরম। এরই মাঝে ঘটে যায় আরো কিছু ঘটনা…পুলিশ সন্দেহের বশবর্তী হয়ে গ্রেফতার করে এক ব্যাক্তিকে চরম এক শ্বাসরুদ্ধ কর পরিস্থিতিতে। আবার সেই রেডিওর গানের সূত্র ধরে ডিটেকটিভরা গ্রেফতার করে এক ব্যক্তিকে যে কিনা আবার সামরিক বাহিনী হতে ফেরত।এবং তারা দেখতে পায় তার হাত অনেক নরম,ঠিক যেন মেয়েদের মত।কিন্তু তাদের কাছ কোন ক্লু নেই এই ব্যাক্তিকে আটকে রাখার জন্য।এক সময় তারা তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এরই মাঝে ঘটে আরো একটি হত্যাকান্ড।ডিটেকটিভ নিশ্চিত থাকে যে এই ব্যক্তিই খুনি। তারা তার DNA টেষ্ট করানোর জন্য চেষ্টা করে কিন্তু এই পরীক্ষার ব্যবস্থা তখন সেখানে ছিলনা বিধায় তারা পরীক্ষার সব উপকরন আমেরিকায় পাঠায় এবং ঐ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। অনেকটা সময় অতিবাহিত হয়…শহুরে ডিটেকটিভ ফলো করতে থাকে ঐ সন্দেজনক ব্যক্তিকে এবং একদিন বৃষ্টির রাত আসে এবং রেডিওতে সেই গান বাজে। ডিটেকটিভ তখন পাগলপ্রায় খুনীর পিছু নিতে।কিন্তু পারে না। ঐ দিন খুন হয় আরো এক কিশোরী। অনেকটা উন্মাদ হয়ে শহুরে ঐ ডিটেকটিভ হামলে পড়ে ঐ ব্যক্তির উপর। এর মধ্যে চলে আশে DNA টেস্টের রিপোর্ট। কিন্তু কি কি ছিলো সেই রিপোর্টে? জটলা কি খুলবে?

” Memories Of Murder ” পরিচালক Bong Joon-ho এর ২য় ছবি এবং এ ছবি তাকে A লিস্টেড কোরিয়ান পরিচালকদের তালিকায় নিয়ে যায়। সে ২০০০ সালে এ ছবির কাজ শুরু করলেও প্রথম ৬ মাস স্ক্রিপ্ট লেখাও শুরু করেন নি ,শুধু মার্ডার সম্পর্কিত তথ্য কালেক্ট করে গেছেন। এ থেকেই বোঝা যায় এ মুভি তৈরির আগে কতটা রিসার্চ করা হয়েছে।

ছবির প্রধান দুই অভিনেতা ছিল Song Kang-ho আর Kim Sang-kyung। একজন গ্রাম্য ডিটেকটিভ ( মারামারিতে,শামানিজম এ বিশ্বাসী ) আরেকজন শহুরে ডিটেকটিভ ( information,document এসবে বিশ্বাসী ) .পুরো মুভিতে তাদের খুনসুটি আর সময়ের সাথে সাথে চরিত্রের transformation দারুন লেগেছে।বিশেষ করে গ্রাম্য ডিটেকটিভ চরিত্রে Song Kang-ho এর অভিনয় ছিল একেবারে চোখ ধাধানো। এ দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য সে ওই বছর Grand Bell Award , Chunsa Film Awards , Korean Film Awards সহ প্রায় প্রতিটি Award ceremony এ Best Actor এর Award জিতে নেয়।
Memories of  Murder  (2003)

এ ছবি মুক্তির পরে critical and commercial , দুই দিক থেকেই প্রচুর acclaim পায়। ২০০৩ সালের দক্ষিন কোরিয়ার সবচেয়ে ব্যবসাসফল ছবি ছিল এটি। আর সে বছর কোরিয়ার প্রায় সব award এর সেরা ছবির পুরস্কার জিতে নেয় এ ছবি। বর্তমানে IMDB এর টপ ২৫০ এর list এ এই মুভি রয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সেরা ছবি হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়েছে।

Tumbbad Movie Review || টুম্বাত মুভি রিভিউ


মুভি সম্পর্কে লিখতে গেলে সর্বপ্রথম যে জিনিসটা সামনে আনতে হবে সেটা হলো মুভির জনরা, মুভির জনরা কি? হরোর ফ্যান্টাসি ঘরানার এই মুভিটি সচারাচর হরোর উপাদানকে উপেক্ষা করে আপনাকে দিয়েছে এক ব্যতিক্রম কনসেপ্ট। মুভির শুরুর মিথকে যদি কোনো হিস্টোরির সাথে মিলিয়ে আপনি জনরা নির্ধারণ করতে যান তখন হরোর ফ্যান্টাসির সাথে হিস্টোরিক্যাল পিরিয়ড ড্রামার মিশেলে তৈরী মুভিটি, মুভির শুরুর মিথ কোনো হিস্টোরির সাথে মিলে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে, হিন্দুত্ববাদে এমন কোনো মিথ না পাওয়া গেলেও গ্রিকত্বত্ত্বে কিছুটা মিল পাওয়া যায়।

স্টোরিঃ-
মুভিটি দুবার শুট করা হয়েছে, এর আগে বছর ছয়েক আগে মুভিটিকে শুট করা হয় বাট ডিরেক্টর যে জিনিসটাকে উপস্থাপন করতে চেয়েছে সেটা সেই শুটে উঠে আসেনি, তাই তিনি নতুন স্ক্রিপ্টে আবারো শুট করেন। মুভিটিকে ৩টি কালে বিভক্ত করেছেন পরিচালক, খোলা চোখে মনে হবে "লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু" এই প্রবাদকে কেন্দ্র করে মুভির কনসেপ্ট এগিয়েছে। ১ম অধ্যায় এগিয়ে যায় ১৯১৮ সনের তুম্বাড় গ্রামের এক ফ্যামেলিকে কেন্দ্র করে, যেখান থেকে পরিবারটি পথ মাড়ায় অন্য দিকে। ২য় পর্বে দেখানো হয় ১৫ বছর পর প্রধাণ চরিত্রের আবারো সেই তুম্বাড়ে গমন, এবং লাস্ট অধ্যায়তে দেখতে পাই মূল চরিত্র তার ফ্যামেলির ভবিষ্যৎ নির্ধানের যুদ্ধ। এ গল্প যেনো এক অনন্য আর্ট, যেখানে ফ্যান্টাসি, হরোর, ড্রামা সবকিছুকে নিয়ে এসেছে।

চরিত্রঃ-
মেইন চরিত্র ভিনায়কের প্রাপ্ত বয়সের ক্যারেক্টারে যে অভিনয় করে সে হলো সোহান শাহ, এতো দারুন ও সাংঘাতিক অভিনয় অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হতো কিনা জানা নেই, বডিল্যাঙ্গুয়েজ থেকে শুরু করে প্রতিটা সংলাপ ছিলো অসাধারণ, দৃঢ় এক লোভী পৌরষ কে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছে সত্যিই অতুলোনীয়, আর ভিনায়কের ছোটো বেলার চরিত্র ও তার ভাইয়ের চরিত্র এবং ভিনায়কের ছেলের চরিত্রে যে শিশুগুলা ছিলো, তারাও নিজেদের বেস্টটা দিয়েছে, অসাধারণ বললেও কম হবে। সাবলিল ও পর্যাপ্ত অভিনয় ছিলো পুরো মুভিজুড়ে। আরেকটা জিনিস আপনি জানলে আপনার চোখ আসমানে উঠে যাবে, ভিনায়কের ছেলের চরিত্রে যে ছেলেটা অভিনয় করে, ভিনায়কের দাদির চরিত্রে সেই অভিনয় করে, আমি ওর ফ্যান হয়ে গেছিরে। মোহাম্মাদ সামাদ ওর নাম, কতোটা ট্যালেন্টেড হলে এটা সম্ভব ভেবে দেখেছেন? সেরা সেরা।

ঘটনাপ্রবাহ/পরিবেশঃ-
এই এখানেই পরিচালক এক অনন্য আর্টের পরিচয় দিয়েছেন, মুভিটা হরোর, বাট কোনো ভীতিকর কিছু পাবেন না মুভির শুরু থেকেই, বাট ডিরেক্টরের স্ক্রিনপ্লেই এতো অসাধারণ ছিলো যে, কিছু না দেখেও অজানা এক ভীতি সবসময়ই আপনার মধ্যে কাজ করবে, ভিনায়কের দাদীমা এক আশ্চর্য ক্যারেক্টার ছিলো পুরো মুভিতে, মুভির শুরু থেকে বদ্ধ ঘরে বন্দী থাকে, বাট পরিবারের সবার মাঝে তার ভীতিটাকে এমনভাবে প্রেজেন্ট করেছেন পরিচালক যে অডিয়েন্সদেরও গা ছমছম করে উঠবে, এরপর যখন দাদীমাকে প্রথম স্ক্রিনে আনা হয়, আপনি শিউরে উঠবেন নিশ্চিত, এবং স্তব্ধ হয়ে যাবেন, সে এক সাংঘাতিক পরিস্থিতি, এরপর সেই ব্রিটিশ আমলকে এতো সুন্দরভাবে স্ক্রিনে আনেন যেনো ডিরেক্টর আর্টের কারিগর। লাস্টের ঘটনাপ্রবাহ আপনাকে এমন আজিব ঘটনার মুখোমুখি করবে যেটা হয়তো আপনি ভেবে পাবেন না এখন।

সিনেমাটোগ্রাফীঃ-
মুভির মূল শক্তি ছিলো এই সিনেমাটোগ্রাফিতে, আপনি এই মুভিটাকে গভীরভাবে দেখলেই বুঝবেন আসলে দারুন সিনেমাটোগ্রাফি একটা সিনেমাকে কোন লেভেলে নিয়ে যেতে পারে, একদম শুরুর তুম্বাড় শহরকে যেভাবে প্রেজেন্ট করা হয় তা ছিলো নয়নাভিরাম, সিনেমাটোগ্রাফার পংকজ কুমার, নিঃসন্দেহে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম একটি সেরা কাজ আমাদের উপহার দিয়েছেন। গা ছমছম করে তোলা তুম্বাড় গ্রামের এমন নিরিবিলি, বৃষ্টিস্নাত ও অন্ধকারচ্ছন্ন পরিবেশ, মুভির প্রতিটি দৃশ্যে, বিশেষত ভিনায়কের বেড়ে উঠা বাড়ি, বিভিন্ন অংশে আবাসস্থলে যে থমথমে ভাব বজায় ছিল, তা আপনাকে কোনো রকম ভূত-পেত্নীর আগমন ছাড়াও  অস্বস্তিকর ও ভীতিকর করে ছাড়বে তার উপর সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর পরিস্থিতিকে আরও গাম্ভীর্যপূর্ণ করে তুলেছিল। কিছু দৃশ্যের অভূতপূর্ব কাজ একদম পিলে চমকে দেবে আপনাকে। এসবই ছিলো ডিরেক্টর ও সিনেমাটোগ্রাফির যৌথ কেলমা। তবে সিনেমাটোগ্রাফার না হলে এসব সম্ভব হতোনা।

নাহ, রিভিউকে আর বড় করবোনা, শুরু থেকেই ইচ্ছা ছিলো রিভিউকে সংক্ষেপ করবো, বাট মুভিটা আমাকে এতোটাই মুগ্ধ করেছে যে, বড় হয়ে গেলো, আরো তিন ডবল করলেও মুভি নিয়ে আমার অভিব্যক্তি শেষ হবেনা। এক কথায় বলতে গেলে মুভিটি ছিলো বলিউডের হরোর মুভির এক অনন্য সৃষ্টি, যা বলিউডকে আরো সমৃদ্ধি এনে দিলো।

Pihu (2018) Movie Review || পিহু (২০১৮) মুভি রিভিউ


প্লট বা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক না,আমাকে যেই জিনিসটা একদম থ করে দিয়েছে সেটা হলো,ফিল্মের মেইন এবং একমাত্র অভিনেতা একটা ২ বছরের বাচ্চা মেয়ে।হ্যা অন্য একজন মহিলা যে বাচ্চা মেয়ে পিহুর মায়ের ভূমিকায় ছিলেন,তিনিও স্ক্রিনে একটু পরে পরে এসেছিলেন কিন্তু তিনি ছিলেন মৃতা একজন।পুরা ৯০ মিনিটের ফিল্মে একটা ২ বছরের বাচ্চা মেয়ে,তার চলন–বলন,তার আধো আধো কথা!পরিচালককে একটা স্যালুট দিতেই হয় যে ২ বছরের বাচ্চাকে দিয়ে এমন অভিনয় করাতে পেরেছেন।অভিনয় তো করিয়েছেন আবার ডাবিং ও করিয়েছেন এই বাচ্চা মেয়েটাকে দিয়ে।হ্যাটস অফ!

পিহুর ২য় জন্মদিন হলো।পরদিন তার বাবার কোলকাতা যেতে হবে একটা জরুরী মিটিং এর জন্যে।জন্মদিনের পার্টির শেষে পিহুর মায়ের সাথে তার বাবার ভীষণ ঝগড়া হয়।পিহুর মা সন্দেহ করে পিহুর বাবার সাথে তারই বান্ধুবি এবং পিহুর বাবার কলিগের অনৈতিক সম্পর্ক আছে।এই নিয়ে তুমুল ঝগড়া।পিহুর বাবা সকালে ইস্ত্রি অন রেখেই রাগারাগি করে এয়ারপোর্টের উদ্দেশ্যে চলে যায়।এবং পিহুর মা আয়নায় লিপস্টিক দিয়ে সুইসাইড নোট লিখে ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করে।পিহু ঘুম থেকে উঠে মাকে জাগানোর অনেক চেষ্টা করে,কিন্তু মা আর জাগে না।ঐদিকে বাবাও বাসায় নেই।তারপর সেই একাকী পিহু ঘটাতে থাকে নানা ঘটনা।

এই ফিল্মে একটা জিনিস বুঝা গেলো যে আমরা শহুরে মানুষ কি পরিমাণ যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছি।প্রতিবেশীরা আরেকজন প্রতিবেশীর গালমন্দ করেই সময় পায় না,খবর রাখবে কিভাবে?আমাদের অবশ্যই আরো বেশি সচেতন হওয়া উচিত।

স্যার বলেন,বয়স্কদের থেকে বাচ্চারা বেশি ভালো অভিনেতা।শুধু ভালো না,বাচ্চারা ভয়ঙ্কর ভালো অভিনেতা।তাদের এত কিছু বুঝানোর দরকার নেই যে এই শট,এই ডায়লগ হেনো–তেনো।তাদেরকে বলো,অভিনয় একটা খেলা।তারা একদম খেলে দিবে।
পর্দায় এই বাচ্চা পিহুকে দেখে সেটাই বুঝলাম।সে অভিনয় করছিল না,সে খেলছিল।
অসাধারণ ।

Sleep Tight (2011) Movie Review || মুভি রিভিউ


“Let's wipe that smile off that face”

স্প্যানিশ চলচিত্র জগতের আলোড়নকারী একটি সাইকোলজ্যিকাল থ্রিলার  ফিল্ম Jaume Balagueró এর “Sleep Tight”. ২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত মুভিটি সারা বিশ্ব জুড়ে দর্শকনন্দিত হয়। সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আরেকটি মাত্রা যুক্ত হয় যখন দক্ষিন কোরিয়ায় এর রিমেক করা হয় “Door Lock” নামে। মাত্র ২ টি প্রধান চরিত্র এবং গুটিকতক প্বার্শ-চরিত্রে মুভিটি অনেকাংশে অবাক করার মতো প্রতিক্রিয়া পেতে সক্ষম।

বাসায় একা? ঘুমাচ্ছেন? ঘুমানোর আগে খেয়াল করেছেন, কেউ বিছানার নিচে আছে কিনা কিংবা ওয়াশরুমে অথবা লুকিয়ে অন্য কোথাও? ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারবেন কি ঘটে গিয়েছে আপনার সাথে, গত রাত্রে?
হয়তো এমনই সব ভাবনার মুখোমুখি হবেন মুভিটা শেষ করার পর।

Plot Summary:- সিজার একটি এপার্টমেন্টের প্রহরী। ইহজগৎে তার একটি মাত্র সমস্যা, সে সুখী নয়। ছোটখাটো আনন্দে তো নয়ই বরং তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দঘন ঘটনাও তাকে সুখী করতে পারেনি। তার জীবনে নেই কোনো অনুপ্রেরনা, নেই উৎসাহ, নেই বেঁচে থাকার জন্য বিন্দুমাত্র লক্ষ। যন্ত্রনাদায়ক এই জীবন সিজারের জন্য অসহ্য হয়ে উঠে। কিন্তু এপার্টমেন্টের সকল ভাড়াটিয়ার সাথে তার চমৎকার সম্পর্ক। অন্যের উপকারে সে সর্বদা এগিয়ে আসে। কিন্তু এটা তার মুখোশ মাত্র, অন্যের দুঃখেই বরং সে একটু আনন্দের ছোঁয়া পায়। এপার্টমেন্টের এক হাসিখুশি এবং প্রানবন্ত তরুনী ক্লারা। কোনো দুঃখই যেনো তাকে স্পর্শ করেনা। সিজারের লক্ষ্য ক্লারার জীবনের হাসিটুকু ছিনিয়ে নিয়ে আলতো করে কান্নার ছোঁয়া লাগিয়ে দেওয়া, বিনিময়ে জীবনে একটুখানি প্রশান্তি লাভ।

কাহিনী এগিয়ে যাবে ধীরে আর আপনাকে নিয়ে যাবে রোমাঞ্চকর এক অতিমানবীয় অনুভূতির মধ্য দিয়ে। সমগ্র চিত্ত বিকৃত হয়ে দংশন করবে যখন মনে হবে আমরাও তো মাঝে মাঝে অন্যের অপকার করে/দেখে আনন্দ পাই কিন্তু বিনিময়ে অপরপক্ষ কি নিদারুন কষ্ট অনুভব করে।

“Cell 211” মুভিতে দুর্দান্ত অভিনয় করা Luis Tosar 'সিজার' চরিত্রে নিজেকে আবির্ভূত করেছেন এমন এক দ্বৈত চরিত্রে, যেখানে তার সমগ্র প্রতিভা যেনো বিকশিত হয়েছে। ক্লারা চরিত্রে ছিলেন Marta Etura, যার হাসিখুশি মুখটা আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক ভুবনে।

অসাধারন স্ক্রিনপ্লে, ভয়ংকর শীতল এটিটিউড, প্রতি মুহূর্তে রোমাঞ্চকর ছোঁয়া, ফিনিশিং এ অবাক হওয়ার অনুভূতি নেওয়ার জন্য “Sleep Tight” একটি উৎকৃষ্ট মুভি। থ্রিলার-সাসপেন্স প্রেমীদের জন্য মাস্ট সি মুভি।

হিংসা, ঈর্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখুন, নিজে সুস্থ থাকুন এবং ভালো রাখুন কাছের মানুষটিকে।

© movie review bd 

Ratsasan (2018) Movie Review || মুভি রিভিউ

Ratsasan (2018)

আরুণ কুমার (Vishnu  Vishal) থাকে একজন প্যাশনেট মুভি মেকার, যদিও তার একটা স্ক্রিপ্টও কোন প্রযোজকের মন কেড়ে নিতে পারে নি। বোন, পুলিশ অফিসার দুলাভাই ও ছোট একটা ভাগ্নি আছে তার। প্রত্যেকটা ডিরেক্টরেরই একটা নিজস্ব স্টাইল থাকে, এখানে অরুণ কুমারেরও একটি নির্দিষ্ট গল্পের মুভি বানানোর ইচ্ছা প্রবল থাকে, সেটি হল সিরিয়াল কিলিং! তার রুমের দেয়াল জুড়ে শুধু ভারতই নয়, প্রায় পুরো বিশ্বের নানান সময়ের আলোচিত সিরিয়াল কিলারদের নিয়ে প্রকাশিত পেপার/ম্যাগাজিন/বুক কাটিং দিয়ে সাঁটা থাকে। দুর্ভাগ্যক্রমে যখন তার মুভি মেকিং কোন ভাবেই আলোর দিক দেখছিল না, তখন তার দুলাভাই তাকে এক প্রকার অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাকে পুলিশের এস আই পদে জয়েন করিয়ে দেয়।
এরপর একের পর এক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে মুভির কাহিনী এগিয়ে চলে। প্রত্যেকবার স্কুলের কোন না কোন মেয়ে অপহৃত হতে থাকে। ঠিক তার দুই দিন পর তাদের লাশ পাওয়া যায় বিভিন্ন জায়গায়, খুবই বিকৃত ভাবে মেয়েগুলো কে হত্যা করা হত, এবং ইন্টারেস্টিংলি সবার বাড়ির আশেপাশেই একটা গিফট বক্স থাকত, যেখানে থাকত একটি পুতুলের কাটা মাথা এবং সে মাথাগুলো বিকৃত ভাবে কাটা। আশ্চর্যের ব্যপার হল, লাশগুলোর মুখমন্ডল গুলোও ঠিক সেইভাবেই কাটা থাকত। এভাবে চলতে চলতে ৪ নম্বর ভিক্টিম হয় অরুণের ভাগ্নি। যথারীতি তার লাশও পাওয়া যায় তার দুলাভাইয়ের গাড়ির পিছনের বক্সে। এই সময়েই বিভিন্ন ক্লু মিলিয়ে দেখা দেখা যায় যে যে মেয়েগুলো হত্যা করা হয়েছে তাদের প্রত্যেকেরই স্কুলে ঠিক তার দুই দিন আগে কোন না কোন ফাংশন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এবং সেখানে একজন মহিলা (!) ম্যাজিশিয়ান ম্যাজিক পারফর্ম করেছে, এই ক্লু ধরে এগিয়ে যেতে যেতেই এক সময়ে খুনী ধরা পড়ে। কিন্তু দেখা যায় খুনী একজন পুরুষ, যে কি না তার মায়ের বেশ ধরেই একের পর এক খুন করে চলে। যদিও বিশ্বের তাবদ সিরিয়াল কিলিং এর মতই এখানেও রয়েছে এক হৃদয় বিদারক ঘটনা, যেটা যে কারোর কাছেই বেশ কষ্টের মনে হতে পারে।

এবার আসি এই ছবির বেশ কিছু জায়গায়, যেখানে দর্শক হিসেবে আমার কিছু অসঙ্গতি লেগেছে।

১। হয়ত প্রত্যেক সিরিয়াল কিলারেরই কিছু নিজস্ব স্টাইল থেকে থাকে, যার ফলে তাদের কিলিং এর ধরন প্রায় একই থাকে, কিন্তু তারা এখানে কিলার প্রত্যেকবারের ফাংশনের ম্যাজিকে এসিস্ট করা মেয়েগুলোকেই কেন বেছে নিলেন, এতে করে তার ধরা পড়াটা বেশ সহজ ছিল, এত পেঁচানোরও দরকার ছিল না। এখন অনেকেই সিনেমাতে যেভাবে উপস্থিত করা হয়েছে বিষয়টা তার সাথে সুর মিলিয়ে বলতে পারেন, সেই মেয়েটিকে প্রলুব্ধ করা সহজ ছিল। কিন্তু বিষয়টি তেমন না, যেই বয়সী মেয়েদের এখানে দেখানো হয়েছে, তারা ম্যাজিকে এসিস্ট না করলেও শুধু ম্যাজিক দেখার ফলেই পরবর্তীতে সেই খুনীর প্ররোচনার ফাঁদে পড়ত।

২। হরমোনাল প্রবলেমের কারণে যে কিশোরটি ইম্পোটেন্ট ছিল, সেই লোকটি বড় হয়ে একজন পুলিশ অফিসারের সাথে যেভাবে পাল্লা দিয়ে ফাইট করে গেল, সেটা হাস্যকর বললেও কম বলা হয়ে যাবে। যদিও অনেকেই বলবে মুভিটিতে একটু বাড়তি উত্তেজনা যোগ করাই ছিল এত উদ্দেশ্য, তাহলে মেনে নিতে আপত্তি নেই যে এর দরকার ছিল।

ভালো লেগেছে যে যে বিষয়ঃ

১। ঠিক এই ধরনের মুভি ইন্ডিয়ান সিনেমাকে অনেক উপরে তুলতে সাহায্য করবে। কাহিনী, অভিনয় সর্বোপরি সাস্পেন্সে ভরপুর একটি সিনেমা, মানতেই হবে।

২। শেষ মেয়েটি কে দেখানো হয়েছে ক্লাস টেন টপার, কিন্তু সে ব্যাকবেঞ্চার, এটা খুবই ভাল লেগেছে। শুধু সামনের পোলাপানই ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা সায়েন্টিস্ট হবে, এটা ভাবা ঠিক না।

৩। এটা আসলে ভাল লাগার বিষয় না, কিন্তু মনে দাগ কেটেছে, সেটা হল অরুণের ভাগ্নির লাশের ব্যাপারটা যেভাবে ওর বোনের কাছে লুকিয়ে মর্গে নিয়ে যাওয়া হল, সেই ৭-৮ মিনিট আমি জীবনের ভুলব না। অসাধারণ অভিনয়, সিনেমাটোগ্রাফি এবং পরিচালকের পান্ডিত্য আমাকে মুগ্ধ করেছে।

সব শেষে, এ ধরনের সিনেমা আরও হওয়া উচিৎ, এতে করে আমাদের মত সিনেমাভোজীদের ক্ষুধা আরও অনেক বেড়ে যাবে, সাথে বাড়বে সুস্থ ধারার বিনোদনের প্রতিযোগিতা।
© Movie Review Bd 

একজন রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের কথা

Iron man, avenger,  avengers end game, avengers 2019, rdj,

আই অ্যাম আয়রন ম্যান’—এই সংলাপের পর তাঁর পরিচয় নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এক সংলাপে ডুবতে বসা ক্যারিয়ার এবং মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স দুই-ই একসঙ্গে দেখেছিল সাফল্যের মুখ। তাঁর নাম রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। এর চেয়ে বড় করে পরিচয় দেওয়ার মতো আসলেও কিছু নেই। কারও কাছে টনি স্টার্ক, আবার কারও কাছে শার্লক হোমস।

আমাদের জীবনের প্রথম সুপারহিরো হয়ে আসেন আমাদের বাবা। হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, ‘পৃথিবীতে অনেক খারাপ মানুষ থাকতে পারে, কিন্তু একটাও খারাপ বাবা নেই।’ রবার্ট ডাউনির ক্ষেত্রে আক্ষরিক অর্থে তাঁর বিপরীত। তাঁর জীবনে তাঁর বাবা কোনো সুপারহিরো নন, বরং সুপার ভিলেন। ছয় বছরের বাচ্চার হাতে যেখানে বাবারা তুলে দেন আইসক্রিম কিংবা চিপস, সেখানে তিনি তুলে দিয়েছিলেন মাদক। ছয় বছর বয়সে নিয়মিত হিরোইন সেবন করা ডাউনি আট বছরের মধ্যেই হয়ে যান পুরোপুরি মাদকাসক্ত। একজন মাদকাসক্ত যেভাবে গোগ্রাসে মাদক সেবন করতে পারে, ঠিক সেভাবেই পারতেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

বাবা রবার্ট ডাউনি সিনিয়রকে নিজের জীবনের সুপার ভিলেনের বদলে অ্যান্টি হিরো হিসেবে কল্পনা করলেই ভালো হবে। মুখে মাদক তুলে দেওয়ার আগে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন সিনেমার ক্যামেরার সামনে। সিনিয়র রবার্ট ডাউনি ছিলেন সিনেমার পরিচালক, নিজের বানানো ‘পাউন্ড’ (১৯৭০) সিনেমায় এক মিনিটের চরিত্রে সুযোগ দেন ছেলেকে। সিনেমায় তাঁর একমাত্র সংলাপ ছিল, ‘ডু ইউ হ্যাভ অ্যানি হেয়ার ইন ইয়োর বলস?’ ওটুকুই যথেষ্ট ছিল। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকানো নয়। একসঙ্গে দুই নেশায় জড়িয়ে পড়ে ছোট্ট ডাউনি। এক মাদক, দুই অভিনয়। গভীর রাতে এই দুই নেশার একমাত্র দর্শক ছিলেন তাঁর বোন অ্যালিসন। মাদকে যখন পুরোপুরি ডুবে আছেন, তখনই শিখে ফেললেন ব্যালে নাচ, মাত্র ১০ বছর বয়সে!
মা এলসি অ্যানের অভিনয় ক্যারিয়ার আর রবার্ট ডাউনি সিনিয়রের সিনেমা। দুইয়ের মধ্যে এক হয়ে ছিল দুই ভাইবোন অ্যালিয়াস আর অ্যালিসন। কিন্তু তা–ও শেষ হয়ে গেল ১১ বছর বয়সে। মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদ দুই ভাইবোনকে সরিয়ে দিল চিরতরে। স্ত্রীকে ডিভোর্স দেওয়ার বেদনায় সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে মদ্যপান করতেন ডাউনি সিনিয়র। ১৭ বছর বয়সে তাঁকে বের করে দেওয়া হয় স্কুল থেকে। বাবা তাঁকে ছেড়ে দিয়েছেন, সঙ্গী বলতে ওই এক মাদক। এ অবস্থায় এসে ভাবলেন, মাদক সেবন বাদে আর একটি জিনিসই তিনি পারেন, সেটা হলো অভিনয়!

বাবার নামের জোরে হলিউডপাড়ায় টুকটাক ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয় করে সময় কাটছিল। কিন্তু পাশার দান বদলে দিল ‘লেস দ্যান জিরো’ সিনেমার স্ক্রিপ্ট! সেখানে তাঁর চরিত্র ছিল জুলিয়ান ওয়েলস নামে এক তরুণের, যার পুরো জীবন কেটেছে মাদকে ডুবে। কোকেনে ডুবে থাকা ওয়েলসের চরিত্রে যেন জীবন্ত হয়ে উঠলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। সিনেমা শেষ করার পর নিজের কাছেই উপলব্ধি করলেন, এই যে দর্শকের তালি পাচ্ছেন, তা তো অভিনয়ের জন্য নয়। এই জুলিয়ান ওয়েলস তো অন্য কেউ নন, এ তো তাঁর নিজের জীবনের কাহিনি। নিজের জীবনকে সিনেমার পর্দায় তুলে ধরেছেন, সিনেমার পর্দায় ছাড়তে পেরেছেন, তবে বাস্তবে কেন নয়?

১৯৮৯ সালে ‘দ্যাটস অ্যাডেকোয়েট’ নামের কমেডি সিনেমায় ফুটিয়ে তুললেন আলবার্ট আইনস্টাইনকে। তা দেখেই রিচার্ড অ্যাটেনবোরোর মন গলে গেল। এই ছেলেকেই তো এত দিন খুঁজছিলেন। এক বিশেষ চরিত্রের জন্য, কিন্তু সময় মিলছিল না কারও। চরিত্রে কাজ করার কথা ছিল জনি ডেপ, জিম ক্যারির মতো তারকার। কিন্তু ভাগ্যদেবী চরিত্রটি যে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের জন্যই প্রস্তুত করে রেখেছিলেন। চরিত্রের জন্য যখন প্রথম স্ক্রিপ্ট পেলেন, তখন সঙ্গে সঙ্গে সাইন করে ফেললেন। ফেলবেন না কেন? কারণ সিনেমাটি ছিল চার্লি চ্যাপলিনের জীবনের ওপর তৈরি করা ‘চ্যাপলিন’। এরপর যখন স্ক্রিপ্ট পড়লেন, তখন আবার আকাশ থেকে পড়লেন। মনে হচ্ছে, আমাকে এক বিলিয়ন ডলারের লটারি দিয়ে জেল খাটানো হচ্ছে। কারণ সিনেমার চার্লি চ্যাপলিনের মতো হাঁটাচলা এমনকি স্ট্যান্ট—সব নিজেকে করতে হয়েছে।
অবশেষে ‘চ্যাপলিন’ মুক্তি পায়। তাঁর দুর্দান্ত অভিনয়ে মুগ্ধ দর্শক থেকে সমালোচক—সবাই। তবে ‘বাফটা’ ও লন্ডন ক্রিটিকসদের কাছ থেকে সেরা অভিনেতার পুরস্কার বাগিয়ে নেন। অস্কারে মনোনয়ন পেলেও জেতা হয়নি। নিজের তীক্ষ্ণ সেন্স অব হিউমার দিয়ে বলেছিলেন, ‘ব্যাপার না। একদিন না একদিন পাবই। বুড়ো হলেও একটি অস্কার দেওয়া হয় আজীবনের সম্মাননাস্বরূপ। বুড়ো তো হবই, সুতরাং অস্কার আমার হবে।’

অস্কারের মঞ্চে পরিচয় দেবোরাহ ফ্যালকোনারের সঙ্গে। তাঁকে বিয়ে করেন ডাউনি। তাঁদের এক সন্তানও হয়, নাম ইন্দিও ফ্যালকোনার। ঝামেলা তাঁর কাছে ছিল নিকট আত্মীয়ের মতো। ১৯৯৫ থেকে ২০০১ সাল—এই কয়েক বছরে সম্ভবত জেল-আদালত-বাসা বাদে অন্য কোনো দিকে নজর দেওয়ার সময় পাননি। একবার জেলে যান, এরপর মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়া। এর কয়েক দিন পর আদালতে হাজিরা দেওয়া। আবার জেলে যাওয়া নতুন কোনো অভিযোগে। ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’ সিনেমার ইনফিনিটি টাইম লুপের মতো। চলতেই আছে, কোনো থামাথামি নেই। মায়ের স্নেহের অভাব বোধহয় খুব বাজেভাবে অনুভব করছিলেন। এই সময়ে মেয়েকে নিয়ে চলে যান স্ত্রী ফ্যালকোনারও।

বারবার প্রতিজ্ঞা করেও যেন বৃত্ত থেকে বের হতে পারছিলেন না। হলিউডপাড়াতেও তত দিনে খারাপভাবে তাঁর নাম ছড়িয়ে গেছে। কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। না ছাড়তে পারছেন মাদক, না পারছেন মনোযোগ দিতে অভিনয়ে। কেউ সুযোগও দিচ্ছেন না। মাদকাসক্তি কাটাতে শুরু করলেন বিশেষ ধরনের মার্শাল আর্ট। বিপদ এগিয়ে এলেন অভিনেতা ও বন্ধু মেল গিবসন। সুযোগ দেন ‘দ্য সিঙ্গিং ডিটেকটিভ’ সিনেমায়। এই প্রতিদানে এখন বলেন, মেল গিবসন তাঁর কাছে একজন অভিনেতা, একজন বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু। মাদক থেকে বাঁচাতে যেন ত্রাতা হয়ে এলেন একজন। নাম তাঁর সুজান ডাউনি। সুজান তাঁদের বিয়ের সময় একটি শর্ত দিয়েছিলেন, আর জীবনে কখনো মাদক ধরা যাবে না! সেই শেষ! মাদকের সঙ্গে এত বছরের প্রেম শেষ করে প্রেম করা শুরু করলেন সুজান ডাউনির সঙ্গে। মাত্র ৪২ দিন প্রেম করে বিয়ে, সেই প্রেম চলছে এখনো। হলিউডপাড়ায় সেরা দম্পতির তালিকায় সুজান-রবার্ট নামটা ওপরের দিকেই থাকে।
বিয়ের পর বাকি রইল দুই—এক সুজান, দুই ক্যারিয়ার। ফলে ক্যারিয়ারের গ্রাফও আস্তে আস্তে ওপরের দিকে উঠতে থাকে। ‘কিস কিস ব্যাং ব্যাং’, ‘গুড নাইট’-এর মতো সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হয় তাঁর নাম। তবে সবচেয়ে কাঁপিয়ে দেওয়া অভিনয় করেন ‘জোডিয়াক’ সিনেমায়। গত শতকের সত্তর দশকে ঘটে যাওয়া সিরিয়াল কিলিংয়ের ওপর বানানো সিনেমায় জ্যাক গিলেনহ্যাল, মার্ক রাফেলো, অ্যান্থনি অ্যাডওয়ার্ডসের পাশে থেকেও আলো কেড়ে নেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। ‘পল অ্যাভেরি’ চরিত্রে ডাউনির অভিনয় চোখ রাঙিয়ে দেয় জন ফ্যাভ্রুয়ের।

মার্ভেলের অবস্থা তখন নড়বড়ে। নিজেদের সেরা সুপারহিরো ক্যারেক্টার ‘হাল্ক’, ‘স্পাইডার-ম্যান’, ‘ফ্যান্টাস্টিক ফোর’, ‘এক্স-ম্যান’ বিক্রি করে দিয়েছে অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির কাছে। তবুও দেউলিয়া হওয়া থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারছিল না। শেষমেশ ধারদেনা করে একটি সিনেমা বানানোর কাজে হাত দেয় ‘মার্ভেল’। সিনেমার কাজ দেওয়া হলো ‘জঙ্গল বুক’–এর মতো সিনেমা বানানো জন ফ্যাভ্রুয়ের হাতে। মার্ভেল বলেছিল ব্র্যাড পিট কিংবা টম ক্রুজের কাছে যেতে। কিন্তু ‘টনি স্টার্ক’ চরিত্রের জন্য একজনকেই পছন্দ ছিল জন ফ্যাভ্রুয়ের। তাই মার্ভেলের সঙ্গে মোটামুটি যুদ্ধ করে সিনেমার পুরো স্ক্রিপ্ট না নিয়েই শুরু করলেন মার্ভেল ইউনিভার্সের।

‘এসি/ডিসি’ ব্যান্ডের ‘ব্যাক ইন ব্ল্যাক’ গান ব্যাকগ্রাউন্ডে, হাতে ওয়াইনের গ্লাস টলমল। সেই শুরু। একজন টনি স্টার্ক কিংবা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের উত্থান! এ দৃশ্য দিয়ে শুরু টনি স্টার্ক কিংবা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের উত্থান হয়নি। উত্থান হয়েছিল সিনেমা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইউনিভার্সের। শুরুর শুটিংয়ের দিনও হয়তো কেউ ভাবেনি, ১২ বছর পর এখনো সমানভাবে সেই একই আগ্রহ থাকবে। কিন্তু টনি স্টার্ক চরিত্রে সঙ্গে একেবারে মিশে যান ডাউনি। একদিকে সনির ‘স্পাইডারম্যান’, অন্যদিকে ডিসির ‘ব্যাটম্যান’। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় কমিক বুক সুপারহিরো এই দুজন। অন্যদিকে কমিক দুনিয়ার ‘বি-গ্রেড’ একটি চরিত্র ‘আয়রন ম্যান’। জন ফ্যাভ্রুয়ের হাতে অন্য চরিত্র বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এই মাতাল, বিলিয়নিয়ার, সুপার জিনিয়াস স্টার্ককেই মনে ধরল তাঁর। লাইভ অ্যাকশন সুপারহিরো দুনিয়ায় নতুন করে আবির্ভূত হলেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। স্পাইডারম্যান কিংবা ব্যাটম্যানের মতো পুরো শহর বাঁচানোর দায়িত্ব তার কাঁধে না। স্টার্ক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক থেকে অপহৃত হওয়া এক বন্দী। গুহার ভেতরে বানিয়ে ফেলা এক আয়রন ম্যান স্যুট! এরপর নিজেকে আর বিশ্বকে রক্ষা করা। ছোট্ট করে এই ছিল টনি স্টার্কের সূচনা।
কিছুদিন আগে এই সিনেমার ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করা জেফ ব্রিজেস বলেছেন, ‘আমাদের কাছে পুরো স্ক্রিপ্ট কখনোই ছিল না। আমরা হাফ স্ক্রিপ্টে কাজ করতাম। আমরা অভিনয়ের মাঝেমধ্যেই নিজ থেকে ডায়লগ বলতাম, যেগুলো মুভিতে জায়গা পেয়েছে। এমনকি আমি, রব, জন মিলে মুভির কোন সিন শুট করা যায়, তা–ও ভেবে বের করতাম।’

গিনেথ প্যালট্রো আর জেফ ব্রিজেসকে নিয়ে শুরু করা মার্ভেল ইউনিভার্সে সিনেমা, লোক আর পয়সার অভাব নেই। শুধু আয়রন ম্যান থেকে টিম-আপ করেছেন বিশ্বের সব সুপারহিরোর সঙ্গে। ক্যাপ্টেন আমেরিকা, হাল্ক, থর, ব্ল্যাক উইডো, হক আই আর আয়রন ম্যান। সব মিলে ‘অ্যাভেঞ্জার্স’। এই চবির তিন পর্ব শেষে আসছে চতুর্থ পর্ব। টিম-আপ হয়ে গেছে গার্ডিয়ান্স, ডক্টর স্ট্রেঞ্জের সঙ্গে। নিজের ছত্রচ্ছায়ায় এনেছেন স্পাইডারম্যানকে। ২২ সিনেমা শেষে এখন এই কাহিনি এসে পৌঁছেছে ‘এন্ডগেম’–এ। মার্ভেলের বিশাল ‘ইনফিনিটি সাগা’র শেষ হবে এই ‘এন্ডগেম’ দিয়ে।
আয়রন ম্যান তো মাত্র শুরু! সঙ্গে সঙ্গেই স্ক্রিপ্টের পর স্ক্রিপ্ট জমা হতে লাগল। সুজানের কাজ পড়ল ডাউনির জন্য ভালো সিনেমা বের করা। এর মধ্যেই অভিনয় করলেন ‘ট্রপিক থান্ডার’ সিনেমায়। ২০১১ সালে সুযোগ পেলেন বইয়ের পাতা থেকে তুলে আনা আরেক চরিত্রে অভিনয়ের। স্যার আর্থার কোনান ডয়েল রচিত ‘শার্লক হোমস’! আলবার্ট আইনস্টাইন, চার্লি চ্যাপলিন, টনি স্টার্কের পর শার্লক হোমস—একটুও ঘাবড়ালেন না তিনি। বিলিয়নিয়ার প্লে বয় টনি থেকে ডিটেকটিভ শার্লক হতে এক মিনিটও যেন সময় লাগেনি তাঁর। পুরো চরিত্র যেন তাঁর জন্যই তৈরি। শার্লকের দুই পর্ব শেষ করে তৃতীয় পর্বের শুটিং করছেন এখন। এর আগে শার্লকের ক্যারেক্টরকে সিনেমা পর্দায় এত সুন্দরভাবে ফোটাতে পারেনি কেউই।

জাজ হ্যাঙ্ক প্যালমারের চরিত্রে ‘দ্য জাজ’ আর বন্ধু জন ফ্যাভ্রুয়ের ‘দ্য শেফ’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় যে কাউকে মুগ্ধ করতে বাধ্য। এ বাদে আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি তাঁকে। মার্ভেল ইউনিভার্সের টনি স্টার্ক চরিত্রের কারণেই অন্যান্য সিনেমা থেকে তাঁর দূরে থাকা।
Movie reviwe, tony stark, iron man, rdj, robart dawniy j, avenger, end game

ব্যক্তিগত জীবনে একেবারেই অদ্ভুত রকমের একজন মানুষ তিনি। যেমন বিনয়ী, তেমনই সময় পেলে সহ-অভিনেতাদের পচাতেও পিছপা হন না। হলিউডপাড়ায় সেন্স অব হিউমারের দিক দিয়ে শীর্ষস্থানীয় ডাউনি। একসময় যিনি মাদকের পেছনেই সব ডলার উড়িয়ে দিতেন, সেই মানুষটা এখন বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতাদের একজন। এক আয়রন ম্যান চরিত্রে অভিনয় করেই তাঁর আয় প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সামনে আসা ‘এন্ডগেম’ থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নেবেন ডাউনি। নিজের ফ্যামিলি আর আয়রন ম্যান ছাড়া আর এখন কোনো চিন্তা নেই তাঁর মাথায়।
তাঁর জন্মই হয়েছিল ‘টনি স্টার্ক’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য। এখন এটাই মনে করেন নিজে। নিজের নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে ‘ডাউন’ শব্দটা। জীবনের শুরু থেকেই ডাউন হওয়া ডাউনির জীবনে এখন শুধুই ওপরের দিকে ওঠা। নিজের স্ত্রী সন্তান নিয়ে সুখী রবার্ট। জীবনে অনেক ঘাত–প্রতিঘাত যিনি দেখেছেন, মাদক এত বছরে যার চেহারাকে তেমন কিছুই করতে পারেনি।

সেই মানুষটার জন্মদিন ছিল ৪ এপ্রিল। শুভ জন্মদিন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

Inception (2010) মুভি রিভিউ

এই ছবির মূলভিত্তি হল স্বপ্ন শেয়ারিং এবং স্বপ্ন তৈরি করা। অর্থাৎ অন্যের অবচেতন মনে ঢুকে স্বপ্ন অবজার্ভেশন করা এবং নিজেদের উদ্দেশ্যকে সফল করার জন্য স্বপ্নের পরিবেশ তৈরি করা। এই কাজে তারা উপস্থিতবুদ্ধি সম্পূর্ণ একজন অর্কিটেকের সহয়তা নেয়। এখন কথা হচ্ছে কিভাবে তারা একই সাথে তিন চার জন একই স্বপ্নে প্রবেশ করে? মূলত এই স্বপ্নে প্রবেশে তারা ছোট একটা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে যেটা হল পুরা সাইন্সফিকশন অর্থাৎ এটার বাস্তব কোন লজিক নেই। বাস্তবধর্মী মেডিটেশন কিংবা হিপনোটাইজ প্রক্রিয়ায় যেভাবে মানুষের মনকে নিয়ন্ত্রণ করা হয় এখানে সেইরূপ কোন সাইট্রিফিক কোন মেথড ব্যবহার করা হয় না বরং একটা ছোট ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কাজটি করা হয়। তাই মুভির আসল সাধ অনুভব করতে হলে আপনাকে এটা মেনে নিতে হবে অতিরিক্ত বাস্তববাদী হলে মুভি না দেখাই ভালো। আর ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া না দেখাই ভালো ।
মুভিটা শুরু হয় সমুদ্র সৈকতে অচেতন অবস্থায়একজনকে(কোব=ডিক্যাপিও)পাওয়ার মাধ্যমে। কোবকে নেয়া হয় মিঃসাইতো এর সামনে। এরপর শুরু হয় কোব ও সাইতোর মুখোমুখি হবার পূর্ববতী ঘটনা।

কোব মুলত একজন এক্সট্রাক্টর। এক্সট্রাকর হল সেই যে অন্যের স্বপ্নে প্রবেশ করার ক্ষমতা রাখে সাথে সাথে সে স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রণও করতে পারে। প্রয়োজনে সে অন্যের হাত থেকে স্বপ্নর মাধ্যমে যাতে কেউ তার আইডিয়াকে চুরি করতে না পারে সেই ব্যবস্থাও করতে পারে। অপরদিকে মিঃসাইতো একজন ক্ষমতাধর ব্যবসায়ী। কোবাল ইঞ্জিনিয়ারিং নামক এক কোম্পানি কোব ও তার সহযোগীদের কে ভাড়া করে স্বপ্নের মাধ্যমে মিঃসাইতোর এক গোপন নথির তথ্য উদ্ধার করতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তারা সেটা করতে ব্যর্থ হয়।মিঃসাইতোর নিকট স্বপ্নের মাধ্যমে অন্যের গোপন নথি সম্পর্কে জানার এই প্রক্রিয়া মৌলিক আইডিয়া এবং বেশ কার্যকরী মনে হয় ফলে সে কোব ও তার সহযোগী মিঃঅার্থার( জোসেফ) কে তার হয়ে একটি কাজ করার অনুরোধ করে তবে সেটা তথ্য জানা নয় বরং তার ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীর মনে এমন এক ধারনা ঢুকিয়ে দেয়া যাতে সে নিজ থেকেই নিজের ব্যবসাকে ধ্বংস করে দেয়। এই অাইডিয়া ঢুকিয়ে দেয়াকেই inception বলে। মজার বিষয় হচ্ছে কোব ও অার্থার আগে কখন এমন কাজ করে নি। এবং তারা জানে এই কাজটি করতে হলে স্বপ্নের তৃতীয় লেয়ারে যেতে হয় যেটা শুধু কষ্টসাধ্য নহে বরং জীবনের জন্যও হুমকি। সেইজন্য তারা প্রথমে রাজি হয়নি কিন্তু যখন মিঃসাইতো কাজটির বিনিময়ে কোবকে তার সন্তানদের কাছে অর্থাৎ বাড়িতে ফিরতে সাহায্য করবে বলে তখন কোব রাজি হয়। কারণ কোব তার স্ত্রী ম্যালের হত্যা মামলার আসামী। সেইকারনে সে অনেকবছর ধরে দেশে ফিরতে পারছে না।এইটুকুই কাহিনী। এখন ডিক্যাপিও (কোব) কি কাজটি ঠিকভাবে করতে পারছে কিনা না আদো সম্ভব না? সে কি তার বাচ্ছাদের কাছে যেতে পারছে এটা জানতে হলে আপনাকে মুভিটা দেখতে হবে। এই ছবির সবচেয়ে সুন্দর দিক হলে এখানে আমরা সচারচর স্বপ্নের মধ্যে যে দৃশ্য গুলো দেখি পরিচালক ক্রিস্টোফার নোলান চেষ্টা করছে ঠিক সেইরূপ দৃশ্য তুলে ধরতে। এখানেই পরিচালক অনেকাংশ সার্থক।

কিন্তু জটলাগে স্বপ্নের লেভেলগুলো বুজতে।
১ম লেভেল হচ্ছে সচারচর ঘুমালে যে স্বপ্ন দেখি। ২য় লেভেল হল আপনি যদি স্বপ্নের ভেতর আবার স্বপ্ন দেখেন। ৩য় লেভেল হল ২য় স্বপ্নের ভেতর যদি আবার স্বপ্ন দেখেন। । এখন আপনার স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া মানে এই না আপনি বাস্তবে ফিরে আসলেন বরং আপনি স্বপ্নের ২য় লেভেলে আছেন। আবার স্বপ্ন ভাঙ্গলে আপনি আসবেন ১মলেভেলে। এরপর যদি স্বপ্ন ভাগে তবেই আপনি বাস্তবে ফিরে আসবেন। এই সিকুয়েন্স মেনটেইন করেই মুভির কার্যক্রম চলে। আপনার প্রথম কাজ হচ্ছে এই সিকুয়েন্স টা ধরা। তাহলেই মুভির কাহিণী বুঝা সহজ হবে।
আরেকটা জিনিস খেয়াল রাখতে হবে সেটা হল "সময়"। স্বপ্নে সময়ের গতি বাস্তব জগতের চেয়ে বেশি। ফলে বাস্তব জগতের ৫ মিনিট স্বপ্নে সেটা মনে হবে ১ঘন্টার মতো। শুধু তাই নয় স্বপ্নের লেভেল যত বাড়বে এই গতি তত বৃদ্ধি পাবে। তাই ছবি দেখার মুহুর্তে এই সময়ের গতি বেগের দিকেও ভালো করে খেয়াল রাখতে হবে। এই গতিবেগের মূল রহস্য হল, আমাদের অবচেতন মনের চেতন মনের চেয়ে দ্রুত কাজ করার ক্ষমতা।                                 আরেকটা বিষয় ছবিটাতে ব্যবহার করা হয় সেটা হল টোটেম। যার মাধ্যমে তারা বুঝতে পারে সে কি স্বপ্নে নাকি বাস্তবে আছে। যেমন ডিক্যাপিওর টোটেম হল "লাটিম"। লাটিম ঘুরতেই থাকলে স্বপ্নে আর লাটিম ঘুরতে ঘুরতে বন্ধ হয়ে গেলে বুঝবে বাস্তবে আছে সে।

মুভিটির মাধ্যমে ক্রিস্টোফার সাহেব মুলত আমাদের চিন্তার ও গবেষণার জন্য নতুন একটি ক্ষেত্রের সন্ধান দিয়েছেন। কোনভাবে যদি সত্যি সত্যি স্বপ্ন শেয়ারিং ও স্বপ্ন তৈরি ব্যপারটা নিয়ন্ত্রন করা যায়। অর্থাৎ অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তবে সত্যিই একটা শিল্প বিপ্লবের মতো একটা বিপ্লব ঘটে যাবে। ব্যপারটা বুঝার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে অবচেতন মন কি? এবং অবচেতন মনের ক্ষমতা?
ধরুন আপনার সামনে একপ্লেট সুস্বাদু খাবার রাখা আছে। কিংবা আপনি টয়লেট বসে হাগু করছেন? কখনও কি এমন হয়েছে, আপনি মনের ভূলে বামহাত দিয়ে খাবার খাচ্ছে কিংবা ডানহাত দিয়ে হাগু পরিষ্কার করছেন? আপনার এই দীর্ঘ জীবনে এমনটা কখনও হয়নি এবং কাজগুলোও আপনি চিন্তা ভাবনা করেও করেননি বরং আপনার চেতন মনের অলক্ষ্যেই হয়ে গেছে বা হচ্ছে ।আপনি ভালো করে খেয়াল দেখবেন হঠাৎ করে উড়ে আসা কোন ঢিল প্রতিরোধে আপনার শরীর অটোমেটিক সঠিকভাবে মুভ করছে আপনার বিনা ইন্সট্রাকশনে। এই কর্মকান্ড আপনার চেতন মনের নিয়ন্ত্রনে নহে। এইগুলো ঘটে অবচেতন মনে। শুধু তাই নহে এইকাজগুলো অবচেতন মনের গভীরের এমনভাবে প্রথিত আছে যা আপনার পক্ষে কখনও তা থেকে সরে আসা সম্ভব না।
আর আমরা জানি স্বপ্নে আমাদের অবচেতন মন উম্মুক্ত হয় আর চেতন মন অনেকটা বন্ধ থাকে। তাই পরিচালক ক্রিস্টোফার চেষ্টা করেছে স্বপ্নের মাধ্যমে অবচেতন মনের কর্মকান্ডকে নিয়ন্ত্রন করার। এবং তার মাধ্যমে অবচেতন মনের গভীরে কিছু অাইডিয়া প্রথিত করা যাতে সেটা বাস্তব জীবনেও ঢিল প্রতিরোধের মতো কোন কাজে লাগে।
কি ভাবছেন? অন্যের মাথায় এইভাবে আইডিয়া ঢুকানো কি আদো সম্ভব? হ্যাঁ সম্ভব। এই যে আমি যেভাবে আপনাদের চেতন মনে অাইডিয়া ঢুকিয়ে দিয়েছি এই বলে যে এই ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখবেন না। আপনার চেতন মন অলরেডি ঠিক করেই নিয়েছে যে, inception ছবিটা সাবটাইটেল ছাড়া দেখা যাবে না? ঠিক একই ভাবে অবচেতন মনেও অাইডিয়া প্রথিত করা যাবে।
ডিক্যাপিও, ট্রম হার্ডি, ক্যান, আর্কিটেক চরিত্রে ইলেন পেইজ, জোসেফ গর্ডন সবাই ভালো অভিনয় করে। আমি মনে করি সবচেয়ে বড় অভিনেতা হল পরিচালকর ও লেখক ক্রিস্টোফার নোয়ান। এমন একটা থিম নিয়ে ছবি করার ভাবনা এবং সেটা সার্থক ভাবে উপস্থাপন করা চাট্টিখানি কথা না।
আমার রেটিংঃ৮/১০

'Iron Man' নাকি রবার্ট ডাউনি জুনিয়র কার জনপ্রিয়তা বেশি!

'Iron Man' নাকি রবার্ট ডাউনি জুনিয়র কার জনপ্রিয়তা বেশি!
Iron Man vs RDJ
২০০৮ সালের টনি স্টার্ক/আয়রনম্যানের আগে ও পরে কতশত সুপারহিরো মুভির লাইভ একশান এসেছে। কিন্তু কোনটাই টনি স্টার্কের মত জনপ্রিয়তা পায় নি। এর কারন প্রশ্নের জবাবটা হয়তো হবে "রবার্ট ডাউনি জুনিয়র"। দ্যা এভেঞ্জার মুভির একটা ডায়লগ আছে টনি স্টার্কের। যেখানে ক্যাপ্টেন আমেরিকা অকা স্টিভ রজার্স টনি স্টার্ককে বলে " বিগ ম্যান উইত এ স্যুট অফ এন আর্মার,  টেক দ্যাট অফ হোয়াট ইউ আর?" যার জবাবে টনি স্টার্ক বলে "জিনিয়াস, বিলিয়নিয়ার, প্লেবয়, ফিলেন্থ্রোপিস্ট"। এই এক ডায়লগেই  ইগোয়েস্টিক টনি স্টার্কের চরিত্র ফুটে উঠে। আর এই টনি স্টার্কের চরিত্র রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ছাড়া কেউই এভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারতো না। কারন ডাউনি জুনিয়রই যে রিয়েল লাইফ টনি স্টার্ক।

রবার্ট ডাউনি সিনিয়র ছিল পলিটিশিয়ান, হলিউডের এক্টর, ডিরেক্টর, প্রডিউসার, রাইটার। ছোট থেকেই তাই ডাউনি জুনিয়রের হলিউডে পদচারণ। মায়ের সাথে বাবার ডিভোর্সের পরেই বাবার সাথে থাকা শুরু করে ডাউনি জুনিয়র। কিছুদিন বাদে হাই স্কুলের পাঠ চুকিয়ে পুরোপুরি এক্টিং ক্যারিয়ারে মন দিতে চাইলো। কিছুদিন ব্যালে শিখতে কাটিয়েছে ইংল্যান্ডেও যেন এক্টিং ক্যারিয়ারটা আর শক্ত ভাবে গড়ে উঠে। ব্রিটিশ একসেন্টটা আসে সেখান থেকেই।  ১৯৯২ সালে " চ্যাপলিন" মুভির জন্য পেয়েছিল একাডেমি এওয়ার্ড মনোনয়নও। এ যেন মহাতারকার আগমনের জানান দেয়া ছিল। কিন্তু পতন দেখতে খুব বেশিদিন সময়ও লাগে নি। ডাউনি সিনিয়র ছিলেন ড্রাগ এডিক্ট। আর ডাউনি জুনিয়রের মত তার বাবার ভালবাসা দেখানোর একটা মাধ্যম ছিল ছেলেকেও সাথে করে ড্রাগ নেয়া। আর যার ফলে ডাউনি জুনিয়র নিজের প্রথম মারিজুয়ানা নেয় মাত্র ৬ বছর বয়সে৷ যদিও ডাউনি সিনিয়র শেষদিকে নিজের এহেন কর্মের জন্য অনুতপ্ত হয়েছিল। ৯৬ সাল থেকে ডাউনি জুনিয়রকে কোর্টের চার দেয়ালেই ঘুরতে হয়েছে এই ড্রাগ এডিকশানের জন্য। ১৯৯৯ সালে একবার কোর্টে জাজকে বলেছিল " It's like i have a shotgun in my mouth, and I've got my finger on the trigger. And i like the taste of gunmetal.". ১৯৯৬ সালে একবার এরেস্ট হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারনে। যখন এটা থেকে প্যারেলে মুক্ত হয়েছিল তার কিছুদিন পরেই আবার ট্রেসপাসিং এর কারনে গ্রেফতার হয়েছিল। তিনবছররের জন্য প্রহিবিশনে ছিল৷ তার মাঝেই আবারো এরেস্ট হয় হ্যাভি ড্রাগের কারনে। এরকম করেই পুরো ৯০ এর দশক কেটেছে তার।

২০০১ সালে ড্রাগের সাথে ৬ বছরের ব্যাটেল শেষে ক্যারিয়ারকে আরেকটু গুছিয়ে নিতে চাইলো এবার। রিহ্যাব শেষ করে নিতে নিতে লেগে গেল আর ৬ বছর। ২০০৭ সাল। প্রথম এক্টিং জব ছিল এল্টন জনের মিউজিক ভিডিও "আই ওয়ান্ট লাভ"। যদিও বড় পর্দায় এসেছে আর আগেই। কিস কিস ব্যাং ব্যাং, জোডিয়াক মুভি গুলো করেছিল ২০০৭ এর আগেই। কিন্তু এটা ছিল ২০০৮ সালে যেখানে সে নিজের ক্যারিয়ার ডিফাইনিং রোল পায়।

একবিংশ শতকের শুরুতে যখন সনি পিকচার্স আর টুইন্টি সেঞ্চুরি ফক্স মার্ফেলের ক্যারেক্টারদের দিয়ে বক্স অফিস কাপাচ্ছিল তখন মার্ভেল নিজেদের স্টুডিও শুরু করে নিজেদের হাতে থাকা সুপারহিরোদের নিয়ে কাজ করার জন্য। মার্ভেলের হাতে অনেক কমিক সুপারহিরো থাকার পরেও তারা ডিসাইড করে তাদের প্রথম প্রডাকশন হবে বি লিস্টেড সুপারহিরো আয়রনম্যানের অরিজিন স্টরি। আর ডিরেক্টর হায়ার করা হয় জন ফ্যাভরোকে। রিউমার ছিল টনি স্টার্কের রোলে আসবে টম ক্রুজ। কিন্তু জন ফ্যাভরোর পছন্দ ছিল রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। মার্ভেল স্টুডিও থেকে এটা নিয়ে বিরোধিতাও ছিল ডাউনি জুনিয়রের পাস্ট হিস্ট্রির কারনে। কিন্তু ফ্যাভরোর কথা ছিল এটা তার মুভি সো সেই ভাল জানে। ফান ফ্যাক্ট হচ্ছে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র স্কুলে একদিনের জন্য সাসপেন্ড হয়েছিল।  সেটার কারনও ছিল স্কুলে ক্লাস আওয়ারে কমিক বুক পড়া। আর সেটাও ছিল আয়রনম্যান ইস্যু নাম্বার ওয়ান।

মার্চ ২০০৭ সাল থেকে আয়রনম্যান মুভির প্রডাকশন শুরু হয়৷ এবং জুন মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। একবছরেরও কম সময়ে ২০০৮ সালের মে মাসে মুক্তি দেয়া হয় আয়রনম্যান। রেজাল্ট ছিল এক্সিলেন্ট। মুভিটা বক্স অফিসে আয় করে ৫৮৫ ডলার। ডাউনি জুনিয়রের এই মুভির জন্য পেমেন্ট ছিল ৫ লাখ ডলার। কিন্তু মুক্তি পরবর্তীতে প্রফিট শেয়ার বেড়ে যা দাঁড়ায় ২ মিলিয়ন ডলারে। মুভিতে টনি স্টার্ককে পরিচয় করাতে সময় লাগে দুই মিনিটেরও কম। শুরুতেই দেখানো হয় এরোগেন্ট, নার্সেসিস্ট, ওম্যানাইজার টনি স্টার্ক। ব্যাসিক্যালি এক্সোজোরেট ভার্শন অফ রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। প্রথম শটেই দেখানো হয় টনি স্টার্কের বা হাতে ধরে স্কচের গ্লাস। যা ইন্ডিকেট করে ফ্যামাস আয়রনম্যান কমিক বুক স্টরি "ডিমন ইন এ বোটল" এর।

ডাউনি জুনিয়রকে এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। আয়রনম্যান-২ রিলিজ হয় ২০১০ সালে। মুভি নিয়ে সমালোচকদের সমালোচনা থাকলেও ডাউনি জুনিয়রের জন্য ছিল শুধুই প্রশংসা। ডাউনি জুনিয়রও সেবার থেকে তার সুপারহিরো ক্যারিয়ারকে সিরিয়াসলি নেয়া শুরু করে। শরীরে প্রটিনের পরিমানে বাড়িয়ে করে নেয় ৩২০০। শুরু করে রেগুলার ইয়োগা ও শিখে নেয় মার্শাল আর্ট। এবং সপ্তাহে ৪ দিন ৯০ মিনিট করে জিম সেশনও শুরু করেন। যা বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে। তাই ৫৩ বছর বয়সেও পিওর সুপারহিরো লুকে থাকে ডাউনি জুনিয়র৷

সেকেন্ড আয়রনম্যান থেকেই তার সাইনিং মানি ড্রামটিক্যালি বেড়ে যায়। পাঁচ লাখ ডলার এক লাফে হয়ে যায় ১০ মিলিয়ন। আজও রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের আপফ্রন্ট মানি মার্ভেল মুভির জন্য টেন মিলিয়ন ডলার৷ কিন্তু প্রফিট শেয়ারে সেটা আকাশ ছুয়ে যায়। আর কন্ট্রাকের বাহিরের মার্ভেল মুভির জন্য তো স্পেশাল ডিল করতে হয়। যেমন ক্যাপ্টেন আমেরিকা সিভিল ওয়ারের জন্য তার আপফ্রন্ট মানি ছিল ৪০ মিলিয়ন ডলার। যা কিনা টাইটেল রোল করা ক্রিস ইভানস থেকেও অনেক বেশি৷ এবং প্রফিট শেয়ার সহ যা দাঁড়ায় ৬৫ মিলিয়ন ডলার।  স্পাইডারম্যান হোমকামিং মুভির ৮ মিনিটেএ এক্সটেন্ডেড ক্যামিওর জন্য নিয়েছে ১৫ মিলিয়ন ডলার। আর গতবছর শেষ হওয়া ইনফিনিটি ওয়ারের জন্য ধারনা করা হয় প্রফিট শেয়ার সহ নিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার৷

এ পর্যন্ত রবার্ট ডাউনি জুনিয়র মার্ভেল স্টুডিওর মুভি করেছে  ১০ বছরে ৯ টা। যা থেকে তার আয় ধরা হয় প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার৷ যেখানে তার মোট সম্পত্তির পরিমান প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার৷ আর  এ মাসে অপেক্ষায় থাকা এন্ড গেম তো রয়েছেই। ধারনা করা হচ্ছে এন্ড গেম দিয়েই আরডিজের মার্ভেল ক্যারিয়ার শেষ হতে যাচ্ছে। তবে ভক্তদের জন্য অবশ্য হতাশার কিছুই নেই। কারন আরডিজে ঠিকই রয়ে যাবে বড় পর্দায়৷ ২০১১ সালে শার্লোক হোমস দিয়ে যে প্রমান করেছে হি ইজ ক্যাপাবল অফ  লিড মোর দ্যান ওয়ান ফ্রেঞ্চাইজি। ২০২০ সালে আরডিজে আসছে "দ্যা ভয়েজ অফ ডক্টর ডুলিটল" নিয়ে। আর আসছে "শার্লোক হোমস-৩" আরডিজে যাচ্ছে না কোথাও শুধু আয়রনম্যানে ফিরে আসছে না।

ভবিষ্যতে হয়তো মার্ভেল আবারো আয়রনম্যানকে পর্দায় ফিরিয়ে আনবে। হয়তো আরডিজেকে রিপ্লেস করে দিবে অন্য কেউ। তার জন্য শুভকামনা থাকবে। আর তার সাহসের জন্য বাহবা দিতে হবে। কারন একটা ইম্পোসিবল রোলই যে সে চুজ করতে যাচ্ছে। কারন আরডিজেই টনি স্টার্ক/ আয়রনম্যান.

'Chapak' ছাপাক অন্য এক দীপিকা

Chapak ছাপাক অন্য এক দীপিকা

"আমার কেবিনে কোন আয়না রাখা হয়নি, বদলে যাওয়া চেহারাটা দেখে যদি সেই ধাক্কাটা সইতে না পারি আমি- এই ভয়টা করেছিল ডাক্তারেরা। একজন নার্স সকালে একটা গামলায় পানি নিয়ে আসতেন আমার মুখ পরিস্কার করে দিতে- সেই পানির দিকে তাকিয়ে ব্যান্ডেজে ঢাকা বিকৃত চেহারাটার প্রতিচ্ছবি দেখে আঁতকে উঠতাম আমি। গায়ে অ্যাসিড পড়ার সেই মূহুর্তটার কথা আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না, মনে হচ্ছিল, কেউ বুঝি আমার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে! এত কষ্ট, এত যন্ত্রণা এর আগে কখনও পাইনি আমি। আমার হাত আর মুখ তখন শরীর থেকে আলাদা করে ফেললেও বোধহয় এতটা ব্যাথা পেতাম না আমি!"

কথাগুলো অ্যাসিড সন্ত্রাসের শিকার হওয়া ভারতীয় তরুণী লক্ষ্মী আগারওয়ালের। তার জন্ম হয়েছিল দিল্লীর এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বয়স যখন বছর পনেরো, তখন নাইম খান নামের এক লোক তার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠায়। স্বাভাবিকভাবেই, সেটা প্রত্যাখ্যান করে লক্ষ্মীর পরিবার, কারণ তারা হিন্দু। লক্ষ্মী নিজেও সেই লোককে পছন্দ করতো না, নাইম খানের বয়সও ছিল তার দ্বিগুনেরও বেশি! প্রত্যাখ্যাত হবার পরে লোকটা আরও বেশি করে বিরক্ত করা শুরু করে লক্ষ্মীকে, পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও নিস্তার পাওয়া যাচ্ছিল না তার হাত থেকে।

লক্ষ্মী তখন স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি দিল্লির খান মার্কেটে একটা বইয়ের দোকানে সহকারী হিসেবে কাজ করতো। ২০০৫ সালের কথা বলছি। এক সকালে বাসা থেকে হেঁটে খান মার্কেটের দিকে যাচ্ছিল লক্ষ্মী, দোকানের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে, এমন সময় রাস্তার উল্টোপাশ থেকে নাইম খানকে আসতে দেখলো সে। অন্যদিকে তাকিয়ে হেঁটে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলো লক্ষ্মী, কিন্ত সে জানতো না, নাইম সেদিন খালি হাতে আসেনি। ছোট একটা বিয়ারের বোতলকে নিজের দিকে উড়ে আসতে দেখলো লক্ষ্মী, হাত বাড়িয়ে সেটা ঠেকানোর চেষ্টা করলো সে।

তারপরে কয়েকটা মূহুর্তে যেন নরক নেমে এলো কিশোরী লক্ষ্মীর ওপরে। বিয়ারের বোতলটা ছিল অ্যাসিডভর্তি, সেই তরলটা আঘাত করলো লক্ষ্মীর মুখে, হাতে। রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে চিৎকার করতে থাকলো মেয়েটা, আশেপাশের মানুষগুলো তখন হতভম্ভ হয়ে তাকে দেখছে! প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে এক ট্যাক্সিওয়ালা পাঁজাকোলা করে তাকে গাড়িতে ওঠালো, নিয়ে গেল হাসপাতালে। যমে মানুষে টানাটানি শুরু হলো, ডাক্তারদের হার না মানা মানসিকতা লক্ষ্মীকে ফিরিয়ে আনলো মৃত্যুর মুখ থেকে। তবে সুন্দর মুখটাতে চিরদিনের জন্যে একটা দাগ বসে গেল তার।

লক্ষ্মীর গল্পটা এখানে শেষ হয়ে যেতে পারতো। ভারত বা বাংলাদেশের হাজার হাজার অ্যাসিডদগ্ধ নারী যেভাবে বাকিটা জীবন ঘোমটার আড়ালে মুখ ঢেকে কাটিয়ে দেয়, লক্ষীও সেভাবে জীবন কাটাতে পারতো। কিন্ত লক্ষ্মী ঠিক করলো, এভাবে নয়, সে বাঁচবে বাঁচার মতো করে, কারো করুণার পাত্রী হয়ে নয়। ২০০৬ সালে হাইকোর্টে একটা পিআইএল দাখিল করলো সে, বেআইনীভাবে খোলা বাজারে এসিড বিক্রি বন্ধের দাবীতে। #StopSaleAcid নামের ক্যাম্পেইন নিয়ে সারাদেশে ঘুরলেন লক্ষ্মী। ২০১৩ সালে আদালত রায় দিলো, কোম্পানীর লাইসেন্স ছাড়া অ্যাসিড কেনাবেচা করা যাবে না, পুরো ব্যাপারটাতে সরকারের নজরদারী থাকতে হবে।

এর মাঝের সময়টাতে নিজের পড়ালেখা শেষ করেছেন লক্ষ্মী, একটা এনজিও খুলেছেন অ্যাসিডদগ্ধ নারীদের সাহায্য করার জন্যে। ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে সতর্ক করেছেন, পথসভা করেছেন। ইন্টারনেট যখন সহজলভ্য হলো, তখন অনলাইন পিটিশন চালিয়েছেন, এরও আগে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে প্রায় ত্রিশ হাজার মানুষের স্বাক্ষর নিয়েছেন পিটিশনের জন্যে অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করিয়েছেন তরুণদের। ভারতে অ্যাসিডের আঘাতে ঝলসে যাওয়া নারীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন তিনি।

সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা লক্ষীকে পুরস্কৃত করেছেন তার সাহসিকতা এবং পরিশ্রমের জন্যে, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আরও অনেক পুরস্কার পেয়েছেন লক্ষ্মী, ভারত সরকারও যথাসাধ্য সাহায্য করেছে তাকে। লক্ষ্মীর ওপরে যে লোক অ্যাসিড হামলা করেছিল, আদালতে বিচার হয়েছে তারও। অ্যাসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়েই পরিচয় হয়েছিল অলোক দিক্ষিত নামের এক তরুণের সঙ্গে, বন্ধুত্ব থেকে  দুজনে হয়েছিলেন জীবনসঙ্গী, কিছুদিন আগে তারা আলাদাও হয়ে গিয়েছেন।

এক কন্যাসন্তানের জননী লক্ষ্মী তখন বেশ খানিকটা বেকায়দায় পড়েছিলেন, কারণ উপার্জন করার মতো কোন চাকুরি ছিল না তার। অনেকেই তাকে চাকুরি দিতে চেয়েছেন, কিন্ত লক্ষ্মীর আত্মসম্মানবোধ টনটনে, কারো করুণার পাত্রী হবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছেও তার ছিল না। লক্ষ্মী বলেছিলেন, যদি সরকার থেকে তাকে কোন চাকুরির প্রস্তাব দেয়া হয়, তাহলেই তিনি ভেবে দেখবেন। পরে একটা টিভি চ্যানেলের উপস্থাপিকা হিসেবে যোগ দিয়েছেন তিনি।

লক্ষ্মী আগারওয়ালের জীবনটা সিনেমার চেয়েও বেশি নাটকীয়, সেখানে সুখের চেয়ে কষ্টটা বেশি, সংগ্রামী সেই  পথটা ভীষণ কণ্টকাকীর্ণ। সেই জীবনটাকেই এবার সিনেমায় ফুটিয়ে তুলতে চলেছেন দীপিকা পাড়ুকোন, ক্যামেরার পেছনে আছেন আরেক মাস্টারমেকার মেঘনা গুলজার। সিনেমার নাম 'ছপাক', সেটার ফার্স্ট লুক রিলিজ পেলো আজ সকালেই।

ইনস্ট্যাগ্রামে আপলোড করা দিপীকার ছবিটা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। গালের একপাশ ক্ষতবিক্ষত, অ্যাসিডের আঘাতে পুড়ে যাওয়া চামড়া; মানবসৃষ্ট বিভৎসতার ভয়াবহ এক নমুনা যেন! এরমধ্যেও দৃষ্টি কেড়ে নেয় মায়াবী চোখজোড়া- অ্যাসিড আক্রান্ত নারী হিসেবে নিজেকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার জন্যেই দীপিকার এই বেশভূষা। চরিত্রের নাম মালতী, ইনস্ট্যাগ্রামে ছবিটা শেয়ার দিয়ে দীপিকা লিখেছেন- 'এমন একটি চরিত্র, যা আমার সঙ্গে সারাজীবন থাকবে...মালতী।'

নেক্সট প্রোজেক্ট নিয়ে দীপিকা বেশ উচ্ছ্বসিত, সেটা বোঝাই যাচ্ছে। সিনেমা মুক্তির পরেও এই উচ্ছ্বাসটা টিকে থাকবে, এটাই কামনা। আরেকটা চাওয়া থাকবে, সিনেমার ডামাডোল কিংবা গ্ল্যামারের ভীড়ে যাতে বাস্তবের লক্ষ্মী আগারওয়ালের সংগ্রামটাকে কেউ ভুলে না যায়...

Avengers: End Game ফ্যান থিওরি


মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের ২২ তম মুভিটি রিলিজ পেতে আর মাত্র ৩৮ দিন বাকি। এর মধ্যে আমরা দুটি ট্রেলার একটি টিভি স্পট পেয়েছি, যা থেকে অল্প একটু ধারণা করা যায় কী হবে মুভিটিতে। কারণ কেভিন ফাইগি সোজাসাপটা বলে দিয়েছেন প্রমোশনাল যা কিছুই রিলিজ দেয়া হবে, সেগুলোতে  কেবল মুভির প্রথম ১৫-২০ মিনিটের সিন ব্যবহার করা হবে। আর মার্ভেলের ট্রেলারে ফেক সিন তো থাকবেই। তাই নিশ্চিত ভাবে কিছুই ধারণা করা যায় না।


যা বোঝা যাচ্ছে।

১. টনি স্টার্ক তো অবশ্যই ফিরে আসবে। সম্ভবত ট্রেলারের শেষে নতুন যে স্যুটগুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলো সে বানিয়েছে। তাকে কে উদ্ধার করবে সেটার লিস্ট আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে৷ গতমাসেই সম্ভবত অডি গাড়ির বিজ্ঞাপনে দেখানো হয় রকেট উদ্ধার করবে টনি স্টার্ককে। টনির সাথে সাথে প্রথমবারের মত পৃথিবীতে আসে নেবুলা। মূলত কমিকে নেবুলা থ্যানসের কাছ থেকে গন্টলেট নিয়ে স্ন্যাপ রিভার্স করে। তবে মুভিতে এটা হবে না তা নিশ্চিত। তবে সে বর্তমানে সবচাইতে বেশি জানে থ্যানস সম্পর্কে। তাই সে মুভিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকাই প্লে করবে।

২. হক আই যেকারণে মুভিতে রোনিন হবে তা মূলত এই ট্রেলারের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেল। স্ন্যাপে পরিবার হারানোর পর সে হক-আই ছেড়ে এই রোনিন ম্যান্টল নিবে।

ট্রেলারে হক-আইকে দেখানো হয় একটি মেয়ের সাথে। মেয়েটি সম্ভবত কেট বিশপ বা হক-আইয়ের মেয়ে। তবে যেই হোক, সম্ভবত এই চরিত্রে অভিনয় করবে ক্যাথেরিন ল্যাংফোর্ড।

৩. হাল্ক বেচারাকে একবারও দেখানি। যদিও অনেকের ধারণা প্রফেসর হাল্ক থাকবে মুভিতে। মার্ভেল আমাদের শেষ মূহুর্তেই চমক দিবে হয়তো।

৪. ক্যাপ্টেন মার্ভেল যোগ দিলো এভেঞ্জারসদের সাথে। হ্যাঁ, নিক ফিউরির ম্যাসেজ ফিরিয়ে এনেছে তাকে আবার পৃথিবীতে৷ ক্যাপ্টেন মার্ভেল মুভিতে দেখেছি সে কতটা পাওয়ার ফুল। তাই এবার থ্যানসের খবর আছে।


এবার জানাই একটা ফ্যান থিওরি। এভেঞ্জারস মুভিটা তিন ঘন্টা কাছাকাছি হবে। এবং ধারণা করা হচ্ছে এভেঞ্জারসরা দুই থেকে তিনবার থ্যানসের সাথে ফাইট করবে। অর্থাৎ একবারেই গিয়ে থ্যানসকে হারিয়ে জিতে ফিরে আসবে না। মুভিতে অনেক কাহিনী আছে যা এই কয়েক মিনিটের ট্রেলার দেখে ধারণা করা যায়না। সুতরাং সম্ভবত প্রথমে সবাই একসাথে থ্যানসের প্ল্যানেটে গিয়ে ওকে আক্রমণ করবে।অর্থাৎ টাইটান টু, যেটায় থ্যানস চাষাবাদ শুরু করেছিল। কিন্তু ছয়টি স্টোন থাকায় আবার হেরে যাবে এভেঞ্জারস রা। সেখানে থেকে ফিরে আসবে। তারপর নতুনভাবে পরিকল্পনা করবে। এর মাঝে কেটে যাবে পাঁচ থেকে ছয় বছর। সুতরাং আমরা ধারণা করতে পারি এরমাঝেই নতুন কিছু ইয়াং সুপারহিরো দেখব। যেমন হক-আইয়ের মেয়ে, এন্টম্যানের মেয়ে এরাও মেবি সুপারহিরো হবে। প্লাস আয়রন ম্যান মুভির সেই পিচ্চি ছেলেটাকেও নাকি দেখা যাবে মুভিতে।

মুভিতে কোয়ান্টান রেলমের অনেক ভুমিকা থাকবে। তবে সেটা দিয়ে কি টাইম ট্রাভেল করবে নাকি অন্য কোন রিয়েলিটিতে যাবে সেটা মুভি দেখার পরেই বুঝতে পারব।

আরো ৩৮ দিন ।

Boss Baby মুভি রিভিউ


সাড়ে ৭ বছরের বাবা-মায়ের একমাত্র আদরের সন্তান টিম। সে কল্পনা করতে ভালবাসে। কল্পনার রাজ্যে হারিয়ে ফেলে নিজেকে সবসময় আর কল্পনার রাজ্যে তার সঙ্গী হয় তার মা-বাবা। টিমের আদর যত্নের প্রতি কোনো কমতি রাখেন না তার মা বাবা। শত ব্যস্ততার মধ্যেও টিমের মা-বাবা তাকে অনেক সময় দেন। খুব ভালই কাটছিল টিমের শৈশব। রাতে ঘুমানোর সময় ৩ টা গল্প, ৫ টা চুমু আর স্পেশাল গান তার চাই। একদিন টিমের বাবা-মা তাঁর (টিম) কাছে জানতে চায়, তাঁর একটা ছোট ভাই হলে কেমন হয়? টিম সোজাসুজি না বলে দেয়, এই ভেবে যে, তাঁর ছোট ভাই হলে তার আদর-ভালবাসা কমে যাবে।

কিন্তু একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টিম দেখতে পায়, একটা টেক্সি থেকে স্যূট,বুট, টাই, ঘড়ি পরা একটা বাচ্চা তাদের বাসায় আসছে । তার মা-বাবা তাকে টিমের ছোটভাই বলে পরিচয় দেয়।এই স্যূট-বুট,টাই, ঘড়ি পরা ছোট বাচ্চাটিই হল "বস বেবি"।  এই বাচ্চা বাড়ির সবাইকে মাতিয়ে রাখে। কিছুদিন পর টিম লক্ষ্য করল, টিমের প্রতি তার মা-বাবার ভালবাসা, মনোযোগ আর আগের মত নেই। সব এই বস বেবি কেড়ে নিয়েছে।

আবার, টিম বুঝতে পারে এই বাচ্চা সাধারণ কেউ নয়, কেননা, এই বস বেবি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মত আচরণ করছে। একদিন দেখতে পায়, সে স্পষ্ট করে ফোনে কারও সঙ্গে কথা বলছে। ব্যাপারটা টিম তার বাবা-মাকে বুঝাতে চাইলেও, পারে না। উল্টো নিজে বিপদে পরে, তার মা-বাবার কাছ থেকে শাস্তি পায়।

একদিন বস বেবি নিজেই টিমকে তাঁর  পরিচয় জানায়, তার পৃথিবীতে আসার   পেছনে যে মিশন রয়েছে, সেটাও বলে ফেলে। মিশনের পর কি করবে সেটাও বলে ফেলে টিমকে। এই মিশনের কথা শুনে বস বেবিকে টিম সাহায্য করতে শুরু করে। হয়ে যায়, তারা একে অপরের পার্টনার।

কি মিশন নিয়ে পৃথিবীতে আসে এই বস বেবি? সেই মিশনে কি সফল হয় সে? টিম কি তার মা-বাবার ভালবাসা আবার আগের মত পায়? বস বেবিকে কিভাবে মিশনে সাহায্য করে টিম?  এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে,  আজই দেখে ফেলুন অ্যানিমেটেড মুভি "The Boss Baby "

রিভিউ :

এই মুভিতে পরিচালক খুব সুন্দর করে দুই ভাইয়ের শৈশবকালকে এডভেঞ্চারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেছেন। সেই সাথে দুই ভাইয়ের শত্রু থেকে বন্ধু হওয়ার মাধ্যমে যে গভীর সম্পর্ক হয়, তাও বুঝিয়েছেন। প্রথমদিকে গল্প সাদামাটা মনে হলেও, বস বেবি "টিম" এর পরিবারে আসার পর থেকে গল্পটা অসাধারণ।

এছাড়াও মুভির VFX, এডিটিং, ভয়েস সবকিছুই ভাল লেগেছে আমার।

( আপনি যদি এখনো মুভিটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভাল লাগা দিকটি Ignore করেন। নয়তো, স্পয়লার পেয়ে যেতে পারেন।)

ভাল লাগা দিক :

১.মুভিতে টিমের জন্য যে স্পেশাল গানটা আছে, সেটা আমাকে খুব ভাল লেগেছে।

২. বস বেবি যখন সত্যিকারের বেবি হয়ে গেলে, যে কাজগুলো করে। সাথে কিন্তু ঐ সময় তার মুখটা দেখার মত হয়।

৩. মুভির মাধ্যমে পরিচালক যে মেসেজ দিয়েছেন, তা হৃদয়স্পর্শী।

Favourite  Quoted :

1. The path to success is not a straight line, Templeton! But rather a wild ride, like a ship at sea. And you're a sea captain... taming a turbulent ocean!

2. Whether you think you can, or you think you can't, you're right!

3. Survival of the fittest. It's the law of the jungle. There's always someone trying to take what's yours.

4. You can't be fired from your own family. Can you?

5.  I may look like a baby, but I was born all grown up.

6.  I can't even imagine not being a kid. You missed out on your whole childhood? You never had someone to love you?

7. You can’t miss what you never had.

Linkin Park & Chester Charles Bennington কিছু স্মৃতিকথা


I tried so hard and got so far
But in the end, it doesn’t even matter
I had to fall to lose it all
But in the end, it doesn’t even matter
আপনার কাছে এটা হতে পারে কয়েকটা শব্দগুচ্ছের ৪ টা লাইন মাত্র, কিন্তু প্রতিটা "লিংকিন পার্ক" ভক্তের কাছে এটা আবেগমিশ্রিত অমৃতসুধা। যে সুধা পান করে প্রতিটা ভক্ত গিয়েছে চেতনার গন্ডির ওপারে, হয়েছে বেনিংটন মাদকে আসক্ত! এই যে চেস্টার বেনিংটন নামের সুরযন্ত্রটা এভাবে মাতিয়া রেখেছে পার্থিব বিষন্নতাকে, সেই ছাপচিত্রের পেছনের কাহিনীটা হয়ত অনেকেরই অজানা। নব্বই দশকের শেষে "লিংকিন পার্ক" নামক ব্যান্ড-খানা না তৈরি হলে হয়ত এভাবেই মহাকালের বিস্মৃতির গভীরতায় হারিয়ে যেত দুনিয়া কাঁপানো এক কিংবদন্তি।


মাদকাসক্তি, যৌন নিপীড়নের শিকার আর স্কুলে সহপাঠীদের বেদম মার খাওয়া - চেস্টার বেনিংটন এর গল্পের শুরুটা হয়েছিল বিভীষিকাময় কিছু জিনিস দিয়ে।১৯৭৬ সালের ২০ মার্চ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাতে পুলিশ অফিসার বাবা ও নার্স মায়ের ঘরে চেস্টার বেনিংটনের জন্ম। কিন্তু বিধি যেখানে বাম, সেখানে অল্পতেই অসফলতার ছোঁয়া। ৭ বছর বয়সেই,
বয়সে বড় এক বন্ধুর দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হন তিনি। লজ্জায় কারো কাছে এই ঘটনা বলতে পারেননি, কয়েক বছর ধরে সবার অগোচরে সমানতালে চলতে থাকে এই নিপীড়ন। কথাটা একসময় চেস্টারের বাবার কানে গেলেও চেস্টার তখন কোনো আইনী ব্যবস্থা নিতে চাননি। কারণ তখন তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছিল, যে ছেলেটি তার সাথে অন্যায় আচরণ করেছিল, সে নিজেও এমনই এক অপরাধের শিকার হয়েছিল আগে। মূলত চেস্টারের জন্য বরাদ্দ দূর্ভাগ্যের তালিকা সেখান থেকেই শুরু। ১১ বছর বয়সে বাবা-মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদে যেন মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর। নিপীড়নের যন্ত্রণা আর একাকীত্ব, দুটোই যেন ঘাড়ে  একেবারে জেঁকে বসেছিল একেবারে সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো। ফলশ্রুতিতে, মাদকের সংস্পর্শে আসেন চেস্টার। অভিভাবক আর বন্ধুহীন জীবনে আফিম, মেথ, কোকেন আর অ্যালকোহল হয়ে ওঠে তার নিত্যদিনের সঙ্গী। বিরানব্বইয়ের দিকে মাদক থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করলেও কাঠালের কাঠার মতো তা আবারো আত্মার সাথে জুড়ে গেলো। ২০১১ সালে,ওয়ার্ল্ড ট্যুর এর সময় মদ্যপান করেন প্রচুর আর বলেছিলেন – “I just don’t want to be that person anymore.”১৯৯৬ সালে যখম সামান্থা অলিট নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন তখনো জন্ম হয়নি লিংকিন পার্কের। এক পুত্রসন্তান-সহ এই জুটির ডিভোর্স হয় ২০০৫ সালে। পরের বছরই চেস্টার বিয়ে করেন তালিন্দা অ্যান বেন্টলিকে, এই স্ত্রীর সাথে সংসার করেছিলেন মৃত্যুর আগ মুহুর্ত পর্যন্ত।


ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে একসময় অ্যারিজোনা থেকে লস এঞ্জেলেসে পাড়ি দেন চেস্টার। এখানেই তিনি একটি ব্যান্ডের জন্য অডিশন দেন, পরবর্তীতে যেই ব্যান্ডের নাম হয় ‘লিংকিন পার্ক’। ব্যান্ডকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে তুলতে কফিনের শেষ পেরেকটা ঠুকে দেন এই সুরের বাজিকর।ব্যান্ডের লাইন আপ পূর্ণতা পায় চেস্টারের উপস্থিতিতে। এই যে আজকে লিংকিন পার্কের "ঈর্ষণীয় সাফল্য" সেটা এনে দিয়েছেন এই চেস্টার নিজেই। কথায় আছে, "বিধাতা যারে দেয়, সবমতেই দেয়"। ফলে প্রথম এ্যালবাম ‘হাইব্রিড থিওরি’ দিয়েই বাজিমাত। উপরে যে চারটা লাইন লিখেছি এই লাইনগুলো সহ ‘ক্রলিং’, ‘ওয়ান স্টেপ ক্লোজার’, ‘ইন দি এন্ড’ আর ‘পেপারকাট’ এর মতো তুমুল জনপ্রিয় গানগুলো এই এ্যালবামের ফসল। দুই বছর গ্যাপ দিয়ে তারা বাজারে আনে তাদের ২য় অ্যালবাম‘মেটেওরা’। দুর্দান্ত ক্রেজে শীর্ষস্থান ধরে রাখে নতুন এই অ্যালবাম। সাথে, লিংকিন পার্ক যে একটা-দুটো হিট গানের ব্যান্ড নয়, সেটাও বেশ ভালোভাবেই প্রমাণ হয়ে যায়।আসলে তখন চাহিদা অনুযায়ী, নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করার জন্য ‘মেটেওরা’র মতো একটা অ্যালবাম দরকার ছিল খুব। শ্রোতারা সেই অ্যালবাম ভালোভাবেই লুফে নেয়, সাথে লিংকিন পার্ক বিশ্ব সঙ্গীতে তাদের অবস্থানটা পোক্ত করে নেয়। এভাবেই চেস্টারের কাঁধে ভর করে পুরো " লিংকিন পার্ক" উঠে আয় সফলতার চূড়ায়। ২০০৫ সালে চেস্টার লিংকিন পার্কের পাশাপাশি নিজের একটি আলাদা ব্যান্ডে কাজ শুরু করেন। ‘ডেড বাই সানরাইজ’ নামের সেই ব্যান্ডের একটি মাত্র এ্যালবাম মুক্তি পেয়েছে। ‘লিংকিন পার্ক’ যখন সাফল্যের শিখরে, তখন আবার মাদকের কাছে ফিরে যান চেস্টার।

লিংকিন পার্ক ও বাংলাদেশঃ-
যদি ইতিহাস ঘেটে দেখেন তা দেখতে পাবেন, ৯০ দশকে অধিকাংশ কিশোরের ইংলিশ গানের হাতেখড়ি হয়েছে এই লিনকিং পার্ক দিয়ে। যারা ওইসময় ছিলেন, যদি ওরকম কেউ আমার পোস্ট পড়ে থাকেন তাহলে আপনারাই তা ভালো বলতে পারবেন। বাংলাদেশে লিংকিন পার্ক তথা চেস্টারের রয়েছে হাজার হাজার ভক্তকুল। তবে এখানে বেশ মজা একটা কাহিনী রয়েছে।২০১৫ সালে স্টেজলাইট কনটেস্ট জিতে লিংকিন পার্কের স্টুডিওতে কর্মশালার সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলাদেশী সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার জায়েদ হাসান। ওইসময়চেস্টারের সঙ্গে বেশ হৃদ্যতা তৈরি হয় তার।দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় জায়েদ এভাবে স্মৃতিচারণ করেছেন চেস্টার কে নিয়ে-

“লিংকিন পার্কের স্টুডিওতে মাইক শিনোডা ও রব বোর্ডনের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলাম।
চেস্টার বেনিংটন তখনো পৌঁছাননি। বাড়ি থেকে বেরিয়েই নাকি জুতা কিনতে গেছেন। নতুন জুতা পরে স্টুডিওতে আসবেন। ভাবলাম, হয়তো আসবেনই না। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি হাজির হয়ে হইচই জুড়ে দিলেন, নতুন জুতার আনন্দ!মাইক পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরও আমি চুপ করে ছিলাম। চেস্টার আমার পেটে একটা খোঁচা দিয়ে বললেন, স্যরি ম্যান, জুতাটা দরকার ছিল।“
এভাবেই চেস্টার গেঁথে রয়েছেন প্রতিটি বাংলাদেশী ফ্যান মনের কোণে!


চেস্টারের আত্মহত্যা ও একটি কালো অধ্যায়ঃ-
‘সাউন্ডগার্ডেন’ এবং ‘অডিওস্লেভ’ ব্যান্ড এর গায়ক ক্রিস কর্নেল ছিলেন চেস্টারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। চেস্টারের ক্যারিয়ারে বিশাল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন সুহৃদ ক্রিস কর্নেল। বারংবার শ্রদ্ধার সাথে ক্রিস এর নাম উচ্চারণ করেছেন চেস্টার। অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ক্রিস কর্নেলের ৫৩ তম জন্মদিনেই নিজের জীবনের ইতি টেনেছেন চেস্টার। সংবাদ সংস্থা সিএনএন তাদের খবরের শিরোনামে লেখে,
“Chester Bennington dies on his good friend Chris Cornell’s birthday”।
ক্রিস আর চেস্টার- দুজনের আত্নহত্যার ধরনের মধ্যেও মিল রয়েছে। দুজনেই হতাশা এবং মাদকাসক্তির ফলশ্রুতিতে আত্নাহুতি দেন। বন্ধু হারানোর যন্ত্রণা যে কতটা তীব্র হতে পারে, চেস্টার সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন। নিজের জীবন দিয়ে সেটা বুঝিয়েও গেছেন বিশ্ববাসীকে। এবার পৃথিবীর রকপ্রেমীদের বোঝার পালা। যন্ত্রণায় বাস করতে করতে তাঁরা বুঁদ হয়েছেন ‘হাইব্রিড থিওরি’তে বা প্রিয় শিল্পীর অন্য গানগুলোতে
যেগুলোয় জীবন্ত চেস্টার বেনিংটন। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে হতাশা। হতাশা এমন এক অসুখ, যার উপস্থিতি টের পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব। লাখো ভক্তের ভালোবাসা, সাফল্য আর টাকা- কোনোটাই তাদের মানসিক শান্তি দিতে পারেনি। চেস্টার এই বিয়োগ কাঁদিয়েছে পুরো বিশ্বকে, স্তব্ধ করেছে নিঃশেষে, শোকের আলখাল্লা দিয়ে ঢেকে দিয়েছে পুরো মিউজিক জগৎকে।

স্কুলে নিয়মিত সহপাঠীদের হাতে মার খাওয়া কৃশকায় শরীরের ছেলেটি হতাশার কাছে পরাজিত হয়ে চেষ্টা করেছিল গানের কাছে আশ্রয় খোঁজার। অবশতা দূরীকরণের পন্থা হিসেবে নিয়েছিলেন সংগীতের এলোমেলো ধ্রুপদী। তাইতো আমরা শুনতে পেরেছি,
"I've become so numb, I can't feel you there Become so tired, so much more aware By becoming this all I want to do Is be more like me and be less like you"....
স্টেডিয়ামে হাজার হাজার দর্শকের সামনে মঞ্চ কাঁপানো রকস্টারের ভেতরে যে এত অভিমান জমা ছিল, তা কয়জন জানতো? পুরষ্কার থেকে ভক্তদের ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন সবসময়। ঝুলিতে গ্র্যামি এ্যাওয়ার্ড-এর মতো পুরষ্কার থাকতেও অহংকার করেননি বিন্দুমাত্র। পাকা ধানে কৃষক যেমনভাবে হাত বোলান, তেমনি নিজের হাতটাও বুলিয়ে নিতেন কনসার্টে নিজের ভক্তবৃন্দের মাঝে।


মাইক শিনোডার র‍্যাপ পার্ফরমেন্সের সাথে রোগা একজন লোক শার্টের বোতাম খুলে শ্রুতিমধুর কন্ঠে গান In the end গাইছে। হ্যাঁ, সে গায়কটা-ই আমাদের সবার প্রিয় প্রয়াত চেস্টার বেনিংটন। সে-ই আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়েছে হেভি মেটাল, হিপহপ, অলটারনেটিভ রক, ফাংক্‌, গ্রাংগ্‌ ঘরানা মিশ্রিত এক ভিন্ন ঘরানা, "ন্যু-মেটাল"। ওই প্রজন্ম বুঝতে পেরেছিল র‍্যাপ আর অল্টারনেটিভ রকেও অস্থির মেলোডি উপহার দেয়া যায়। চেস্টারই বুঝতে শিখিয়েছেন, অসাড়তার গন্ডিতে আবদ্ধ থাকার অনুভূতি, অনুভব করতে শিখিয়েছেন পঞ্চম মাত্রার এক জগৎকে। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকের প্রজন্মটা বড়ই হয়েছে চেস্টারকে বুকের মধ্যে আকড়ে ধরে, চেষ্টা করেছে কর্কশ গলায় গান গেয়ে ঘাড়ের রগ ফুলানোর। ডেড বাই সানরাইজ, গ্রে ডেইজ, স্টোন টেম্পল পাইলটস; প্রত্যেকটা ব্যান্ডেই রেখে গেছেন নিজের অসামান্য প্রতিভার ছিটেফোঁটা। ২০০০ সালের শুরু থেকে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা রক মিউজিশিয়ান বলে গণ্য করা হত। হিট প্যারাডার নাম এক ম্যাগাজিন তাঁকে " সর্বকালের সেরা ১০০ মেটাল ভোকালিস্ট" এর তালিকায় ৪৬ নাম্বারে স্থান দিয়েছে।
শিল্প যদি মানসম্মত হয়, সময় তার অস্তিত্বে চিড় ধরাতে পারে না। সংগীত জগতে "অমরত্ব" নামে একটা শব্দ টুকে রাখা আছে। চেস্টার সেটা নিজের দখলে বাগিয়ে নিয়েছেন অসংখ্য ভক্তের মন জয় করে। ভক্তদের জন্য রেখে যাওয়া গান তারা অন্তরে ধারণ করবে চিরকাল।

হয়ত, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারা চেস্টার নামক কিংবদন্তিকে দেখতে পারেনি তারাও হয়তো তাঁর রেখে যাওয়া অনবদ্য সৃষ্টিগুলো দৃষ্টিগোচর করে আফসোস করবে, গুগলে সার্চ করবে "Chester Bennington" লিখে। আমরা আমাদের ছেলেমেয়েকে শোনাতে পারব এক কিংবদন্তির বীরগাথা, যার যুগ আমরা তাঁর গাওয়া গান শুনে কাটিয়েছি। একজন চেস্টারের বিয়োগ, মিউজিক ওয়ার্ল্ডে যে ক্ষতিপূরণ ঘটিয়েছে, তা এক বিরাট ক্ষত সৃষ্টি করেছে রকপ্রেমীদের হৃদয়ে। তাঁর ভুক্তভোগী আমি নিজেও। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ একজন চেস্টারের সময়ে পাঠানোর জন্য! প্রিয় গায়ক!
যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন।💖